-
শিশির কণা
নাদিয়া রিপাত রিতু
পর্ব -৯
অন্যদিকে শিশির ঘুম থেকে উঠলো আজ অনেকটা দেরি হয়ে গেছে ঘুম থেকে উঠতে উঠতে রাতে ঘুম হয়নি ।মা ডাকেনি কেন এত বেলা হয়ে গেছে ।হঠাৎ রায়ানের কল রিসিভ করলো না প্রথমে দুই তিন বার রিং হওয়ার পর শিশির রিসিভ করলো
রায়ান : কি করছিলে ফোন ধরতে এত সময় লাগলো
শিশির: সেই কৈফিয়ত কী আপনাকে দিতে হবে,আমি ঘুমাচ্ছিলাম তাই দেরি হলো,
রায়ান:তুমি তো এত দেরিতে ঘুম থেকে উঠোনা
শিশির: রাতে আমার ঘুমাতে দেরি হয়ে গেছিলো,
আর সত্যি বলতে আপনার কল রিসিভ করতে ইচ্ছে করছিলো
রায়ান: রাত কেন জাগছো রাত জাগলে তো তোমার মাইগ্রেন সমস্যা হয়, তোমাকে ডাক্তার রাত জাগতে মানা করেছে ।
শিশির: আমার রাতের ঘুম কেড়ে নিয়ে আবার বলছেন রাত জাগছো কেন বাহ চমৎকার!জীবনটা নষ্ট করার আগে যখন ভাবেন নি, তখন মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ে আপনাকে আর চিন্তা করতে হবে না, কি জন্য কল করেছেন বলুন আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে আপনার সাথে কথা বলতে।
রায়ান: ঠিক বলছো আমি ও শখ করে তোমায় কল করিনি দরকারে কল দিয়েছি ।হ্যাঁ বলছি শোনো আমাদের কোর্ট ডেট দিয়েছে পরশু মানে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় ,অফিসিয়ালি সব শেষ হয়ে যাবে,,
শিশির: সব এত তাড়াতাড়ি ঠিকঠাক করে ও ফেললেন খুব তাড়া আপনার আমার থেকে মুক্তি পাওয়ার।আমি কি এত বিরক্তের কারণ ছিলাম আপনার কাছে ।
রায়ান: যেই কাজটা করতে হবে ,সেটা নিয়ে সময় নষ্ট করে কি হবে।যত তাড়াতাড়ি হবে তত ভালো ।আর আমার তো আবার চলে যেতে হবে প্রবাসে যাওয়ার আগে তো সব মিটাতে হবে।আর তুমি তো জানো আমি একজনের সাথে সম্পর্কে আছি ওকে বিয়ে করবো সংসার শুরু করবো ।এর জন্য তো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের আলাদা হতে হবে ।
শিশির: আপনার সব কিছুতে অনেক তাড়া আমাকে জীবনে আনার ব্যাপারেও আমাকে ছাড়া বিয়ে করছিলেন না ।আমাকে বিয়ে করে তবে ছাড়লেন ।আবার জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে আপনার তাড়া ।
রায়ান: দেখো শিশির আমি এত কথা বাড়াতে চাইনা।আমি যা করছি তা একদম ঠিক করছি তোমার মত মেয়ের সাথে এমনটা করা উচিত।আমার তোমাকে ভালো লাগতো আমি পছন্দ করে বিয়ে করেছি এটা আমার অনেক বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো ।কিন্তু আমি জানতাম না তুমি এমন একটা মেয়ে আমার বলতে ও লজ্জা লাগছে,,
শিশির: কি এমন করেছি আমি বলবেন তো আমার কি দোষ ?
