<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | সানাউল্লাহ নূর | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/sanaullahnoor/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/sanaullahnoor/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for সানাউল্লাহ নূর.</description>
	<lastBuildDate>Tue, 23 Jun 2026 02:00:27 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">af8b55a31d29368ea167bcbf311ca76d</guid>
				<title>স্বপ্নবৎ 
&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;
১
&quot;সন্ধ্যা হয়ে আসে— 
একা একা মাঠের বাতাসে
ঘুরি আমি—বসি আমি ঘাসে&quot;
—জীবনানন্দ দাশ

শিমুল বলে, &quot;আরেকটু বস।&quot; আমি উঠে দাঁড়িয়ে ওর চওড়া ঘাড়ের ওপর হাত রেখে বলি, &quot;নারে, ঢের তাড়া আছে। আজ উঠি।&quot;
সেও গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে। গোধূলির ম্লান আলোয় ওর মুখটা কেমন মায়াবী দেখায়। সে যাওয়ার সময় হাসিমুখে বলে, &quot;ঠিক আছে। কাল দেখা হবে।&quot;
এবার ছুটিটা বড় কম, মাত্র তিন দিন। তার একটি দিন অলরেডি ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে হারিয়ে গেছে। হাতে জমে আছে পাহাড়সমান কাজ। মাকে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে, রুনুর বই কেনা লাগবে, আর আমিরের নতুন স্কুল ড্রেস। সবচেয়ে     বড় কাজ বাড়ির পুরোনো বাঁশঝাড়ের গোড়ায় মাটি ফেলা। বাবা গত হয়েছেন অনেক দিন হলো। বাড়িতে ছোট ছোট ভাইবোন নিয়ে মা বড় একা। বয়স হয়েছে তাঁর, সব কাজ একা সামলাতে পারেন না। তাই বাড়িতে এলে এই ঘরোয়া ছোট ছোট কাজগুলো আমাকেই দেখতে হয়।
শিমুলের সঙ্গে স্কুল মাঠে ঘাসের ওপর বসে এতক্ষণ পুরনো বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলাম। কার বিয়ে হলো, কে প্রবাসে গেল—এই সব। এক ফাঁকে শিমুল হঠাৎ করেই আসল কথাটা পেড়ে বসেছিল, &quot;সবার খবর তো হলো, তা তোর বিয়ের জটটা খুলছে কবে?&quot;
আমি শুকনো হেসে বলেছিলাম, &quot;দেখি না কী হয়।&quot;
&quot;দেখা তো হলো অনেক। তোরই তো কাউকে পছন্দ হয় না।&quot; শিমুলের কণ্ঠে কিছুটা অনুযোগ ছিল। আমি মনে মনে বলি, পছন্দ হওয়া কি আর আমার হাতে? অভিভাবক বলতে মা আর মামা। ছুটিতে এলে তাঁরা দু-চারটি বিয়ের প্রস্তাব সামনে আনেন। দু-এক জায়গায় দেখাও হয়েছে, কিন্তু ঠিক মনের কোণে দোলা দিতে পারেনি কেউ। মামা একদিন বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন, &quot;তোর যদি কোনো পছন্দ থাকে তবে বল, না হলে এদের মধ্যে থেকে একজনকে পছন্দ করে আমাদের উদ্ধার কর।&quot; আমি নিরুত্তাপ কণ্ঠে জানিয়েছিলাম, &quot;মামা, তাড়াহুড়ার কিছু নেই। দেখতে থাকো, ঠিকই মনের মতো কাউকে পেয়ে যাব।&quot;
২
স্কুল থেকে আমাদের বাড়ির দিকে একটি সংক্ষিপ্ত মেঠোপথ আছে। মাঠের বুক চিরে কোনাকুনি হেঁটে এসে বাঁশঝাড়ের অন্ধকার সুড়ঙ্গ দিয়ে ঢুকলে অনেকটা পথ বাঁচে। শুকনো মৌসুমে এই পথটাই ভরসা। শিমুলকে বিদায় দিয়ে সেই পথ ধরে দ্রুতপায়ে হাঁটছিলাম।
বাঁশঝাড়ের অন্ধকার ঘুপচির কাছে আসতেই আমি থমকে দাঁড়ালাম। সন্ধ্যার অস্পষ্ট আলো-আঁধারিতে ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে আছে এক তরুণী। রূপ যেন উপচে পড়ছে তমসায়। তার দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে বাঁশঝাড়ের উঁচুতে। ভয়ে আমার বুক দুরুদুরু করে ওঠে। লোককথার পেতনি নয় তো? আতঙ্কে মনে মনে জপ শুরু করলাম। তখনই মেয়েটি খিলখিল করে হেসে উঠল। সেই হাসির দমকে আমার অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। ঠিক যেন বাঁশঝাড়ের পেতনি! কিন্তু পেতনি কি এত রূপবতী হয়? নাকি কোনো বনপরি?
