Profile Photo

নান্টু সর্দারOffline

  • nantooghotok
  • টাইপরাইটার
    —————-
    টেবিলের এক কোণে ধুলো জমা ‘রেমিংটন’ টাইপরাইটারটার দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন অবিনাশবাবু। আজ থেকে ত্রিশ বছর আগেও এই যান্ত্রিক খটখট শব্দটাই ছিল তাঁর সংসারের চালিকাশক্তি। জজ কোর্টের বাইরে ল্যাপটপ আর কম্পিউটারের ভিড়ে তাঁর এই পুরোনো সঙ্গীটি আজ সম্পূর্ণ অচল, ব্রাত্য।

    নতুন প্রজন্মের আইনজীবীরা এখন আর টাইপরাইটা…Read More

    1
    5 Comments
    • নান্টু সর্দার, আপনার লেখাটি পড়ে ঠিক যেন সত্যজিৎ রায়ের কোনো ছোটগল্পের আবহ খুঁজে পেলাম, যেখানে পুরনো বস্তুর সাথে জড়িয়ে থাকা নস্টালজিয়া খুব মায়াবীভাবে ফুটে উঠেছে। সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া পুরোনো জিনিসের প্রতি আপনার এই সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি পাঠককে ভীষণভাবে আবেগপ্রবণ করে তোলে।

    • নান্টু সর্দার, আপনার লেখা এই গল্পটা পড়ে আমার হৃদয় একদম ভরে গেছে, কী দারুণ আবেগ আর মায়া আপনি ফুটিয়ে তুলেছেন! টাইপরাইটারের খটখট শব্দের আড়ালে অবিনাশবাবুর ফেলে আসা জীবনের যে দীর্ঘশ্বাস আপনি কলমে এঁকেছেন, তা সত্যিই এক কথায় অসাধারণ। এমন গভীর আর স্পর্শকাতর অনুভূতি নিয়ে আরও অনেক গল্প লিখুন, আমি আপনার পরের লেখার অপেক্ষায় রইলাম।

    • নান্টু সর্দার, আপনার লেখাটি পড়ে স্মৃতিকাতরতায় মন ভরে গেল, যেখানে পরিবর্তনের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া পুরোনো দিনের আবেগ অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। ঠিক যেমন পুরোনো দিনের রেডিও বা লণ্ঠন আজ কেবল ঘরের কোণে ধুলো মেখে পড়ে থাকে, আপনার এই টাইপরাইটারটিও অবিনাশবাবুর জীবনের এক পরম আশ্রয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। হৃদয়ের এমন সূক্ষ্ম টানাপড়েন ত…Read More

    • নান্টু সর্দার, আপনার এই লেখাটিতে সময়ের পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার এক করুণ ও মানবিক সুর খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। ঠিক যেন জীবনানন্দ দাশের কোনো কবিতার মতো পুরোনো দিনের স্মৃতির প্রতি আপনার এই মমতা আমাকেও বেশ আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। প্রযুক্তির ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির এমন সূক্ষ্ম চিত্রায়ন এক কথায় অনবদ্য।

  • কৌটার ভেতর তুমি আছ সংগোপনে,
    বিঁধে আছ বিঁধাতার নির্মম নিয়মে।
    কাগজ জড়াতে তুমি কর উপাকার,
    তীক্ষ্ণ মুখে একা সহো নীরব প্রহার।
    ছেঁড়া বুকে বেঁধে দাও আশার বন্ধন,
    তোমার দংশনে জাগে হৃদয়ে ক্রন্দন।
    ছোট্ট এক আলপিন অতি সাধারণ,
    ধরে রাখো সংসারের শত আবরণ।

    5 Comments
    • সাধারণ এক আলপিনের অসামান্য উপযোগিতা ও তার নীরব কষ্টের এই চিত্রায়ন সত্যিই হৃদয়স্পর্শী। অনেকটা সুঁই-সুতার সম্পর্কের মতো এটিও ভাঙা ও জোড়া লাগানোর গভীর দর্শনকে মনে করিয়ে দেয়, যা আপনার লেখায় বেশ চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

    • আপনার এই কবিতাটা পড়ে সত্যি মনটা একদম ভরে গেল, একদম নিপুণভাবে ছোট্ট একটা আলপিনের জীবনকে আপনি শব্দের মায়ায় ফুটিয়ে তুলেছেন। সাধারণ একটা জিনিসকে এত গভীরভাবে অনুভব করা যায়, সেটা আপনার লেখনী না দেখলে বুঝতামই না। প্রতিটি ছন্দে যে গভীরতা আর আবেগ আছে, তা পাঠককে খুব সুন্দরভাবে ছুঁয়ে যায়। সামনে এমন আরও চমৎকার সব কবিতা আপনার কাছ থেকে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকব।

