-
[শ্রাবণ সন্ধ্যার কাব্য]
[পর্ব – ৮]
ঈশান ভিতর থেকে বললো কি “চাই”? মাহি বললো কিছু কথা ছিলো। ঈশান দরজা টা খুললো খোলার সাথে সাথেই মোস্তফা এসে হাজির হলো। মাহি ঈশানকে দেখে অবাক হলো এখনো রেডি হয়নি বলে। মোস্তফা আসার কারণে বিরক্ত ও হলো।
মোস্তফা রেগে বললো রেডি হচ্ছো না কেনো। ঈশান কিছু বললো না। ঈশান তুমি কি চাও এতো গুলো মানুষের সামনে আমার মানসম্মান যাক। সেটা তো তোমার আগে ভাবার কথা ছিলো “বাবা”। এখন কি আমার তোমার কাছে শিখতে হবে আমি কখন কি ভাববো না ভাববো।
মাহি কিছুই বুঝলো না। তার মানে কি ঈশান এই বিয়েতে রাজি না। ঈশানকে কি জোর করে বিয়ে করানো হচ্ছে। মাহির মনে একটা আশার আলো জাগলো মনে হয়। মোস্তফার জন্য ঈশানকে কিছু বলতেও পারছে না। ঘরের মধ্যে মোস্তফার চেঁচামেচি শুনে ছুটে এলো মালিহা আর নিহাল। মালিহাকে দেখে মোস্তফা বললো তোমার ছেলেকে ৫ মিনিটের মধ্যে রেডি হতে বলো। না হলে খুব খারাপ হবে বলে দিলাম। এই বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো মোস্তফা।
মালিহা রেগে বললো আমার যতো জ্বালা। ঈশান আর কতো অশান্তি করবি তুই। তুই কি চাস তোর জন্য আমার সংসারে অশান্তি হোক। কথাটা বলতে গিয়ে চোখে পানি এলো মালিহার। চোখ মুছতে মুছতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো মালিহা। ঈশান আর কিছু না বলেই ওয়াশ রুমে চলে গেল।
নিহাল আর মাহি চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো। মাহি বললো ঈশান কি এই বিয়েতে রাজি না। নিহাল বললো না। আঙ্কেলের পছন্দে বিয়ে করানো হচ্ছে ঈশান কে। ঈশান ওয়াশ রুম থেকে বেরিয়ে এসে বললো মাহি বাহিরে যা রেডি হবো আমি। নিহাল মাহি দুজনেই অবাক হলো। মাহি বললো কিন্তু ঈশান….! আর কিছুই বলতে দিলো না মাহিকে তোকে বলেছি বাহিরে যেতে যা..।
মাহিকে এখানে “থ” মেরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নিহাল এসে মাহির হাত ধরে বাহিরে দিয়ে আসলো। কারণ জানেই এমনেই রেগে আছে আরো মাহি যদি কথা না শুনে তাহলে থাপ্পর দিয়ে সব কয়টা দাঁত ফেলবে ঈশান।
ঘরের দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে এসে বিছানায় বসলো নিহাল। ঈশান কোনো মতো রেডি হচ্ছে। নিহাল বললো তুই কি মেয়ে নাকি। সারাজীবন দেখলাম মেয়েদের জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়। আর এখন দেখি ছেলেদেরও জোর করে বিয়ে করোনো হচ্ছে। কি দিন কাল আইলোরে বাবা। কথাটা বলে খেক খেক করে হাসতে লাগলো নিহাল। ঈশান কোনো সিনক্সিয়েট করলো না দেখে অবাক হলো নিহাল। কিছু না বলেই শেরওয়ানি পরে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো ঈশান। একটু আগেই তো বিয়ের জন্য রাজি হচ্ছিল না এখন আবার সবার আগেই চলে যাচ্ছে।
কোনো মতো বিয়ে পড়ানো হলো ঈশান আর রাহার। বিয়ে পরাতে দেরি হলো ঈশানের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে দেরি হলো না। বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে গাড়ি সিটে হেলান দিয়ে বসে আছে ঈশান। মাহি এখনো দেখলো না নতুন বউকে। কি করে দেখবে সে এই মেয়ে কে যে তার ভালোবাসার মানুষটিকে কেড়ে নিলো। মেয়েটার উপর ভিষন রাগ হচ্ছে মাহির।
রাহা কে বিদায় দেবে এবার খাদিজা। যখন বিদায় দিতে যাবে তখন ঈশান কে পাশে না দেখে খাদিজা বললো জামাই বাবা কোথায়। মোস্তফা কি বলবে ভেবে না পেয়ে বললো আসলে ঈশানের শরীর টা খারাপ লাগছিলো তাই গাড়িতে গিয়ে বসেছে। কিন্তু খাদিজা বিশ্বাস করলো আবার করলো ও না। কারণ বিয়ে পরানো সময় ঈশান কে অনেক রেগে থাকতে দেখেছিলো। আবার বিয়ে পরানোর পরেই অদ্ভুত ভাবে হনহনিয়ে বেরিয়ে গেলো। আমি কোনো ভুল করলাম না তো আমার মেয়েকে এই খানে বিয়ে দিয়ে।
