<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Shrabon | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/shrabon/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/shrabon/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Shrabon.</description>
	<lastBuildDate>Mon, 17 Aug 2026 18:35:50 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">7c5f36b73c06b216d2758675ce1e49c3</guid>
				<title>Shrabon and Emotionless Rima are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/182885/</link>
				<pubDate>Thu, 08 Dec 2022 07:33:16 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e5692032c31f2515b52896f2a9b0cf5a</guid>
				<title>Shrabon and Ishrat Jahan are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/170475/</link>
				<pubDate>Tue, 01 Nov 2022 15:21:44 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">67f198870a3057c6549867583bfa5e56</guid>
				<title>লোকটির অদ্ভুত বিষয় হলো সে মুখের সামনে একটি বই  উল্টো করে ধরে পড়ছে। কোনো গল্প-উপন্যাসের বই নয়।  আল্টিমেট ফেইট অফ ইউনিভার্স , প্রফেসর জে এন ইসলামের লিখা। কানিজ আগ্রহ আর কৌতুহল দুটো নিয়েই লোকটিকে দেখছে। সে বসে আছে কানিজের মুখোমুখী সিটে। এই কম্পার্ট্মেন্টটা প্রায় ফাকাই বলা চলে। শুধু দু সিট সামনে এক দম্পতি( সম্ভবত নতুন বিয়ে হয়েছে) দুজন দুজনের হাত ধরে মধুর প্রেমালাপে মগ্ন। ট্রেনের ঝিকঝিক শব্দে তাদের কথা বোঝা যাচ্ছে না ঠিকই তবে অঙ্গভঙ্গী দেখে কি কথা হচ্ছে তার আভাস পাওয়া যায়। নতুন বিয়ে হলে এরকমই সম্পর্ক থাকে। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই একে অপরের প্রতি আগ্রহ কমে প্রায় শুন্যের কোঠায় নেমে আসে। একে অপরের ওপর সন্দেহ , অনীহা দেখা দিতে শুরু করে। নিতান্ত ছাপোষা বাঙালী না হলে সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখা দুষ্কর। তবে ইদানিং বাঙালীরা আমেরিকানদের মত বেশ বুদ্ধির(!) প্রয়োগ ঘটাচ্ছে। একে অপরকে ভালো লাগছে না তো-“ ডিভোর্স । অতঃপর টাটা !বাই বাই!”
“দয়া করে এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। কেও এভাবে তাকিয়ে থাকলে আমার প্রচন্ড অসস্তি হয়। “ 
কথাটা বলেই লোকটি মুখের সামনে থেকে বইটি নামালো। ট্রেনের ওঠার পর এই প্রথম লোকটির মুখ দেখতে পেলো কানিজ। চেহারা চমৎকার। লম্বা ,ফর্সা । মুক্তোর মত দাতেঁর সারি কারো চোখ এড়াবে না। সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হচ্ছে লোকটির ভরাট কন্ঠ। কন্ঠে একটা চমৎকার ব্যাক্তিত্ব আছে। বয়স সম্ভবত ত্রিশের বেশি হবে না। ভিড়ের মধ্যে সবার আগে চোখ পড়ার মত চেহারা। হঠাৎ লোকটির কন্ঠে কানিজ চমকে উঠলো। তার হাতে্র পেপার কাপে থাকা কফি খানিকটা উছলে উঠলো। কিন্তু নিজেকে তৎক্ষনাৎ সামলে নিল।
” না , ব্যাপারটা সেরকম কিছু না। আসলে আপনি বইটি উল্টো করে ধরে পড়ছেন।  আদৌ পড়ছিলেন কিনা নাকি পড়ার ভান করছেন বোঝার চেষ্টা করছিলাম।“ কথাটি বলে কানিজ মিটিমিটি হাসতে লাগলো।
কানিজ ভেবেছিলো তার কথায় লোকটি কট্মট করে তাকাবে কানিজকে কিছু পাল্টা কড়া কথা শোনাবে। কিন্তু তেমন কিছুর সম্ভবনাই গুড়িয়ে দিয়ে তিনি হো হো করে হাসতে লাগলেন। সামনের নব দম্পতিরাও একবার আড়চোখে পেছনের দিকে তাকিয়ে আবার নিজেদের গল্প চালিয়ে যেতে লাগলো। কানিজের ভারি অসস্তি হচ্ছে। কিন্তু একই সাথে মনে হলো, তার সামনে পৃথিবীর সেরা রুপবান পুরুষদের একজন বসে আছে যাকে একবার ছুয়েঁ দেখতে না পারলে এই জন্মটাই বৃথা। লোকটির হাসি এখনো শেষ হয়নি, হাসি চাপতে চাপতেই  বলল-
: “আসলে এটা রাগ কমানোর একটা ভালো ট্রিকস। আমার যখন রাগ হয় তখন আমি বই উল্টো করে পড়ি। এতে মস্তিষ্কের অনেক পরিশ্রম আর সব মনোযোগ বইয়ের দিকে থাকে। রাগটাও আস্তে আস্তে পড়ে যায়। তবে আমি এই বইটা এর আগে ছয়বার পড়েছি।
:তো আপনার রাগ কমেছে?
:আসলে আজ আমার রাগ হয় নি। খানিক অভিমান হয়েছিলো। তাই ছন্নছাড়া লাগছে, যদিও অভিমান করা একধরনের মেয়েলি স্বভাব যেটা একদমই আমি পছন্দ করি না। তবে মনের ওপর মানুষের কোনো নিয়ন্ত্রন নেই। মনই সব কিছুকে নিয়ন্ত্রন করে।
কানিজ কৌতুকের সুরেই প্রশ্ন করলো-
: তো আপনার কার ওপর অভিমান হয়েছিলো?  
:আমার স্ত্রী নিশাতের ওপর। তার আজ আমার সাথে আসবার কথা ছিলো......
কথাটি বলেই লোকটি অন্যমনষ্ক হয়ে গেলো।
কানিজ পরিবেশ ঠান্ডা করার জন্য বলল,
“আচ্ছা আপনার পরিচয়টাই তো জানা হলো না। আমার নামটা কিন্তু খুব কমন ,আমার বান্ধবীদের নামগুলো কতো সুন্দর –কিন্নরী, স্নেহা, রাত্রী। আমার  বাবা বিখ্যাত মানুষদের নামে সব ভাইবোনদের নাম রেখেছে। আমার বড় ভাইদের নাম রেখেছে নজ্রুল, ফজলুল।
লোকটি গলার স্বর ঠান্ডা রেখে বলল,
:আপনার নামটা বলুন।
:আমার নাম হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম মহিলা পাইলটের নামে। বলুনতো আমার নাম কি?
:আমার সাধারণ জ্ঞা্ন ভালো না।
:কানিজ ফাতিমা রোকসানা। বাংলাদেশে কম করে হলেও দশ হাজার কানিজ আছে। 
:আছে হয়তো , তবে আমার সামনে আপাতত একজন কানিজই বসে আছে। যে কিশোরীদের মত হড়বড় করে হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলে । বাংলাদেশের সব কানিজ হয়তো এভাবে কথা বলে না। অন্য কানিজগুলো হয়তো গম্ভীর। আপনার মত সাবলীল নয়।
কনিজ একটু লজ্জা পেলো বটে তবে নিজেকে সামলে নিলো-
: আপনার সম্পর্কে কিছুই তো বললেন না।
:আমি সৌরভ হাসান। কানাডয় ভ্যাঙ্কুভারে  একটা আন্ডার গ্রেজুয়েট কলেজে পড়াই। আর কিছু  বলতে গেলে বলবো টরেন্টো ইউনিভার্সিটি থেকে কোয়ান্টাম রসায়নে পি এইচ ডি করেছি.........এতটুকুই। তবে ফিজিক্সেও আগ্রহ ছিলো। এখন সেটা বই পড়ে মেটাই।
:ও, প্রফেসর সাহেব। তাই বুঝি জে এন ইসলামের বই উল্টো করে পড়ছিলেন।
সৌরভ কথাটি তেমন গ্রাহ্য করলেন না। বললেন,
:আপনি বোধহয় ডাক্তারী পড়ছেন। না অবাক হবার কিছুই হয় নি...।আপনার ভ্যানিটি ব্যাগের কোনা দিয়ে স্টেথোস্কোপের মাথা বেরিয়ে আছে তাই বুঝতে পারলাম।
:আমি স্টুডেন্ট না হয়ে ডাক্তারও তো হতে পারি।
:ডাক্তারদের আমি অতো হড়বড় করে কথা বলতে দেখি নি।
:আসলে অনেকদিন পর বাড়ি যাচ্ছি তো তাই একটু বেশিই খুশি। তো আপনি কোথায় যাচ্ছেন?
:ঢাকায় আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর বিয়ে এটেন্ড করে এলাম । এখন যাচ্ছি চট্টগ্রাম। সেখানে কিছু কাজ শেষ করে যাব টেকনাফ। সেখান থেকে সারা বাংলাদেশের সব জেলা ভ্রমনে বেরুব।
:হঠাৎ এমন খেয়াল মাথায় এলো কেন?
সৌরভের দৃষ্টি চলমান ট্রেনের জানলা ছাপিয়ে বাহিরের সবুজ মাঠের ওপর চলে গেলো,
:এর পেছনে তেমন কোনো কারন নেই। তবে আমার স্ত্রীই হয়তো দায়ী। সেদিনও আমি পথে যেতে যেতে একটি বই উল্টো করে পড়ছিলাম। বইটির নাম ছিলো কসমস , কার্ল স্যাগনের লেখা। 
 আমার বয়স তখন বাইশ কি তেইশ হবে। ভার্সিটির হলে থেকে  পড়াশোনা  করতাম। কোনো চিন্তা ছিলো না ,বাবা নিয়মিত টাকা পাঠাতেন। একদিন ফোন করে বাবা জরুরি নোটিশে বাড়িতে ডেকে পাঠালেন। কোনো কারন বললেন না। তার পর দিনই বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে যাবার একটা প্ল্যান ছিলো। বাবার কথাতো আর ফেলতে পারি না। অগত্যা রওনা দিলাম যদিও প্রচন্ড রাগ লাগছিলো।
সেদিনই তারসাথে আমার প্রথম দেখা। হ্যাঁ, নিশাতের কথাই বলছি। সেও ঠিক আপনার মত সুন্দরী। হাত নেড়ে নেড়ে একনাগাড়ে   কথা বলতো। তবে এখন আর বলে না। কেনো বলে না জানিনা। সেদিন আমার উল্টো করে বই পড়া দেখে বলে উঠেছিলো,” কেউ ইংরেজি পড়তে পারে না এটা তার দোষ না। তবে  মুখোমুখী সিটে সুন্দরী মেয়ে থাকলে সে যে আপনার হাতে কার্ল স্যাগনের বই দেখলেই আপনার প্রেমে পড়ে যাবে সেরকম সম্ভবনাও নেই। কারন আপনি বই উল্টো করে ধরেছেন।“
আমি খানিকটা অবাকই হলাম ওর দিকে তাকিয়ে। বাংলাদেশে এমন সুন্দরী মেয়ে আছে! এর মেয়ের জন্ম মনে হয় মধ্যপ্রাচ্যে হওয়ার কথা। আমাদের সেই প্রথম দেখা গিয়ে ঠেকেছিলো বিয়েতে। আমি কোনোদিন আমার বাবার কথার অবাধ্য হইনি। কিন্তু অবাধ্য হয়ে মাত্র তেইশ বছর আটমাস বিশ দিন বয়সে জীবনের সবচেয়ে গুরত্বপুর্ন কাজটি করেছিলাম। নিশাতকে বিয়ে করে ফেললাম।
আমি ওকে বিয়ে করেছিলাম ঠিকই তবে অনেকটা একতরফা। আমি তখনই  বিয়ে করতে চাইনি। ও বিষ খেয়ে আত্মহত্যা অব্ধি করতে গিয়েছিলো আমার জন্য। মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে নিশাতের পরিবারও পাগলামিটাকে মেনে নিয়েছিলো। কিন্তু আমার বাবা আমায় করলো ত্যায্যপুত্র। বাবা আর টাকা পাঠান না। নিদারুন অর্থ সংকটে পরেছিলাম। নিশাত যদিও বাবার বাড়িতেই  থাকতো ,কিন্তু নিজের  থাকা খাওয়ার খরচ আমাকেই চালাতেও হতো, নিশাতের বাবা আমায় টাকা দিতে চাইতেন আমি লজ্জায়  নিতাম না।
মাঝে মাঝে নিশাতের সাথে কথা বলতাম। পড়াশোনা শেষ করে একটা চাকরি পাওয়া অবধি অপেক্ষা ছিলো। বড়লোক বাবার মেয়ের কত শখ। সুইজারল্যান্ড ঘুরবে ,ইলেত বিলেত ঘুরবে আরোও কত কী। আমি বলেছিলাম আগে বাংলাদেশটাই নাহয় ঘুরে দেখি। সে অনিচ্ছা সত্ত্বেও  রাজি হলে। কিন্তু পরে তাকে বেশ আগ্রহী দেখা গেলো।“ 