আমি যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ়, তখন বাঁশঝাড়ের ভেতর থেকে পরিচিত কণ্ঠস্বর ভেসে এল, &quot;দুলুদি, উনি আমার ভাইয়া। আমাদের আনিস ভাইয়া।&quot;
তনু কোঁচড়ভর্তি বেতফল নিয়ে নিচে নেমে এল। আমি একটু ধমকের সুরে বললাম, &quot;এই অবেলায় গাছে উঠেছিস কেন?&quot;
সে কাঁচুমাচু হয়ে বলল, &quot;আমি কী করব? দুলুদি বলেছে তাই।&quot;
তখনই একটি মিষ্টি কণ্ঠস্বর আমার কানে মধু ঢেলে দিল, &quot;রাগ করবেন না প্লিজ। আমিই ওকে বলেছি উঠতে। আসলে অনেক বছর বেতফল দেখি না তো...&quot;
আমি ধাতস্থ হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, &quot;বেতফল কি আপনার খুব প্রিয়?&quot;
দুলু স্মিতহাস্যে বললেন, &quot;হ্যাঁ, এক অর্থে প্রিয়। খোসা ছাড়ানো ধবধবে বেতফলগুলো দেখতে ঠিক ঘুঘু পাখির চোখের মতো।&quot;
মুহূর্তেই দুলুকে আমার ভালো লেগে যায়। মনের অগোচরেই বলে ফেলি—এই তো সেই মানুষ, যাকে আমি খুঁজছিলাম। তনু ওর কোঁচড়ের ফলগুলো দুলুর আঁচলে ঢেলে দিতেই তিনি কায়দা করে সেগুলো পাঁজরের সঙ্গে চেপে ধরলেন। অনিচ্ছাসত্ত্বেও এক পলক তাঁর উন্মুক্ত কোমরের দিকে নজর পড়ল। আমি দ্রুত চোখ সরিয়ে নিলাম। দুলু সেটা খেয়াল করলেন। তাঁর তীক্ষ্ণ চোখের চাহনি যেন বলে দিল—&#039;আপনি বড্ড দুষ্টু তো!&#039;
তনু পরিচয় দিতে যাচ্ছিল, কিন্তু দুলু তাকে থামিয়ে দিয়ে সপ্রতিভভাবে বললেন, &quot;কেন, আমাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা যায় না আমি কে?&quot;
আমি হাসলাম। &quot;বেশ তো, বলুন আপনি কে?&quot;
&quot;আমি বানেছা পরি, এই বাঁশঝাড়েই থাকি।&quot; মেয়েটার এই চপলতা আর কথা বলার ধরন আমার মনে গেঁথে গেল। আমি বললাম, &quot;তাই হবে হয়তো।&quot; সে ভ্রু নাচিয়ে পালটা প্রশ্ন করল, &quot;কী হবে?&quot; আমি রহস্য করে বললাম, &quot;হবে আর কী! সময় হলে দেখা যাবে।&quot;
ততক্ষণে মাগরিবের আজান ধ্বনিত হচ্ছে। আমরা তিনজন একসঙ্গে বাড়ির পথে পা বাড়ালাম। পথে আলাপ হলো। দুলুর ভালো নাম দিলারা জামান। তনুর দূরসম্পর্কের খালাতো বোন। আমাদের বাড়িতে আগেও এসেছেন একবার, তবে তখন হয়তো আমি ছিলাম না কিংবা আমার মনে নেই। এবার আসার কারণটা পারিবারিক। তাঁর বাবার হাড় ভেঙেছে, পাশের মিশনারি হাসপাতালে ভর্তি করার জন্যই তাঁদের এখানে আসা।
৩
আমাদের বাড়িটা দু-ভাগে বিভক্ত। এক অংশে আমরা আর তনুরা থাকি, অন্য অংশে হাসেম চাচারা। তনুর বাবা মোতালেব কাকা আমার বাবার চাচাতো ভাই। কাকা প্রবাসে থাকেন। তনুর একমাত্র ভাই রাতুল ঢাকায় পড়ে, আর তনু এবার ক্লাস ফোরে।
