<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | মারুফ হুসেইন | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/peranhafish/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/peranhafish/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for মারুফ হুসেইন.</description>
	<lastBuildDate>Tue, 09 Jun 2026 04:19:31 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">691766f429162710442226a4c13057fe</guid>
				<title>ভাড়ায় চালিত-২


হাতিমঃ তাইলে মন খারাপ করে আছিস কেন? সামনে এক্সাম! টাকা রোজগার করে, মন খারাপ করে থেকে রেজাল্ট ভাল হবে? 
যোহানঃ রেজাল্ট দিয়ে কি হবে? পাশ করলেই হল! 
হাকিমঃ সেই পাশ করার জন্য হলেও তো পড়াশোনা করতে হবে! নাকি?
যোহানঃ পাশ করার জন্যে যা লাগবে তা পড়া যাবে। 
হাকিমঃ ব্যবসা বন্ধ রাখবি পরীক্ষার কদিন? 
যোহানঃ না। ব্যবসা চলবে। ব্যবসাতে পরিশ্রম কম, রোজগার ভাল। আমার উপরের চাপ অনেক কমে গেছে রে!
হাকিমঃ দেখ ভাই! যাই করিস না কেন, পড়াশোনা বাদ দিয়ে করিস না। 
যোহানঃ আচ্ছা। দেখা যাবে। 

_______
কয়েকদিন বাদে সকাল বেলা ঐ মোড়ে গিয়ে বাইক নিয়ে দাঁড়ালো যোহান। খেয়াল করে দেখল, কাছেই আর একজন বাইক চালক দাঁড়িয়ে আছে। যোহান দেরি না করে কাছে গিয়ে বলল, ভাই, উবার নাকি?
চালকঃ জ্বি, ভাই।  
যোহানঃ এখানে? এখানে তো লোকজন কম!
চালকঃ এক আপু যায় রেগুলার। এর আগে দুদিন নিয়ে গেছি৷ দেখি আজো পাওয়া যায় কিনা। 
যোহানঃ ভাই এটা আমার হৃদয়ের মামলা। আপনি না থাকলে খুশি হতাম। 
যোহানের বলার ভঙ্গীতে লোকটা হেসে ফেললো। যেতে উদ্যত হয়ে বলল, ঠিক আছে, ভাই। যাচ্ছি। 
লোকটা গেলে যোহান অপেক্ষা করতে লাগল। বেশ কিছুদিন পর আজকে কল আসল। দুরুদুরু বুকে কল রিসিভ করল,  বলল, হ্যালো। 
সিমিঃ কালো জ্যাকেট ভাই! আসুন তো! 
যোহানঃ আসছি।
বাইক নিয়ে কাছে এসে দাঁড়ালে সিমি বলল, আপনি নিয়মিত আসেন না! তাই না?
যোহানঃ (অভিমানী কণ্ঠে)আমি না আসলেই বা কি! দেশে বাইকারের অভাব নাকি! 
যোহানের কণ্ঠে অভিযোগ উথলে ওঠায় সিমির বুকের ভেতর থেকে একটা শিরশিরে সুখানুভূতি দমকা হাওয়ার মত উথলে উঠে ওকে নাড়িয়ে দিয়ে গেল। বলা যায়,ও একটা গভীর আত্বতৃপ্তি লাভ করল। কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে তিরস্কার করে মনে মনে বলল, ছি! একটা ড্রাইভারের মান অভিমানে তুই আনন্দ লাভ করছিস? ছি!
মনে মনে ছি বললেও বাইকে উঠে বসল সিমি। 
কার্জনের হলের সামনে নেমে সিমি ভাড়া দিতে দিতে জিজ্ঞাসা করল, আপনি কি নিয়মিত বাইক চালান?
যোহানঃ হুম। 
সিমিঃ (তাচ্ছিল্যের সুরে) বাইক ড্রাইভার হিসেবে আপনি ভাল! আমাকে প্রতিদিন আনতে পারবেন? একই সময়ে!
যোহানঃ হুম। 
সিমিঃ শুধু হুম হুম করছেন কেন? আপনার নাম্বারটা দেন।
নাম্বার নিয়ে সিমি হন হন করে হেটে গেল। মনে মনে নিজেকে বলল, শালী, তোর এত শখ কোথ থেকে আসলো? একটা মোটর বাইকারকে লাই দিয়ে মাথায় তুলতেছিস! খা.... মা...... নিজেকে গালিগালাজ করলেও সিমি অনুভব করলো এক জোড়া চোখ তার পিঠ আর নিতম্বে আবদ্ধ হয়ে আছে। একটা অদ্ভুত শিরশিরে অনুভুতি মেরুদণ্ড বেয়ে নীচে নেমে, তলপেট এসে বুকের ভেতর এসে উঠলো। সে এক জোড়ালো অনুভূতি! এই অনুভুতিটা তাকে গভীর এক তৃপ্তি এনে দিল। চাইলেই এই অনুভুতি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না।

যোহান তাকিয়েই রইল। যতক্ষণ দেখা যায় তাকে। একবারো পিছে ঘুরে তাকালো না মেয়েটা। আনমনে যোহান বলল, আমি চাইনা সে একবার ঘুরে তাকাক, আমি চাই সে প্রতিদিন আমার বাইকের পেছনে বসে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসুক। 

_________
এক্সাম শেষ করে যোহান রাস্তার পাশের চত্ত্বরে ঘাসের উপর এসে বসেছে। হাতিম পাশে এসে বসল। 
হাতিমঃ কিরে! আগে ভাগে বের হয়েছিস! এক্সাম কেমন হল? পাশ হবে?
যোহানঃ তা হবে। 
হাতিমঃ কতগুলো আন্সার করেছিস?
যোহানঃ সবগুলোই তো করলাম। 
হাতিমঃ কস কি?
যোহানঃ আরে সব আন্সার করছি মানেই কি সব হইছে নাকি?
হাতিমঃ হুহ! আমার কেমন হল জিজ্ঞাস করলি নে?
যোহানঃ আমার নিজের কেমন হল সে বিষয়েও আমার কোন আগ্রহ নেই, তোরটা তো দূরের ব্যাপার। 
ঠিক এই সময়ে রিমা আর সিমি ওদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। কাছাকাছি আসতেই হাতিম বলল, কিরে! রিমা, সিমি, পরীক্ষা কেমন হল? 
সিমিঃ ভাল নারে! 
হাতিমঃ রিমা?
রিমাঃ হয়েছে মোটামুটি! 
হাতিমঃ সিমি, ভাল না কেন? 
সিমিঃ হয় নি। পড়া কম হল। তোদের কেমন হল?
হাতিমঃ হয়েছে মোটামুটি। 

যোহান কোন কথা বলল না। 

মেয়েদুটো কিছুদুর এগিয়ে গেলে রিমা বলল, ভাব দেখেছিস?
সিমিঃ কার?
রিমাঃ ঐ যে! যোহান নাকি নাম! 
সিমিঃ কিসের ভাব দেখলি?
রিমাঃ ও মা! খেয়াল করিস নি! আমাদের সাথে কথাই বলল না!
সিমিঃ হয়ত এক্সাম খারাপ হয়েছে।
রিমাঃ ঘোড়ার আন্ডা! এক্সাম খারাপ হয়েছে বলে কথা বলবে না! তবে তোর দিকে কেমন যেন চোরাই দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিল। 
সিমিঃ তুই না! কই, আমি তো দেখলাম না! 
রিমাঃ তা তো দেখবিই না। 
সিমিঃ তুই না! বেশি বেশি!ছেলেটা কত ভদ্র! চেহারায় একটা  মায়া মায়া ভাব আছে!
রিমাঃ হ। তুই প্রেম করবি? বলে দেব?
সিমিঃ তোর মাথায় কি প্রেম ছাড়া কিছু নেই নাকি!
রিমাঃ হ। আসল কথা বললেই দোষ। 
ঠিক এই সময়ে রাস্তায় সবুজের আগমন। 
রিমাঃ জনাব এসে গেছেন। আমি এখন কাবাব মে হাড্ডি না হয়ে কেটে পরি। 
সিমিঃ এই যাসনে।
এই কথা না শুনে রিমা কেটে পরল। সবুজ লাজুক ভঙ্গীতে সিমির পাশাপাশি হেটে যেতে লাগলো। 

এদিকে ওদের পাশাপাশি হেটে যাওয়ার দিকে একমনে চেয়ে রইল যোহান!