রায়ান: আমি বলতে পারবোনা এত কিছু সময় হলে জানতে পারবে সব ।
রায়ান কলটা কেটে দেয়,
শিশির ভাবতে লাগলো কি এমন করেছি যার জন্য রায়ান আমাকে এত বড় শাস্তি দিচ্ছে আমি যদি কোনো অন্যায় করি,ও আমাকে বলতে পারতো,য়ান কি তবে আমাকে ভুল বুঝেছে কোনো কারণে ওর মা আর বোন তো আমায় পছন্দ করেনা ।ওরা কি রায়ানকে এমন কিছু বুঝিয়েছে যাতে আমাকে রায়ান ছাড়তে বাধ্য হলো ।যেভাবে হোক আমার জানতে হবে রায়ানের মনে কি চলছে ?
রায়ান মনে মনে বললো তুমি যা করেছো তার শাস্তি আজ তুমি পাচ্ছো শিশির, তোমার মত মেয়ের এই শাস্তি পাওয়া দরকার।
অন্যদিকে সাদিয়াকে কল করতে লাগলো সাকিব,,
বিরক্ত হয়ে সাদিয়া রিসিভ করলো
সাদিয়া: কেন কল করেছো,,,,,??
সাকিব: আমার বউকে আমি কল করবো না তো কে করবে,,
সাদিয়া: আমার সাথে একদম কথা বলবেনা তুমি। তোমার মা ভাবি যাওয়ার পর থেকে আমাকে শুধু কথা শুনায় আমি আর পারছিনা বিশ্বাস করো। শিশির ভাবির মত আমি চুপ থাকতে পারবোনা ।আমার সংসার আমি নষ্ট করতে দিবো না।তুমি কিছু বলতে পারবোনা মাকে।
সাকিব: মাকে আমি বুঝিয়েছি তো, মার তো বয়স হয়েছে কি করবো বলো ।আগের যুগের মানুষ তাই এমন করে ।আর তোমার কিছু লাগলে আমি বিকাশে তোমায় টাকা পাঠিয়ে দিবো তুমি বাড়িতে গেলে কিনে নিবে, ,রাগ করে থেকো না বড্ড ভালোবাসি আমার জান পাখিকে।
সাদিয়া: ভাবির মত আমাকে বের করে দিবে না তো ।এই ভাবে ভালোবেসে আমাকে ঠকাবেনা তো ।আমি কিন্তু মরে যাবো ।
সাকিব: দূর পাগলি আমি আছি তোমার পাশে কেউ কিছু করতে পারবে না । আমি কখনো তোমায় ছাড়বো না যতই যায় হয়ে যাক
সাদিয়া: সারাজীবন এভাবে পাশে থেকো, কখনো হারিয়ে যেতে দিওনা। যতদিন বাঁচবো তোমার হয়ে থাকতে চাই ।
সাকিব: তোমাকে ছাড়া আমার জীবন অসম্পূর্ণ সাদিয়া।আমি সবসময় তোমাকে আগলে রাখবো । পুরো দুনিয়া তোমার বিরুদ্ধে গেলেও আমি তোমার পাশে থাকবো ।
হঠাৎ রেহেনার ডাক, রান্না ঘর থেকে,
সাদিয়া: এই মা ডাকছে আমি আসছি
সাকিব :আচ্ছা যাও ,
রেহেনা: কি করছিলে বউমা ঘরের এত আজ পেলে বসে থাকলে হবে বলো আমি একা কত গুলো কাজ করবো ।একটু হাতে হাতে সাহায্য তো করতে হবে আমার ।
সাদিয়া: আসলে কথা বলছিলাম মা আপনার ছেলের সাথে, কি করতে হবে বলুন
রেহেনা: সারাদিন এইভাবে ফোন নিয়ে বসে থাকো ঘর কাজ করবে কখন, আর আমার ছেলের ওখানে কাজে মন বসবে সারাদিন কথা বললে। ওকে কাজ করতে দাও তবে তো ও টাকা পাঠাতে পারবে।
সাদিয়া: হাসবেন্ডের সাথে কথা বলা ও বুঝি অন্যায় মা আমি তো আর পর পুরুষের সাথে কথা বলছি না ।কি কাজ বলুন আমি করে দিচ্ছি