বাড়ি ফিরে হাত-মুখ ধুয়েই মাকে বললাম, &quot;এক কাপ চা দাও মা।&quot; আসলে আমার মনটা ছটফট করছে। আমার গন্তব্য এখন তনুদের ঘর। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি, খুকি চাচিকে সরাসরি প্রস্তাবটা দেব। মা হাটে যাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিলে আমি বললাম, &quot;আজ থাক মা, কাল যাব।&quot; মা তখন বললেন, রুনুকে একটু অংক ধরিয়ে দিতে। বললাম, &quot;চাচির সঙ্গে আমার একটা বিশেষ কাজ আছে। কাজ শেষ করে এসে রুনুকো অংক ধরব। এখন বাংলা পড়তে বলো&quot;। এই বলে কোনোরকম গরম চা-টা গলাধঃকরণ করে দৌড় দিলাম তনুদের ঘরের উদ্দেশ্যে। 
৪
খুকি চাচি মানুষ হিসেবে বড় উদার। আমার সরাসরি প্রস্তাব শুনে তিনি মুচকি হাসলেন। বললেন, &quot;বেশ তো, দুলুর সঙ্গে কথা বলে দেখো। সে রাজি হলে ওর মা-বাবাকে রাজি করানোর দায়িত্ব আমার।&quot; এই বলে তিনি দুলুর হাত ধরে টেনে এনে আমাদের ঘরের এক কামরায় বসিয়ে দিলেন। যাওয়ার সময় রসিকতা করে দুলুকে বললেন, &quot;দেখো তো, এই পাগলটা কী বলে!&quot;
ঘরজুড়ে এক অদ্ভুত নীরবতা। ফ্যানের বাতাসে দুলুর অবাধ্য চুলগুলো উড়ছে। ওর নাকের ডগায় সূক্ষ্ম স্বেদবিন্দু জমেছে। আমি যেন ডুলু নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে যাচ্ছি। একসময় সেই নীরবতা ভেঙে দুলু প্রশ্ন করলেন, &quot;আপনি নাকি কী একটা বলতে এসেছেন?&quot;
আমি সাহসী হয়ে বললাম, &quot;বলার তো অনেক কিছু আছে দুলু। আপনার কি সময় হবে?&quot;
&quot;সময় না থাকলেও সময় করে নেব।&quot; দুলুর সাবলীল উত্তরে আমার আত্মবিশ্বাস বাড়ল। আমি বললাম, &quot;তাহলে চলুন, অনন্তকাল ধরে কথা বলি।&quot; দুলু রসিকতা করে বললেন, &quot;সেটা সম্ভব নয় মশায়। সকালে বাবাকে দেখতে হাসপাতালে যেতে হবে।&quot;
আমি সরাসরি প্রসঙ্গে এলাম। &quot;দুলু, আপনাকে যদি এই বাড়িতে চিরদিনের জন্য রেখে দিতে চাই, আপনি কি রাজি হবেন?&quot;
দুলু মাথা দুলিয়ে হাসলেন। সেই হাসিতে গালে গাঢ় টোল পড়ল। আমি সেদিকে অপলক তাকিয়ে রইলাম। দুলু আবার সেই কটমট চোখে তাকালেন। আমি বিনীতভাবে বললাম, &quot;নির্দোষ চাহনি, দয়া করে অপরাধ নেবেন না।&quot; দুলুর চোখের ভাষা এবার নরম হয়ে এল। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, &quot;কিছু বলছেন না যে?&quot;
দুলু নিচু স্বরে বললেন, &quot;রেখে দিতে চাইলে রাখুন, বাধা দিচ্ছে কে?&quot;
আমি আচ্ছন্ন হয়ে দুলুর হাত ধরলাম। আমরা বাইরে এলাম। আকাশে তখন এক ফালি চাঁদ উঠেছে। জোছনার আলোয় সারা পৃথিবী যেন স্বপ্নের রঙ মেখেছে। পুকুরপাড়ে বসে আমরা দুটি চাঁদ দেখতে লাগলাম। একটি আকাশের নিঃসঙ্গ চাঁদ, অন্যটি পুকুরের স্থির জলে কাঁপতে থাকা এক ছায়া-প্রতিবিম্ব। আমার হাতের মুঠোয় দুলুর হাত। আমার সমস্ত শরীর এক অজানা শিহরণে থরথর করে কাঁপছে।