হাতিমঃ দেখলি! সবুজের সাথে ওর প্রেম চলছে। 
যোহানঃ (ব্যথিত কণ্ঠে)চলুক না! আমি কি করব চললে! 
হাতিমঃ তুই ওকে পছন্দ করিস না? 
যোহানঃ হুম করি৷ তো? 
হাতিমঃ ওকে জানাবি না? 
যোহানঃ জানানোর কি আছে? আমি তো ওকে ভালবাসি না৷ আর চাই-ও না। 
হাতিমঃ প্রতিদিন যে বাইকে নিয়ে আসিস! 
যোহানঃ ও কাছাকাছি থাকলে ভাল লাগে। তাছাড়া টাকাও তো পাই! 
হাতিমঃ শুধু টাকার জন্যেই?
যোহানঃ শুধু টাকার জন্যে না! বললাম না! ও কাছাকাছি থাকলে আমার খুব ভাল লাগে৷ 
হাতিমঃ এটাই তো প্রেম। 
যোহানঃ প্রেম হলে প্রেম। 
হাতিমঃ তাইলে বলে দেই গে!
যোহানঃ বেশি বাল পাকনামো করিস না! আমি বলছি তোকে বলতে?
হাতিমঃ তা বলোস নাই! তয় বন্ধু হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করা উচিৎ না?
যোহানঃ অত দায়িত্ব পালন করতে হবে না, ভাই। চুপ যা। 
হাতিমঃ হু। 

_____
যোহানের চলমান বাইকে সিমি বসে আছে। বাইকটি কার্জন হলের সামনে গিয়ে থামলো। ঐ দিন শেষ বারের মত সিমি বুক ভরে মিষ্টি গন্ধটা নিল। আসলে এই গন্ধটার জন্যেই ও নিয়মিত যোহানকে ফোন করে ডেকে নিয়ে বাইকে চরে ক্যাম্পাসে আসে। পারফিউমের নামটা জানা দরকার৷ কিন্তু নিজের ইগোর চাপাচাপিতে আর জিজ্ঞাসা করা হয় না! সিমি বাইক থেকে নেমে হেলমেট খুলতে খুলতে বলল, একটা প্রশ্ন করি?
যোহানঃ করুন।
সিমিঃ পারসোনাল প্রশ্ন। অন্য কিছু ভাববেন না।
যোহানঃ আরে না না! কি ভাববো?
সিমিঃ আপনি প্রতিদিন একই ড্রেস, একই হেলমেট পরেন কেন?
যোহানঃ এটা আমার ইউনিফর্ম। 
সিমিঃ মানে?
যোহানঃ স্কুলের বাচ্চারা যেমন ইউনিফর্ম পরে স্কুলে যায়, আমিও তেমন এগুলো পরে বাইক চালাই। 
সিমিঃ তাই বলে চেহারাটাও দেখাবেন না?
যোহানঃ আমি অতি নগন্য মানুষ!  চেহারা দেখে কি করবেন, ম্যাডাম!
কথাটা বলে যোহান বাইক টান দেবার উপক্রম করল৷ 
সিমিঃ এই শুনুন! লাস্ট একটা প্রশ্ন। 
যোহানঃ বলুন।
সিমিঃ এটা অত্যন্ত পারসোনাল।
যোহানঃ সমস্যা নেই।  
সিমিঃ(লাজুক কণ্ঠে) আপনি যে পারফিউম ব্যবহার করেন সেটার নাম কি?
যোহানঃ তা তো জানি না!
সিমিঃ অদ্ভুত! জানেন না মানে?
যোহানঃ আমি আতরটা শিশি হিসেবে কিনে আনি!
সিমিঃ আতর?
যোহানঃ হ্যা। আচ্ছা। কাল আপনাকে একটা এনে দেব। 
সিমিঃ ওকে। 

বাইক পার্কিং এ নিয়ে যাবার সময় যোহান মনে মনে বলল, সামান্য একটা আতর! মাত্র ৭০ টাকা দাম! তার প্রতি মেয়ে মানুষের এত আগ্রহ কেন? অদ্ভুত এই মেয়ে মানুষের মন! যাক! এত কিছু বুঝতে গেলে ওর মাথা নষ্ট হয়ে যাবে। এখন অনেক ব্যস্ততা। 

________
যোহান চেয়েছিল এক্সামের কটা দিন ভাড়ায় বাইক চালাবে না। কিন্তু একটা ট্রিপ নির্দিষ্ট ছিল। সিমিকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসতে হয়। 
ব্যবসাটা চালু রেখেছে। শাকিল চেয়েছিল পরীক্ষার কদিন বন্ধ রাখবে কিন্তু যোহান আর মজনু রাজী হয় নি; ওরা দুজনে এ কদিন চালাবে; দুজনে ইনভেস্ট করবে; যা লাভ হয় দুজনে ভাগ করে নেবে। 

শেষ পরীক্ষার দিন বাইক থেকে নেমে সিমি যোহানকে বলল, আপনি একটা মিথ্যুক! 
যোহানঃ কিভাবে?
সিমিঃ আমাকে যে আতর দিয়েছেন ওটা আর আপনি যেটা ব্যবহার করেন সেটা এক না। 
যোহানঃ এক-ই তো! আমি তো এটাই ব্যবহার করি!
সিমিঃ কিন্তু ওটা হাতের উপর নিয়ে গন্ধ নিলে এক রকম লাগে আর আপনার গায়ে মাখলে অন্য রকম লাগে কেন? 
যোহানঃ (অবাক হয়ে) তাই নাকি! তা তো জানি না! এটা কেন হবে?
সিমি রেগে গিয়ে বলল, কেন হবে আপনি জানেন! আপনি দুই নম্বরি জিনিস দিয়েছেন আমাকে।। কথাটা বলে সিমি হনহন করে হেটে চলে গেল।

এক্সাম শেষে রিমা আর সিমি কথা বলতে বলতে হেটে যাচ্ছিল। 
সিমিঃ আচ্ছা রিমা, একটা কথা বল তো! 
রিমাঃ কি?
সিমিঃ একটা আতর হাতে নিয়ে গন্ধ নিলে একই গন্ধ কিন্তু কেউ গায়ে মাখলে আলাদা গন্ধ! এর কারণ কি?
রিমাঃ ধুর ছাই! এর কারণ বুঝলি না! 
সিমিঃ না! কি কারণ তুই জানিস?
রিমাঃ হুম। গায়ে ঘামের গন্ধ থাকে, কাপড় যদি নিয়মিত কাচা না হয় তাহলে ঘামের গন্ধ আর আতরের গন্ধ মিলে নতুন একটা বোটকা গন্ধ হয়ে যাবে! 
সিমিঃ কি বললি? গায়ের গন্ধ?
রিমাঃ হুম! তুই এসব প্রশ্ন করছিস কেন? কি হয়েছে বলত?
সিমিঃ আরে কিছু হয় নি! 