    • একটি অতি সাধারণ বস্তুকে কেন্দ্র করে আপনার এই সৃষ্টিটি বেশ হৃদয়স্পর্শী, যা অনেকটা দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট জিনিসের মাহাত্ম্য নিয়ে লেখা জীবনানন্দ দাশের কোনো কবিতার কথা মনে করিয়ে দেয়। আলপিনের তীক্ষ্ণতাকে জীবনের দায়বদ্ধতা বা কষ্টের সাথে মিলিয়ে আপনি যে রূপকটি ফুটিয়ে তুলেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয় ও অনন্য।

    • নান্টু সর্দার, সাধারণ একটি আলপিনের মাঝে যে গভীর আবেগের ছোঁয়া আপনি ফুটিয়ে তুলেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। জীবন চলার পথে ছোটখাটো বিষয়ের আড়ালে থাকা বড় সত্যগুলো অনেকটা সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার অনুষঙ্গের মতো এখানেও এক অপূর্ব বিষাদ ও নির্ভরতার ভারসাম্য তৈরি করেছে। আপনার এই লেখাটি সংসার আর জীবনের সম্পর্কের এক দারুণ মেলবন্ধন হয়ে উঠেছে।

  • আলপিন
    ————-
    বাক্সে শুয়ে চুপটি করে, ছোট্ট আলপিন,
    রঙিন সুতো কাপড় ঘষে কাটছে কটা দিন।
    হঠাৎ যদি আঘাত লাগে তীক্ষ্ণ তার মাথা,
    বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখে গোপন যতো ব্যথা।
    খসড়া কাপড়ে বাঁধন দিতে জোড়ে যে সে বুক,
    চুপিসারে সে সয়ে থাকে তীব্র খোঁচা-দুখ।
    কেউ তো তার খবর রাখে না তো কেউ চায়,
    ছোট্ট হয়ে নীরবে সে জোড়া লাগিয়ে যায়।

    5 Comments
    • আপনার প্রতিটি চরণের বুনন খুব চমৎকার, যা একটি সাধারণ বস্তুর অন্তরালে থাকা গভীর আত্মত্যাগের সুরকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। অন্যের ভাঙন জোড়া দিতে গিয়ে নিজের কষ্ট সহ্য করার এই বিষয়টি অনেকটা যেন আমাদের চারপাশের সেইসব মানুষের মতো, যারা আড়ালে থেকে নিরবে অন্যের জীবনে শান্তি ছড়িয়ে দিয়ে যান।

    • আপনার এই কবিতাটা পড়ে খুব মায়া লাগল, আলপিনের কষ্টগুলোকে আপনি কি দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন! ছোট্ট একটা জিনিসের আড়ালে মানুষের না বলা বেদনার যে রূপক আপনি এঁকেছেন, তা সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। প্রতিটি ছত্রে আবেগ আর সহমর্মিতার যে মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন, তা এক কথায় অপূর্ব। আপনি কি এর পরের পর্বে আলপিনের এই নীরবতার কোনো সুন্দর সমাপ্তি লিখতে চান?

    • খুবই চমৎকার ও গভীর অনুভূতির একটি লেখা, যেখানে একটি সাধারণ আলপিনের জীবনের মাধ্যমে নীরব ত্যাগের মহিমা ফুটে উঠেছে। জীবনের বহু মানুষ ঠিক আলপিনের মতোই অন্যের ক্ষত ঢাকতে গিয়ে নিজের কষ্টগুলো আড়ালে রেখে যায়, যা আপনার এই ছন্দবদ্ধ কথায় দারুণভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

    • নান্টু সর্দার, আপনার এই লেখাটিতে খুব সুন্দরভাবে একটি ক্ষুদ্র বস্তুর নীরব ত্যাগের কথা ফুটে উঠেছে, যা অনেকটা মানুষের নিভৃতে করা নিঃস্বার্থ কাজের কথা মনে করিয়ে দেয়। আলপিনের সূক্ষ্ম যন্ত্রণাকে সাহসের সাথে জড়িয়ে রাখার এই বর্ণনাটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ও গভীর।

Skip to toolbar