সৌরভ থামলো।।
:তো এই জন্যই বাংলাদেশের সব জেলা ঘুরবার প্লান?      ,কানিজ উৎসুক স্বরে জিজ্ঞেস করলো।
:প্ল্যান ছিলো বইকি।  আমার কাছে তখন অত টাকা ছিলো না। তবে ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকলে যা হয় । এম এস সি শেষে টরেন্টো ইউনিভারসিটিতে স্কলারশিপ পেয়ে গেলাম, সাথে একটা আন্ডার গ্রাজুয়েট কলেজে পড়ানোর সুযোগ। মোদ্দা কথা অর্থ সংকট কেটে গিয়েছিলো। যাওয়ার আগে নিশাতকে বলেছিলাম ফিরে আসলে একসাথে  এক্সপেডেশনে বেরুব। আমাকে বিদায় দেবার সময় এয়ারপোর্টে নিশাতের সে কি কান্না। লজ্জায় পড়ে গিয়েছিলাম সবার সামনে। 
লং  ডিস্টেন্স রোমিং কলের   জন্য প্রতিদিন কথা বলা সম্ভব না হলেও নিয়ম করে ওকে মেইল করতাম। কিন্তু দিনদিন একে অপরের মেইলের সংখ্যাও কমে গেলো। ওর সাথে আমার দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছিলো। বেশ বাড়ছিলো। আমি বুঝতে পারছিলাম। কিন্তু কিছুই করার ছিল না।
একদিন একটা রেজিস্ট্রী করা চিঠি পেলাম। যদিও ডকুমেন্টারী চিঠি ছাড়া আমার নামে তেমন কোনো চিঠি আসতো না। হলুদ রং এর খাম। খামের ওপর নাম লেখা –‘From: Tahmina Haque Nishat .’ । খামটা খুললাম। ভেতরে একটা হাতে লেখা চিঠি ,আর কিছু ডকুমেন্টস। চিঠিটা পেয়েই আজ দেশে ফেরা।

হঠাৎ ট্রেনের সাইরেন বাজলো। সৌরভ বলল,”   স্টেশন এসে গেছে। আমি এখানেই নামবো। “
কানিজ তৎক্ষনাৎ জিজ্ঞেস করলো,” আপনার স্ত্রীর  চিঠিতে কি এমন লিখা ছিলো যে আপনি দেশে চলে এলেন?”
সৌরভ উদ্ভ্রান্তের মত খানিক হাসলো। বলল, “ ডিভোর্স লেটার! নিশাত  জানে সে মুক্তি চাইলে তাকে আমি মুক্তি দিয়ে দেবো। আটকাবো না। তাই আগে ভাগেই বিয়ের ইনভাইটেশন কার্ডও পাঠিয়ে দিয়েছে। সে শাহেদ নামে একজনের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে গেছে। আজ তাদের বিয়ে ছিলো। আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু  নিশাতের  বিয়ের ইনভাইটেশন রক্ষার্থেই এসেছি।  আমাদের সম্পর্কের ইতি ঘটেছে সেটা দেখাতেই আমায় নিমন্ত্রণ করেছে। আমিও এলাম। এখনো ভালোবাসি বলে। অতঃপর সারা বাংলাদেশ  ঘুরে একেবারে ফিরে যাব কানাডায়। হ্যাঁ, একাএকাই ঘুরব। 
আর ভালো থাকবেন আপনি। বিদায় “

সৌরভ চলে গেলো। ট্রেনের জানলা ডিঙিয়ে বিকেলের পশ্চিম আকাশের আভা এসে লাগছে কানিজের গালে। চোখের জল আরও চকচক করছে কমলা রোদে। মনে মনে ভাবছে সে লোকটির হাত ধরে বলতেও পারতো,” চলুন আমি আপনার সাথে সারা বাংলাদেশ ঘুরবো।“ না সব সম্ভব হয়ে ওঠে না। মনটা হতে হয় পানির মত, হাজারো চেষ্টা করলেও পানিতে যেমন দাগ ফেলা যায় না তেমনি মনেও দুঃখের দাগ যেনো না পরে। তবু মনের অজান্তেই  মনে কিছু দুঃখের দাগ পড়ে যায় । সব দাগ মোছা যায় না। কানিজ ট্রেনের জানালা দিয়ে ভেজা চোখে তাকিয়ে দেখছে সৌরভ লাগেজটা নিয়ে গটগট করে চলে যাচ্ছে।