এই মুহুর্তে ওরা যে রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছে তার পাশেই মাঠে ঘাসের উপর যোহান বসে আছে। মুখ নিচু করে কি যেন পড়ছে। রিমা ওদিকে তাকিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিল। সিমি যোহানের দিকে তাকিয়ে বলল, এক্সাম কেমন দিলে?
যোহানঃ (গম্ভীর সুরে) মোটামুটি। 
কথাটা বলে যোহান একটা হাসি দিল। হাসিটা সরলতায় মাখা কিন্তু অত্যন্ত মিষ্টি। হাসিটা সিমির খুব ভাল লেগে গেল। কিন্তু যোহান ফিরতি কোন প্রশ্ন না করায় কথা না বাড়িয়ে সিমি আর রিমা চলে গেল। 

এদিকে যোহান হাফ ছেড়ে বাঁচলো। এতদিন সিমির সাথে কথা বলতে বলতে কণ্ঠটা বেশ পরিচিত হয়ে গেছে। ধরা খেলে বিপদ হত। মেয়েটা কাছে আসলে একটু ভাল লাগা কাজ করে সে কাছে আসাটাই বন্ধ হয়ে যেত। 

যে কোন দিন রেজাল্ট হয়ে যেতে পারে। সবুজ খুব উচ্ছ্বসিত। ডিপার্টমেন্টে প্রথম সেমিস্টারে ওর থেকে একটিভ স্টুডেন্ট ম্যাথ ডিপার্টমেন্টে এবার ভর্তি হয় নি। সবাই ধরে নিয়েছে ও ফার্স্ট হবে। ইন-কোর্স গুলোতে ও এগিয়ে আছে। ওর পরেই রবিন নামের একটা ছেলের অবস্থান। রবিন শুধু রেজাল্ট নয়, সিমির আশেপাশে ঘুর ঘুর করে। মানে সবুজের নাম্বার ওয়ান প্রতিদ্বন্দ্বী! 
এক দিন সবুজ আর সিমি হলের বারান্দায় বেঞ্চে বসে কিছু প্রব্লেম সলভ করছে। কিছু সময় পর পর সিমি নাক সিটকে উঠছে। একটা বোটকা গন্ধ নাকে আসছে। সিমির এরকম ভাব দেখে সবুজ বলল, কোন সমস্যা?
সিমিঃ না! তেমন কোন সমস্যা না। 
সবুজঃ মনে হচ্ছে একটা সমস্যা ফেস করছ!
সিমিঃ কিছু মনে করবে না। একটা প্রশ করি?
সবুজঃ অবশ্যই! 
সিমিঃ না মানে! তুমি কি পারফিউম ব্যবহার করো?
সবুজঃ ফগ ইউজ করি।
সিমিঃ এক মিনিট।
সিমি ব্যাগ থেকে বাইক ড্রাইভারের দেওয়া আতর বের করে সবুজকে দিয়ে বলল, এটা লাগাও তো গায়ে। 
সবুজ বিনা বাক্য ব্যয়ে আতরের শিশি থেকে গায়ে আতর মাখলো। এবং সিমিকে আতরের শিশিটা ফেরত দিল। 
কিছুক্ষণ পর গন্ধ শুকে রিমি মনে মনে বলল, নাহ! সেই গন্ধটা পাওয়া যাচ্ছে না। 
সবুজঃ কি করলে আর কি বুঝলা আগামাথা কিছু মাথায় ঢুকল না। 
সিমিঃ ও তোমার বোঝা লাগবে না।
_____
প্রথম সেমিস্টারের রেজাল্ট পাবলিশ হয়েছে৷ সিমি, রিমা, সবুজ একসাথে দাঁড়িয়ে আছে। সবুজের মনটা বিষন্ন হয়ে আছে। সে প্রথম হতে পারেনি। সিমি, রিমা প্রথম দশ জনের মধ্যে নেই কিন্তু ভাল ফলাফল করেছে। ওরা খুশি কারণ ওরা প্রথম দিকে থাকতে চায়নি। সবুজের মন খারাপ দেখে রিমা বলল, আরে ধুর! মন খারাপ করছিস কেন? 
সবুজঃ মন খারাপ করব না! এত কষ্ট করে পড়লাম! 
সিমিঃ দেখ! এটাই তো চুড়ান্ত ফলাফল না! সামনে সমস্ত সেমিস্টারগুলো পরে রয়েছে! ভাল করে পড়তে থাকো!
সবুজঃ (একটু আশাপ্রদ হয়ে) তা ঠিক বলছ! কিন্তু ফার্স্ট হল কে?
রিমাঃ যোহান আহমেদ নামের একটা ছেলে!
সবুজঃ যোহান কে? 
সিমিঃ (রিমার দিকে চেয়ে)ঐ যে হাতিমের সাথে বসে ছিল?
রিমাঃ হ্যা! 
সিমিঃ বলিস কিরে! 
সবুজঃ তুমিও চেন! অথচ আমি চিনি না!
সিমিঃ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তুমি কারো সাথে কথা বলো যে চিনবে!
সবুজঃ হুম। তা ঠিক। আচ্ছা, পরিচয় করিয়ে দিও তো!
রিমাঃ এখন পরিচয় করিয়ে দিয়ে কি লাভ? ও তো তোর শত্রুই হয়ে গেল!
সবুজঃ শত্রুর হবার কি আছে?
রিমাঃ কিছু নেই কিন্তু আমার কেন যেন মনে হচ্ছে জব্বর ফাইট একটা হবে। 

এই সময় ওদের পাশ দিয়ে হাতিম হেটে যাচ্ছিল।  
রিমাঃ এই হাতিম! কোথায় যাস? যোহান কোথায় রে? 
হাতিমঃ রেজাল্ট দেখতে যাই। যোহানকে কি দরকার? ও আজ আসেনি। 
রিমাঃ তুই জানিস না?
হাতিমঃ কি জানবো?
সিমিঃ যোহান প্রথম সেমিস্টারে ফার্স্ট হয়েছে। 
হাতিমঃ ফার্স্ট! যোহান!  
রিমাঃ হ্যা! 
হাতিমঃ ধুর বাল! কি যে কইস তোরা! যোহান কেন ফার্স্ট হবে? এটা অবিশ্বাস্য! ওকে আমি কোনদিন বই নিয়ে বসতে দেখিনি! 
রিমাঃ বিশ্বাস না হলে গিয়ে দেখ! 
হাতিমঃ( ফোন কানে ধরে এগিয়ে যেতে যেতে) যাই তো! দেখি কি অবস্থা। 
সবুজঃ নকল টকল করেনি তো!
সিমিঃ আরে ধুর! নকল করে কি ফার্স্ট হওয়া যায় নাকি? নকল যারা করে ওরা পাশ করার জন্যে নকল করে! বড়জোর কিছুটা ভাল রেজাল্ট করা যায়। 3&#039;
সবুজঃ তুমি সব কিছু জানো না। 
রিমাঃ আমার একটু নীলক্ষেত যেতে হবে। (বাঁকা হাসি হেসে) তোরা একত্রে সময় কাটা, আমি যাই। 
সিমিঃ আরে তুই একা যাবি কেন? আমিও যাই!
সবুজঃ না ও যাক। তোমার সাথে আমার কথা আছে। 
সিমিঃ (অপ্রস্তুত ভাবে) কি কথা?
রিমাঃ আচ্ছা। তোরা থাক আমি আসি। 
রিমা দ্রুত হেটে চলে গেল।
সিমিঃ কি কথা বলবে বলো। 
সবুজ মুখটা ভীষণ করুন করে মাথা নীচু করল। 
সিমিঃ কি হল? আবার মন খারাপ করলে?
সবুজঃ হুহ!
সিমিঃ কি বলবে তাই বলো!
সবুজঃ কথাটা যে কিভাবে বলি.......
সিমিঃ এমন কিছু বলবে না যাতে আমাদের সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে যায়!
সবুজঃ তোমাকে আমার ভাল লাগে!
সিমিঃ এটা বলতে চেয়েছিলে?
সবুজঃ হ্যা। 
সিমিঃ তোমাকেও আমার ভাল লাগে!
সবুজঃ (একটু হেসে) সত্যিই!
সিমিঃ সত্যি নয়ত কি? ভাল না লাগলে কি তোমার সাথে মিশতাম নাকি? বন্ধুত্ব করতাম?
সবুজঃ (একটু দমে গিয়ে) শুধু বন্ধুত্বই?
সিমিঃ হুম। 
সবুজঃ আমি আসলে অন্যরকম বন্ধুত্বের কথা বলছিলাম। 
সিমিঃ আমি বুঝেছি। কিন্তু ওটা এখন আমি চিন্তা করছি না। বিশেষ করে তোমাকে নিয়ে নয়। যদি ভবিষ্যতে তোমাকে নিয়ে এরকম চিন্তা মাথায় আসে তো জানাবো। 
সবুজঃ অপেক্ষায় থাকবো। 
সিমিঃ অপেক্ষায় থাকলে কিছু পাবে না। না থাকলে পেতেও পারো!
সবুজঃ মানে?
সিমিঃ এর কোন মানে নেই। এখন যাই। কাল এসো। দেখা হবে। 

