Profile Photo

নাদিম হোসাইনOffline

  • Nadim-Hossain
  • ========================স্বপ্নীল কারাগার==========================
    লেখকঃ নাদিম হোসাইন।।
    পর্ব নাম্বারঃ ১৭
    ——————————————————————————————————————
    চারদিকে খুব অন্ধকার। কালো ঘুটঘুটে অন্ধকার। অন্ধকারে হাটার মজাটাই অন্যরকম। এটা তো আগে বোঝা যায়নি। কিন্তু চারদিকে কোন মানুষ নেই। হাটছি তো হাটছি। ঐতো কিছুদুরে ল্যাম্প পোষ্ট দেখা যাচ্ছে। কিন্তু বাতির নিচের লোকটা দৌড়ে কোথায় যেন হারিয়ে গেল। কোথায় গেল লোকটা। হাটার মাঝে লোকটা থাকলে ভালই সঙ্গি হতো। ঐতো আরেকটা লোক দেখা যাচ্ছে। লোকটাও যেন খুব দ্রুত কোথাও চলে যাবে মনে হচ্ছে। কিন্তু এই অন্ধকারে সবাই কোথায় যাচ্ছে। লোকটাকে ডাকা দরকার। জানতে হবে সবাই কোথায় যাচ্ছে। সাত পাঁচ ভাবা যাবে না। লোকমান সাহেব কিছুটা চিৎকার করেই ডাকলেন।।
     এইযে ভাই, শুনছেন।
    লোকটা পেছনে ফিরে তাকালেন না। কিন্তু দাড়িয়ে পড়লো। লোকমান সাহেব লোকটার সামনে গেলেন। তারপর বললেন….
     কোথায় যাচ্ছেন..? মনে হচ্ছে খুব তাড়া আছে আপনার।
    লোকটা মাথা উপর নীচ করে হ্যা সুচক মাথা নাড়লেন। লোকমান সাহেব আবার প্রশ্ন করলেন।
     আসলে আমি কি আপনার সাথে যেতে পারি!!
    লোকটা আবার মাথা উপর নিচ করে হ্যা সূচক মাথা নাড়লেন। লোকমান সাহেব লোকটার সাথে হাঁটা শুরু করলেন। লোকটার চেহারা বোঝা যাচ্ছে না। তবে কালো এটা ঠিকই বোঝা যাচ্ছে। তবে অনেকটা অদ্ভুত ধরনের। লোকমান সাহেব আবার প্রশ্ন করলেন,
     আসলে কিছু মনে করবেন না। আমরা কোথায় যাচ্ছি।
    লোকটা এবার নিরবতা ভেঙ্গে বললেন……
     চলেন। গেলেই দেখতে পারবেন।
     নাহ্। আসলে জানতে ইচ্ছে করছে তো তাই।
     কইলাম না। গেলেই দেখতে পারবেন।
    লোকমান সাহেব আর কিছু বলার সাহস পেলেন না। চুপচাপ হাটতে শুরু করলেন। কিছুদুর যেতে না যেতেই লোকটা থেমে গেলেন। লোকমান সাহেবও থেমে গেলেন। লোকমান সাহবে প্রশ্ন করলেন….
     কি ব্যাপার। থামলেন কেন.??
    লোকটা অদ্ভুত ভঙ্গিতে বললেন। তবে নিচের দিকে তাকিয়ে
     যা তরা। সইরা যা। আমি আছি। তরা সইরা যা কইতাছি।
    লোকমান সাহেব একটু অবাক হলেন। লোকটা কি বলছেন। লোকমান সাহেব নিচে তাকালেন। তারপর তিনি যা দেখলেন, তা দেখার জন্য তিনি মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। চারটে সাপ ফোনা ফুলিয়ে বসে আছেন। লোকমান সাহেব প্রচন্ড ভয় পেলেন। তার মুখ থেকে কোন কথা বের হলোনা। তিনি চুপ করে কিছুক্ষন দেখলেন। তবে মনে হচ্ছে সাপগুলো তার দিকেই দৃষ্টি দিয়ে আছে। তার এখন আরও ভয় লাগছে। লোকটার কথা শুনে সাপগুলো মাথা নিচু করে কোথায় যেন হারিয়ে গেল। এইবার লোকটাকে খুব ভয় করছে। লোকটা কে, তার কথা শুনে সাপগুলো কোথায় চলে গেল। লোকমান সাহেব লোকটার পেছনে পেছনে আবার হাটঁছেন। তবে এবার তার প্রচন্ড ভয় করছে। কিছুদুর অনেকগুলো মানুষের ভিড়। লোকমান সাহেব এবার বুঝলেন সবাই তাহলে এখানেই আসছিল। লোকমান সাহেব হটাৎ দেখলেন তার পাশের লোকটা নেই। তিনি খুব অবাক হলেন। লোকটা কোথায় গেলেন। বেশ তো ছিলেন এতক্ষন। হয়তো তিনি ভিড়ের মধ্যে ডুবে গেছেন। লোকমান সাবেহও ভিড়ের মাঝে ঢুকলেন। সবাই কি দেখছে সেটা দেখার জন্য। কিন্তু এখানে তো একটা লাশ পড়ে আছে। কিন্তু কার লাশ বোঝা যাচ্ছে না। চোহারাটা পুরো নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু একি!! আবীর এখানে কেন?? লোকমান সাহবে উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করে বললেন।