রেহেনা: আমাদের নামে ছেলেকে প্যাঁচ লাগাও আজকাল বউমাদের আমি চিনি । সব নষ্টের মূল হচ্ছে মোবাইল।আগের যুগে ভালো ছিলো মোবাইল ছিলো না মাসে একটা চিঠি লেখা হতো ।বউরা কাজ করতো মোবাইল আসার পর থেকে ভিডিও কল, টিকটক এসব করে তো দিন পার করে দেয় কাজ করবে কখন ।
সাদিয়া: তাহলে মা আপনার রুমের এসিটা,ফ্যান,বাতি বরং খুলে ফেলি আপনি আগের হাত পাকা আর মোমবাতি ইউজ করবেন । ভালো হবে বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হবে ।আজকে থেকে গ্যাসে না মাটির চুলোয় রান্না করবেন
রেহেনা: কি বলছো এসব কাজ শিখে আসনি মুখে মূখে তর্ক করতে জানো । তর্ক করতে বললে মুখে একদম খই ফুটে ।
সাদিয়া: মা যুগ যেমন উন্নত হয়েছে আপনাদের মন মানসিকতা টা যদি একটু বদলানো যেত ।আমরা যেমন আরাম করছি আপনারা কিন্তু অনেক সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন এটা কিন্তু মানতে হবে।তাই নিজের মন মানসিকতা বদলান ।
রেহেনা: তাহলে তুমি বলতে চাও আমার মন মানসিকতা খারাপ
সাদিয়া: আমি এটা বলছি না মা সাদিয়া নামের মেয়েরা একটু এইরকম হয় মুখের উপর সত্যিটা বলে দেয় ।ভালো সাজার অভিনয় করতে পারবোনা এটা আমার দ্বারা হয়না ।
রেহেনা: হয়েছে আর তর্ক না করে এদিকে আসো আমি রান্না বসাবো তরকারি গুলো কেটে দাও ।আর রান্না দেখো কিভাবে করছি কালকে থেকে তোমাকে রান্না করতে হবে সব,,আমি কিন্তু কোনো সাহায্য করতে পারবোনা,
সাদিয়া: একদিনে সব কিভাবে শিখবো আমি কি রোবট নাকি একটু সময় তো লাগবে মা সবটা শিখতে
রেহেনা: সেটা তোমার ব্যাপার তুমি কিভাবে করবে,এই বাড়ির বউ যখন হয়েছো কাজ তোমায় সামলাতে হবে
এরপরে সাদিয়া দেখতে থাকে সব রান্না কিভাবে করছে,,
(পাঠকরা পর্বটা কেমন লাগলো জানাবেন আর শিশির কি এমন করেছে যার জন্য রায়ান তার সাথে এমন করছে নাকি রায়ান শিশিরকে ভুল বুঝেছে কোনো কারণে ,,,,এর পিছনে কোন রহস্য জানতে হলে অবশ্যই পরের পর্ব গুলো পড়তে হবে)
4 Comments
Friends
লিটনধর
@dharraj04gmail-com
হাফিজ হিরা
@hafizhera
সোনিয়া ইসলাম শিলা
@soniaislamshela
prankrishna Biswas
@prankrishnabiswas
Zaman. com
@zaman-com
Md Al Maun
@mdalmaun
Shamim Hossain
@shamimhossain
শাহ্ সাকিরুল ইসলাম
@shahsakirulislam
Syed Farah
@syedfarah

গল্পটা বেশ টানটান উত্তেজনায় এগোচ্ছে, শিশিরের সাথে আসলে কী ঘটেছিল তা জানার জন্য অনেক আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি। সাদিয়া যেভাবে শাশুড়িকে পাল্টা জবাব দিলো তা বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল, তবে সংসার জীবনে কি এতে অশান্তি আরও বাড়বে না? আপনার এই পর্বে রহস্য আর পারিবারিক নাটকীয়তার দারুণ ব্যালেন্স ছিল, পরবর্তী পর্ব কবে নাগাদ পাবো জানাবেন কি?