Profile Photo

নাদিয়া রিপাত রিতুOffline

  • Ritu
  • #অপত্যাশিত_কথা

    #লেখিকা_নাদিয়া রিপাত রিতু

    #পর্ব_৪

    লামিয়া নিচের দিকে তাকিয়ে লিখতে লাগলো

    ছেলেটির সাথে খুনসুটি করতে করতে তিন ঘণ্টা পার হয়ে গেল।

    ঐ দিকে আরু,জয়ী ওরা পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে লামিয়ার হলের সামনে ওরা কথা বলছিল।

    লামিয়াকে তাড়াতাড়ি বের হতে বলছিল বারবার ইশারা করে

    রুহান: আপনার বান্ধবীরা আপনার জন্য বাইরে দাঁড়িয়ে আছে আপনি তো এখন চলে যাবেন মনে হয়

    লামিয়া: লেখা তো শেষ হয়নি কিন্তু ওরা যেভাবে ডাকাডাকি করছে মনে হয় বের না হয়ে উপায় নেই

    জয়ী: দেখ না লামিয়া কি করতেছে তোর হিরোটা ওর সাথে কথা বলছে

    আরু: কি বলছে ওরা লামিয়া টা বের না হয়ে এতক্ষণ কি লিখছে  ও একবার বের হোক ওকে ধরবো

    আরু আবার ও ইশারা করতে লাগলো লামিয়া কে বের হওয়ার জন্য

    লামিয়া ওদের জ্বালায় বের হয়ে যাচ্ছিলো।

    তখন ছেলেটি বললো আপনি কী আমার জন্য অপেক্ষা করবেন?

    লামিয়া অবাক হয়ে ছেলেটির দিকে তাকালো

    জানি করবেন‌ না আমি আপনার কে হয় যে আপনি আমার জন্য অপেক্ষা করবেন। আচ্ছা কালকে দেখা হবে ভালো থাকবেন।

    লামিয়া খাতা জমা দিয়ে চলে গেল।

    বাইরে আসতে আরু,জয়ী ওকে চেপে ধরলো,,

    আরু বললো কিরে এতক্ষণ কী লিখিস যে।আমরা সেই কখন বের হয়ে গেছি

    জয়ী: ও তো ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট তাই একটু দেরি হচ্ছে

    আরু: নাকি আসতে ইচ্ছে করছে না হ্যান্ডসাম ছেলে কে রেখে এত কিসের কথা তোর

    লামিয়া: আমি ওর সাথে কোনো কথা বলিনা

    আরু :ঐ ছেলের সাথে কথা বলবি না কতবার বলেছি ইগনোর করতে ওকে আমি পছন্দ করি।

    লামিয়া বললো, আমার দরকার নেই তোর হ্যান্ডসাম বয়ের সাথে কথা বলার।ও নিজে যদি কথা বলতে আসে প্রশ্ন করে আমি কি করতাম। ভদ্রতার খাতিরে উত্তর দিই।

    আরু বললো,তোর ভদ্রতা দেখাতে হবে না ।তুই ওর কাছ থেকে দূরে থাকবি।

    মাঝখান থেকে জয়ী চিৎকার করে বললো, একটা ছেলে নিয়ে তোরা এসব কী শুরু করেছিস।লামু বের হওয়ার সময় ছেলেটা কি বলছিলো তোকে

    লামিয়া : কিছুই না

    জয়ী: দেখে তো মনে হচ্ছিল গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড  কথা বলছে , অনেক ভাবে হয়েছে না তোদের

    আরু রেগে বললো: এসব কি বলছিস তুই

    লামিয়া বললো,আমি কী করলাম ?ঐ ছেলের প্রতি আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই।

    আরু : ইন্টারেস্ট না থাকলে কথা বলিস কেন?

    কিছুক্ষণ পর ,,, রুহান মানে ঐ ছেলেটি বের হলো,,,(ছেলেটির ডাক নাম রুহান

    তবে পদবী রহমান  লামিয়ার মত )

    রুহান লামিয়ার দিকে তাকালো।রুহানের ব্রাউন কালার ব্যাগটা বিশেষ করে লামিয়ার নজর কাড়ে।

    জয়ী বললো ঐ‌ ছেলেটা তোকে দেখছে,

    লামিয়া বললো, দেখুক চল বাড়ি যাব।

    আরু: কিছুক্ষণ পার্কে বসি গল্প করি এরপর যাবো

    লামিয়া: তাহলে ঐ ছেলেটা ব্যাপারে কোনো কথা বলবিনা

    আরু: আচ্ছা বলবো না তুই এত ভয় পাচ্ছিস নাকি

    লামিয়া : ভয় পাবো কেন?