&quot;ওরে আনিস, উঠবি না? বেলা হয়ে গেল যে!&quot;
মায়ের ডাকে তড়াক করে ঘুমটা ভেঙে গেল। 
তখনও আমি কাঁপছি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/242872/</link>
				<pubDate>Fri, 03 Apr 2026 12:29:21 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>স্বপ্নবৎ<br />
&#8220;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;<br />
১<br />
&#8220;সন্ধ্যা হয়ে আসে—<br />
একা একা মাঠের বাতাসে<br />
ঘুরি আমি—বসি আমি ঘাসে&#8221;<br />
—জীবনানন্দ দাশ</p>
<p>শিমুল বলে, &#8220;আরেকটু বস।&#8221; আমি উঠে দাঁড়িয়ে ওর চওড়া ঘাড়ের ওপর হাত রেখে বলি, &#8220;নারে, ঢের তাড়া আছে। আজ উঠি।&#8221;<br />
সেও গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে। গোধূলির ম্লান আলোয় ওর মুখটা কেমন মায়াবী দেখায়। সে যাওয়ার সময় হাসিমুখে বলে, &#8220;ঠিক আছে। কাল দেখা হবে।&#8221;<br />
এবার ছুটিটা বড়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-242872"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/242872/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a44b56a8c1b22a03d1a87870cb3804b8</guid>
				<title>. জটিল অসুখ 
      &quot;&quot;&quot;
আমার ভেতরে এক জট পাকানো অসুখ আছে। ঘটনাচক্রে আমি  সবসময় সহজ পথ ছেড়ে কুয়াশার গোলক ধাঁধার মধ্যে ঢুকে যাই। সহজ বাংলায় বললে, ঘটনাকে অযথা জটিল করে ফেলি। পরে আর সেখান থেকে বের হতে পারি না। এই যেমন সেদিন নিতুকে প্রপোজ করতে গিয়ে বললাম, কেউ একজন আছে যে তোমাকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/241837/</link>
				<pubDate>Mon, 30 Mar 2026 08:35:57 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>. জটিল অসুখ<br />
      &#8220;&#8221;&#8221;<br />
আমার ভেতরে এক জট পাকানো অসুখ আছে। ঘটনাচক্রে আমি  সবসময় সহজ পথ ছেড়ে কুয়াশার গোলক ধাঁধার মধ্যে ঢুকে যাই। সহজ বাংলায় বললে, ঘটনাকে অযথা জটিল করে ফেলি। পরে আর সেখান থেকে বের হতে পারি না। এই যেমন সেদিন নিতুকে প্রপোজ করতে গিয়ে বললাম, কেউ একজন আছে যে তোমাকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে। </p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5bed8b20a5825603a824aae13117bbeb</guid>
				<title>জানালার ওপাশে কেউ নেই