পাশ থেকে রাহা এসে জরিয়ে ধরলো মাকে। মা মা বলে কান্না করতে শুরু করলো। খাদিজা বেগম ও মেয়ের কান্না দেখে কান্না করতে শুরু করলেন। কান্না করতে করতে মোস্তফাকে খাদিজা বললো আমার এতিম মেয়েটাকে দেখে রাখবেন মোস্তফা সাহেব। মোস্তফা বললো চিন্তা করবেন না খাদিজা। রাহা আমার ছেলের বউ না আমার মেয়ের মতো থাকবে সবসময়। রাহা মা চলো অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে এই বলে রাহাকে নিয়ে চলে এলো মোস্তফা। দরজা সামনে দাঁড়িয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে খাদিজা।
রাহার সাথে মায়া যাবে বলে ঠিক করলো। খাদিজা বাড়িতে একা হয়ে পড়বেন বলে নিলয় যাবে না বোনের সাথে।
মাহি ঠিক করে রাহার লাল ঘোমটার কারণে দেখতে পেলো না তার মুখটা। বাড়িতে নিয়ে আসা হলো নতুন বউকে। মালিহা ঘরে তুললেন নতুন বউকে। বাড়িতে এসে এক সেকেন্ড ও ধারালো না ঈশান নিজের ঘরে চলে গেলো। নতুন বউকে দেখে বেশ অবাক হলো সবাই। এ কি দেখে পছন্দ করে নিয়ে আসলেন মোস্তফা সিকদার তার এতো সুন্দর ছেলের জন্য এমন একটা মেয়ে। সবাই ভেতরে ভেতরে ভাবলেও সামনে কেউ কিছু বললো না। কিন্তু মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে বউ পছন্দ হয়নি।
মাহির তো চোখ কপালে উঠে গেলো রাহাকে দেখে। এই জন্যই তো এই বিয়েতে রাজি হচ্ছিল না ঈশান। এমন মেয়েকে ঈশান জীবনে মেনে নিবে বলে তো মনে হয় না। তবে মনে মনে খুশি হলো মাহি। এই মেয়ে বেশি দিন থাকতে পারবে না এই বাড়িতে। ঈশান কে নিজের করে পাওয়ার আরেকটা সুযোগ পাবে মাহি।
রাহা কে ঘরে নিয়ে গেলো রিয়া। ঘরে নিয়ে গিয়ে বললো রাহা তুমি ফ্রেশ হয়ে নেও তোমার জন্য খাবার নিয়ে আসছি আমি। রাহা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলো। ঠিক আছে ভাবি।
মায়া সেই ঘুরে ঘুরে দেখছে বাড়িটাকে। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ ধাক্কা খেলো নিহালের সাথে। নিহাল কিছুটা বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে দেখলো মায়াকে। দেখে খুশি হয়ে গেলো আরে বিয়াইন যে। রাহা দের বাড়িতে যাওয়ার পর থেকে বিয়াইন বিয়াইন বলে মাথা খাচ্ছে মায়ার। এখন আবার শুরু করে দিয়েছে।
মায়া যেই পাশ কাটিয়ে চলে যাবে তখনি হাত বাড়িয়ে আটকে দিয়ে বললো আরে এতো তাড়া কিসের। একা একা হাঁটছো কেন চলো আমি ঘুরে ঘুরে দেখাই তোমাকে সব। দরকার নেই সব ঘুরে দেখা শেষ আমার। এবার আপনি সামনে থেকে সরুন। ও আচ্ছা সব ঘুরে দেখা শেষ তাহলে তো ভালোই। চলো না একটু ছাদে যাই। মানে আমি আপনার সঙ্গে ছাদে যাবো কেন। কারণ তুমি আমার বিয়াইন আর আমি তোমার বিয়াই। কথাটা বলে চোখ টিপ মারলো মায়াকে।
মায়া ভ্রু কুঁচকে বললো সরুন তো আপনি। বলেই চলে গেলো। নিহাল মায়ার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে বললো “ইশ্” কি কিউট মেয়ে।
রাহা বিয়ের শাড়ি আর গহনা সব খুলে অন্য একটা শাড়ি পরলো। অনেক বিরক্ত লাগছে শাড়ি পরে থাকতে। এই মুহূর্তে খাবার নিয়ে আসলো রিয়া। রিয়া খাবার নিয়ে এসে বললো আসো তোমাকে আমি খাইয়ে দেই। রাহা খুশি হলো রিয়াকে তার খুব পছন্দ হলো। তুমি খেয়েছো ভাবি। না আমি খাইনি তোমাকে খাইয়ে তারপর আমি খাবো। আচ্ছা ঠিক আছে। রাহা তোমার বান্ধবী কোথায় ও তো এখনো কিছু খায়নি। মায়া মনে মনে বক বক করতে করতে ঘরে ঢুকলো। মায়া কে বকবক করতে দেখে রিয়া বললো কি হয়েছে মায়া। না কিছু হয়নি।
রাহার পাশে এসে বসলো মায়া। রাহা বললো কোথায় ছিলি এতক্ষণ। মায়া বললো তোর শশুর বাড়ি ঘুরে দেখলাম।
রাতের বেলা সবাই সবার মতো ঘুমাতে চলে গেলো। মায়া আর রাহা এক ঘরে শুয়েছে। মাহিকে মোস্তফা বাসায় পৌছে দিয়ে এসেছে। নিহাল ঈশানের সাথে শুয়েছে। সবাই ঘুমিয়ে গেলেও ঈশান আর রাহার চোখে ঘুম নেই।
* চলবে…?
5 Comments
Friends
নাঈম অরণ্য
@aronnonaim
Alamgir Job
@alamgirjob
নুরুল ইসলাম শান্ত
@santo23
Sanzida Shetu
@sanzidashetu
Md. Jahangir Alam
@md-jahangiralam
Nusrat jahan Sadia
@nusratjahansadia
শারমিন আক্তার
@sarmin
মোঃ রিয়াদ হাছান
@riadhasan751
আব্দুর রাজ্জাক শেখ
@arazzak



জোর করে বাঁধা এই বিবাহের আড়ালে ঈশানের নীরব বিদ্রোহ আর মাহির অপূর্ণ ভালোবাসা মিলেমিশে এক অশান্ত রাতের সূচনা করেছে…..🤍🖤