Profile Photo

Nusrat jahanOffline

  • Shuha
  • Profile picture of Nusrat jahan

    Nusrat jahan

    • 1 week, 3 days ago

    [শ্রাবণ সন্ধ্যার কাব্য]

    [পর্ব – ১০]

    রাহা ঈশানের যাওয়ার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মায়া রাহাকে পায়ে আরেকটা খোঁচা দিয়ে ফিসফিস করে বললো তোরই তো জামাই এতো দেখার কি আছে। রাহা বললো, “চুপ করে খা”।

    কিছুক্ষণ পরেই নিহাল নিচে নামলো নিচে নেমে কোনো দিকে না তাকিয়ে চলে যেতে লাগলো। মালিহা ডেকে বললো তুমিও কি না খেয়ে চলে যাবে নাকি নিহাল। মালিহার কথায় পিছে ফিরে যখন বলতে যাবে না “খাবো না” তখনি দেখতে পেলো মায়া কে নিরবে বসে খাচ্ছে। তখনি ছুটে এসে বললো হ্যাঁ আন্টি খিদে পেয়েছে খেতে দিন। নিহাল এসে মায়ার সামনা সামনি চেয়ারটাতে বসলো। মায়া যেনো দেখেও না দেখার মতো ভাব করলো।

    মায়ার খাওয়া শেষ। হাত ধুতে ধুতে বললো “রাহা” আমাকে এখন চলে যেতে হবে। মা ফোন করছে। ফোনটা কানে তুলে বললো “হ্যাঁ” মা আমি এখনি চলে আসছি। মালিহা বললো একা একা যাবা নাকি। মায়া বললো হ্যাঁ আন্টি একাই যেতে পারবো। মালিহা বললো না একা যেতে হবে না। নিহাল তোমার কি এখন কোনো কাজ আছে কাজ না থাকলে মায়াকে বাড়িতে দিয়ে আসো।

    নিহাল তো আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলো মনে হয়। মায়া চেঁচিয়ে বললো আরে না না আন্টি আমি একাই যেতো পারবো তো”। ওনাকে কষ্ট করতে হবে না।

    নিহাল বললো আরে কিসের কষ্ট যাও রেডি হয়ে নেও আমি দিয়ে আসি তোমাকে। মায়া বললো তার কোনো দরকার নেই আমি যেতে পারবো। মালিহা বললো মায়া আমি তোমাকে যা বলেছি তাই করো নিহাল তোমাকে দিয়ে আসবে। মায়া আর মালিহার কথার উপরে কথা বলতে পারলো না। মনে মনে বকবক করতে করতে সোজা ঘরে চলে গেলো রেডি হওয়ার জন্য।

    রাহাও পিছন পিছন চলে গেলো ঘরে। মায়া আয়নার সামনে রেডি হচ্ছে আর বলছে এই বাঁদরের সাথে যেতে হবে এখন আমায়। তোর শাশুড়ি আসলেই একটা বজ্জাত মহিলা।

    রাহা মুখ টিপে টিপে হাসছে। রাহা বললো নিহালের সাথে তোকে কিন্তু ভালো মানায় রে মায়া। মায়া কিছু টা লজ্জা পেলো । বললো চুপ থাক চলে গেলাম আমি ভালো থাকিস। বলেই হনহনিয়ে বেরিয়ে যেতে লাগলো।

    মায়াকে চলে যেতে দেখে রাহার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। মায়া দরজার কাছে যেয়ে আবার পিছে ঘুরে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলো রাহাকে। এভাবে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরাতে পড়ে যেতে যেতেও পরলো না রাহা। তারপর রাহা ও জড়িয়ে ধরলো মায়াকে। দুজন দুজনের গালে চুমু খেলো। তারপর নিচে এসে সবার কাছে বিদায় নিয়ে চলে গেলো।

    বাহিরে যেয়ে দেখলো নিহাল গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে গাড়ির চাবি হাতে নিয়ে আঙ্গুলের মাথায় চাবিটা ঝুলিয়ে ঘুরাচ্ছে। মায়া আসতেই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মায়ার দিকে। এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে মায়া কিছুটা লজ্জা পেলো। মায়া বললো কি হলো যাবেন না। নিহাল চোখ সরিয়ে বললো হ্যাঁ হ্যাঁ ম্যাডাম চলুন গাড়িতে উঠে বসুন বলে গাড়ির দরজা টা খুলে দিলো নিহাল। মায়া যেয়ে বসে পড়লো গাড়িতে। নিহালো ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট দিলো।