_______
পরদিন সকালে যোহান সিমিকে কার্জন হলে নামিয়ে দিল। 
সিমি চলে যাবে, এমন সময় যোহান বলল, কিছু মনে না করলে একটা কথা বলি?
সিমিঃ বলুন!
যোহানঃ আপনার মন খারাপ কেন?
সিমিঃ আমার মন খারাপ কে বলল?
যোহানঃ চেহারা দেখে বোঝা যাচ্ছে। 
সিমিঃ মন খারাপ না। মেজাজ খারাপ!
যোহানঃ কেন জানতে পারি?
সিমিঃ একটা প্রশ্নের জবাব দিবেন? 
যোহানঃ বলুন।
সিমিঃ একটা ছেলের সাথে মিশলেই কি তার সাথে প্রেম করতে হবে?
যোহানঃ কি হয়েছে না জানলে কিভাবে বলব?
সিমিঃ(ঝটকা মেরে চলে যেতে যেতে) আপনি একটা বাইক ড্রাইভার! আপনাকে কেন এত কথা বলছি! ধুর! যত্তসব!

সিমি চলে গেল। অথচ যতক্ষণ ওখানে ছিল, যোহানের পাশে, একটা অদ্ভুত ভাললাগা কাজ করছিল। ওর মেজাজ খারপটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাছাড়া থেকে থেকে একটা মিষ্টি গন্ধ আসছিল। পাগল করা ঐ গন্ধটা ওকে বিবশ করে দিচ্ছিল। একটা আচ্ছন্ন ভাল লাগা মেজাজ খারাপকে ছাপিয়ে যাচ্ছিল। সেটা থেকে এড়িয়ে যেতেই ঝটকা মেরে সরে গেল ও। যেতে যেতে নিজেকে বলল, ধুর! একটা বাইক ড্রাইভারের সঙ্গ এতটা ভাল লাগবে কেন তোর? খানকি একটা! এত জ্বালা গায়ে!  দেশে লোকের অভাব পরছে? সবুজও তো এর থেকে কত ভাল!  ও কে না করে দেবার জন্যে আজ- সরি বলবি! শালী কুত্তী!!
মনে মনে নিজেকে খিস্তি দিতে দিতে ক্লাসে ঢুকে পরল। পেছনের দিকের একটা বেঞ্চে গিয়ে বসলো। কিছু সময় বাদে যোহান ক্লাসে ঢুকল। ও ক্লাসে ঢুকতেই সবাই কেমন যেন চুপ হয়ে গেল। তাতে যোহান অপ্রস্তুত হয়ে এক কোনার দিকে গিয়ে বসল। হাতিম গিয়ে ওর পাশে গিয়ে বসল। 
যোহানঃ কিরে! সবাই আমাকে দেখে অমন রিয়াক্ট কেন করল রে?
হাতিমঃ কেন করবে না?
যোহানঃ কেন? কি হয়েছে? 
হাতিমঃ কি হয়েছে পরে বলছি। আগে বল কাল তোর ফোন অফ কেন ছিল। 
যোহানঃ চার্জ ছিল না। 
হাতিমঃ রাতে? রাতে কেন অফ ছিল?
যোহানঃ ফোন বাসায় রেখে আমি উত্তরা গিয়েছিলাম। রাত বারোটার পর ফোন খুলেছি। 
হাতিমঃ তুই জানিস না! 
যোহানঃ কি জানবো?
হাতিমঃ তুই ফার্স্ট হয়েছিস!
যোহানঃ ফার্স্ট? আমি? 
হাতিমঃ হ্যা! কিভাবে করলি? তুই তো পড়িস নি!
যোহানঃ পড়ি নি, তা না।  কিন্তু ফার্স্ট হবার মত পড়িনি। 
হাতিমঃ যাই হোক! তুই ফার্স্ট হয়েছিস!
যোহানঃ কি জানি! হতেও পারে! আমি অঙ্কে কোনদিন ১০০ এর মধ্যে কম পাইনি। ইন্টারেও ১০০% মার্ক ক্যারি করেছি। অঙ্ক আমার প্রিয়। অংক আমার প্রথম প্রেম! আমি অঙ্ক নিয়ে খেলতে ভালোবাসি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/95751/</link>
				<pubDate>Fri, 04 Feb 2022 16:49:01 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভাড়ায় চালিত-২</p>
<p>হাতিমঃ তাইলে মন খারাপ করে আছিস কেন? সামনে এক্সাম! টাকা রোজগার করে, মন খারাপ করে থেকে রেজাল্ট ভাল হবে?<br />
যোহানঃ রেজাল্ট দিয়ে কি হবে? পাশ করলেই হল!<br />
হাকিমঃ সেই পাশ করার জন্য হলেও তো পড়াশোনা করতে হবে! নাকি?<br />
যোহানঃ পাশ করার জন্যে যা লাগবে তা পড়া যাবে।<br />
হাকিমঃ ব্যবসা বন্ধ রাখবি পরীক্ষার কদিন?<br />
যোহানঃ না। ব্যবসা চলবে। ব্যবসা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-95751"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/95751/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7f546b4dcb059f6cdcb5f5cd29576f1a</guid>
				<title>ভাড়ায় চালিত


হেলমেট পরে, মোটরবাইকের উপর বসে, মোবাইলের দিকে চেয়ে বসে আছে যোহান। হেলমেটের কাচ কালো রঙের বলে ওর চেহারা বোঝা যাচ্ছে না। গায়ে চকচকে কালো রঙের জ্যাকেট। জ্যাকেটের কারণে ওর ফিগার দেখেও কেউ ওকে হুট করে চিনে ফেলবে সেটাও বলা যায় না। 
দুই বিল্ডিং পর একটা বাসা থেকে একটা মেয়ে বের হল। বের হয়ে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে সে মোবাইল বের করে পাঠাও এপ্স ওপেন করে সার্চ দিল। যাকে এভেইলএবল পেল তার নাম্বারে কল দিল। কলটা এল যোহানের মোবাইলে। কল রিসিভ করে যোহান বলল, হ্যালো
সিমিঃ পাঠাও থেকে বলছেন?
যোহানঃ জ্বি।
সিমিঃ ভাইয়া, আপনার লোকেশন কোথায়? 
যোহানঃ ৬ নং রোডে।
সিমিঃ আমার লোকেশনে আসতে কত সময় লাগবে?
যোহানঃ ২ মিনিট।
সিমিঃ আচ্ছা। আসুন।

