-
রোহিঙ্গা ইস্যু এবং আমার ভাবনা!
——————————————–
একদিন আমি আর আমার বাবা পল্লিবিদ্যুত যাচ্ছিলাম কোনো একটা কাজে! বাস থেকে নামতেই একটা ছোট্ট বাচ্চা লাঠি দিয়ে বাসে বাড়ি দিলো, এরকম দেখি কয়েকজন বাচ্চার(১০-১১) হাতে লাঠি! তারা কি করতেছে? পুলিশের সাথে ট্রাফিক কন্ট্রোল করতেছে!
আমার বাবা বাস থেকে নেমে প্রথমেই যেটা করলেন সেটা হচ্ছে পুলিশের সাথে তর্ক জুড়ে দিলেন এই কথা বলে যে, “বাচ্চাদের হাতে লাঠি দিলো কে!?”রোহিঙ্গারা প্রাক্তন কাল থেকেই নির্যাতনের স্বীকার। জাপানীয়দের এই উপমহাদেশের ইনটারভেনশনের সময় তারা ৪০ হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করে এবং এরকম আরো হত্যাযজ্ঞ দেখে আসছে তারা “অপারেশন ড্রাগন কিং” ” অপারেশন ক্লিন এন্ড বিউটিফুল ন্যাশন” ইত্যাদি ইত্যাদি সামরিক অভিজানে।
১৯৮২ সালের বার্মীজ নাগরিকত্ব আইন ঘাটলে দেখা যায় রাখাইন অঞ্চলের একটা রোহিঙ্গা দম্পতি যদি একটা বাচ্চা প্রশব করে তবে সে পরিচয়হীন হিসেবেই বেড়ে ওঠে। তার পরিচয় পেতে পেতে হয় ১৮ বৎসর অপেক্ষা করতে হবে অথবা কোনো সামরিক অভিজানে মৃত্যুবরন করতে হবে।
এই জনগোষ্ঠী স্বাধীন বাংলাদেশ হবার পূর্বে থেকেই এই অঞ্চলের দিকে নিজেদের আশ্রয় খুজে নিচ্ছে কারন ভাষাগত এবং অঞ্চলগত এবং ধর্মীয় দিকের সাথে মিল রেখে হলেও তাদের এই জায়গাটা একটু কম্ফোর্ট জোন।
এখন কথা হচ্ছে মানবিক বিচারে তাদের আশ্রয় দেওয়া এবং আনুষ্ঠানিকতার সাথে তাদের নিয়ে রাজনৈতিক খেলা এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য আছে!
এই রোহিঙ্গা ইস্যুতে বর্তমান সরকার কিছু পাক নাক পাক একটা জিনিস পাইছে তা হচ্ছে বিভিন্ন ইন্টারনেশনাল অর্গানাইজেশনে পরিচিতি এবং কথা বলবার সুযোগ। এবং বাংলাদেশ সরকার বারংবার ই বলে আসছে এই সংকট সামরিক ভাবে সমাধান সম্ভব নয় রাজনৈতিক ভাবে এর সুরাহা করতে হবে!
কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেব এবং আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর কল্যানে আমরা সেই রাজনৈতিক খেলাটা কি আদৌ ঠিকভাবে খেলতে পারছি বা ভবিষ্যতে এর পরিনতি কি হবে!?
২০২০ সালের ডিসেম্বরে ভাসানচরে ঘটা করে রোহিঙ্গাদের অবাসনের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া হয়! তাহলে আমরা তাদের আনুষ্ঠানিক ভাবে থাকবার সুযোগ সৃষ্টি করে দিলাম এবং আমাদের মাননীয়া এই বক্তব্য রাখলেন ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াচ্ছি এই ১১লাখ মানুষকেও খাওয়াতে পারবো!
যখন আপনি একটা ধারালো অস্ত্র নিয়ে খেলছেন যার উভয় দিকেই ধার আছে তখন শত্রু এবং আপনার দুইজনেরই হাত কাটার সম্ভাবনা থাকে!
কিছুদিন আগে প্রশাসন কিছু ইসলামিক লেভাসের এনজিওকে তাদের কর্মপরিধি বিলুপ্ত করে! ক্যানো করলো ব্যাপারটা ভাবেন একটু!
এই যে এতোগুলো লোক যাদের জেনেটিক্সে ঢুকে গেছে আমরা পরিচয়হীন এবং তারা কখনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আলো দেখেনি বা ভালো কোনো আনন্দের সংজ্ঞা জানে নি তাদের ইচ্ছা করলেই এমন একটা সহিংসতা সৃষ্টিকারী গ্রুপ বানিয়ে দেওয়া যাবে যার দ্বারা রক্তপাত ভিন্ন আর কিছু সম্ভব নয়!
আমি শুধু এই দোয়া করি আমাদের অর্থনীতি যেমনই চলছে তা ভেংগে না পরুক এবং আমাদের মাননীয়া দীর্ঘজীবী হোক।
এখন কি করা যায় এইটা উনাদের চাইতে আমি ভালো বুঝবো আর সমাধান ও দিতে পারবো! ভাবছেন এতো ঔধত্য এতো জ্ঞান কই থেকে আসলো!? চাইলে আপনিও পারবেন!
এই সকল ইনস্টিটিউশন ব্যাক্তি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয় এবং তাবৎ সবকিছুই তা রাজনৈতিক হতে পারে, অর্থনৈতিক হতে পারে অথবা প্রশাসনিক হতে পারে!
একটা মাত্র শব্দ “সদিচ্ছা”। মানুষ হিসেবে তাদের পরিপূর্ণ মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় পরিচয় দেওয়া।লিখেছেন Nirupom Azad ! কারন সে হঠাৎ সকালে উঠে গেছে এবং চা-ব্রি খাইতে খাইতে দোকানে বইসা রোহিঙ্গা নিয়ে একটা খবর দেখছে!
4 Comments
Friends
A B Sanowar Hossen
@a-b-sanowar-hossen
Md. Safi Mahmud
@safimahmud
Areful Islam
@areful-islam
ভাস্কর
@vaskarchou
তুলট ডেস্ক
@toulot
Soma malaker Tandra
@tandrasoma82
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
Prithula Zaman
@prithula
অভিমানী মন
@ovimanimon


উদ্বাস্ত সংকট নিয়ে লেখার জন্য অভিনন্দন। চিন্তামুলক লেখা এরো চাই।