    এরপর দোকান থেকে চিপস নিয়ে আসলো আরু

    লামিয়া: তুই আজকে ও আমাদেরকে চিপস খাওয়াচ্ছিস আমি তো একদিন ও ট্রিট দিতে পারলাম না ।

    আরু: আমার হাতে টাকা ছিলো তাই আরকি

    জয়ী: তোকে দেখে মনে হয় কিন্তু অনেক বড়লোকের মেয়ে সত্যি কি তাই?

    আরু: না আসলে আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে কিন্তু আমার পরিবার আমাকে এমন ভাবে বড় করেছে যখন যেটা চেয়েছি দিয়েছে। আমার ইচ্ছে আমি মা-বাবার জন্য কিছু করবো ।এত সহজে বিয়ে করবো না আমি ।

    লামিয়া: এত সহজ না আমাদের সমাজ কিন্তু আমাদের মেয়েদেরকে সফল হতে দেয়না ।

    আরু: আমার বাবা কিন্তু অনেক সাপোর্টিভ কেউ যখন আমার বিয়ের কথা বাবা কি বলে জানিস আমার মেয়ে যতদূর ইচ্ছে পড়বে । পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে দিবো ।আমার মা- বাবা আমাকে নিয়ে অনেক গর্ব করে আমার মেয়ে অনেক মেধাবী।

    লামিয়া: তুই কিন্তু অনেক লাকি

    জয়ী: তুই কি কম লাকি বল তোর মা- বাবা অনেক ভালো  তোর সব আবদার পূরণ করে ।

    লামিয়া: তুই অনেক লাকি তোর বাবা ও তোকে অনেক সাপোর্ট করে

    জয়ী: আচ্ছা শোন না আজকে কলিকে দেখলাম না

    আরু:তুই কলিকে দিয়ে কি করবি

    জয়ী: কলির কথা বলার স্টাইল গুলো অনেক কিউট লাগে

    লামিয়া: ও মনে হয় পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি চলে গেছে  ।

    আরু : ওকে দেখে মনে হয় জানিস তো ও না প্রেম করে আমাদের সাথে শেয়ার করেনা

    জয়ী: করলে ও করতে পারে ও অনেক সুন্দরী।চোখ অনেক সুন্দর ওর সাথে আজব স্যারের কেমেস্ট্রি টা ভালো লাগবে মন্দ লাগবেনা ।

    লামিয়া: তা ঠিক মন্দ হবে না ওর সাথে স্যারের বিয়ে হলে

    জয়ী: জানিস কি হয়েছে আনিকা মতিনের খাতা থেকে কপি করছিলো

    লামিয়া: এরপর

    জয়ী: আচ্ছা অনেক্ষণ তো হলো এবার বাড়ি যাওয়া যাক

    তিনজনে বাড়ি যাওয়া জন্য গাড়ি পাচ্ছিল না ।

    বাড়িতে এসে দেখে লামিয়ার আম্মুরা বেড়াতে যাচ্ছে।

    লামিয়ার মা: আমরা একটু বাইরে বেরচ্ছি তুই চল আমাদের সাথে  বাসায় একা একা কি করবি?

    লামিয়া: কালকে আমার পরীক্ষা আছে আমি কিভাবে যাবো বলো  আমার কতগুলো পড়া বাকি আছে আমার পড়তে হবে তোমরা যাও ।

    লামিয়ার মা: পড়া পড়া করে জান দিয়ে ফেলবি একটু ঘুরে আসলে ভালো লাগতো ।কি এমন ক্ষতি হবে এটা তো আর ফাইনেল পরীক্ষা না

    লামিয়া : সেই পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট করলে তো বিয়ে দিয়ে ফেলবে  তার থেকে মন দিয়ে পড়াশোনা করি  ভালো রেজাল্ট করি । ফাইনেল পরীক্ষা না তো কি হয়েছে আমি এতদিন কষ্ট করে ক্লাস করলাম তার তো একটা ফলাফল লাগবে তাই না। স্যারেরা আমার কাছে অনেক কিছু আশা করে বুঝলে মা।

    লামিয়া মা: তোর সাথে কখনো কথায় পারা যাবেনা থাক তুই বাসায় একা আমরা যাচ্ছি কিছু লাগবে কিনা বল নিয়ে আসবো ।

    লামিয়া: আমার কিছু লাগবে না তোমার যা ইচ্ছা নিয়ে এসো

    তখন লামিয়া একা একা কালকের পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়।

    অনেক কঠিন সাবজেক্ট যদি ও লামিয়া খুব ভালো এই সাবজেক্টে

    রাতে লামিয়ার আম্মু  লামিয়ার জন্য নতুন ড্রেস নতুন ব্যাগ , নতুন একটি হিজাব আনলো । লামিয়া ভাবলো কালকে কলেজে পরে যাবো

    লামিয়ার ড্রেসটা ভীষণ পছন্দ হয়েছে।

    ও তাড়াতাড়ি লামহাকে মেসেজ দিলো

    লামিয়া বললো কিরে খবর তুই কি রেগে আছিস ?