দেড় মিনিট দেরি করে বাইক  স্টার্ট দিয়ে মেয়েটার দিকে এগিয়ে গেল ও। 
গত তিন ধরে ও পাঠাও এপ অন করে বসে থাকে যোহান। মেয়েটা বাসার নীচে এসে সার্চ দিয়ে যদি ওকে পেয়ে যায়, এই আশায় ওর এত আয়োজন। মেয়েটা ওর নিজের ক্লাসমেট কিন্তু সে ধরা না খেয়ে মেয়েটিকে মোটর বাইকের পেছনে বসিয়ে প্রতিদিন তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাবে। এই হচ্ছে অভিপ্রায়।
মেয়েটার কাছে গিয়ে মোটরসাইকেলে ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে পরল। মেয়েটাকে বযোহান বলল, আপু আপনি কল দিছিলেন?
সিমিঃ জ্বি।
যোহানঃ কোথায় যাবেন?
সিমিঃ ঢাবিতে যাব। 
যোহানঃ ওকে, বসেন। 
সিমি মোটর বাইকে উঠে বসল। কাপড় আর ব্যাগ গুছিয়ে নান্দনিক ভঙ্গীতে বসা দেখলেই বলে দেওয়া যায় এই মেয়ে নিয়মিত বাইকে বসে।  
প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে বের হয় সাতটায়। ভার্সিটির ডাবল ডেকার বাস মিরপুর-২ এলাকায় দাঁড়ায়। ৭.০৫ এর আগে যদি সে অত্র জায়গাতে উপস্থিত হতে পারে তো বাসে যাবার সুযোগ হয় আর যদি দেরি করে ফেলে তো বাসার সামনে থেকে পাঠাও বা উবারের বাইক ভাড়া করে নিয়ে মিরপুর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হয়। সিমি সকালের ঘুম অত্যন্ত ভালোবাসে তাই বেশিরভাগ দিনেই তার দেরি হয়ে যায়। সিমির বাবা মোটামুটি মাঝারি মাপের ব্যবসায়ী, কাচা টাকা একেবারে কম না। মেয়ের হাত খরচ দেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত। তাই টাকার অভাব নেই। তাছাড়া বাইকে চড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতেও অত্যন্ত ভাল লাগে ওর।

বাইকের পাশে বসে সিমি একটা মিষ্টি গন্ধ পেল। গন্ধটা পুরোপুরি পারফিউমের নয়। যোহানের গায়ের গন্ধ আর পারফিউমের গন্ধটা মিলে মিশে এই গন্ধটা তৈরি হয়েছে। ভীষণ মিষ্টি গন্ধটা সিমির নাসারন্ধ্র দিয়ে প্রবেশ করে অস্তিত্বের গহীনে ঢুকে কোথায় যেন জোড়ে সোরে আঘাত করে বসল। এই মিষ্টি গন্ধে ও বুক ভরে নিশ্বাস নিল। সিমি ভাবলো এটা সম্ভবত দামী পারফিউমের-গন্ধ। শাহবাগ আশার পর মেয়েটি বলল, ভাইয়া, কার্জন হলে নিয়ে যাবেন আমাকে।
যোহানঃ আচ্ছা।
কার্জন হলের সামনে মেয়েটিকে নামিয়ে দিল যোহান। ভাড়া মিটিয়ে মেয়েটি চলে গেল। মোটর সাইকেলের উপর বসে থেকে মেয়েটির চলে যাওয়া গভীরভাবে খেয়াল করল ও। তার নিতম্বের আলোড়ন যোহানের বুকেও আলোড়ন তুলে দিল। এই আলোড়নটা অবশ্য নিয়মিত অনুভব করে সে। মেয়েটাকে অল্প কিছুক্ষণ কাছে পাবার জন্যে সবকিছু দিয়ে দিতে পারে। 

বাইকটা হলের পার্কিং এরিয়ায় নিয়ে গিয়ে পার্ক করল যোহান। তারপর হেলমেট আর জ্যাকেট খুলে বাইকে ঝুলিয়ে রাখল। বইয়ের ব্যাগটা নিয়ে ক্লাসের দিকে পা বাড়ালো। 

এদিকে যোহান সিমির ক্লাসমেট হলেও ওর জীবনের চিত্রটা আলাদা। ও সকাল সাড়ে পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠে ছটায় একটা বইয়ের ব্যাগ, অতিরিক্ত একটা হ্যালমেট সহযোগে বাইক নিয়ে বের হয়। উবার বা পাঠাও এপ্স এর সাহায্যে কয়েক ঘন্টা রাইড শেয়ার করে যে টাকা হয় তা পকেটে ভরে নির্দিষ্ট সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় ক্লাস করতে। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে খেয়ে নেয়। আবার দুপুরে ক্লাস শেষ হলে রাইড শেয়ার করতে বের হয়। 

_______
ক্লাস শেষ করে বিকেলে পার্কিং-এ এসে হেলমেট আর জ্যাকেট পরে বাইকে টান দিয়ে দোয়েল চত্ত্বরে এসে পৌছুতেই ফোন বেজে উঠল। বন্ধু হাতিমের ফোন। এই একটা ছেলের সাথেই ওর যা কিছু মেশামিশি আছে। বাইক থামিয়ে ফোন বের করে রিসিভ করল, 
যোহানঃ হ্যালো, হাতিম। 
হাতিমঃ হ্যা। কোথায় তুই?
যোহানঃ বাইক নিয়ে বের হলাম। 
হাতিমঃ আজ বের হতে হবে না। তুই আজ আমাদের সাথে চল।
যোহানঃ কোথায় রে? 
হাতিমঃ যাদের বাইক আছে তারা সবাই মিলে মাওয়া যাবে ঠিক করেছে। 
যোহানঃ আমাকে রাইড শেয়ারিং-এ যেতে হবে রে! তুই তো জানিস! বাসাতে সমস্যা আছে। 
হাতিমঃ আন্টি এখনো সুস্থ হয়নি? 
যোহানঃ মা কিছুটা সুস্থ কিন্তু ছোট ভাই এসএসসি দেবে, বোনটা ইন্টার পড়ছে। ওদের দায়িত্বও তো আমার!
হাতিমঃ আচ্ছা। যা। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের সুখ আহলাদ ভুলে বসিস নে যেন!
যোহানঃ আরে না না! পরের বার যাব দেখিস!
হাতিমঃ আচ্ছা, রাখছি। 
ফোন রেখে যোহান বাইক নিয়ে এগিয়ে যায়।

পরদিন সকালে আবার সিয়াম একই জায়গায় দাঁড়িয়ে৷ দূর থেকে খেয়াল করে দেখছে মেয়েটা বের হয় কিনা। মেয়েটা বের হল। দাঁড়িয়ে থেকে মোবাইলে সার্চ দিল। তারপর কাছের রাইডারকে কল দিল। কলটা যোহান রিসিভ করে দুমিনিটে হাজির হবার প্রতিশ্রুতি দিল। 
দেড় মিনিট ধরে যোহান ভাবতে থাকলো, এত দায়িত্ব নিয়ে যে ছেলে পথ চলে সেই ছেলে কে এসবে মানায়? তবুও নিজেকে নিয়ন্ত্রণের বাধে আটকাতে পারে না। জীবনে একটা মেয়ের কাছাকাছি যেতেই হয়; নিজেকে আটকানো যায় না। 
কাছে যেতেই মেয়েটা বলল, আপনি! আজকেও! 
যোহানঃ আমার বাসা কাছেই। সকালে বের হয়ে দাঁড়াই। একই সময়ে আপনি কল দেন।
সিমিঃ আচ্ছা। চলুন। 
সিমি বাইকে উঠে বসল। চলতে শুরু করে বাইক। ঘন ঘন লবা দম নিয়ে বুক ভরে শ্বাস নেয় সিমি। বিশেষ পারফিউমের মিষ্টি গন্ধে ভরে ওঠে তার ফুসফুস। গন্ধটা এত আপন লাগে মনে হয় বাইক ওয়ালার পিঠ জড়িয়ে বসে ও। কিন্তু ভদ্রতার খাতিরে দূরে থাকাই শ্রেয় মনে করে।