    রাহা ঘরে চুপ করে বসে আছে মায়া চলে যাওয়াতে খুব খারাপ লাগছে। মার কথাও মনে পড়ছে। মার সাথে একটু কথা বলতে পাড়লে ভালো লাগতো কিন্তু রাহার কাছে তো ফোন নেই, কি ভাবে ফোন দিবে মা কে। ঘর থেকে বেরিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলো রিয়া সোফায় বসে ফোনে কার সাথে যেনো কথা বলছে। তখনি নিচে ছুটে এলো রাহা। রাহা কে দেখে রিয়া ফোন রেখে বললো কিছু লাগবে তোমার রাহা। রাহা মন খারাপ করে বললো মার কথা ভীষণ মনে পরছে ভাবি। ফোনটা একটু দিবেন মার সাথে কথা বলবো।

    রিয়া বললো হ্যাঁ অবশ্যই এই নেও ফোন করে কথা বলো তোমার আম্মুর সাথে। রাহা খুশি হয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে বললো ধন্যবাদ ভাবি। রিয়া মুচকি হেসে বললো যাও ঘরে যেয়ে কথা বলো পরে আমি তোমার কাছ থেকে ফোন নিয়ে আসবো। রাহা খুশি হয়ে বললো আচ্ছা ভাবি বলে চলে গেলো নিজের ঘরে।

    খাদিজা কে ফোন দিলো রান্না ঘরে রান্না করছিলেন খাদিজা। ফোন আসার শব্দ শুনে নিলয়কে বললো নিলয় দেখতো কে ফোন করেছে। নিলয় ফোন তুললো নাম্বার টা চিনতে পারলো না । নিলয় ফোন তুলতেই ওপাশ থেকে রাহা বললো হ্যালো মা। নিলয় বললো রাহা ‘আপু’!

    রাহা বললো হ্যাঁ। নিলয় খুশিতে বললো কেমন আছিস রে আপু। রাহা বললো ভালো আছি। তুই কেমন আছিস ভাই? আমিও ভালো আছি। খাদিজার কাছে ফোন নিয়ে গিয়ে বললো আম্মা আপু ফোন দিয়েছে।

    খাদিজার চোখ দুটো ভিজে এলো মেয়ের কথা শুনে শাড়ির আঁচলে হাত মুছে ফোন কানে নিয়ে বললো হ্যালো রাহা কেমন আছিস মা? ভালো আছি মা। তুমি কেমন আছো? আমিও ভালো আছি। কি করছিস? বসে আছি। তোমার কথা মনে পড়ছে মা।

    খাদিজা বললো কালকেই তো গেলি আবার তো আসবিই মন খারাপ করার কিছু নেই। সবাইকে তো একদিন না একদিন বাপের বাড়ি ছাড়তে হয়।

    সারা রাস্তা বকবক করে মাথা খেলো নিহাল মায়ার। মায়া বললো দাঁড়ান দাঁড়ান, নিহাল বললো কেন এখানে দাঁড়াবো কেন। মায়া বললো সামনেই আমার বাসা এখানেই নামিয়ে দিন আমাকে। কেউ দেখলে পরে সমস্যা হবে। নিহাল বললো ও তাহলে নামো। মায়া গাড়ি থেকে নেমে কিছু না বলেই চলে যেতে লাগলো। তখনি নিহাল পেছন থেকে ডাকলো “মায়া”..!

    মায়ার পা থেমে গেলো। নিজের নাম নিহালের মুখে শুনে বুকের ভিতর ধুকধুক করতে লাগলো মায়ার। এই মধুর সুরে মায়া বলে ডাকটা পছন্দ হলো মায়ার। পেছন ফিরে মায়া বললো কিছু বলবেন। নিহাল বললো কিছু মনে না করলে তোমার ফোন নাম্বারটা দেওয়া যাবে মায়া।

    এই মায়া নামটা যেনো নিহালের মুখে শুনতে অনেক ভালো লাগছে মায়ার। কিন্তু কেনো ভালো লাগছে তা বুঝতে পারছে না মায়া। প্রথম থেকে যখন দেখা হয়েছিলো তখন শুধু বেয়াইন বেয়াইন বলে ডাকতো।