গল্পঃ সে আমায় ডেকেছিলো শেষ নিমন্ত্রনে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/170432/</link>
				<pubDate>Tue, 01 Nov 2022 13:05:07 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>লোকটির অদ্ভুত বিষয় হলো সে মুখের সামনে একটি বই  উল্টো করে ধরে পড়ছে। কোনো গল্প-উপন্যাসের বই নয়।  আল্টিমেট ফেইট অফ ইউনিভার্স , প্রফেসর জে এন ইসলামের লিখা। কানিজ আগ্রহ আর কৌতুহল দুটো নিয়েই লোকটিকে দেখছে। সে বসে আছে কানিজের মুখোমুখী সিটে। এই কম্পার্ট্মেন্টটা প্রায় ফাকাই বলা চলে। শুধু দু সিট সামনে এক দম্পতি( সম্ভবত নতুন বিয়ে হয়েছে) দুজন দুজনের হ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-170432"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/170432/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fa2083f5409ce7c1391e69f87cf328ea</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/170431/</link>
				<pubDate>Tue, 01 Nov 2022 13:01:45 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f58568bd408ec0fa5cf121fb47dc7dbc</guid>
				<title>Shrabon changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/170430/</link>
				<pubDate>Tue, 01 Nov 2022 13:00:37 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0209e0eed3c6ffde7950cf8226712399</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/170423/</link>
				<pubDate>Tue, 01 Nov 2022 12:57:49 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">36ca2760ea4020899a85754523dd6ab9</guid>
				<title>লোকটির অদ্ভুত বিষয় হলো সে মুখের সামনে একটি বই  উল্টো করে ধরে পড়ছে। কোনো গল্প-উপন্যাসের বই নয়।  আল্টিমেট ফেইট অফ ইউনিভার্স , প্রফেসর জে এন ইসলামের লিখা। কানিজ আগ্রহ আর কৌতুহল দুটো নিয়েই লোকটিকে দেখছে। সে বসে আছে কানিজের মুখোমুখী সিটে। এই কম্পার্ট্মেন্টটা প্রায় ফাকাই বলা চলে। শুধু দু সিট সামনে এক দম্পতি( সম্ভবত নতুন বিয়ে হয়েছে) দুজন দুজনের হাত ধরে মধুর প্রেমালাপে মগ্ন। ট্রেনের ঝিকঝিক শব্দে তাদের কথা বোঝা যাচ্ছে না ঠিকই তবে অঙ্গভঙ্গী দেখে কি কথা হচ্ছে তার আভাস পাওয়া যায়। নতুন বিয়ে হলে এরকমই সম্পর্ক থাকে। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই একে অপরের প্রতি আগ্রহ কমে প্রায় শুন্যের কোঠায় নেমে আসে। একে অপরের ওপর সন্দেহ , অনীহা দেখা দিতে শুরু করে। নিতান্ত ছাপোষা বাঙালী না হলে সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখা দুষ্কর। তবে ইদানিং বাঙালীরা আমেরিকানদের মত বেশ বুদ্ধির(!) প্রয়োগ ঘটাচ্ছে। একে অপরকে ভালো লাগছে না তো-“ ডিভোর্স । অতঃপর টাটা !বাই বাই!”
“দয়া করে এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। কেও এভাবে তাকিয়ে থাকলে আমার প্রচন্ড অসস্তি হয়। “ 
কথাটা বলেই লোকটি মুখের সামনে থেকে বইটি নামালো। ট্রেনের ওঠার পর এই প্রথম লোকটির মুখ দেখতে পেলো কানিজ। চেহারা চমৎকার। লম্বা ,ফর্সা । মুক্তোর মত দাতেঁর সারি কারো চোখ এড়াবে না। সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হচ্ছে লোকটির ভরাট কন্ঠ। কন্ঠে একটা চমৎকার ব্যাক্তিত্ব আছে। বয়স সম্ভবত ত্রিশের বেশি হবে না। ভিড়ের মধ্যে সবার আগে চোখ পড়ার মত চেহারা। হঠাৎ লোকটির কন্ঠে কানিজ চমকে উঠলো। তার হাতে্র পেপার কাপে থাকা কফি খানিকটা উছলে উঠলো। কিন্তু নিজেকে তৎক্ষনাৎ সামলে নিল।
” না , ব্যাপারটা সেরকম কিছু না। আসলে আপনি বইটি উল্টো করে ধরে পড়ছেন।  আদৌ পড়ছিলেন কিনা নাকি পড়ার ভান করছেন বোঝার চেষ্টা করছিলাম।“ কথাটি বলে কানিজ মিটিমিটি হাসতে লাগলো।
কানিজ ভেবেছিলো তার কথায় লোকটি কট্মট করে তাকাবে কানিজকে কিছু পাল্টা কড়া কথা শোনাবে। কিন্তু তেমন কিছুর সম্ভবনাই গুড়িয়ে দিয়ে তিনি হো হো করে হাসতে লাগলেন। সামনের নব দম্পতিরাও একবার আড়চোখে পেছনের দিকে তাকিয়ে আবার নিজেদের গল্প চালিয়ে যেতে লাগলো। কানিজের ভারি অসস্তি হচ্ছে। কিন্তু একই সাথে মনে হলো, তার সামনে পৃথিবীর সেরা রুপবান পুরুষদের একজন বসে আছে যাকে একবার ছুয়েঁ দেখতে না পারলে এই জন্মটাই বৃথা। লোকটির হাসি এখনো শেষ হয়নি, হাসি চাপতে চাপতেই  বলল-
: “আসলে এটা রাগ কমানোর একটা ভালো ট্রিকস। আমার যখন রাগ হয় তখন আমি বই উল্টো করে পড়ি। এতে মস্তিষ্কের অনেক পরিশ্রম আর সব মনোযোগ বইয়ের দিকে থাকে। রাগটাও আস্তে আস্তে পড়ে যায়। তবে আমি এই বইটা এর আগে ছয়বার পড়েছি।
:তো আপনার রাগ কমেছে?
:আসলে আজ আমার রাগ হয় নি। খানিক অভিমান হয়েছিলো। তাই ছন্নছাড়া লাগছে, যদিও অভিমান করা একধরনের মেয়েলি স্বভাব যেটা একদমই আমি পছন্দ করি না। তবে মনের ওপর মানুষের কোনো নিয়ন্ত্রন নেই। মনই সব কিছুকে নিয়ন্ত্রন করে।
কানিজ কৌতুকের সুরেই প্রশ্ন করলো-
: তো আপনার কার ওপর অভিমান হয়েছিলো?  
:আমার স্ত্রী নিশাতের ওপর। তার আজ আমার সাথে আসবার কথা ছিলো......
কথাটি বলেই লোকটি অন্যমনষ্ক হয়ে গেলো।
কানিজ পরিবেশ ঠান্ডা করার জন্য বলল,
“আচ্ছা আপনার পরিচয়টাই তো জানা হলো না। আমার নামটা কিন্তু খুব কমন ,আমার বান্ধবীদের নামগুলো কতো সুন্দর –কিন্নরী, স্নেহা, রাত্রী। আমার  বাবা বিখ্যাত মানুষদের নামে সব ভাইবোনদের নাম রেখেছে। আমার বড় ভাইদের নাম রেখেছে নজ্রুল, ফজলুল।
লোকটি গলার স্বর ঠান্ডা রেখে বলল,
:আপনার নামটা বলুন।
:আমার নাম হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম মহিলা পাইলটের নামে। বলুনতো আমার নাম কি?
:আমার সাধারণ জ্ঞা্ন ভালো না।
:কানিজ ফাতিমা রোকসানা। বাংলাদেশে কম করে হলেও দশ হাজার কানিজ আছে। 
:আছে হয়তো , তবে আমার সামনে আপাতত একজন কানিজই বসে আছে। যে কিশোরীদের মত হড়বড় করে হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলে । বাংলাদেশের সব কানিজ হয়তো এভাবে কথা বলে না। অন্য কানিজগুলো হয়তো গম্ভীর। আপনার মত সাবলীল নয়।
কনিজ একটু লজ্জা পেলো বটে তবে নিজেকে সামলে নিলো-
: আপনার সম্পর্কে কিছুই তো বললেন না।
:আমি সৌরভ হাসান। কানাডয় ভ্যাঙ্কুভারে  একটা আন্ডার গ্রেজুয়েট কলেজে পড়াই। আর কিছু  বলতে গেলে বলবো টরেন্টো ইউনিভার্সিটি থেকে কোয়ান্টাম রসায়নে পি এইচ ডি করেছি.........এতটুকুই। তবে ফিজিক্সেও আগ্রহ ছিলো। এখন সেটা বই পড়ে মেটাই।
:ও, প্রফেসর সাহেব। তাই বুঝি জে এন ইসলামের বই উল্টো করে পড়ছিলেন।
সৌরভ কথাটি তেমন গ্রাহ্য করলেন না। বললেন,
:আপনি বোধহয় ডাক্তারী পড়ছেন। না অবাক হবার কিছুই হয় নি...।আপনার ভ্যানিটি ব্যাগের কোনা দিয়ে স্টেথোস্কোপের মাথা বেরিয়ে আছে তাই বুঝতে পারলাম।
:আমি স্টুডেন্ট না হয়ে ডাক্তারও তো হতে পারি।
:ডাক্তারদের আমি অতো হড়বড় করে কথা বলতে দেখি নি।
:আসলে অনেকদিন পর বাড়ি যাচ্ছি তো তাই একটু বেশিই খুশি। তো আপনি কোথায় যাচ্ছেন?
:ঢাকায় আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর বিয়ে এটেন্ড করে এলাম । এখন যাচ্ছি চট্টগ্রাম। সেখানে কিছু কাজ শেষ করে যাব টেকনাফ। সেখান থেকে সারা বাংলাদেশের সব জেলা ভ্রমনে বেরুব।
:হঠাৎ এমন খেয়াল মাথায় এলো কেন?
সৌরভের দৃষ্টি চলমান ট্রেনের জানলা ছাপিয়ে বাহিরের সবুজ মাঠের ওপর চলে গেলো,
:এর পেছনে তেমন কোনো কারন নেই। তবে আমার স্ত্রীই হয়তো দায়ী। সেদিনও আমি পথে যেতে যেতে একটি বই উল্টো করে পড়ছিলাম। বইটির নাম ছিলো কসমস , কার্ল স্যাগনের লেখা। 
 আমার বয়স তখন বাইশ কি তেইশ হবে। ভার্সিটির হলে থেকে  পড়াশোনা  করতাম। কোনো চিন্তা ছিলো না ,বাবা নিয়মিত টাকা পাঠাতেন। একদিন ফোন করে বাবা জরুরি নোটিশে বাড়িতে ডেকে পাঠালেন। কোনো কারন বললেন না। তার পর দিনই বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে যাবার একটা প্ল্যান ছিলো। বাবার কথাতো আর ফেলতে পারি না। অগত্যা রওনা দিলাম যদিও প্রচন্ড রাগ লাগছিলো।
সেদিনই তারসাথে আমার প্রথম দেখা। হ্যাঁ, নিশাতের কথাই বলছি। সেও ঠিক আপনার মত সুন্দরী। হাত নেড়ে নেড়ে একনাগাড়ে   কথা বলতো। তবে এখন আর বলে না। কেনো বলে না জানিনা। সেদিন আমার উল্টো করে বই পড়া দেখে বলে উঠেছিলো,” কেউ ইংরেজি পড়তে পারে না এটা তার দোষ না। তবে  মুখোমুখী সিটে সুন্দরী মেয়ে থাকলে সে যে আপনার হাতে কার্ল স্যাগনের বই দেখলেই আপনার প্রেমে পড়ে যাবে সেরকম সম্ভবনাও নেই। কারন আপনি বই উল্টো করে ধরেছেন।“
আমি খানিকটা অবাকই হলাম ওর দিকে তাকিয়ে। বাংলাদেশে এমন সুন্দরী মেয়ে আছে! এর মেয়ের জন্ম মনে হয় মধ্যপ্রাচ্যে হওয়ার কথা। আমাদের সেই প্রথম দেখা গিয়ে ঠেকেছিলো বিয়েতে। আমি কোনোদিন আমার বাবার কথার অবাধ্য হইনি। কিন্তু অবাধ্য হয়ে মাত্র তেইশ বছর আটমাস বিশ দিন বয়সে জীবনের সবচেয়ে গুরত্বপুর্ন কাজটি করেছিলাম। নিশাতকে বিয়ে করে ফেললাম।
আমি ওকে বিয়ে করেছিলাম ঠিকই তবে অনেকটা একতরফা। আমি তখনই  বিয়ে করতে চাইনি। ও বিষ খেয়ে আত্মহত্যা অব্ধি করতে গিয়েছিলো আমার জন্য। মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে নিশাতের পরিবারও পাগলামিটাকে মেনে নিয়েছিলো। কিন্তু আমার বাবা আমায় করলো ত্যায্যপুত্র। বাবা আর টাকা পাঠান না। নিদারুন অর্থ সংকটে পরেছিলাম। নিশাত যদিও বাবার বাড়িতেই  থাকতো ,কিন্তু নিজের  থাকা খাওয়ার খরচ আমাকেই চালাতেও হতো, নিশাতের বাবা আমায় টাকা দিতে চাইতেন আমি লজ্জায়  নিতাম না।
মাঝে মাঝে নিশাতের সাথে কথা বলতাম। পড়াশোনা শেষ করে একটা চাকরি পাওয়া অবধি অপেক্ষা ছিলো। বড়লোক বাবার মেয়ের কত শখ। সুইজারল্যান্ড ঘুরবে ,ইলেত বিলেত ঘুরবে আরোও কত কী। আমি বলেছিলাম আগে বাংলাদেশটাই নাহয় ঘুরে দেখি। সে অনিচ্ছা সত্ত্বেও  রাজি হলে। কিন্তু পরে তাকে বেশ আগ্রহী দেখা গেলো।“ 

সৌরভ থামলো।।
:তো এই জন্যই বাংলাদেশের সব জেলা ঘুরবার প্লান?      ,কানিজ উৎসুক স্বরে জিজ্ঞেস করলো।
:প্ল্যান ছিলো বইকি।  আমার কাছে তখন অত টাকা ছিলো না। তবে ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকলে যা হয় । এম এস সি শেষে টরেন্টো ইউনিভারসিটিতে স্কলারশিপ পেয়ে গেলাম, সাথে একটা আন্ডার গ্রাজুয়েট কলেজে পড়ানোর সুযোগ। মোদ্দা কথা অর্থ সংকট কেটে গিয়েছিলো। যাওয়ার আগে নিশাতকে বলেছিলাম ফিরে আসলে একসাথে  এক্সপেডেশনে বেরুব। আমাকে বিদায় দেবার সময় এয়ারপোর্টে নিশাতের সে কি কান্না। লজ্জায় পড়ে গিয়েছিলাম সবার সামনে। 
লং  ডিস্টেন্স রোমিং কলের   জন্য প্রতিদিন কথা বলা সম্ভব না হলেও নিয়ম করে ওকে মেইল করতাম। কিন্তু দিনদিন একে অপরের মেইলের সংখ্যাও কমে গেলো। ওর সাথে আমার দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছিলো। বেশ বাড়ছিলো। আমি বুঝতে পারছিলাম। কিন্তু কিছুই করার ছিল না।
একদিন একটা রেজিস্ট্রী করা চিঠি পেলাম। যদিও ডকুমেন্টারী চিঠি ছাড়া আমার নামে তেমন কোনো চিঠি আসতো না। হলুদ রং এর খাম। খামের ওপর নাম লেখা –‘From: Tahmina Haque Nishat .’ । খামটা খুললাম। ভেতরে একটা হাতে লেখা চিঠি ,আর কিছু ডকুমেন্টস। চিঠিটা পেয়েই আজ দেশে ফেরা।

হঠাৎ ট্রেনের সাইরেন বাজলো। সৌরভ বলল,”   স্টেশন এসে গেছে। আমি এখানেই নামবো। “
কানিজ তৎক্ষনাৎ জিজ্ঞেস করলো,” আপনার স্ত্রীর  চিঠিতে কি এমন লিখা ছিলো যে আপনি দেশে চলে এলেন?”
সৌরভ উদ্ভ্রান্তের মত খানিক হাসলো। বলল, “ ডিভোর্স লেটার! নিশাত  জানে সে মুক্তি চাইলে তাকে আমি মুক্তি দিয়ে দেবো। আটকাবো না। তাই আগে ভাগেই বিয়ের ইনভাইটেশন কার্ডও পাঠিয়ে দিয়েছে। সে শাহেদ নামে একজনের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে গেছে। আজ তাদের বিয়ে ছিলো। আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু  নিশাতের  বিয়ের ইনভাইটেশন রক্ষার্থেই এসেছি।  আমাদের সম্পর্কের ইতি ঘটেছে সেটা দেখাতেই আমায় নিমন্ত্রণ করেছে। আমিও এলাম। এখনো ভালোবাসি বলে। অতঃপর সারা বাংলাদেশ  ঘুরে একেবারে ফিরে যাব কানাডায়। হ্যাঁ, একাএকাই ঘুরব। 
আর ভালো থাকবেন আপনি। বিদায় “

সৌরভ চলে গেলো। ট্রেনের জানলা ডিঙিয়ে বিকেলের পশ্চিম আকাশের আভা এসে লাগছে কানিজের গালে। চোখের জল আরও চকচক করছে কমলা রোদে। মনে মনে ভাবছে সে লোকটির হাত ধরে বলতেও পারতো,” চলুন আমি আপনার সাথে সারা বাংলাদেশ ঘুরবো।“ না সব সম্ভব হয়ে ওঠে না। মনটা হতে হয় পানির মত, হাজারো চেষ্টা করলেও পানিতে যেমন দাগ ফেলা যায় না তেমনি মনেও দুঃখের দাগ যেনো না পরে। তবু মনের অজান্তেই  মনে কিছু দুঃখের দাগ পড়ে যায় । সব দাগ মোছা যায় না। কানিজ ট্রেনের জানালা দিয়ে ভেজা চোখে তাকিয়ে দেখছে সৌরভ লাগেজটা নিয়ে গটগট করে চলে যাচ্ছে।

