-
বুদ্ধিবৃত্তিক দুনীতি:
তাকে দেখা যায় না, ছোয়া যায় না কিন্তু তার ক্ষতটা অনুভব করা যায়। আর এই ক্ষতই অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সার্বিক উন্নয়নের অন্যতম প্রদান অন্তরায়। আর মানুষের ভিতর এই ক্ষত জন্মগতভাবে সৃষ্টি হয়ে আসে না, পারিবারিক সংস্কৃতি, আর্থসামাজিক অবস্থা, রাজনৈতিক চাপ, অব্যবস্থাপনা, সুসংস্কৃতির অভাব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা অভাব, সুশাসনের অভাব, আইনি দূর্বলতা, বিচারহীন সংস্কৃতি, সিস্টেম লস, সহজে দ্রুত বড়লোক হওয়ার লিপ্সা ইত্যাদির কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে।
রাজনৈতিক প্রীতি, স্বজনপ্রীতি, ধমীয় প্রীতি, এলাকা প্রীতি, কোটা প্রীতি, ব্যক্তিগত অন্ধ প্রীতি, তৈল প্রীতি ইত্যাদি কারনে সুস্থ স্থাভাবিক জ্ঞানে অর্থের বিনিময় ছাড়া বুদ্ধি চর্চার মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিকে চাকুরি দেয়া, কাজ দেয়া, গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত করা, প্রমোশন দেয়া, রাষ্ট্রীয় সুযোগ -সুবিধার পথ তৈরি করে দেয়া, কাছে ফাকি দেয়ার মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যে Unaddressed বুদ্ধিবৃত্তিক যে দূনীতি হয় সেটা বরাবরই unseen থেকে গেছে এবং যাচ্ছে অথচ লোকচোখুর আড়ালে থাকা এই দূনীতির কারনে আমাদের রাষ্ট্র যন্ত্রের, সরকারি -বেসরকারি সেক্টরে যে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সেগুলো পরিমাপ করা খুবই জরুরি।
একসময় দেশের অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে ‘এক নম্বর জাতীয় সমস্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হলেও বতমানে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এক নম্বর জাতীয় সমস্যা হিসাবে দুর্নীতিকে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ আথিক দূনীতির কারণে প্রতিবছর কমপক্ষে ১৮ হাজার কোটি টাকা মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) যোগ হতে পারছে না। এই হিসাব অবশ্য রক্ষণশীলভাবে করা। জিডিপির চলতি মূল্যকে ভিত্তি ধরে হিসাব করলে বছরে অঙ্কটা দাঁড়াবে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ আর্থিক দুর্নীতি যদি ৫০ শতাংশও কমিয়ে আনা যেত, তাহলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অন্তত ২ থেকে ২.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারত। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণা তথ্যমতে -স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুলিশ, বিচার বিভাগে সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে যে অর্থের দুর্নীতি হয়, তার পরিমাণ জিডিপির ২.৫ শতাংশের মতো হবে। আর সরকারি বড় বড় কেনাকাটায় যোগসাজশের মাধ্যমে যে দুর্নীতি হয়, তার পরিমাণ হবে জিডিপির ৩ শতাংশের মতো। অর্থাৎ সব মিলিয়ে দুর্নীতির আকার দাঁড়াবে জিডিপির ৫ শতাংশ।
বর্ণিত আথিক দূনীতির কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে তা দেখা যায় এবং এটি প্রতিরোধে দেশে বিভিন্ন ব্যবস্থাও রয়েছে কিন্ত অপ্রর্দশিত ও অলিখিত বুদ্ধিবৃত্তিক দূনীতির কারণে রাষ্টযন্ত্রের যে ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে তা দেখা যায় না এবং তা বন্ধের কার্যকরি কোন পথও জানা্ নেই অথচ এর রয়েছে সদূর প্রসারিত ভয়ানক প্রভাব এবং এর ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান আথিক দূনীতির চেয়ে কোন অংশে কম নয়। তাই আর্থিক দুর্নীতি রোধের পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক দূনীতির রোধের কাযকরি পদক্ষেপ নিতে হবে তাহলে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থান গতিশীল হবে, দারিদ্র্য এবং বৈষম্য কমবে।
মজনু সরকার
উপ-ব্যবস্থাপক, পিকেএসএফ
৮ ডিসেম্বর, ২০২১।6 Comments
Friends
বিলকিস খানম কাজল
@bilkiskhanam-kazal
কবি মোঃ সামিদুল ইসলাম
@samidul
Md. Nur Alam (এইচ. এম নুর আলম)
@nuralam
আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির
@anwar-parvez-nur-shishir
Humayun Kabir Surjo
@humayunkabir-surjo
Kazi Zuberi Mostak
@kazi-zuberi-mostak
মাহ্দী সাকিব
@mahdi-sakib
নন্দিনী
@nandini-chowdhuri
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam


অভিনন্দন।