&quot;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;
আজও ছেলেটি  নিঃশব্দে এসে মেয়েটির শয়নকক্ষের জানালার পাশে দাঁড়াল । অভ্যেসবশে ঠোঁট বাঁকিয়ে একটি সরু শিস বাজাল। সে জানে আজ জানালার কপাট খুলবে না; তবু...।
ঠিক তখনই পেছনের বাঁশবাগানের ঘন অন্ধকারের বুক চিরে ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন এক বৃদ্ধ—মেয়েটির বাবা। তাঁর হাতে নিভে যাওয়া একটি মোমবাতি। ত়াঁর চোখে গভীর শূন্যতা। ছেলেটিকে দেখে বৃদ্ধ থমকে দাঁড়ালেন। কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে একটি তপ্ত দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চলে গেলেন।
 খুনি ও সৈনিকের পার্থক্য
&quot;&quot;&quot;&#039;&quot;&quot;&quot;&quot;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&quot;&#039;
ভ্যাপসা গরমে ঘামতে ঘামতে ঠেলেঠুলে লাইনের একদম সামনে এসে দাঁড়াল যুবকটি। মাঠের মাঝখানে যমদূতের মতো দাঁড়িয়ে একজন ক্যাপ্টেন। তিনি জহুরির চোখে লোক বাছাই করছেন। যাকে পছন্দ হচ্ছে, তাকে ইশারায় পাঠিয়ে দিচ্ছেন মাঠের বাম কোণে। যুবকটির কপাল ভালো, ক্যাপ্টেনের আঙুলের ইশারা তার দিকেও এল। সে মনে মনে একপ্রস্থ কুচকাওয়াজ সেরে নিল—এবার তাকে সৈনিক হওয়া থেকে ঠেকায় কে!
এবার আসল পরীক্ষা। ক্যাপ্টেন গম্ভীর মুখে যুবকের সামনে এসে দাঁড়ালেন। চোখের চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে বললেন, “তা বাপু, ইউনিফর্ম তো পরতে চাও, আগে বলো কোনো বিশেষ অভিজ্ঞতা আছে কি না?”
যুবক সটান হয়ে দাঁড়িয়ে বুক ফুলিয়ে বলল, “স্যার, আমার নিশানার হাত অত্যন্ত পাকা। হাড়কাঁপানো নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করতে পারি আমি।”
ক্যাপ্টেন কিছুটা কৌতূহলী হলেন। “বলো কী! রাইফেল না কি কামান? কী শিকার করো তুমি?”
যুবক বিনীতভাবে হাসল, “না স্যার, আমি পাখি শিকার করি।”
ক্যাপ্টেনের ভ্রু কুঁচকে গেল। “পাখি? আচ্ছা, তোমার জীবনের সেরা একটা নিশানার গল্প শোনাও তো দেখি।”
যুবক চোখ বন্ধ করে স্মৃতির সাগরে ডুব দিল। “স্যার, তখন তপ্ত দুপুর। চারপাশ খাঁ খাঁ করছে। একটা হৃষ্টপুষ্ট ঘুঘু মগডালে বসে রসালে মজে ছিল। আমি ধীরপায়ে সুবিধামতো জায়গায় গিয়ে দাঁড়ালাম। পকেট থেকে গুলতিটা বের করে সরাসরি পাখিটার বাম চোখের মণি বরাবর নিশানা করলাম। পাথরটা শোঁ করে ছুটে গেল। ঠিক আধমিনিট পর পাখিটা টুপ করে আমার পায়ের কাছে এসে পড়ল। গিয়ে দেখি স্যার, গুলতিটা তার বাম চোখটা বিদীর্ণ করে ঠিক ওপাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। এক চুল এদিক-সেদিক হয়নি!”