গল্পঃ সে আমায় ডেকেছিলো শেষ নিমন্ত্রনে
Fb: s. H. Shrabon</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/170419/</link>
				<pubDate>Tue, 01 Nov 2022 12:51:31 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>লোকটির অদ্ভুত বিষয় হলো সে মুখের সামনে একটি বই  উল্টো করে ধরে পড়ছে। কোনো গল্প-উপন্যাসের বই নয়।  আল্টিমেট ফেইট অফ ইউনিভার্স , প্রফেসর জে এন ইসলামের লিখা। কানিজ আগ্রহ আর কৌতুহল দুটো নিয়েই লোকটিকে দেখছে। সে বসে আছে কানিজের মুখোমুখী সিটে। এই কম্পার্ট্মেন্টটা প্রায় ফাকাই বলা চলে। শুধু দু সিট সামনে এক দম্পতি( সম্ভবত নতুন বিয়ে হয়েছে) দুজন দুজনের হ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-170419"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/170419/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ac210329c1c0c7fc01adfbb3b136e3d3</guid>
				<title>Shrabon and Muaz-Muhammad are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/166551/</link>
				<pubDate>Sun, 23 Oct 2022 19:03:17 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6518d8ecb11960f9af674dbba89ff1f9</guid>
				<title>ডাক্তার হবারও অনেক ঝামেলা। তবে আজ অনেকদিন পর এক্টু সময় বের করে সৌরভকে নিয়ে বেরিয়েছে নিলিমা। আপদত নদীর পাড়েই খানিক চিনা বাদাম চিবিয়ে নেয়া যাক। বেশ হাওয়া দিচ্ছে আজ চারপাশে। লাশ কাটা ছেড়া করা আর বিভিন্ন রোগে নুইয়ে পড়া রুগিদের দেখতে দেখতে অনেকটা হাপিয়েই উঠেছিলো নিলিমা। তবে আজ খানিকটা সস্তি।পাশে সৌরভ বসা, মাথার উপর খোলা আকাশ আর নদীর জলে পা ডুবিয়ে রেখে দূরের ছইওয়ালা নৌকা দেখা.....একজন সাধারন প্রেমিকা হিসেবে আর কি চাই ?
-“নীলিমা”......সৌরভের কন্ঠ শুনে আর চোখে নীলিমা তাকালো।
-“হুম...বল।“
-“আমি যদি কখনো তোকে ছেড়ে চলে যাই। তুই কি করবি?”
হঠাত সৌরভের এমন অবান্তর প্রশ্নে নিলিমা খানিক ভুরু কুচকালেও তেমন একটা আমলে নিলো না। তবু উদ্ভ্রান্তের মত উত্তর দিলো –
-“তুই জীবনে আসার আগে যেমন ছিলাম সেরকম থাকবো...আমি সাধারণ মেয়ে ।কারো প্রতি অত ক্ষোভ পুষে রাখি না।“
সৌরভ স্মিত হাসি হেসে বলল,
-“তোর মত আরও একজনও এই কথা বলেছিলো। মেয়েরা অত সহজ জিনিস না। ধোকাবাজদের অত সহজে ছেড়ে দেয় না। সেটা মেয়েরা নিজেরাও জানে না। আচ্ছা তোকে একজনের গল্প বলি। শোন......।“
-“কার গল্প?”
-“নিলুফার ইয়াসমিন। ডা.নিলুফার ইয়াসমিন...তুই ওনাকে সম্ভবত চিনতিস।“
-“হুম,চিনি । তিন বছর আগে আত্মহত্যা করেছিলেন। ফার্স্ট ইয়ারে  ওনার দুটো কি তিনটি ক্লাস পেয়েছিলাম। তো হঠাত ওনার কথা কেনো?”
-“আমার এই সাংবাদিকতার জীবনে অনেক মানুষের ইন্টারভিউ নিয়েছি। জানলে তুই অবাক হবি নিলুফার ইয়াসমিন আত্মহত্যা করার আট ঘন্টা আগে আমিই ওনার জীবনের শেষ ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম।“
-“কি বলিস! তুই  নিলুফার ম্যাডামের ইন্টারভিউ নিয়েছিলি ?”
-“হ্যাঁ, নিয়েছিলাম। উনি  বিখ্যাত মানুষ। ভেবেছিলাম ওনার আপোয়েনমেন্ট নিতে অনেক ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হবে। কিন্তু তেমন কোনো সমস্যাই হয়নি। তিনি আমায় ডেকেছিলেন ২৭ শে শ্রাবণ বিকেলে। শীতল বৃষ্টিতে চারপাশ ভেজা স্যাঁতস্যাতেঁ, সবকিছু কেমন যেন বিষন্ন ছিল সেদিন। বাড়িতে ঢুকতেই বোঝা গেলো প্রায় বিয়াল্লিশ বছরের কুমারি জীবনে ডাক্তারি করে অনেক টাকাই কামিয়েছেন। বাড়ির বর্ণনা নাইবা দিলাম। সাধারণ ঝারবাতির দিকেই মিনিট তিনেক তাকিয়ে ছিলাম আমি। তার কিচ্ছুক্ষন পরেই বাড়ির মালকিনের দেখা পেলাম। নিলুফার ম্যাডামকে এর আগে দূর থেকেই দেখেছিলাম। কিন্তু কাছ থেকে দেখলে তার এই পড়ন্ত যৌবনের সৌন্দর্য যেনো মস্তিষ্কে বিধেঁ যায়। তখন সেই সৌন্দর্যের কিছুটা ক্ষয়ে গেলেও বোঝা যায় এক সময় তোর মতই সুন্দরী ছিলেন।“ 
-“ওনার সৌন্দর্যের গল্প শোনাতে আমাকে বসিয়ে রেখেছিস?”
- “আরে না, শোন। যা বলছিলাম...তখন সবে মাত্র সাংবাদিকতার শুরু। তখনই ওনার মত একজন মানুষের ইন্টারভিউ ...মোদ্দা কথা খানিক ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছিলাম। 
ইন্টারভিউ তে সাধারণ যা প্রশ্ন মোটামুটি সবই করা শেষ।“
-“যেমন?”
-যেমন...এই ধর –ডাক্তারি জীবনে ওনার সফলতা নিয়ে কথা, বিশেষত সবই ডাক্তারি জীবন কেন্দ্রিক। ইন্টারভিউ শেষ করে উঠে যাবো...এমন সময় তিনি বলে উঠলেন, ‘তোমার নামটা যেনো কি?’ খানিক ভুরু কুচকেই উত্তর দিলাম, ‘সৌরভ’। তিনি বললেন, ‘জীবণে এতো ইন্টারভিউ দিলাম। আর সবার মূল আগ্রহ ছিল আমার বৈবাহিক ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে। কিন্তু এই প্রথম দেখলাম কোনো সাংবাদিক আমার বৈবাহিক  জীবন নিয়ে প্রশ্ন করলো না।’
আমি বললাম, ‘ম্যাডাম অফিস থেকেই বারণ করে দিয়েছে এই বিষয়ে প্রশ্ন না করতে। আপনি নাকি তাতে বিরক্ত বোধ করেন।‘
‘হ্যাঁ, করতাম। তবে আর কদিনইবা বাচঁবো। তাই না বলা গল্প গুলো কাওকে বলেই যাই। তুমি তো কিছুই খেলে না। চা টাও ঠান্ডা হয়ে গেছে। আচ্ছা দাড়াঁও তোমার জন্য আমি চা বানিয়ে নিয়ে আসি।‘ তিনি ফিরলেন তবে শুধু চা নিয়ে নয়...সাথে শাড়িটাও বদলে এলেন। এবার আমি আর চোখ সরাতে পারছিলাম। পড়নে সাদা সিফনের শাড়ি, গলায় মুক্তোর মালা আবছা অন্ধকার ঘরে ওনাকে প্রেমের  দেবী আফ্রোদিতির মত লাগছিলো। 
তিনি আমায় চা দিয়ে নিজেও নিলেন। অতঃপর বলতে শুরু করলেন, ‘আজ আমার জন্মদিন। সেটা অনেকেই জানে না। কারণ অফিসিয়ালি আমার জন্মদিন ২৫ শে ফেব্রুয়ারী কিন্তু সে এই দিনটার কথা কখনই ভুলতো না। প্রতি সাতাশে শ্রাবণ সে আমার জন্মদিন ঘটা করে পালন করতো। এই ঢাকা শহরেও আমার জন্য খুঁজে খুঁজে কদম ফুল নিয়ে আসত। তার নামটা খানিক বাদেই বলি?
আমি হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ালাম..।তিনি বলতে লাগলেন...’আমার এই বিয়াল্লিশ বছর অবিবাহিত থাকার কারণ সে। মেডিকেল কলেজের ফার্স্ট সেমিস্টার এর রেজাল্ট অব্ধি খারাপ করেছিলাম তার কথা ভাবতে ভাবতে। কিন্তু একসময় আমি তার কাছে পুরোনো হয়ে গিয়েছিলাম। ছেলেদের রুচি খুব গতিশীল ...ক্ষনে ক্ষনে বদলায়। অতঃপর  বর্ষার এক বিকেলেই রেজিস্ট্রি করা চিঠি এলো। তার হাতের লেখা ছিলো অসাধারণ।গোটা গোটা অক্ষরে লেখা- তার নাকি আর আ্মাকে মনে ধরছে না। সে  মনপুরা নামের অন্য এক সুন্দরীকে বিয়ে করবে। করুক তাতে কি...।আমি আমার মতো থাকবো...আমি সাধারণ মেয়ে ।কারো প্রতি অত ক্ষোভ পুষে রাখি না। কিন্তু ক্ষোভ ছিলো। খুব সূক্ষ ক্ষোভ। তবে তাকে ভুলে যাবার চেষ্টা করছিলাম।
 ডাক্তার হিসেবে জীবনে পোস্ট মর্টেম করতে হয়েছে। এই কাজটাই ডাক্তারী জীবনে খুব খারাপ লাগতো করতে। মৃত মানুষ গুলোর শরীর কাটাছেড়া করা...তাদের অঙ্গ প্রতঙ্গ গুলো কেটে বের করা খুব বিচ্ছিরি ব্যাপার। কিন্তু জীবনে একজনের পোস্ট মর্টেম আমি খুব আগ্রহ নিয়ে করেছিলাম। তার পোস্ট মর্টেম......’
কথাটা বলে খানিক দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। আমি খানিকটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,”কার পোস্ট মর্টেম?”
-‘তার, যে আমাকে ছেড়ে এক বর্ষার বিকেলে চলে গিয়েছিলো। তার হৃদপিন্ডটা আমি বের করে দেখেছিলাম...তার মনে আদৌ ভালোবাসার কোনো রেশ ছিলো কিনা। তার দেহটা  কেটে ছিড়ে দেখতে খুব আনন্দ হচ্ছিলো...হয়তো সেই  সূক্ষ ক্ষোভটা উগড়ে দিতে পেরেছিলাম। আর মজার ব্যাপার কি জানো- সে খুন হয়েছিলো তার স্ত্রী মনপুরার হাতেই। হয়তো মনপুরার ওপর থেকেও তার মন উঠে গিয়েছিলো। আর সেটা জানতে পেরে  তার স্ত্রী তাকে মেরে দিলো......” কথাগুলো বলে তিনি ঘর ফাটিয়ে হাসতে লাগলেন। যেনো এতক্ষণ যা বললেন সব  পাগলের প্রলাপ। 
তারপর নিজেকে খানিক সামলে নিয়ে বললেন,”  তোমাকেই কেনো এতো কথা বললাম  জানিনা। হয়তো তার সাথে তোমার খানিক মিল পেয়েছি তাই। আমার পড়নের শাড়ীটাও সে উপহার দিয়েছিলো ,প্রতি জন্মদিনে আমি এই শাড়িটা পড়ি। নিজের জীবনটাকে নিয়ে অনেক জুয়া খেলেছি। আর খেলতে ইচ্ছে হচ্ছে না।‘ খানিক বিরতি দিলেন।বললেন, ‘তুমি এবার আসতে পারো।‘
তিনি সিড়ি বেয়ে ওপরে উঠে গেলেন...এগুলোই ছিলো ওনার জীবনের শেষ কিছু কথা। ইন্টারভিউটি আর ছাপানো হয়নি। অফিস যদি আমাকে রেসকিউ না করতো তাহলে হয়তো ওনার আত্মহত্যার কেসে আমি ফেসে যেতাম। কিন্তু আজও আমার ডাইরিতে ওনার সম্পূর্ন  ইন্টারভিউটা লিখা আছে। যার শিরোণাম দিয়েছিলাম -“--she has written her death sentences.....” চল আজ উঠি সন্ধ্যা নেমে আসছে। “
নীলিমা এতক্ষন উদ্ভ্রান্তের মত কথা শুনছিলো। সৌরভের শেষ কথায় সচকিত হয়ে বলল-
-“আচ্ছা নিলুফার ম্যাডামকে যে ঠকিয়েছিলো ম্যাডাম তার নাম বলে যায় নি?”
সৌরভ পড়ন্ত বিকেলের সূর্যের দিকে ম্লান হাসি হেসে বলল,
-“বলে গিয়েছিলেন বইকি। কাকতালীয় ভাবে তার নামও ছিলো ‘সৌরভ’।“
গল্প: SHE HAS WRITTEN HER DEATH SENTENCES