গতদিনের মতই কার্জন হলের সামনে তাকে নামিয়ে দেয় যোহান। বাইক নিয়ে চলে যায় পার্কিং-এ। 

_______
বই হাতে কলা ভবনের সামনে হাতিমের সাথে বসে আছে যোহান। আরো দুজন বন্ধু আসবার কথা রয়েছে। হাতিম বলল, কেসটা কিরে? ওরা আমাদের কেন ডাকল?
যোহানঃ আমি কি জানি? তবে শুনলাম কি একটা ব্যবসা খুলবে?
হাতিমঃ আমরা কেন? 
যোহানঃ তাও জানি না। ব্যবসা করবে, করুক। আমাকে নিলে যেতেও পারি কিন্তু কোন ধরণের ইনভেস্ট আমার পক্ষে করা পসিবল না। বাইকের লোন টানতে, সংসার চালাতে চালাতে আমার জীবন শ্যাষ! কাছে কোন টাকা পয়সা নেই! 
হাতিমঃ তোর তো তাও ইনকাম আছে। 
যোহানঃ ধুর! আজকাল কেমন ফ্যাসফ্যাসে যাচ্ছে! ইনকাম টিনকাম নেই!
হাতিমঃ কেমন? 
যোহানঃ সকালে মাত্র একটা দুটো ট্রিপ হয়। 
হাতিমঃ কেন? তুই তো আগে ভালোই ট্রিপ মারতিস!
যোহানঃ এমনিই......
হাতিমঃ কি হয়েছে বলবি তো? কোন সমস্যা? 
যোহানঃ সমস্যা তেমন না। তবে......
হাতিমঃ তবে.....
যোহানঃ একটা মেয়েকে ভাল লাগে। কদিন হল, তাকে বাসা থেকে নিয়ে আসার জন্যে দাঁড়িয়ে থাকি। 
হাতিমঃ কস কি? তুই? মেয়ে? কে রে মেয়েটা?
যোহানঃ প্রেম ট্রেম কিছু নাহ! জাস্ট ওর কাছাকাছি থাকতে খুব ইচ্ছা করে। 
হাতিমঃ আরে এটাই তো প্রেম!
যোহানঃ ধুর বাল! সবকিছুর ভিতর খালি প্রেম টানিস!
হাতিমঃ আরে আগে মেয়েটা কে বলত?
যোহানঃ বললে যদি কাউকে বলিস তাইলে কিন্তু আমি শ্যাষ! 
হাতিমঃ আমি চিনি?
যোহানঃ চিনোস! 
হাতিমঃ কস কি? ক্লাসমেট?
যোহানঃ হু।
হাতিমঃ কে, বলত? 
যোহানঃ কাউকে বলবি নাতো?
হাতিমঃ আরে নাহ! সেই প্রথম দিন থেকেই আমি আর তুই একসাথে মিশি। একদিনো কি বিট্রে করছি?
যোহানঃ তা করিস নি!
হাতিমঃ তাইলে বল মেয়েটা কে?
যোহানঃ সিমি!
হাতিমঃ সিমি! বলিস কিরে! 
যোহানঃ হ্যা। 
হাতিমঃ ক্লাসে তো কথা বলতে দেখি না! তোর মোটর সাইকেলে ও আসলো!
যোহানঃ আরে! আমার তো মাথায় হেলমেট থাকে। ও চেনে না আমাকে। আমি ওকে যাত্রী হিসেবে আনি!
হাতিমঃ ওওও!!!!
যোহানঃ কাউকে বলিস না যেন!
হাতিমঃ তা ঠিক আছে! কিন্তু তুই জানিস ওর কি ডিমান্ড?
যোহানঃ কিছুটা জানি!
হাতিমঃ কিছুটা কেন? 
যোহানঃ ক্লাস করা ছাড়া আমি কারো সাথে মিশি?
হাতিমঃ হুম। তা ঠিক। তবে তোর চান্স নেই দোস্ত। 
যোহানঃ আমি চান্স নিচ্ছি কে বলল? আমি শুধু ওর কাছাকাছি থাকতে চেয়েছি। এই তো! ওর সাথে কথা বলতে গেছি? মিশতে গেছি? নিজের পরিচয় দিয়েছি?
হাতিমঃ ঐ একই কথা হল। শোন, আমাদের ক্লাসের হ্যান্ডসাম চার চারজন ওর ক্যান্ডিডেট। এর মধ্যে দুজনের সাথে নিয়মিত ফোনে কথা হয়। বন্ধুত্ব গভীর। বাকি দুজন-ও নিয়মিত লাইন মারছে। এছাড়া থার্ড সেমিস্টারের বড় ভাই আছে কয়েকজন। তারাও দেখতে শুনতে মন্দ না। তোর একদম চান্স নেই। 
যোহানঃ বাদ দে ভাই! আমার চান্স লাগবে না। তুই কাউকে বলিস না। আমি শুধু ভাড়া নিয়ে মিরপুর থেকে ভার্সিটিতে আসব। আমার আর কিছু লাগবে না। এটুকু ভাল লাগা তুই নষ্ট করিস না। 
হাতিমঃ না, দোস্ত। তোর ভালো লাগার দাম আমি দেব। কাউকে জানতে দেব না। কিন্তু পরে যদি কষ্ট পাস?
যোহানঃ কষ্ট মানুষ পায়-ই। প্রেমে পরলেও পায়, না পরলেও পায়৷। 
হাতিমঃ তা ঠিক বলছিস তুই। 

