-
প্রিয় নুজহাত,
দেখতে দেখতে অনেকদিন কেটে যাচ্ছে তোমাকে লেখা হয়ে উঠছে না ৷ এই মহামারী রোগের কারণে ঘর থেকেও যে বের হওয়াটা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷কিন্তু ব্যপারটা যে খুব একটা খারাপ সেটাও না ৷বারান্দার কার্নিশে আর ছাদে বসে-দাঁড়িয়ে চলে আমার স্মৃতিচারণ তোমাকে নিয়ে ৷সময় কাটে দিন যায় রাত নামে ৷বলতে পারো না পাওয়ার মাঝে তোমাকে খুঁজে পাওয়ার ক্ষুদ্র চেষ্টা আর কি ৷এগুলোর মাঝেই বেশ আছি ৷তুমিও হয়ত ভাল আছো ৷নয়ত যেন ভাল থাকো সেই কামনাই করি সবসময় ৷হঠাৎ মনে হলো তোমার জন্য কথার পাহাড় জমে গেছে ৷ভাবলাম চিঠি লিখলে মন্দ হয় না ৷ আসলে পুরুষ জাতটাই মনে হয় এমন ৷ প্রেমে পরতে সময় লাগে না আবার প্রেমে পরলে সেখান থেকে ছুটে চলে যেতেও পারে না ৷”পুরুষ জাতটাই আসলে খারাপ।”
ঠিক যেই মুহূর্তে তুমি কথাটা বললে ওই মুহূর্তেই কোনো এক পুরুষ হয়ত শখ করে তোমার জন্য এক গোছা কাঁচের চুড়ি কিনে ছুটছে লোকাল বাসের সিট ধরার জন্য!তুমি চুড়ির আনন্দে ভাসতে পারো, দেরি হওয়াতে মুখে অভিমানের চন্দন লাগাতে পারো। কিন্তু ওই পুরুষের ক্লান্ত, অবসাদে জীর্ণ অন্তর বুঝতে পারো না।
শুধু তোমার জন্য হয়ত কোনো বেকার পুরুষ হন্যে হয়ে চাকরি খুঁজে চলেছে। মনে মনে অঞ্জন দত্তের মত “চাকরীটা আমি পেয়ে গেছি বেলা শুনছো…” গানটা বেসুরো গলায় গাওয়ার চরম আকুতি তার।
সে গান কণ্ঠে ধারণ করার আগেই তুমি ক্যারিয়ার-নিরাপদ ভবিষ্যতের পরিপাটি এক কারণ ঝুলিয়ে দাও তার সামনে, আটকে যায় সে। চেয়ে থাকে ফ্যালফ্যাল করে তোমার চেনা মুখের অচেনা রূপের দিকে। তুমি ভবিষ্যতের অনেক কিছুই আগ থেকে দেখতে পারো, কিন্তু ওই মানুষটার করুণ দৃষ্টির মানে বুঝতে পারো না।
তোমার ভাষায় পুরুষ স্বার্থপর…
অথচ সেই স্বার্থপর পুরুষই অন্য কারো সাথে তোমাকে সুখী দেখে বলে ওঠে, “ভালো থেকো আর নিজের খেয়াল রেখো…”
তুমি শুধু গানটা শোনো, গানের আড়ালে চোখ কচলাতে কচলাতে যে পুরুষ শুধু তোমার সুখের জন্য সরে দাঁড়ায় রাস্তা থেকে, সেটা যে কত বড় উৎসর্গ তা তুমি বোঝো না।এই জন্যই কোনো পুরুষ যখন সারা মাসের সঞ্চয় হাতে তুলে দিয়ে বলে, “তোমার সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়, না?” সে কথার আড়ালের দীর্ঘশ্বাস তুমি আঁচ করতে পারো না। তোমাকে মনের মত কিছু কিনে দিতে না পারার নীল কষ্টে সে কী পরিমাণে দংশিত হয় তা অগোচরেই থেকে যায়।তুমি ভাবো পুরুষের মন পাথর। পাথর মন বলেই হয়ত পুরুষের কান্না চোখ গলে ঝরতে চায় না, গলায় আটকে থাকে।
তুমি কখনো বুঝবে না, কাঁদতে পারার চেয়ে কাঁদতে না পারার যন্ত্রণা কতটা তীব্র।৷৷
আমার বরং ক্ষমা করে দাও, অভিমান, খুনসুটি, হাস্নাহেনার বিকেলগুলো সব ফিরিয়ে নাও,জেনে গেছি অতটাও পারবো না তোমার জন্য করতে,হোঁচট খেতে খেতে চেয়েছিলাম একটু শুধু মরতে,
রঙের মানুষ আঁকতে গিয়ে রং তুলি ধরি যেই,তুমি নেই, বুঝি- পালাতে গিয়েও হারালাম আমি তোমাতেই।ভাল থেকো সবসময় ৷ হয়তবা আবার দেখা হতেও পারে আমাদের যেদিন শহরের মোড়ে মাস্কের বদলে গোলাপ বিক্রি হবে ৷ অথবা তুমি হেঁটে যাবে অন্য কারো সাথে…
ইতি,
সজীব।1 Comment
Friends
মো আসিফ মাহমুদ
@asif
Nayra tasin
@nayra
Sabbir Shuvo
@sabbir-shuvo
D K MAHANTA
@dkmahanta01718942602
Umme Tabassum Taiyeba
@umme-tabassum-taiyeba
হাবিবুল্লাহ
@habibulla
আব্দুল্লাহ
@g-m-abdulah
সাইমূম ইভান
@syed-symoom-anjum-evan
__ariyan__
@ariyan


আত্মকথন কখনো সাহিত্য হয়ে ওঠে। অভিনন্দন।