 




-she has written his death sentences.....</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/166276/</link>
				<pubDate>Sun, 23 Oct 2022 07:28:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ডাক্তার হবারও অনেক ঝামেলা। তবে আজ অনেকদিন পর এক্টু সময় বের করে সৌরভকে নিয়ে বেরিয়েছে নিলিমা। আপদত নদীর পাড়েই খানিক চিনা বাদাম চিবিয়ে নেয়া যাক। বেশ হাওয়া দিচ্ছে আজ চারপাশে। লাশ কাটা ছেড়া করা আর বিভিন্ন রোগে নুইয়ে পড়া রুগিদের দেখতে দেখতে অনেকটা হাপিয়েই উঠেছিলো নিলিমা। তবে আজ খানিকটা সস্তি।পাশে সৌরভ বসা, মাথার উপর খোলা আকাশ আর নদীর জলে পা ডুবিয়ে রেখে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-166276"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/166276/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6d903a8595930d978ac642f6dd1458b1</guid>
				<title>Shrabon and Halima-Moly are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/166107/</link>
				<pubDate>Sun, 23 Oct 2022 03:43:48 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8bf2f2945213cc59a69912850f3d3425</guid>
				<title>#থ্রিলার

-ভাই  আপনি  কি করেন?
-আমি হইলাম গিয়া  মর্গের লাশের পাহারাদার। মানুষ যারে ডোম কয় আরকি। 
কথাটা বলেই সৌরভকে ডিঙিয়ে ট্রেনের জানালা দিয়ে পানের  পিক ফেলে এক গাল হাসলো লোকটি।
শেষ অব্ধি কিনা এক ডোমের সাথে সারারাত ট্রেনে কাটাতে হবে। ভাবতেই সৌরভের গা শিউরে উঠলো। বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরছে। ট্রেনে উঠেই সিটে গা এলিয়ে দিয়েছিলো।   কখন যে চোখ লেগে এসেছিলো তা বুঝতে পারেনি।খানিক বাদেই চটকা কেটে যেতেই আবিষ্কার করলো পাশে বসা অদ্ভুত বেশভুষার লোকটিকে।  সৌরভ টের পায় নি লোকটি পাশের সীটে এসে কখন বসেছিলো । লোকটির গায়ে রঙচঙা শার্ট, লুঙ্গি পড়া। উপচে পড়া পানের  পিকে লালচে ঠোঁট।গা থেকেও জর্দার  গন্ধ বেরুচ্ছে। বয়স  আন্দাজে ত্রিশ মতন হবে।   এই বেশভুষা বাদ দিলে লোকটির চেহারা খারাপ বলা চলে না। তবে সৌরভের কাছে বিরক্তির ব্যাপার হচ্ছে সেই কখন থেকে লোকটি অনর্গল কথা বলে মাথাটাই ধরিয়ে দিয়েছে। 
-ঢাকায় থাকেন কই?  করেন কি? দ্যাশের বাড়ী কই?......... ইত্যাদি ইত্যাদি।  
সৌরভ যতটা সম্ভব সংক্ষেপে উত্তর দেবারই চেষ্টা করেছে। কিন্তু বিপরীতে  নিজ থেকে কেবল একটা প্রশ্নই করেছে ক্ষানিক আগ্রহ নিয়ে । সেটা হলো-
-ভাই আপনি  কি করেন?
উত্তরও পেলো যারপরনাই অপ্রত্যাশিত। সে নাকি মর্গের ডোম। লোকটির পেশা শুনে  সৌরভ অন্তরে কিঞ্চিৎ আতকে উঠলো বটে তবে বাহিরে তা প্রকাশ করলো না।
- আপনি ডোমের কাজ করেন ! আচ্ছা ভাই রাত্রে লাশ আসলে আপনার ভয় করে না?
- ডর লাগবো ক্যান!  আমার তো ভালাই লাগে। জ্যাতা মাইনষের থেইকা মরা মানুষ বহুত ভালা। 
প্রাক্টিক্যাল দিক থেকে তিনি ঠিকই বলেছেন। বেঁচে থাকতে এক মানুষ অন্য মানুষকে ঠকায় , ছলনা করে। নানা ভাবে কষ্ট দেয়। এমনকি জীবন নিয়ে নিতেও   পিছ পা হয় না। সে তুলনায় মরা মানুষ অনেক নিরাপদ।  তবে আধোভৌতিক দিক থেকে ব্যপারটা অন্যরকম।
কিন্তু একজন ডোমের আয়ই বা কতো যে একেবারে ফার্স্ট ক্লাস কম্পার্টমেন্টে উঠে বসে আছে।  সেক্ষত্রে সৌরভের আয়ও যে অনেক তা কিন্তু নয়। সৌরভ একটা অখ্যাত বেসরকারি ক্লিনিকের রিসিপশনিশট।এই সামান্য চাকরির বেতনে  ঢাকা শহরে বাস করে বাড়িতে বাবা -মা ,ছোট বোন দুটোর পড়ার খরচ দিয়ে তার চলে না। তবে ট্রেনে চড়তে গেলে সে সবসময় শোভন সিটের চেয়ে ফার্স্ট ক্লাস কম্পার্টমেন্টই বেছে নেয়। মোটামুটি আয়েশি ভ্রমন।  কেবল এক্ষেত্রে টাকার মায়া করেনা।  
সৌরভের ধ্যান ভাঙলো লোকটির প্রশ্নে,
-“তো ভাইসাব বিয়া টিয়া করসেন নি ? চেহারা তো মাশাল্লা দিলে সেই। “
সৌরভ জানালার পাশের সিটেই বসেছিলো। লোকটির প্রশ্নে তার দৃষ্টি চলন্ত ট্রেনের জানলা পেরিয়ে চলে গেলো অনেক দূরে। সেদিকেই দৃষ্টি রেখে বলল,
-“ বিয়ে একটা করেছিলাম ভাই। প্রতিদিন রাতের আঁধারে তার চেহারাটাই সবার আগে চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আমাদের অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ ছিলো। মানে সমন্ধ করে বিয়ে। ভেবেছিলাম বিয়ের পর প্রতি মূহূর্তে ভালোবাসার মোহে তাকে বস করতে পারবো। তবে আমি পারিনি। সেই দুঃসাহসিক অভিযানে আমি হেরে গিয়েছি কারো বিপরীতে। তার প্রাক্তন প্রেমিকের বিপরীতে।  বিয়ের পর  ভাবতাম সে তার চরিত্র অনেক খাম খেয়ালীপনায় ভরা। পরে বুঝলাম আমার দিকে তার কোনো মন ছিলো না।
-ভাই এতো শক্ত কথা বুজি না। একটু ভাইঙ্গা কইবেন?
-বউটাকে ধরে রাখতে পারিনি। সংসারে টাকার অভাব, টানাটানি । একদিন অফিস থেকে ফিরে দেখলাম সে বাসায় নেই। একটা চিরকুট রেখে চার মাস আগে সংসারে অভাবের দোহাই দিয়ে পুরোনো প্রেমিকের সাথে বিয়ের সব গয়না গাটি নিয়ে পালিয়ে গেছে। একেই নিজের স্ত্রী হারানোর অত দুঃখ তার ওপর আমার ওয়াইফের পরিবার উলটো আমার বিরুদ্ধেই মামলা ঠুকেছে। সন্দেহ করছে যে আমি নাকি আমার ওয়াইফকে মারধর করতাম বলে সে পালিয়ে গেছে। পুলিশও আমার ওয়াইফের মিসিং কেসের  অগ্রগতি করতে পারছে না বলে এখন আমার ওপর দোষ চাপাচ্ছে। আজব দুনিয়া।
কেউ সৌরভের বৈবাহিক জীবন নিয়ে প্রশ্ন করলে এই কাহিনীই শুনিয়ে দেয়। বউ পালানো যেনো কমন ফ্যক্টর হয়ে দাড়িয়েছে।
-বুঝি সবই ,দুনিয়ার আর কি দোষ ! আমিও বিয়া  একখান করছিলাম।  ভাই ট্যাকা না থাকলে সংসারে বউও থাহে না । সবই হইলো গিয়া ট্যাকার বান্দি। তয়  আল্লা  দিলে আমার অহন ট্যাকার অভাব নাই। পেরাই মাসেই লাখ খানেক ইনকাম অয়।
- কি বলেন ভাই। আপনি সাধারণ লাশঘরের পাহারাদার হয়ে এতো টাকা রোজগার কিভাবে সম্ভব?
-সম্ভব ভাই ।  ঢাকা শহরে হগগলই সম্ভম।  ভাই সব কথা আপনেরে খুল্লাই কই। শোনেন লাশঘরের লাশ কাইট্টা তেমন আয় রোজগার অয় না। তয় আমি এর লগে আরেকটা ব্যবসাও করি।
-কিসের ব্যবসা?
লোকটি সৌরভের পাশের সিটে বসলেও আরো কাছাকাছি চেপে এলো। তারপর আশেপাশে  তাকিয়ে দেখলো। এই কম্পার্টমেন্টে যাত্রী কম । কেউ শোনার সম্ভবনা নেই। তবু এক মৃদু সতর্কতার সাথে ফিসফিসিয়ে বলল,
- কঙ্কালের ব্যবসা।
 এবার তো সৌরভের ভিরমি খাবার যোগাড়।
- আরে ভাই ডরাইয়েন না। ভালা ব্যবসা।  ডাক্তরী পড়ইননা পোলাপাইনই আমার থেইক্কা কঙ্কাল লইয়া যায়। ভালা দাম দেয়। তয় ইদানিং কাস্টমার কম। যেইসব লাশগুলা বেওয়ারিশ হেইসব লাশ অনেক দিন ধইরা মর্গে পইরা থাহে। কোনো আত্মীয়স্বজন লাশ নিতে আহে না। তো আমি হেই লাশ গুলারেই টার্গেট করি।
-টার্গেট করেন মানে?
- টার্গেট করণ মানে হইলো গিয়া হেইসব লাশের কঙ্কালই বেচি। বেওয়ারিশ লাশের দাফন কাফন করে আঞ্জুমানে মফিদুল  টাইপের সংস্থা গুলান।তয় হেরা লাশ কবর দিলে লুকাইয়া লুকাইয়া যাইয়া দেহি হেরা কোনহানে  কবে কবর দেয়।  কবর দেওনের দুই তিন মাসের মইদ্দে লাশ পুরা পইচ্চা হাড্ডি বাদে কিচ্চু থাহে না। তো হেই কঙ্কালডিই রাইতের আন্দারে তুইলা আইনা বেচি। মাঝে মইদ্দে অবইশ্য অন্য কবর থেইক্কা তুইল্লা আইন্নাও বেচি। ম্যালা কামাই হয়। পুরা কাঁচা টেহার ব্যবসা। হাতে কিসু রাহিনা। 
আল্লার দুনিয়াত বাচঁমু আর কয়দিন। তো খাই দাই। ইছছামত খরচা করি। 
- আপনার বউ কিছু বলে না? নাকি সে জানে না ব্যপারটা- যে আপনি এই ভাবে টাকা আয় করেন?
-জানবো আর কেমনে?  হের কঙ্কাল দিয়াইও তো ব্যবসা করছি।
এবার সৌরভ আর নিজেকে আটঁকে রাখতে পারলো না। গলার স্বর তীক্ষন করেই বলল,
-ধুর মিয়া কি বলছেন যা তা।ইয়ারকি  করার আর জায়গা পান না নাকি?
-  আরে ভাই চ্যাতেন কিললাইগা? আপনে আমার শালা লাগেন নি। ইয়ারকি করুম ক্যান? আপনেরে দেইখা মনে অইলো আপনেরও ট্যাকার অভাব। ট্যাকার ধান্দায় আছেন। তো হের লাইগাই আপনেরে সব খুইলা  কইলাম । আপনেও আমারে কয়ডা কাস্টমার আইন্না দিতে পারেন। হের বদলে আপনেও ট্যাকা পাইবেন আমারও লাভ।