গল্পটা শুনে ক্যাপ্টেন কিছুক্ষণ থম মেরে রইলেন। তারপর যুবকের দিকে করুণার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, “সরি বাপু, তোমার জায়গা এখানে নয়। আমরা সৈনিক রিক্রুট করি, খুনি নয়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/241398/</link>
				<pubDate>Sat, 28 Mar 2026 04:29:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>জানালার ওপাশে কেউ নেই<br />
&#8220;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8217;<br />
আজও ছেলেটি  নিঃশব্দে এসে মেয়েটির শয়নকক্ষের জানালার পাশে দাঁড়াল । অভ্যেসবশে ঠোঁট বাঁকিয়ে একটি সরু শিস বাজাল। সে জানে আজ জানালার কপাট খুলবে না; তবু&#8230;।<br />
ঠিক তখনই পেছনের বাঁশবাগানের ঘন অন্ধকারের বুক চিরে ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন এক বৃদ্ধ—মেয়েটির বাবা। তাঁর হাতে নিভে যাওয়া একটি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-241398"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/241398/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3ad3063b5911248505ab7494667c0ad9</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/241251/</link>
				<pubDate>Fri, 27 Mar 2026 11:23:45 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d8cf31b39ba686e741e1df0e42413d6b</guid>
				<title>সানাউল্লাহ নূর changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/241250/</link>
				<pubDate>Fri, 27 Mar 2026 11:22:23 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e4dc07c2a2d6f17509201150dc7e95c1</guid>
				<title>#যুদ্ধের_গল্প
উল্কাবৃষ্টি 
&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;
১
তেহরানের উত্তর-পূর্বে আলবোর্জ পর্বতমালা যেন আকাশের নীল চাদরটাকে পরম মমতায় আগলে রেখেছে। সেই পাহাড়ের ঢালে শান্ত, ছিমছাম এক মফস্বল শহর— দামভান্দ। আরভিনের শৈশবের একটা অংশ এখানে কেটেছে।
তার বয়স তখন মাত্র ছয় মাস। এক পড়ন্ত বিকেলে মা লেইলা সোরুশি তাকে কোলে নিয়ে ঘরের কাছের ছোট টিলাটায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেদিন এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটল। কচি আরভিন মায়ের কোলে শুয়ে ঘাড় বাঁকিয়ে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল দিগন্তের দিকে। মা আদর করে গাল টিপে দিলেন, খেলনা দেখালেন, কিন্তু আরভিনের চোখের মণি যেন আসমানে আঠা দিয়ে লাগানো। রাতে কামরান সোরুশি বাড়ি ফিরলে লেইলা রহস্যময় হাসিতে ভেঙে পড়লেন।
জানো, তোমার ছেলে তো আজরের বেটা আব্রামের (আ.) মতো আকাশে নিজের খোদারে খোঁজে। আকাশের দিক থেকে পলক ফেলে না সে! বিকেলের ঘটনা খুলে বললেন তাকে।
কামরান ছেলের কপালে চুমু খেয়ে হেসে উঠলেন, বল কী! আমাদের ঘরে বুঝি এক খুদে জ্যোতির্বিজ্ঞানী এল।
২