    লামহা : না রাগ করবো কেন? তোর কাউকে দেখাতে ইচ্ছে করেনা সেটা তোর সিদ্ধান্ত

    লামিয়া: ওখানে স্যার বসেছিল আমি কিভাবে বারবার  পিছনে ফিরবো বল

    লামহা: না আমি রাগ করিনি বল

    লামিয়া: জানিস আম্মু কালকে মেলায় গেছে আমার জন্য অনেক কিছু এনেছে ড্রেস ,ব্যাগ,জুতো, হিজাব

    লামহা:  তুই কত ভাগ্যবতী দেখ তোর আম্মু আব্বু

    কতকিছু নিয়ে এসেছে তোর জন্য। ড্রেস কালকে পরে আসবি কেমন।

    লামিয়া বললো, আচ্ছা আসবো ।

    পরেরদিন লামিয়ার কলেজে আসতে দেরি হলো

    ,জয়ী তো রাস্তায় লামিয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিলো জয়ী প্রথম দেখে লামিয়াকে চিনতে পারলো না ওর ড্রেস আপ চেঞ্জ তাই।

    জয়ী: তুই তো আজকে পুরো চেঞ্জ কি ব্যাপার আমি তো চিনতে পারিনি ভালো চালিয়ে যা বান্ধবী

    আজকে তো কলেজে সব ছেলে তোর ক্রাশ হয়ে যাবে

    লামিয়া: তুই ও না পারিস কি বলছিস এসব

    জয়ী: সত্যি বলছি আজকে তোকে জোশ লাগছে সব ছেলে পাগল হয়ে যাবে এই লুকে দেখলে

    ছেলেটা বারবার দেখছিলো লামিয়া আসছে কিনা

    লামিয়া আজ দেরি করে ঢুকলো পরীক্ষার হলে তখন খাতা দিয়ে দিচ্ছিলো।ছেলেটা তো লামিয়ার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে কোনো কথা বলছে না।যেন বোবা ধরেছে রুহানকে।

    (পরের পর্ব পড়তে পোস্টে কমেন্ট করুন রিয়েক্ট দিন)

    1
    6 Comments
    • নাদিয়া রিপাত রিতু, গল্পটা বেশ সুন্দর এবং লামিয়ার পরীক্ষার আগের রাতের টানটান উত্তেজনা খুব ভালো ফুটে উঠেছে, রুহানের রিঅ্যাকশন দেখে তো আমার খুব হাসি পেল! আপনি সহ গ্রুপের অন্য সবার লেখাতেও নিয়মিত লাইক ও কমেন্ট করবেন, যাতে আমাদের এই প্ল্যাটফর্মটা আরও প্রাণবন্ত আর ইন্টার‌্যাক্টিভ থাকে।

    • আপনার এই লেখনীতে বন্ধুদের মধ্যকার খুনসুটি ও আড্ডা খুব সাবলীলভাবে ফুটে উঠেছে, বিশেষ করে “আজকে তো তোকে জোশ লাগছে সব ছেলে পাগল হয়ে যাবে এই লুকে দেখলে” – এই কথোপকথনটি বেশ প্রাণবন্ত ও বাস্তব মনে হয়েছে। বিভিন্ন চরিত্রের মধ্যে যে সহজ ও সাবলীল সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন তা পাঠক হিসেবে দারুণ উপভোগ করেছি, তাই আপনার কলম সচল থাকুক এই শুভকামনা রইল।

    • গল্পটা বেশ ভালো লাগলো ।

Friends

Profile Photo
ফারহানা
@akterponnyfarhanagmail-com
Profile Photo
Fazilatun Nesa
@fazilatun-nesa
Profile Photo
লিটনধর
@dharraj04gmail-com
Profile Photo
prankrishna Biswas
@prankrishnabiswas
Profile Photo
Zaman. com
@zaman-com
Profile Photo
Md Al Maun
@mdalmaun
Profile Photo
Shamim Hossain
@shamimhossain
Skip to toolbar