সৌরভ উদ্ভ্রান্তের মত তাকালো। যেন দ্বিধায় আছে। লোকটি ওর দ্বিধাদ্বন্দকে পাত্তা না দিয়ে আবার বলতে লাগলো,
- তো ভাই হুনেন কেমনে এই ব্যাবসার শুরু। আমারও ভাই আপনের মতন ট্যাকার মেলা অভাব আসিলো। বউ খালি হারাদিন ক্যান ক্যান করতো । হের এইডা লাগবো হেইডা লাগবো। আমি কইতাম আমার এতো রোজগার পাতি নাই তুই বাসা বাড়িত বান্দির কাম কইরা ট্যাকা কামাইয়া তোর যা লাগে তুই কিন গা। আমার এই রোজগার দিয়া তোর মত রাজরানীরে পালতে পারতাম না। এরুম চিল্লাচিল্লি পেরাই লাইগগা থাকতো। তয় একদিন বেহেন্না বেলাত হে আবার চিল্লাচিল্লি শুরু করলো। মেজাজটা হইলো বেজায় খারাপ ।  চুলের মুডিত ধইরা গায়ের জোর দিয়া একটা চটকানা দিলাম । এইবার বান্দির ঝি ঠান্ডা অইলো। দেখলাম ভিরমি খাইয়া মাটিত পড়সে। ভালাই হইসে পইরা থাউক। তয় আমি দরজা লাগায়া বাইর হইয়া গেলাম আমার সন্ধ্যা পর্যন্ত ডিউটি আছে । হেদিন আবার নাইট ডিউটি আসিলো না । সন্ধ্যা বেলাত আইয়া দেহি ঘরের সব যেমন আসিলো এমনি পইরা আছে। আর আমার বৌ বান্দির ঝিও সকাল বেলাত যেমনে পইড়া আসিলো হেমনেই আছে। আমার  কইলজা তো পুরা ধরাস কইরা উঠলো। বালা কইরা ধইরা দেখলাম বৌরের শইলডা পুরা ঠান্ডা। কান দিয়ে রক্ত বাইর হইয়া শুকায়া গেসে। বুঝলাম বান্দির ঝি মরসে। 
অহন আমি কি করমু? কি করমু...... মাথাত একটা বুদ্দি আইলো । হেতির লাশটা আমাগো বস্তির পিছনের রেললাইনের পাশে মাডি খুইরা চাপা দিয়া দিলাম। বস্তির মইদ্দে ছড়ায়া দিলাম বৌ এক রিশকাঅলার লগে পলায়া গেসে। হগগলেই জানতো আমার লগে হের ডেইলী কাইজ্জা অইতো। বেবাক লোকেই বিশ্বাস করল আমার কথা। পুলিশও আমারে সন্দেহ করলো না। এর কয়েকদিন পরেই এই কঙ্কালের ব্যবসা শুরু করলাম। মজার বিষয় হইলো গিয়া ভাইসাব আমার বউ হারামজাদীর এর কঙ্কালডাই  প্রত্থমে বেইচা দিসি। হা……হা……হা…
লোকটির হাসি দেখে সৌরভ এবার নিশ্চিত হলো লোকটি পাগল। এভাবে নিজের খুনোখুনির কথা কাওকে বলে! মোটেও না।
-তয় ভাই সাব মনে অয় আমারে পাগল ভাবতাসেন। 
 এবার সৌরভের বুকটাও ধরাস করে উঠলো। লোকটি কি তার মন পড়তে পারে কিনা?
- ভাইসাব একটা জিনিস দেহাই তয় আমনে আমারে বিশ্বাস করবেন। এই কথাটি বলে লোকটি নিজের সিটের নিচ থেকে একটা কাপড়ের পুটলি বের করলো। 
সেটার বাধন খুলতেই সৌরভের চক্ষু চড়কগাছ। ভেতরে নরকঙ্কাল।
-কি ভাই অহন বিশ্বাস করলেন? এক জায়গা থেইকা চুরি কইরা আনলাম। পুরা টাটকা মাল। বেশি দিন অয় নাই মরসে। একটা নতুন কাস্টমার পাইসি।  এইডা হের কাছে বেচুঁম।
কথা বলতে বলতেই  পুটলীটি আগের জায়গায় স্থান করে নিলো।
-এতো কথা কইলাম ক্যান জানেন? আপনেরে খুব বিশ্বাসী মানুষ মনে হয়। কামের মানুষও মনে হয়। আপনে হাসপাতালে কাম করেন।  যদি আমারে কাস্টমার ধইরা দিতে পারেন তাহলে আপনেও কমিশন পাইবেন। 
আর আপনের কাছেও যদি কঙ্কাল থাহে আপনেও আমারে কইবেন। কাস্টমার আইনা দিমু। 


সৌরভকে এখন উদ্ভ্রান্তের মত লাগছে। সে কি আদৌ স্বপ্ন দেখছে কিনা। কি শুনলো এতোক্ষণ  । তবে লোকটির  শেষের কথাটাই ওর মাথায় ঘুরছে- “আপনের কাছেও যদি কঙ্কাল থাহে আপনেও আমারে কইবেন। কাস্টমার আইনা দিমু।“ অনেকক্ষণ দুজন যাত্রীর কেউই কোনো কথা বলছে না । হ্যাঁ, অনেক্ষণ। যেন দুজনেই নিরবতার ধ্যানে মগ্ন। তবে একটা সময় সেই ধ্যান ভেঙ্গে দিলো সৌরভের শীতল কন্ঠ।
-ভাই আমার কাছেও একটা কঙ্কাল আছে। আমি ওইটা বিক্রি করবো। কত টাকা পাওয়া যাবে?
লোকটি সৌরভের দিকে লোকটি চোখ পিটপিট করে তাকালো। যেন পুরো যাত্রায় এই প্রথম সৌরভকে দেখছে। এরকম ধারণা হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ এই তো কেবল সৌরভের আসল রূপ ফুটে বের হতে শুরু করেছে।   তবে লোকটি নিজেকে ধাতস্থ করে নিলো। অতঃপর একটি  বাঁকা হাসি ছুড়ে দিয়ে বলল,
-দেখলেন ভাইসাব রতনে রতন চেনে। আপনেরে আমার দেইখাই মনে হইসে আপনে এই লাইনের লোক।
আবার খানিক বিরতি দিয়ে বলল,
-কঙ্কালডা আপনের বৌয়ের না?
সৌরভ পুনরায় বিস্মিত হলো। এই লোক এতোকিছু বুঝতে পারে কিভাবে। সে কি মাইন্ড রিডার নাকি?
-আরে ভাই তবদা খাইয়া আছেন ক্যান। আমরা এক গোয়ালেরই গাঁই। শরম পাওনের কিছু নাই। বৌ মারন খারাপ কিসুনা। উলটা বৌ পালা মানে হাতি পালা। অহন কঙ্কাল বেইচা তো আপনে মাত্র  চল্লিশ পঞ্চাশ হাজার ট্যাকার মালিক অইবেন। তয়  বৌ নামের মরা ঐ হাতির দামও উটবো না। এর চাইয়া মাইরা ফেলানই ভালা।
একটু থেমে ভুরু নাচিয়ে লোকটি নাটকীয়তার সাথে একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিলো,
-তয় বৌরে মারসিলেন ক্যান ভাইসাব। কইয়া ফালান। আরে আমরা আমরাই তো।