দামভান্দে আরভিনের দিনগুলো কাটত মেঘেদের সাথে কথা বলে। বিশেষ করে গোধূলি বেলায় যখন আকাশটা রক্তিম বর্ণ ধারণ করত, আরভিনকে তখন আর ঘরে রাখা যেত না। মাদ্রাসার শিক্ষক বাবা কামরান মাঝে মাঝে ধমক দিতেন, আরভিন, কোরআনের আয়াতগুলো ঠিকমতো মশকো করো, আসমানে কী দেখ সারাক্ষণ? আর ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট মা লেইলা মিটিমিটি হাসতেন। বিজ্ঞানের মানুষ হয়ে তিনি বুঝতেন, ওই ছোট্ট চোখ দুটো আসলে অজানাকে গিলছে।
আরভিনের সাত বছর বয়সে আবিষ্কৃত হলো তার আসল নেশা। সে শুধু আকাশ দেখে না, সে দেখে উল্কাবৃষ্টি। আগুনের ফুলকিগুলো যখন আকাশের বুক চিরে পড়ে, আরভিনের মনে হয় মহাকাশ বুঝি তাকে সংকেত পাঠাচ্ছে। ছয় বছর বয়সে যখন বোন আনাদিল এল, আরভিনের পৃথিবী আরও রঙিন হয়ে উঠল। ভাই বোন মিলে আকাশ দেখা শুরু করল। তবে আনাদিল ছিল বাবার ছায়া। কামরান অফিস থেকে ফিরলেই তার পিছু পিছু লেপ্টে থাকত সে।
আরভিনের বয়স যখন আট কামরানের বদলি হলো ঐতিহাসিক শহর ইসফাহানে। ছয় মাস পর লেইলাও সেখানে ট্রান্সফার নিলেন। ইসফাহানের আকাশ যেন আরভিনের নেশাকে আসক্তিতে বদলে দিল। বিশেষ করে ফায়ারবল বা উজ্জ্বল অগ্নিপিণ্ড যখন আকাশকে চিরে দিত, আরভিন আনন্দে বাকরুদ্ধ হয়ে যেত।
ইসফাহানের সেই সুখি নীড়ে তাদের রাতগুলো কাটত মিষ্টি খুনসুটিতে। কামরান বলতেন, আমার আরভিন হবে কোয়ান্টাম ফিজিসিস্ট। পরমানু বিজ্ঞানে ইরানের গর্ব হবে সে।
লেইলা বাধা দিয়ে বলতেন, উঁহু, ও পড়বে সাহিত্য। আমাদের দেশে নতুন এক রুমী বা সাদীর দরকার। ওর চোখে আমি আধ্যাত্মিক কবিদের আত্মা দেখি।
আনাদিল তখন বাবার কাঁধে চড়ে বসে জিজ্ঞেস করত, তাহলে আমি কী হব মা?
তুই শিখবি জীবন বাঁচানোর বিদ্যা, হবি দেশ সেরা  ডাক্তার, লেইলা তাকে বুকে টেনে নিতেন। এভাবে হাশি-খুশিতে ভরে থাকত পরিবারটি।
৩
নভেম্বর মাস। উল্কাপাতের মৌসুম। আরভিন ততদিনে জেনে গেছে উল্কার বৈজ্ঞানিক রহস্য, আবার কোরআনের সুরায় বর্ণিত ‘শিহাবুন সাক্বিব’ বা উজ্জ্বল অগ্নিশিখার কথাও তার মুখস্থ। সে জানে, এই আগুনের গোলাগুলো শয়তানকে তাড়াতে নিক্ষিপ্ত হয়। মহাজাগতিক সেই আধ্যাত্মিক রহস্যের মোহে সে তখন আচ্ছন্ন।
সেদিন ছিল এক মেঘলা সন্ধ্যা। ইসফাহানের আকাশটা ছেঁড়া তুলোর মতো মেঘে ঢাকা, কিন্তু মাঝেমধ্যে স্বচ্ছ নীল উঁকি দিচ্ছিল। আরভিন ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করছিল। লেইলা, কামরান আর আনাদিল লিভিং রুমে বসে সান্ধ্য জলখাবার খাচ্ছিল। জাফরান চা আর পার্সিয়ান রুটির সুবাসে মৌ মৌ করছিল ঘরটা।
আরভিন, আয় বাবা! চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে, মা ডাকলেন।
তোমরা খাও মা, আমি একটা ফায়ারবল দেখেই আসছি, আরভিনের উত্তর।
ঠিক সেই মুহূর্তে আকাশ চিরে যেন দানবীয় উল্কাবৃষ্টি  নেমে এল। আরভিন দেখল ঝাঁকে ঝাঁকে আলোকপিন্ড তাদের বাসার দিকে তেড়ে আসছে। তার পরিচিত সেই উল্কাবৃষ্টির চেয়েও এগুলো অনেক বেশি তীব্র, অনেক বেশি ক্রুর। আরভিন ভাবল, আজ বুঝি আকাশের সব নক্ষত্র তার বাড়ির ওপর ভেঙে পড়বে। সে অবাক বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। মা-বাবাকে ডাক দেওয়ার মতো কোনো শক্তি তার গলায় ছিল না।
