Profile Photo

Tapan DebbarmaOffline

  • tanu48
  • Profile picture of Tapan Debbarma

    Tapan Debbarma

    2 years, 2 months ago

    বৈপ্লবিক নবযুগে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে ব্যাতিক্রম কেন?

    শিক্ষা যেমন সংস্কৃতির উপর নিবিড়ভাবে নির্ভরশীল তেমনি সংস্কৃতির ভুমিকাটাও খুব বেশী কম না শিক্ষার ভিত্তি মজবুদ ও প্রসার করনের ক্ষেত্রে। শিক্ষা মুলতঃ হাতেখড়ি ঘটে পরিবার থেকে আর মনস্তাত্ত্বিক পরিপক্বতার ধারাবাহিকতায় শিক্ষার গঠনমূলক চারিত্রিক ও জ্ঞান মূলক বৈশিষ্ট যোগ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
    অন্যদিকে সাংস্কৃতিক পরিকাঠামোর সাথে একটি মানব সত্তা পরিচিত হয় পারিবারিক তথা মা-বাবার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের ভেতর থেকে।
    যুগের সাথে পরিবর্তন আবশ্যক শিক্ষা ও সংস্কৃতি।
    আর সেটা নবযুগে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে কতটুকু খাপ খাইয়ে উর্ধ্বগামী হচ্ছে?

    বর্তমানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব চলছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বা ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভল্যুশনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বিশ্বের সব উন্নত দেশ। আসন্ন এই বিপ্লবের মাধ্যমে সবাই নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থান আরো দৃঢ় করে তোলার পরিকল্পনা করছে। এই বিপ্লব মূলত প্রযুক্তির বিপ্লব, যা পৃথিবীর মানুষের জীবনকে নিয়ে যেতে চায় এক ধাপেই শতবর্ষ এগিয়ে।

    তথ্যপ্রযুক্তির ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলশ্রুতিতে সামাজিক / সাংস্কৃতিক ও শিক্ষার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। পৃথিবী নাকি আজ হাতের মুঠোয়!! প্রযুক্তিগত নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আজ বিশ্ব মানচিত্রের সর্বত্র লক্ষ্য করা যায়।

    বৈপ্লবিক নবযুগে শিক্ষা ও সাংস্কৃতি সাম্রাজ্যবাদীর প্রতিফলনকে নির্দেশ করে চলছে। ভারতীয় উপমহাদেশের দু’শ বছরের বৃটিশ কলোনিয়াল শুধু কি অর্থনৈতিক আগ্রাসন বা উপনিবেশিক দখলদারির কাঠামোয় সীমাবদ্ধ ছিল!! বলতে গেলে না; কারন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিকর আমূল পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও ( তথাকথিত সভ্যকরণ) ওই কলোনিয়াল প্রথার প্রভাব যেখানে এখনো বিদ্যমান। যেখানে শার্ট, প্যান্ট, কোর্ট, টাই পরিধানের সিস্টেম ইউরোপিয়ানদের ফলো করা হচ্ছে, অফিস আদালতে এখনো সেকেলে বৃটিশ আইন ও পদ্ধতি প্রচলিত, কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের উপনিবেশিক প্রভাব বা পশ্চিমা বন্দনা এখনো চলছে। তাই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কল্যাণে নির্মিত বৈপ্লবিক কাঠামো এখন একটা সমাজে ও দেশে প্রকট প্রভাবিত হয়ে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পটভূমির আমূল-পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

    বস্তুগত ও অবস্তুগত সংস্কৃতির নবযুগে ক্রমাগতভাবে প্রতিটি মানব সত্তাই উপযোগ লাভ করছে শিক্ষা ও সাংস্কৃতির অধিকার আদায়ে। তবে প্রশ্ন, সেগুলো কতটুকু ভিন্ন রংয়ের সংস্কৃতিতে যথাযথরূপে সংস্পর্শে বা চর্চা লাভ করছে? সেটির উত্তর নিহিত আছে শিক্ষা অর্জনের অধিকার ও সামর্থে এবং সাংস্কৃতিক চর্চার উপায়ে। আর কতটুকু সুফল পাচ্ছে একটি মধ্যেম আয়ের দেশ বাংলাদেশের প্রান্তিক অংশগুলোর সমাজ ব্যবস্থায় বা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থায়?

Skip to toolbar