সৌরভ কিছুক্ষণ চুপ করে ছিলো।তারপর দীর্ঘঃশ্বাস ফেলে বলতে শুরু করলো-
- আমাদের বিয়ে হয়েছে মাত্র দেড় বছর। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন মাত্র দেড় বছর আগে। কিন্তু নীলিমাকে ভালোবেসেছিলাম বিয়ের প্রথম  দেড়মাসেই। খুব সূক্ষ প্রেম। যেটা নীলিমা বুঝেছিলো কিনা জানিনা।  ভাবতাম এই ভার্চুয়াল যুগে অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের পর ভালোবাসা যায়। অনেকেই তো এভাবে সুখী আছে।অবশ্য এই সূত্র আমার ক্ষেত্রে খাটেনি। নীলিমাকে কতটা ভালোবেসেছিলাম সেটা নীলিমা জানতো না। আর জানবেও না। সারাদিনের পরিশ্রমের পর ওর মুখটাই আমাকে স্বস্তি দিতো। তবে আমি নীলিমাকে আর্থিক ভাবে ভালোবাসতে পারিনি। আমি এক গরীব প্রেমিক । আমার ফ্যামিলিকেও টাকা পাঠাতে হতো। বাবা মা দুটো ছোট বোনের পড়ার খরচ। আমি পারছিলাম না। তবে  নীলিমা সাধারণ ঘরের মেয়ে হলেও অনেক উচ্চাকাঙ্খী ছিলো। ওর ও আপনার স্ত্রীর মত এটা চাই ওটা চাই। দামি ফোন চাই। ইত্যাদি। কিনে দিয়েছিলাম বটে দামি  এন্ড্রয়েড ফোন । যেটা আমার সংসারকেই পুরোপুরি ধবংস করে দিয়েছে।
-ক্যান কি হইসিলো?
- ওর  বড়লোক প্রেমিক জুটে গিয়েছিলো এই ফোন , ইন্টারনেট , ফেসবুকের দৌলতে। প্রথম প্রথম অতটা গুরুত্ব দেই নি।আমি তো সারাদিন কাজেই থাকি  বুঝতে পারিনি ব্যাপারটা। কিন্তু  মাঝরাতেও মেসেজ আসতো। জিজ্ঞাসা করলেই বলত কলেজের ফ্রেন্ডরা নাকি মেসেজ করে। আমিও ফোন চেক  করিনি। অন্ধ ভালোবাসা যাকে বলে। চোখে কালো ঠুলী এটে বসেছিলাম।  এরকম অন্ধত্বেরও তো একটা সীমা থাকে। সেই সীমা পেরিয়ে যেতেই আবিষ্কার করলাম নীলিমার সাথে শাহেদ নামে একজনের প্রেমের সম্পর্ক। অবৈধ সম্পর্ক। কিন্তু আমি চুপ ছিলাম। বুঝলাম কেউ কেউ হাত ধরে ধোকা দিয়ে চলে যাবার জন্য। তবে বুঝতে দেই নি যে আমি ওর ইনবক্স মানে মেসেজ চেক করে সবটা জেনে ফেলেছি। ওদের সময় দিচ্ছিলাম এই মেসেজ মেসেজ খেলার হাওয়া ওদের কতদূর নিয়ে যায়। হ্যাঁ, নিয়ে গিয়েছিলো অনেক দূর।  যতটা দূর আমার কল্পনাও কখনো পৌঁছাতে পারবে না। 
-কতদূর ভাইসাব?
- ওরা ঠিক করে আমি অফিস গেলে এই সুযোগে একদিন পালিয়ে যাবে। আমার ধরা-ছোঁয়া, স্পর্শ , কল্পনা, প্রেম,ভালোবাসা থেকেও বহুদূরে। ঠিক এতোটাই দূর। আমিও ঠিক করলাম ওদের পালে হাওয়া দিয়ে অনেকদূরে পাঠিয়ে দেবো। হ্যাঁ, নীলিমাকে খুন করবো। ওরা পালিয়ে যাবার আগের রাতে ওকে অনেক ভালোবেসে বিদায় দিয়েছি। রাতের আধারে আদিম ভালোবাসা। নীলিমাও শেষবারের মতো আমার সাথে এই শারীরিক ভালোবাসা বেশ উপভোগ করলো। ঠোঁটে ঠোঁট রেখে যখন শেষ আদর দিচ্ছিলাম তখনই ওর গলাটা চেপে ধরলাম। খুব নরম গলা ওর। আমার ঠোঁট ওর ঠোঁটে আর ওর গলা আমার শক্ত হাতের ভেতর। অনেক ভালোবাসা দিয়ে মারলাম। মরে গেলো। ভাই বিশ্বাস করবেন না তখন না আমার একটা গান মাথায় বাজছিলো। করুন সুরে বাজছিলো। একটা রবীন্দ্র সঙ্গীত-
‘তোমার খোলা হাওয়া 
লাগিয়ে পালে।।
টুকরো করে কাছি আমি
 আমি ডুবতে রাজি আছি।
 আমি ডুবতে রাজি আছি। ‘
আমি নীলিমাকে মেরেও সুখে থাকতে রাজি ছিলাম। না আমি সুখে নেই। মোটেও সুখে নেই। ওকে অন্তত একবার সুযোগ দেয়া উচিত ছিলো। কিন্তু আমি দেই নি। কারণ বিশ্বাস জিনিসটাই এমন। যে একবার বিশ্বাসে ফাটল ধরায় তাকে আর দ্বিতীয়বার বিশ্বাস করা যায় না। তাই  যতই অপরাধবোধ জাগুক  নিজেকে বাচাঁবার তাগিদে নীলিমা নিজের পুরোনো প্রেমিকার সাথে পালিয়ে গেছে এসব  ভুয়া যুক্তি দেখিয়ে পার পেয়ে গিয়েছি। ওর সেই প্রেমিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে এতদিনে পুলিশও মনে হয় এই কেসের হাল ছেড়ে দিয়েছে। তো শেষমেশ আপনার কথা শুনে চিন্তা করলাম –‘এক গরীব প্রেমিক’ হবার কারণে যে আমায় ছেড়ে যাচ্ছিলো তার থেকেও কিছু নাহয় আয় করি। তাই কঙ্কালটা বিক্রী করবো।
-বহুত দুক্ষের কাহিনী আপনের। তয় ভাই লাশটা কই?
-আমরা যেখানে ভাড়া থাকি সেখান থেকে কিছু দূরেই একটা  ডোবা গত বছর বালি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। তার এক জায়গায় বালির নিচে পোতা ।
এখন বলুন আমি কত টাকা পেতে পারি।
-কমলাপুর স্টিশনেই আমার কয়েকজন লোক থাকবো। হেগোর লগে আপনের পরিচয় করাইয়া দিমুনি। হেরা কাস্টমার খুইঁজা দিবো । হেরাই দাম কইয়া দিবো নি আপনেরে। এই আর পাঁচ সাত মিনিটের মইদ্দেই  টেরেন স্টিশনে ডুকবো। খাড়ান হেগরে কল দিয়া জানায়া দেই।
লোকটি কাকে যেনো ফোন করে স্টেশনে থাকতে বলল।
-চলেন সব কিছু গুছায়ে নেন। টেরেন অহনই থামবো। 
সৌরভও  ওভারহেড কম্পার্টমেন্ট থেকে  ব্যাগ নামা্তে নামাতেই জিজ্ঞাসা করলো, 
-ভাই আপনার নাম নাম্বারটাই তো নিলাম না।
-খাড়ান ট্রেন থাইম্মালোক কইতাসি। 
ট্রেন থামতেই কয়েকজন পুলিশ হুড়মুড় করে কামড়ায় ঢুকে পরলো। লোকটি সেদিকে ইংগিত করে বলল,
-ঐ তো আমাগো কাস্টমার আইয়া পড়সে। 
সৌরভের শীরদাড়া বেয়ে এক ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেলো। পুলিশ কিভাবে কাস্টমার হয়। কাপা কাপা গলায় লোকটিকে জিজ্ঞাসা করলো,
- ভাই আপনি কে?
লোকটি হাসতে হাসতেই উত্তর দিলো। তবে এবার আঞ্চলিক ভাষায় নয়। শুদ্ধ বাংলায়, 
- “ভ্রমণ করার সময় কোনো অপরিচিত ব্যাক্তির দেয়া খাবার খাবেন না ও পানীয় পান করবেন না।“ এটা তো সব স্টেশনেই বলা হয়ে থাকে। আপনি আমার দেয়া খাবার না খেলেও আমার দেয়া টোপ পুরোটাই গিলে বসে আছেন। খুন করে একটু চালাক চতুর হতে হয়। ও আমার পরিচয়টাইতো দেয়া হলো না।  দূর্ভাগ্যক্রমে আমি কোনো ডোম নই। সেটা হলে আপনার মত গরিব প্রেমিকের জন্য বেশ ভালোই হতো।
-তো...।তো আপনি কে?
সৌরভের কাঁপা কাঁপা কন্ঠের বিপরীতে খানিক হাসলো লোকটি,

-আমি ডিবি অফিসার অলক হাসান। আর  আপনার স্ত্রী নীলিমা সাদিককে খুন করার অপরাধে  আপনাকে আটক করা হলো। এত সহজ কেস পুলিশ হ্যান্ডেল করতে পারেনি বলে প্রথমে আমার হাসি পেয়েছিলো। না পরে বুঝলাম কেসটা জটিল।বেশ জটিল। বর্তমান যুগে এরকম খুনের জন্য অবৈধ প্রনয় কমন ফ্যাক্টর। তাই ছদ্মবেশে আপনার ভ্রমন সঙ্গী হলাম। তবে আপনার কাহিনী শুনে বেশ খারাপ লাগছে। কিছুই করার নেই আমার। আমিও বিবাহিত। ভার্সিটিতে থাকার সময় আমি আর আমার মিসেস পালিয়ে বিয়ে করি । বেকার ছিলাম তখন। এক বেকার প্রেমিকই বলা চলে। টিউশনি করে চলতাম। কিন্তু বিসিএস দেয়ার আগে  আমার সারাদিন পড়াশোনা করার জন্য আমার ওয়াইফ  জোর করে টিউশনি্গুলো ছাড়িয়ে দেয়। মজার ব্যাপার হলো আমার জন্য সে নিজে তখন টিউশনী করে সংসার চালিয়েছে।
  একটা কথা শুনুন কেউ কেউ হাত ধরে সারাজীবন ভালোবাসার জন্য, সারাজীবন রয়ে যাবার জন্য। আমাদের হাত আলাদা হয় না। আর আপনাদের হাত প্রথম থেকেই আলাদা ছিলো। তবে ভুল তো করেই ফেলেছেন । মাশুল গুনতে হবে।
 সৌরভের চোখ গড়িয়ে জল পড়ছে। এটা অনুতাপের জল নাকি সে জানেনা।  সেদিকে তাকিয়েই অলক হাসান মুখে খানিক সহানুভূতির হাসি ফুটিয়ে বলল,