কিন্তু ওগুলো উল্কা ছিল না। ওগুলো ছিল মানুষের তৈরি অগ্নিপিন্ড— ইসরায়েলি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।
পর মুহূর্তেই এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণ। চারদিকের দেয়ালগুলো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। আগুনের লেলিহান শিখা আর ধুলোর ঝড়ে আরভিনের চেতনা লুপ্ত হয়ে গেল।
পরদিন সকালে যখন তার জ্ঞান ফিরল, দেখল সে সাদা এক ধবধবে হাসপাতালের বিছানায়। পাশে দাঁড়িয়ে চাচা ফরহাদ সোরুশি। চাচার চোখে জল। আরভিন অস্ফুট স্বরে জিজ্ঞেস করল, মা, বাবা, আনাদিল ওরা কোথায়?
চাচা কোনো কথা বললেন না, শুধু তাকে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন। আরভিন বুঝল, তার ব্যক্তিগত আকাশটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। তার বাবা-মা আর আদরের বোনটি এখন আকাশের সেই নক্ষত্রদের দলেই মিশে গেছে, যাদের সে ছোটবেলা থেকে খুঁজত।
৪
যুদ্ধ থেমে গেছে। আরভিন ফিরে এসেছে তার পুরনো শহর দামভান্দে। চাচা ফরহাদ আর চাচি তাকে চোখের মণি করে আগলে রেখেছেন। কিন্তু আরভিন আর আগের মতো নেই। সেই চঞ্চল কিশোরটি এখন এক জীবন্ত মূর্তিতে পরিণত হয়েছে। সে আর আসমানের দিকে তাকায় না।
একদিন রাতে চাচা ফরহাদ দেখলেন, আরভিন ব্যালকনিতে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। আকাশে তখন দুর্দান্ত উল্কাপাত হচ্ছে।
আরভিন, দেখ বাবা, আজ কত উল্কা পড়ছে, চাচা আরভিনকে জাগিয়ে তুলতে চাইলেন।
আরভিন মন্থর গতিতে মাথা তুলল। তার চোখে কোনো উজ্জ্বলতা নেই। সে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখল, একটি অগ্নিপিণ্ড খসে পড়ছে পাহাড়ের আড়ালে। আরভিনের মনে হলো, ওটা উল্কা নয়— ওটা তার মা। অন্য একটি ছোট শিখা— ওটা নির্ঘাত আনাদিল। আর বড় একটি জ্যোতিষ্ক—ওটা নিশ্চয়ই তার বাবা।
সেই থেকে আরভিন আর উল্কা দেখে না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/241248/</link>
				<pubDate>Fri, 27 Mar 2026 10:47:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>#যুদ্ধের_গল্প<br />
উল্কাবৃষ্টি<br />
&#8220;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;<br />
১<br />
তেহরানের উত্তর-পূর্বে আলবোর্জ পর্বতমালা যেন আকাশের নীল চাদরটাকে পরম মমতায় আগলে রেখেছে। সেই পাহাড়ের ঢালে শান্ত, ছিমছাম এক মফস্বল শহর— দামভান্দ। আরভিনের শৈশবের একটা অংশ এখানে কেটেছে।<br />
তার বয়স তখন মাত্র ছয় মাস। এক পড়ন্ত বিকেলে মা লেইলা সোরুশি তাকে কোলে নিয়ে ঘরের কাছের ছোট টিলাটায় বেড়াতে গিয়েছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-241248"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/241248/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>