এই সময়ে আর দুজনের আগমন। ওদের একজন শাকিল, অপর জন মজনু। 
শাকিলঃ আরে বন্ধু! তোরা আগেই এসেছিস!
হাতিমঃ আগে আসিনি! সময়মত এসেছি! তোদের আসার কথা তিনটায়, তোরা আসলি পৌনে চারটায়! তোরা দেরিতে এসছিস।
মজনুঃ সরি, দোস্ত৷ 
যোহানঃ  সরি টরি বাদ দিয়ে কাজের কথা বলো, বন্ধু। 
শাকিলঃ এত তারা কিসের?
হাতিমঃ আমার তারা নেই। ওর তারা আছে। বাসায় যেতে হবে। 
মজনুঃ তাহলে কাজের কথা বলি। আমরা বন্ধুরা মিলে একটা বিজনেস স্টার্ট করব। শুরুতে ছোট খাট কাজ হবে। পরবর্তীতে বড় করব। 
হাতিমঃ কিসের বিজনেস?
শাকিলঃ আমার এক ভাই জেলা শহরে ভ্যারাইটি মালের ব্যবসা করে। ও আমাদের বলেছে, আমরা শুধু ঢাকা থেকে পাইকারি বাজার গুলোতে ঘুরে ঘুরে সস্তা দামে ওর পাঠানো তালিকার মাল কিনে কুরিয়ার করে পাঠিয়ে দেব। 
যোহানঃ তাতে লাভ?
শাকিলঃ লাভ দুটো। এক ও যা লাভ করবে তার একটা পার্সেন্টেজ আমরা পাব। আর ও যে মূল্য ধার্য করবে তার থেকে কম দামে কিনে পাঠাতে পারলে সেটা আমাদের থাকবে। 
হাতিমঃ এটা তো তোরা নিজেরাই করতে পারতিস! আমাদেরকে নিচ্ছিস কেন?
মজনুঃ তা পারতাম। তোদের নিচ্ছি কারণ হল, যোহানের বাইক আছে দেখে। আমাদের কাজ হবে ঘুরে ঘুরে মাল কেনা। তাতে বাইক লাগবে। তোরা দুজনে একটা সাইড সামলাবি। 
যোহানঃ আমার তো কোন পুজি নেই, বন্ধু!
শাকিলঃ পুজি লাগবে না। প্রথম প্রথম শুধু বাইকের তেল যাবে দুই চার লিটার৷ লাভ হলে ওখান থেকে কেটে নিয়ে পুজি দার করাবো। 
যোহানঃ তাহলে শুরুর টাকা কে দেবে? 
শাকিলঃ আমার ঐ ভাই দেবে। যে জেলাতে ব্যবসা করে। 
হাতিমঃ ও আচ্ছা। তাইলে তো আগানো যায়-ই। কি বলিস, যোহান? 
যোহানঃ দ্বারা, আমি একটু ভেবে নেই। কাল জানাবো। 
মজনুঃ ভাবাভাবি করিস না, বন্ধু। কাজ কম হবে; সর্বোচ্চ বিকাল তিনটা থেকে পাচটা। অবশ্য প্রথম কয়েকদিন একটু চাপ থাকবে। রাস্তা আর হিসেব চিনে নিলে দ্রুত কাজ করে ফেলা যাবে। এমন সুযোগ আর আসবে না, বন্ধু। 
যোহানঃ হুম। সেটা ঠিক। আচ্ছা। ধরো আমি রাজী। তবুও কাল জানাবো। আর আমি এখন যাব। অনেক কাজ পরে আছে। 
শাকিলঃ আচ্ছা। তুই না হয় যা। 
যোহান চলে গেল। শাকিল হাতিমকে বলল, ও একটু আলাদা! তাইনা?
হাতিমঃ আলাদা কেমন? 
শাকিলঃ কারো সাথে মেশে টেশে না!
যোহানঃ ওর ফ্যামিলিতে একটু চাপ আছে। অনেক কিছু সামলাতে হয়। মেশা টেশার টাইম পায় না। 
মজনুঃ যেমন!
হাতিমঃ ওসব ফ্যামিলি ম্যাটার। শেয়ার করা যাবে না। বাদ দে এসব। 
শাকিলঃ আচ্ছা। তবে আমাদের প্রস্তাবে রাজী হলে ও উপকৃত হবে। এটা গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি। 

_____
সকালে একটা ট্রিপ নিয়ে উত্তরা গিয়ে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে এসে মিরপুর-৬ এসে নির্দিষ্ট বাসার সামনে এসে দাড়ালো যোহান। ও যখন দাড়ালো ঠিক তখনই সিমি অন্য একটি মোটর সাইকেলে উঠে বসে ওকে অতিক্রম করে চলে গেল। যাবার সময় সিমি ঘাড়টা ঘুরিয়ে ওকে একবার দেখে নিল। মাথায় হেলমেট, কাল চকচকে জ্যাকেট। প্রতিদিন একই ড্রেস হওয়াতে যোহানকে নির্দিষ্ট সেই বাইক রাইডার বলে চিনতে সিমির অসুবিধা হল না। যোহান মন খারাপ করে লক্ষ্য করল সিমির চোখেও কি যেন একটা রয়েছে যেটা ঔৎসুক্যের পর্যায়ে পরে যায়। 
হোন্ডা টান দিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোল চক্করে এসে দাড়ালো যোহান। যদি একটা ভাড়া পাওয়া যায়৷ 

______
অন্য একদিন সকালে নির্দিষ্ট সময়ে সিমির বাসার কাছের মোরে দাঁড়িয়ে আছে যোহান। সিমি এসে পাঠাও সার্চ দিল। কাছের লোককে কল করতে যোহান রিসিভ করল। 
যোহানঃ হ্যালো।
সিমিঃ হ্যালো। কালো জ্যাকেট ওয়ালা ভাই। 
যোহানঃ হা হা! আপনি চিনলেন কিভাবে? 
সিমিঃ আপনার কণ্ঠ পরিচিত হয়ে গেছে৷ তাছাড়া নাম্বার তো এটাই।
যোহানঃ হুম। 
সিমিঃ কই আছেন? চলে আসেন।
যোহানঃ আচ্ছা। আসছি। 
মোটর বাইক এসে সিমির সামনে থামলো। বাইকে ওঠার আগে সিমি বলল, গত সাত দিন আপনাকে দেখি না। কেন বলুন তো? কোথাও গিয়েছিলেন? 
যোহানঃ (একটু চমকে গিয়ে) না। কোথাও যাইনি। 
সিমিঃ (কণ্ঠে শাসনের সুর)তাহলে আসেন নি কেন? 
যোহানঃ একটু ব্যস্ত ছিলাম। 
সিমিঃ কি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন?
যোহানঃ একটা নতুন ব্যবসা শুরু করেছি। 
সিমিঃ ও। যাই করুন না কেন, আমাকে প্রতিদিন দিয়ে আসবেন!
যোহানঃ (সামান্য হেসে নিয়ে) আচ্ছা৷ 
সিমিঃ আর একটা কথা। আপনি যদি এই এলাকার হয়ে থাকেন তো ফোন করলেই পাওয়া যাবে?
যোহানঃ এই নাম্বারে পাবেন না। 
সিমিঃ যে নম্বরে পাব সেই নম্বর দিবেন আজকে।
যোহানঃ ওকে। 
সিমি মোটর সাইকেলে উঠে বসল। যোহান বাইকে আওয়াজ তুলে রওয়ানা হল ওদের গন্তব্যের দিকে। 
পথে আর কেউ কোন কথা বলল না। মনে মনে সিমি বেশ লজ্জিত আর অহঙ্কার বোধে আচ্ছন্ন হয়ে গেল। মনে মনে নিজেকে ধিক্কার দিয়ে বলল, ছি সিমি! ছি! একজন পাঠাও বাইক চালকের প্রতি তুই এত অধিকার দেখালি! কে হয় তোর? তুই কেন এভাবে কথা বললি? ছি! ছি! আবার নাম্বার-ও চাইলি! কত ছেলে তোর নাম্বার পাবার জন্য পাগল! ক্লাসমেটরা তোকে প্রতিদিন কল দিয়ে বিরক্ত করে মারে! আর তুই কিনা একটা বাইক চালকের নাম্বার চাইলি! চু......মা......নী। মা,......
পরে আবার সিমি নিজেকে বুঝ দিল এই বলে, আরে এত আফসোসের কি আছে! নাম্বার চেয়েছি। নিইনি তো! তাছাড়া নাম্বার তো নিব সকালে বাইকে চড়ে ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্যে। এ নিয়ে এত আফসোসের কি আছে?
আজ সিমি কার্জন হলের সামনে বাইক থেকে নেমে কোন কথা না বলে ভাড়া মিটিয়ে চলে গেল। নাম্বার নেওয়া তো দূরের কথা, মুখে কোন শব্দই উচ্চারণ করল না। 