     আ..বীর।। বাবা তুই এখানে কেন?? এই লাশের পাশে বসে তুই কাদঁছিস কেন??
    আবীর খুব ধীরে ধীরে মাথা উচু করলো। তারপর কান্নাজড়িত কন্ঠে বলছে…..
     আব্বু… আব্বু…..তুমি চলে যাও। আব্বু গো… ওহ আব্বু তুমি চলে যাও। ওরা তোমাকে মেরে ফেলবে। আব্বু তুমি চলে যাও।
    লোকমান সাহেব তার ছেলের দিকে যেতে চাইলেন। কিন্তু একি!! সে তো সামনে যেতেই পারছে না। কারা যেন তাকে পেছন থেকে ধরে রেখেছে। লোকমান সাহেব চিৎকার করে বলছেন…
     তোমরা আমাকে ছারো। আবীর আমার সন্তান। ও কাদঁছে। প্লিজ তোমরা আমাকে আমার ছেলের কাছে যেতে দাও। ছারো তোমরা আমাকে।। ছেড়ে দাও আমাকে তোমরা।
    লোকমান সাহেব কাদঁতে কাদঁতে বলে যাচ্ছিলেন কথাগুলো। তার চোখের পানি কিছুতেই সামাল দিতে পারছেন না। আবীর কান্নাজড়িত কন্ঠে উঠে দাড়াল। আর তাকেও পেছন থেকে কারা যেন ধরে রাখলো। আবীর কান্না জড়িত কন্ঠে বলে উঠলো।
     তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও। আমাকে আমার আব্বুর কাছে যেতে দাও। আমি আমার আব্বুর কাছে যাবো। তোমরা আমাকে ছাড়ো। আব্বু….. আব্বু….. আব্বু তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরো।। আব্বু …. আব্বু… আব্বু…. আব্বু…… আব্বু…..
    ওরা আবীরকে টেনে কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছে। লোকমান সাহেব তার সমস্ত শরীর দিয়ে চেষ্টা করছেন সামনে যেতে। কিন্তু কিছুতেই পারছেন না। তিনি চিৎকার করে ডাকছেন। কিন্তু কেও তার চিৎকার শুনছেন না। তার ‍দু’চোখ বেয়ে শুধু পানি ঝড়ছে। নিজের চোখের সামনে তার প্রিয় সন্তানকে কেউ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ তিনি কিছুই করতে পারছেন না। শুধু চিৎকার করছেন আর বলছেন….
     তোমরা আমার ছেলেকে ছেড়ে দাও। তোমরা আমার ছেলেকে ছেড়ে দাও।
    লোকমান সাহেব লাফ দিয়ে উঠে পড়লেন। তার পুরো শরীর ঘামছে। তিনি এটা কি দেখলেন। এটাকি স্বপ্ন ছিল। লোকমান সাহেব পাশে তার স্ত্রিকে দেখলেন না। তার গলা শুকিয়ে গেছন। তার গলা দিয়ে কোন কথাই বের হচ্ছেন। তিনি কান্না করতে চাইছেন না। তবুও তার চোখ বেয়ে অশ্রু ঝড়ে পড়ছে। এমন স্বপ্ন কেন দেখলেন? তার বুকটা খালি খালি লাগছে। মাথাটা প্রচন্ড ঘুরছে। খুব পিপাসা পাচ্ছে। কিন্তু গ্লাসে পানিও নেই। শরীর মন যেন স্বপ্নটাকে মানতে পারছে না। তিনি আগে তো এমন কোন স্বপ্ন দেখেন নি। নাহ্ আর নয়। তিনি যাবেন তার সেই বাংলোতে। এভাবে আর নয়। তিনি স্বপ্নের সাথে আর যুদ্ধ করতে পারছেন না। এভাবে বেচেঁ থাকা যায়না। কালই তিনি রওনা দেবেন।

    To Be Continue…..

    1
    1 Comment
    • আপনার লেখাটি গভীর রহস্য, ভয়াবহতা এবং এক ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি ও মানসিক অস্থিরতার গল্প

Skip to toolbar