    মায়া বললো আপনার ফোনটা দিন। নিহাল ফোনটা দিলো মায়ার হাতে। মায়া ফোনটা হাতে নিয়ে নিজের নাম্বার তুলে সেভ করে নিহালের হাতে ফোনটা দিয়ে আর এক সেকেন্ডও না দাঁড়িয়ে চলে গেলো এই খান থেকে।

    নিহাল এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলো মায়ার চলে যাওয়াকে। ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখলো মায়া নামে সেভ করে দিয়ে গিয়েছে নিজের নাম্বারটা কে। নিহাল মুচকি হেসে চলে গেলো এখান থেকে।

    রাতে অফিস শেষে সবাই বাসায় ফিরলো। সবাই খেতে বসেছে। রাহার খিদে লাগার কারণে একটু আগেই খেয়ে গিয়ে ঘরে বসে আছে। মোস্তফা বললো আজকে থেকে রাহা তোমার ঘরে থাকবে ঈশান। ঈশান রেগে গিয়ে বললো ওই মেয়ে কে কি আমি পছন্দ করে বিয়ে করে এনেছি নাকি যে আমার ঘরে থাকবে। তোমরা জোর করে বিয়ে করিয়েছো। আমিও তোমাদের মানসম্মানের কথা ভেবে বিয়ে করেছি। এখন এক ঘরে থাকার কথা বলো না আমায় “প্লিজ বাবা”।ওকে আমার ঘাড়ে তুলে দিয়ো না। আমি ওর কোনো দায়িত্ব নিতে পারবো না।

    রিয়া বললো ঈশান এসব কি বলছো। তোমাদের যে ভাবেই বিয়ে হোক না কেনো, রাহা তোমার বউ হয়। আর তা ছাড়া আজকে তোমাদের বিয়ের প্রথম রাত হবে। ঈশান বললো মানি না আমি এই বিয়ে আমার কোনো বউ নেই।

    মোস্তফা বললো রিয়া তুমি ঈশানের কথায় কান দিয়ো না। যাও তুমি গিয়ে ঈশানের ঘরে রাহার থাকার ব্যবস্থা করো। রিয়া বললো ঠিক আছে বাবা আমি রাহাকে আর ঈশানের ঘর সুন্দর করে সাজিয়ে দিবো। বলেই উপরে চলে গেলো রিয়া।

    মালিহা রিয়ার এমন বেশি ভাড়াবাড়িতে বিরক্ত হলো। কিন্তু মোস্তফার ভয়ে আর কিছু বললো না।

    ঈশান রাগে খাওয়া রেখে উঠে পড়লো। উঠেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে লাগলো মোস্তফা হুংকার দিয়ে বললো যে খানেই যাও না কেনো ঈশান, কিছু ক্ষণের ভিতরে বাড়িতে ফিরবে। রাহা তোমার জন্য অপেক্ষা করবে। ঈশান কোনো কথারি জবাব দিলো না। বেরিয়ে গেলো বাড়ি থেকে।

    * চলবে…?

    1
    3 Comments
    • মায়া ও নিহালের লাজুক টানে নতুন প্রেম জাগে, আর রাহার জীবনে ঈশানের অস্বীকৃতি ডেকে আনে অশ্রুভেজা রাত…..🤍

    • গল্পটা বেশ জমজমাট হয়ে উঠছে, বিশেষ করে “নিহালের মুখে মায়া ডাকটা শুনে বুকের ভিতর ধুকধুক করতে লাগলো মায়ার”- এই অংশটা পড়ে বেশ মায়া লাগলো।

    • নুসরাত জাহান, আপনার লেখায় উঠে আসা ‘নিহাল যে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলো মায়ার চলে যাওয়াকে’—এই দৃশ্যটি অত্যন্ত জীবন্ত ও বেশ চমৎকার ছিল। গল্পের প্রতিটি বাঁক খুব সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তাই আমাদের গ্রুপের অন্যদের লেখাগুলোতেও সুন্দর সব মন্তব্য ও ভালোবাসার ইমোজি দিয়ে তাদের উৎসাহিত করতে আপনি ভুলবেন না।

Skip to toolbar