-তো মি. সৌরভ মোহাইমিন এই লং জার্নিতে আপনার সঙ্গী হতে পেরে ভালো লাগলো। পরে আবার দেখা হচ্ছে। আপাদত এই কন্সটেবলরাই আপনার সাময়িক সঙ্গী।
অলক ট্রেনে থেকে সহাস্য মুখে নেমে পড়লো। বুক ভরা স্বস্তির শ্বাস। কারণ এনাদার কেস ইজ সলভড। তার চেয়েও বড় কারণ সে ভুল মানুষকে ভালোবাসেনি। তাকেই ভালোবেসেছে যে জনম জনম ভালোবাসবে। রয়ে যাবে আজন্মকাল। 
গল্পঃ কেউ কেউ রয়ে যায়।
-শ্রাবণ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/165950/</link>
				<pubDate>Sat, 22 Oct 2022 18:02:47 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23থ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#থ</a>্রিলার</p>
<p>-ভাই  আপনি  কি করেন?<br />
-আমি হইলাম গিয়া  মর্গের লাশের পাহারাদার। মানুষ যারে ডোম কয় আরকি।<br />
কথাটা বলেই সৌরভকে ডিঙিয়ে ট্রেনের জানালা দিয়ে পানের  পিক ফেলে এক গাল হাসলো লোকটি।<br />
শেষ অব্ধি কিনা এক ডোমের সাথে সারারাত ট্রেনে কাটাতে হবে। ভাবতেই সৌরভের গা শিউরে উঠলো। বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরছে। ট্রেনে উঠেই সিটে গা এলিয়ে দিয়েছিলো।   কখন যে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-165950"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/165950/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a28e24c04c3799332636e735f53b82e1</guid>
				<title>রাত ১টা ৪৭, 
নীলিমার ব্লাঊজের সবগুলো বোতাম খোলা । গভীর রাতের আমন্ত্রনের আভাস  চোখে মুখে । কিন্তু সৌরভের অনিচ্ছায় আজ আর আদিম খেলায় মেতে উঠলো না কেউ।  সৌরভের পাশে  কাত হয়ে শুয়ে পড়লো নীলিমা। আজ সারাদিনের উটকো  ঝামেলায় অফিস যাওয়া হলো না  সৌরভের, তবে  কপালে  চিন্তার ভাজ গাঢ় হয় নি। 
-‘মেয়েটা এভাবে আত্মহত্যা না করলেও পারতো। কোনো  স্ত্রী এরকম বৈবাহিক কোন্দল সহ্য না করতে পেরে  মরে যাবে, আর স্বামীগুলো  আবার নতুন মেয়ে ধরে আনবে ভাবতেই ঘৃণা হয়।‘ 
নীলিমার কথায় খানিকটা ভুরু কুচকালো সৌরভ। কিন্তু একটু ক্লান্তির ছাপ চোখের তলায়। আজ ভোর ছটায় সৌরভদের পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা মিসেস নিশাত তাহসিন আত্মহত্যা করেছেন। সারাদিন পুলিশি জেরায় অনেক ধকল গিয়েছে তার উপর।  এতক্ষণ উপড় হয়ে শুয়েছিলো সৌরভ। কাত হয়ে নীলিমার মুখোমুখী হয়ে শুলো। সৌরভের নিঃশ্বাস  নীলিমার নাকে এসে আচড়ে পড়ছে। ভুরু কুচকালেও মুখে একটু কৌতুকের হাসি এনে বললো,
- ‘তিনি এডাল্ট মানুষ। আত্মহত্যা করাটা ওনার পারসোনাল ম্যাটার। তবে আত্মহত্যা করাটাও একটা আর্ট , ক্রাইম অব প্যাশান। সবাই সেটা পারফেক্টলি করতে পারেনা। ডাক্তার হয়েও ঘুমের ঔষধের স্টক থাকতে ইলেকট্রিক শকের এমন চমৎকার ব্যবহার, তাও নিজের শরীরের ওপর! মারভেলাস। আমি থ্রিলার লেখক হলে বোধ হয় গল্পটা লুফে নিতাম। নাম দিতাম “আত্মঘাতী আর্ট”। হা, হা, হা.........’
-‘তোমার একটুও দয়া মায়া নেই ? একটা মেয়ে মরে গেলো, আর তুমি সেটা নিয়ে ঠাট্টা করছো। ছী!’
-‘ঠাট্টা করাই দরকার। ওনার ইহককালও গেলো, পরকালও গেলো। থাক সারাদিন এই বিষয়টা নিয়ে অনেক জবানবন্দী দিয়েছি। আর দেবার ইচ্ছে নেই। ‘
দুজনের কেউই কিছুক্ষন কোনো কথা বললো না। হয়তো থম্থমে পরিবেশ এড়ানোর জন্যই নীলিমা সৌরভের চুলে বিলি কেটে দিতে দিতে একটা উদ্ভট কিন্তু প্রখর প্রশ্ন ছুড়ে দিলো,
-‘আচ্ছা শুনো,আমাদের বিয়ের আগে তোমার জীবনে কেও এসেছিলো ? আই মিন কারো সাথে তোমার সম্পর্ক ছিলো?’
- থাকবেনা কেনো? আমার বাবা , মা , বোন সবার সাথেই সম্পর্ক ছিলো। এখনো তো বেশ আছে।
-তুমি আবার ঠাট্টা করছো। আমি বলতে চাইছি কোনো প্রেমিকা ছিলো?
সৌরভ খানিক উদ্ভ্রান্তের মত হাসলো।
-ইদানিং আমার ওপর তোমার বোধ হয় সন্দেহ জন্মেছে। সন্দেহ জাগাটা ভালো ব্যাপার। আমি জীবনে একজনকেই মন সপে দিয়েছি । তবে আমার মনটা ফরমালিনে ডোবানো।  এতে পচঁন ধরে না। আর ফরমালিন মেশানো খাবারের স্বাদ যেমন বিচ্ছিরি আমার রোমান্টিসিজমও ঠিক ততোটাই নিম্নমাত্রার। তোমার প্রতি ভালোবাসাটাও প্রাণ খুলে প্রকাশ করতে পারিনা। তাই আমাকে তুমি বরাবরই সন্দেহ করো।
-না না, আমি তেমন কিছু বলতে চাই নি। খানিক কৌতুহলের বসে প্রশ্নটা করে ফেললাম।
-তবে নীলিমা, সত্যি কথা বলতে বিয়ের আগে কোনো সম্পর্কে না  জড়ালেও বিয়ের পর আমাকে একজন সম্পর্কে জড়াতে চেয়েছিলো। 
নীলিমা সৌরভের চুলে বিলিকাটা থামিয়ে দিলো । তার চোখ বিস্ফোরিত। বহ্নিশিখার মতো দপ করে জ্বলে উঠলেও গলার স্বর ঠান্ডা রেখেই বলল,
-তুমি আবার ঠাট্টা করছো, তাই না?
-মোটেও না। কিছু কিছু সময় আমি খুব সিরিয়াস হয়ে যাই, এখন আমি পুরোপুরী সিরিয়াস। আমি তোমার সামনে বাদে বাহিরে বরাবরই সিরিয়াস। আমার এই মুডি স্বভাবটা দেখেই তুমি আমায় পছন্দ করেছিলে। কিন্তু বিয়ের পর তোমার কাছে আমি অনেক খোলামেলা হয়ে গেছি। আমার এই সিরিয়াস এবং অনাড়ম্বর স্বভাবের জন্যই অনেক মেয়ের চোখ পড়েছে আমার উপর। ঐ যে বললাম আমার হৃদয় ফরমালিনে ডোবানো পচঁন ধরেনি। তাই তুমি বাদে কোনো মেয়ের দিকে তাকানোই হলো না। 
কিন্তু এক কার্ডিওলজিস্ট তরুনী আমার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলো। সূক্ষ প্রেম। তুমি কখনো খেয়াল কর নি, সে আমার জন্য প্রায় প্রতদিন পার্কিং লটে অপেক্ষা করতো। শুধু আমার সাথে কিছু সময় কাটাবে বলে। আমার কাছে এসে আমাকেই ভিক্ষে চাইতো।  তোমাকে ব্যাপারটা বলবো ভেবেছিলাম কিন্তু তার আগে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, এই উচ্ছন্নে যাবার প্রেমের একটা দফারফা করে নেই তারপর তোমাকে জানাবো। কিন্তু মাঝখানে অনেক দিন তার দেখা পেলাম না। আমিও যেনো হাফ ছেড়ে বাচঁলাম, যাক এতোদিনে বোধহয় ডাক্তারনীর ঘাড় থেকে এই অবান্তর প্রেমের ভূত নেমেছে। 
না ভূত নামেনি। ভূতটা আরোও ভালোভাবে জেকে বসেছিলো। তার সাথে শেষ দেখা হবার কিছু দিন পরেই আমার মেইল একাউন্টে একটা মেইল আসে। প্রথমে ভেবেছিলাম জাঙ্ক মেইল। কিন্তু মেইল বক্স খুলতেই দেখলাম দীর্ঘ ঝকঝকে বাংলা টাইপ করা লেখা। বুঝতে অসবিধা রইলো না কে মেইল পাঠিয়েছে। কিন্তু আমার মেইল আইডি কোত্থেকে যোগাড় করলো সেটাও একটা রহস্য। ইচ্ছে হলে তুমিও মেইলটা পড়ে দেখতে পারো। 
কথাটা বলেই  মেইলটা খুলে নিজের ফোন নীলিমার হাতে তুলে দিলো সৌরভ। এতোক্ষণ যেনো নীলিমা স্বপ্নের রাজ্যে  হাবুডুবো খচ্ছিলো, এতকিছু হয়ে গেলো সে কিচ্ছুটি টের পায়নি?  তাদের সম্পর্ক এতোটাই ঠুনকো! কিন্তু তার আবেগ তাড়িত মন সচকিত হতেই সে এক ঝটকায় ফোনটা কেড়ে মেইলটি পড়া শুরু করলো।
“সৌরভ,
একসময় মনে হতো রাস্তায় হাটঁতে হাটঁতে হঠাৎ যেনো রাস্তাটা ফুড়িয়ে  গেছে। এই রাস্তার শেষ প্রান্তে  দাড়িয়ে আমি। একজন বন্ধুর খুব দরকার ছিলো, তাই  বিয়ে করেছিলাম। তবে বিয়েটা করেছিলাম সমাজের চোখে শারীরিক মিলনের একটা লিগ্যাল সার্টিফিকেট ইস্যু করবার জন্য। আমি ভাবতাম শরীর পুরোনো হয়ে গেলেও ভালোবাসা একই থাকে।  আমার স্বামীর কাছে আমার শরীর যত পুরোনো হচ্ছিলো, ওর চোখের  ভালোবাসা তত কমছিলো। খুব সূক্ষ  ধাক্কা খাচ্ছিলাম জীবনে, প্রতিক্ষণে।
কিন্তু ভাগ্যক্রমে দেখা হলো আপনার সাথে, মনে একটা চাঞ্চল্য বয়ে গেলো। এমন সপ্রতিভ ,ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন পুরুষ জীবনে দেখেছি কিনা মনে করতে পারিনা। কিন্তু কি করবো আপনিও বিবাহিত , আর আমিও ভুল করে বিবাহিত। শুধু শরীরকেই চেনার তাগিদে বিয়ে করেছিলাম , মন চিনে উঠতে পারিনি। 
আমি মন চিনে উঠতে পেরেছিলাম আপনাদের দেখে। হ্যাঁ, আপনাকে আর নীলিমাকে দেখে। কতবার আকৃষ্ট করতে চাইলাম আপনাকে , কিন্তু প্রতিবারই আমি ব্যর্থ আর আহত হয়ে ফিরে এসেছি। আপনাদের সম্পর্কটা আসলেই সুন্দর।
সৌন্দর্য্য ব্যাপারটা অনেক্টা ভবঘুরের মত।
 উদ্ভ্রাতের মত খুজঁলে,
 খঁজে তাকে পাওয়া দায়।
 তবে সুন্দরকে বারবার দেখতে হয় না, 
তাহলে সেটা পুরোনো হয়ে যায়।
চারটে লাইনের ছন্দ জুড়ে দিলাম। তবে,আমি আর আপনাকে দেখবো  না। বারবার দেখলে আপনি পুরনো হয়ে যাবেন আমার মনে। ডাক্তারী জীবনে ডাকসাইটে সুন্দরী হিসেবে আমার  অনেক জনপ্রিয়তা ছিলো, এমনকি এখনও আছে। আসলে পুরূষ জাতি চোখ দিয়ে আমায় গিলে খায়। কিন্তু আপনি ব্যাতিক্রম। আপনি নীলিমার কাছেই আটকে আছেন। এভাবেই থাকুন। আর যাই হোক নীলিমাকে আপনি কখনো ঠকাতে পারবেন না, এটাই আপ্নার চূড়ান্ত ব্যাক্তিত্ব। জীবনে এখনো অনেক নাটকীয়তা বাকি তবে আর নাটকীয়তা দেখবার ইচ্ছে নেই। পারলে আমায় ক্ষমা করে দেবেন। ‘শেষের কবিতা’র শেষ কটা লাইন বারবার মনে পড়ে যাচ্ছে। লিখে দিলাম,
যে আমারে দেখিবারে পায় অসীম ক্ষমায়
ভালো মন্দ মিলায়ে সকলি 
এবার পু্জোঁয় তারে আপনারে দিতে চাই বলি
ইতি,  
নিশাত তাহসিন।“
মেইলটি পড়ে নীলিমা সৌরভের দিকে  বিদ্ধস্ত চোখে তাকালো যেনো তার উপর দিয়ে একটা টর্নেডো বয়ে গেছে। ভাঙা ভাঙা কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
“এ কোন নিশাত তাহসিন? আর আমাকে চেনেইবা কি করে?”
সৌরভ উদ্ভ্রান্তের মত হাসল । সিলিং এর  দিকে তাকিয়ে বলল,
“ তিনি ,যিনি আমাদের পাশের ফ্ল্যাটে  আজ আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যাটা বোধ হয় আমার জন্যই করেছেন। কিন্তু চিন্তা করিস না আমি কখনো তোকে ছেড়ে যাবো না।
নীলিমার মনে পড়ে গেলো সৌরভ কলেজ লাইফে নীলিমাকে তুই তুই করে সম্বোধোন করতো। এখনো মাঝে মাঝেই করে । 
 ওরা একে অপরের মন চিনতে পেরেছিলো, শরীর নয়। এ ভালোবাসা ফরমালিনে ডোবানো , পঁচে যাবে না।



গল্পঃ ফরমালিন ভালোবাসা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/165868/</link>
				<pubDate>Sat, 22 Oct 2022 16:43:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রাত ১টা ৪৭,<br />
নীলিমার ব্লাঊজের সবগুলো বোতাম খোলা । গভীর রাতের আমন্ত্রনের আভাস  চোখে মুখে । কিন্তু সৌরভের অনিচ্ছায় আজ আর আদিম খেলায় মেতে উঠলো না কেউ।  সৌরভের পাশে  কাত হয়ে শুয়ে পড়লো নীলিমা। আজ সারাদিনের উটকো  ঝামেলায় অফিস যাওয়া হলো না  সৌরভের, তবে  কপালে  চিন্তার ভাজ গাঢ় হয় নি।<br />
-‘মেয়েটা এভাবে আত্মহত্যা না করলেও পারতো। কোনো  স্ত্রী এরকম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-165868"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/165868/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8e6cfa1fc64a8f91df37ccba842ea599</guid>
				<title>Shrabon and Sheikh Ayesha are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/165864/</link>
				<pubDate>Sat, 22 Oct 2022 16:37:04 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>