একদিন পর যথারীতি যোহান নির্দিষ্ট মোরে এসে দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে খেয়াল করল সিমি বের হল। মোবাইল বের করে সার্চ দিল। তারপর কল দিল। কিন্তু কলটা যোহানের সেটে গেল না। পাঁচ মিনিট বসে থাকার পর যোহান লক্ষ্য করল আর একটি মোটর বাইক এল এবং সিমি তাতে উঠে বসল। দূর থেকে এটাও লক্ষ্য করল সিমি কাধ ঘুরিয়ে আশপাশ দেখল না। 

--------
ক্লাসরুমে সিমি একা একা বসে আছে। মাঝে মাঝে একটা মিষ্টি গন্ধ মস্তিষ্কে ধাক্কা দিয়ে যাচ্ছে৷ বার বার ঐ বাইক ড্রাইভারের কথা মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে! নিজেকে ধিক্কার দিয়ে মনে মনে বলল, ধুর! ঐ ড্রাইভার লোকটাকে এভয়েড করব বলে অন্য বাইকে আসলাম আর ওর কথাই মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে! শালার লোকটা কি একটা সস্তা পারফিউম ইউজ করে! একদম মগজে গেথে গিয়েছে! 
সিমি নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছে কিন্তু ঐ লোকটাকে মাথা থেকে দূর করতে পারছে না। 
রিমা নামের একটা মেয়ে এগিয়ে এসে বলল, কিরে সিমি! একা একা বসে আছিস যে!
সিমিঃ হুহ! ভাবছি!
রিমাঃ কি ভাবছিস?
সিমিঃ কিছুনা!
রিমাঃ একবার বলছিস, ভাবছিস! আবার বলছিস কিছুনা! সবুজের সাথে কিছু হয়েছে?
সিমিঃ ধুর! সবুজের সাথে আমার আবার কি হবে?
রিমাঃ সবুজের সাথেই তো হবে!
সিমিঃ তোরা না! সবুজের সাথে কি হবে?
রিমাঃ হবে না কেন বলত? ক্লাসের সবাই জানে, ডিপার্টমেন্টের সবাই জানে তোর সাথে ওর সম্পর্ক। 
সিমিঃ (কিছুটা রেগে গিয়ে) সবুজ সেটা বলেছে? 
রুমাঃ বলেনি৷ কিন্তু ওর সাথেই তো ঘুরিস ফিরিস! তোর কথা বললে সবুজ কেমন লজ্জ্বা পায়! 
সিমিঃ কেন? আমি তো রবিনের সাথেও ঘুরি ফিরি৷ তাই বলে ওর সাথেও আমার হয়ে গেছে!
রিমাঃ তা ঘুরিস! কিন্তু সবুজের ব্যাপারটা আলাদা। 
সিমিঃ হ বলছে তোরে! একারণেই আমি ছেলেদের সাথে মিশি! মেয়েরা খালি আন্দাজে কুটকাচালি করে! 
রিমাঃ কি?  আমি কুটকাচালি করি? থাক তুই! আমি আর তোর সাথে নেই!
কথাটা বলে রিমা উঠে চলে যেতে লাগলো।
সিমিঃ আরে শোন পাগলী!  আমি তোকে বলিনি তো! 
রিমা দূরে চলে গেল। সিমি একা একা বসে রইল। একা হতেই আবার সেই পরিচিত মিষ্টি গন্ধের ব্যাপারটা মস্তিষ্কে ধাক্কার মত হয়ে উপস্থিত হলো। নিজেকে ধিক্কার দিয়ে সিমি মনে মনে বলল, ধ্যাত বাল! কি হচ্ছে এসব?

_____
কাল কাচের হেলমেট আর কাল জ্যাকেট পরে দুতিন দিন অপেক্ষায় থাকার পর-ও বিমর্ষ হয়ে যোহান মনে মনে বলল, সিমি ইচ্ছা করেই আর আমাকে কল করছে না। অর্থাৎ সে আর পাঠাওতে সার্চ দিচ্ছে না। উবার অথবা অন্যভাবে ম্যানেজ করে নিচ্ছে! কিন্তু কেন? আমি কি কোন বেয়াদবি করেছি৷ সেরকম তো কিছু মনে পরেনা। 

ঐদিন ভার্সিটিতে গিয়ে ক্লাস শেষে যোহান ক্লাসরুমে একা আলাদা এক কোনে বসে আছে, হাতিম ওর কাছে গিয়ে বসল। ওর উদাস ভাব ভঙ্গী দেখে বলল, কিরে যোহান! কি হয়েছে? কোন সমস্যা?
যোহানঃ কোন সমস্যা না! 
হাতিমঃ সমস্যা তো বটেই! রাইড শেয়ারিং এ সমস্যা? 
যোহানঃ হু।
হাতিমঃ কি সমস্যা বল তো?
যোহানঃ কোন সমস্যা না। অন্তত বলার মত না।

বিঃদ্রঃ অন্তত একজন ব্যক্তির ভাল লাগলে তিন পর্বে শেষ হবে এই গল্প।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/90975/</link>
				<pubDate>Mon, 17 Jan 2022 01:18:41 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভাড়ায় চালিত</p>
<p>হেলমেট পরে, মোটরবাইকের উপর বসে, মোবাইলের দিকে চেয়ে বসে আছে যোহান। হেলমেটের কাচ কালো রঙের বলে ওর চেহারা বোঝা যাচ্ছে না। গায়ে চকচকে কালো রঙের জ্যাকেট। জ্যাকেটের কারণে ওর ফিগার দেখেও কেউ ওকে হুট করে চিনে ফেলবে সেটাও বলা যায় না।<br />
দুই বিল্ডিং পর একটা বাসা থেকে একটা মেয়ে বের হল। বের হয়ে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে সে মোবাইল বের করে পাঠাও এপ্স&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-90975"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/90975/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7f08530ff633ee3d767c833279d36f96</guid>
				<title>আজ আকাশে মুক্ত পাখির মত এ-দিন;
যেন উড়ে উড়ে গোধুলী ছুয়ে দেখার প্রহর।
যন্ত্রণা গুলো আমাদের থেকে;
বহুদূর চলে যাক ক্রমাগত।
সে যেন অস্পষ্ট, ধোয়া মাখা কুয়াশার চাদরে আবৃত মাঠ,
মাঠের ধার দিয়ে চাদর গায়ে,
কাপা কাপা পায়ে হেটে যাওয়া আমি, 
যেন প্রাচীন গ্রাম্য এক বালক।
হোক আমাদের পথচলা ক্লান্তিহীন,একঘেয়ে 
আর বিভক্ত। 
আমরা ধুসর, বিরক্ত জগত থেকে
মুক্ত; আমরা কৃষ্ণচুড়া গাছের 
পাতার কিনারা ছুয়ে চলে যাওয়া মৃদুমন্দ হাওয়া।
আমরা অজান্তে ভেসে যাই,
শুধু-ই অদৃশ্য সুরে; ভিন্ন ভিন্ন 
লয়,পথ বেয়ে, বহুদুরে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/54125/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Nov 2021 06:00:34 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আজ আকাশে মুক্ত পাখির মত এ-দিন;<br />
যেন উড়ে উড়ে গোধুলী ছুয়ে দেখার প্রহর।<br />
যন্ত্রণা গুলো আমাদের থেকে;<br />
বহুদূর চলে যাক ক্রমাগত।<br />
সে যেন অস্পষ্ট, ধোয়া মাখা কুয়াশার চাদরে আবৃত মাঠ,<br />
মাঠের ধার দিয়ে চাদর গায়ে,<br />
কাপা কাপা পায়ে হেটে যাওয়া আমি,<br />
যেন প্রাচীন গ্রাম্য এক বালক।<br />
হোক আমাদের পথচলা ক্লান্তিহীন,একঘেয়ে<br />
আর বিভক্ত।<br />
আমরা ধুসর, বির&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-54125"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/54125/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>