-
দৃষ্টি (গল্পের অংশ বিশেষ)
মো:মাঈনউদ্দিন
নাফিজার বিয়েকরা নিয়া ওদের বাড়ি ব্যপক একটা গোলযোগ পাতিল। সুধু গোলযোগিই নয় রিতিমত মারামারিতে গিয়া ঢেকিল। বহুদিন ধরিয়াই ওর বিবাহের কথা চলিতেছে কিন্তু ও কিছুতেই রাজি হইতেছেনা। ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, জজ, উকিল সহ সুযোগ্য নানান পাত্রকে একেবারে অবলিলায় প্রত্যাখ্যান করিয়া বহুদিন কুমারি ছিল। এই কুমারিত্ব নাফিজার সহ্য হইলেও পরিবারের আর কারো সহজ্য হচ্ছিলনা। মা বাবা নাতি নাতনি দেখিবার জন্য, দাদা দাদি পুন্তি দেখিবার জন্য আর ভাই বোনেরা বোনপো, ভাগ্নি দেখিবার জন্য অসহ্য মাত্রায় পিরা পিরি সুরু করিয়াছে। এই বার জদি ও বিয়ে না করে তাহলে ওকে আমরা ত্যজ্য করেদিব এই বলিয়া বাড়ির সবাই একপক্ষ হইলো আর নাফিজা অন্যপক্ষ হইলো্। যখন স্কুলে পরিয়াছে ও অনেক ছোট বলিয়া পারপাইয়াছে যখন কলেজে উঠেছে তখন ইঞ্জিনিয়ার হইবার প্রবল আক্রোসের কারনে ছাড় পাইয়াছে যখন ইঞ্জিনিয়ার হইয়াছে তখন একটু সময় দেও একটু গুছিয়ে উঠি বলিয়া পিছপা হইয়াছে এখন কোন ছুতার আর খোজ মিলেনা। তাই একেবারে বিদেশি ডিগ্রি নেবে বলিয়া দেশ ছাড়িল তার পরও বিয়ের খরগ তার পিছু ছারিতেছেনা। আর ঐদিকে নানান ছুতার অসার নির্ভরতা সহজ্য করিতে করিতে পরিবার বর্গ এতটা উত্তেজিত হইয়া গেল যে ত্যজ্য করিবার মত সিদ্ধান্তে তারা উপনিত হইলো। এই দিকে নাফিজা বিদেশি ডিগ্রি লইয়া বাড়ি আসিলে সবাই জম ধরা ধরিলো। তোর পছন্য অনেক দেখিয়াছি এইবার আমরা জার সাথে তোকে বিয়ে দিব তুই তাকেই মেনে নিবি বলিয়া সকল কন্ঠই ঐক্যবধ্য হইলো। নাফিজা ঈদের দাওয়াতে বাড়ি আসিয়া অনিবার্জ শিকারের মত কোন কিছু বুঝিবার আগেই হঠাৎ করিয়া লৌহ খাচায় আবদ্ধ হইয়া পরিলো। যাহারা তার আপনজন কারো চোখেমুখে নমনিয়তার ছাপমাত্র সে দেখতে পায়নাই। তাই বেশ চিন্তিত ও বিমর্স হইয়া পরিলো। নাফিজার প্রতি সবার এ রুক্ষতার জথেষ্ট কারন রহিয়াছে সে এই বিয়ে নিয়া পরিবারের সবাইকে কম অপমান অপদস্ত করেনাই কিন্তু কোথাও থিতু হয়নাই শুধুশুধুই সবাইক ঘুরাইয়াছে। সবাই যে যার মত সর্বোচ্চ চেষ্টা করিয়া যোগ্য পাত্র খুজিয়া আনিল কিন্তু নাফিজার কাছে কেহই যোগ্য হইলোনা। ওকে বহুবার জিজ্ঞাসা করা হইয়াছে কারো সাথে সম্পর্ক আছেকিনা ও তাও এমন সচ্ছভাবে অস্বিকার করিলো যে সবাই ওর প্রত্যেকটা আস্তস্বতায় একরকম নিশ্চত ছিল সময় মত ও ঠিকি বিবাহ করিবে। কিন্তু সময় জাইয়া অসময় বিপুলবলয়ে আচ্ছাদন করিয়া ফেলিয়াছে অর্থাৎ ওর সাথের সকল মেয়েদের বাচ্চা কাচ্চা স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে পা দিয়াছে তার পরও ওর মতিগতির কোন পরিবর্ত হয়না এটা আসলে কোন পরিবারিই মানিয়া লইতে পারেনা। নাফিজা এইবার বুঝিয়াছে যে তার বিবাহ ছাড়া কোন পথনাই। এইবার ওরা বাড়ি আসিলে বাড়ির সবাই একটু আশ্চর্যই হইলো কারন সচরাচর ওরা বাড়ি আসেনা। সেই ছোট বেলায় আসিয়াছিল আর এইবার, মাঝখানে প্রায় পনেরো থেকে বিষটি বছর পার হইয়াছে। বাড়ির উঠনে যে পায়ের আওয়াজ গুলি কচি কোমল ছিল আজ তার আওয়াজ অনেক ভারি অনেক গম্ভির হইয়া উঠিয়াছে। যে গাছপালা সজিব ও নবীন ছিল তাহারা আজ গেরুয়া ও ঝরোয়া হইয়া উঠিয়াছে। যে দিঘির জল নিটোল ও ঘোলাটে ছিল তাহা আজ তাহা স্বচ্ছ ও টলটলে হইয়া উঠিয়াছে।1 Comment
Friends
রাহুল চন্দ্র দাস
@rahulchandradas13011994gmail-com
আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির
@anwar-parvez-nur-shishir
আব্দুল মজিদ মারুফ
@abdulmojid
মোঃ আরিফুল ইসলাম
@ammouriful
স্মৃতি রানী রত্না
@srratna1990
Shahana-Shirin-Sultana
@shahana-shirin-sultana
Shibly Ahmed Mozumder
@shiblyahmedmozumder
মালিহা নামলাহ
@malihanamlah
Tasmeen laila
@tasmeen-laila86


চমৎকার