Profile Photo

Mohammad Zahid Hossain ThakurOffline

  • zahidthakur
  • Profile picture of Mohammad Zahid Hossain Thakur

    Mohammad Zahid Hossain Thakur

    4 years, 10 months ago

    ♦কোরবানীর ঈদ♦
    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
    **********************-

    রোজার ঈদের পরেই অাসে কোরবানীর ঈদ এটা প্রকৃতির চিরন্তর নিয়ম। আমার মতোন অসুস্থ্য অসহায় মানুষের জীবনে কোরবানীর ঈদ আসে তার প্রচন্ড তান্ডব নিয়ে। আমার জীবন চলার সময় যখন নুন আন্তে পান্তা ফুরোয় তখন যেন কোরবানীর ঈদের খড়তাপ আরো জ্বালীয়ে দেয় আমার জীবনটাকে।

    সাধারন নিম্নমানের জীবন আমার ,এখানে আমি যেন আছি বিধাতার চরম অবহেলায়।
    মনে পড়ে গেল ,কাজী নজরুল ইসলামের কথাটা,
    “হে দারিদ্র তুমি মোরে করিয়াছ মহান ”-এই কথার সাথে আমি কোন দিন এক মত হতে পারলাম না । আমি বুঝতে পারি নাই যে তিনি কি দারিদ্রকে কটাক্ষ করে এই কথা বলেছেন নাকি দারিদ্রতাকে সম্মান জানাতে এই কথা বলেছেন ? -আজও বুঝতে পারলাম না।

    ধনীরা দরিদ্র লোককে শান্তনা অথবা গরীব নিজে নিজেকে শান্তনা দেয়ার জন্য অনেক সময় এই শান্তনাবানী উচ্চারন করে থাকে কি না?

    আমি আমার দারিদ্রতাকে সবসময়ই ভয় পাই, দারিদ্রতাকে কখনো সম্মান করিনি কারণ এই সময়ে দারিদ্রতাকে একটি অভিশাপ হিসেবে দেখা হয় । দারিদ্রতা আমাকে কখনোই মহান করেনি ।

    দারিদ্রতা আমাকে দিয়েছে ক্ষুধার জ্বালা, ঘৃণা, অপমান ।

    দারিদ্রতা আমাকে বানিয়েছে পরজীবি প্রাণী ।
    দারিদ্রতা আমাকে শিখিয়েছে দিনের পর দিন নিজের সাথে নিজেকে অাপোশ করতে ।
    কোন এক লেখক একবার বলে ছিলেন ( নামটা বর্তমানে মনে করতে পারছি না ) “ দারিদ্রতা হলো এমন একটি জিনিস যে খানে আপনি খেতে পারবেন কিন্তু খাওয়ার স্বাদ পাবেন না” ।

    এমনি নানা বাস্তবতা মনের মাঝে ভীড় করছে,আর নিজেরে অজান্তে মনের মাঝে উকি দিচ্ছে নানা প্রশ্ন।

    “সবার জীবনে সব ইচ্ছাগুলো পূরন হয়না। ভাগ্য থাকা লাগে।

    আচ্ছা দরিদ্রদের ভাগ্য কি খুব খারাপ ?
    দদরিদ্ররা কি স্বপ্ন দেখতে পারেনা ?
    নাকি তাদের স্বপ্ন দেখা উচিত নয় ?”
    আমি জানি এসবের কোন উওর কারো কাছে নেই।
    নেই আমার কাছেও।
    নেই সেই নিষ্ঠুর দারিদ্রতার কাছেও।

    আস্তে আস্তে শরীরটা কেমন যেন ঘেমে উঠছে। দুদিন পরেই কোরবানীর ঈদ , কোরবানীর ঈদের নিয়মে কদিন ধরেই চলছে পশু কেনা বেচার মহা এক মেলা।
    গরুর মাংসের স্বাদ যেন কোরবানীর ঈদের একমাত্র অলিখীত আবশ্যকীয় খাবার।

    সারাটা দিন নানা পরিশ্রম করেও নিজেরে আর সংসারের সমান্য চাহিদাও পূরন করতে পারছি না।

    দুটি পা যেন আজও স্বাক্ষ্য দিচ্ছে অনেক অজানা পথ প্ররিক্রমার।নিজেরে জীবনে আজও কোরবানীর ঈদের কোন উপলক্ষ্য অনুভব করতে পারি নাই।

    কালের প্ররিক্রমায় সময় বয়ে যেতে থাকে আমার জীবনেও আসে দুটো কন্যা সন্তান ।

    আজ ওরা দেখতে দেখতে বেশ বড় হয়ে গেছে। আজ ওরা প্রতিনিয়তেই শিখছে সমাজের নানা অভিলাশী আনুষ্ঠিকতা।

    ক্লান্ত এ মরা শরীরটা নিয়ে কাল রাতে যখন বাসায় ফিরলাম আমার ছোট মেয়ে সে সময় হাতে পানি নিয়ে আসলো আমার সামনে।
    আস্তে আস্তে আমাকে বল্ল,
    “বাবা আমাকে তো নতুন কোন কিছু কিনে দিলে না, নতুন চুড়ি আর সাজার জিনিস এনে দিবে না ?
    আর হ্যা এবার কিন্তু কোরবানীর গরু কিনতে হবে।”

    আমি অপলক দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম,কিছুই বলতে পারছিলাম না ওকে। তবে অনুভব করেছিলাম চোখ থেকে ঝড়ে পড়া দুফোটা চোখের জল।

    আজ বিকেলের পরে গেলাম ওর জন্য কিছু কিনতে ,কিন্তু বিধিবাম এ যে আমার সাধ্যের অনেক বাইরে।শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম কোরবানীর ঈদেও কি অদ্ভুত রকমের ভীড় সব জায়গায়, কিছুই করার নেই আমার।

    সামান্য আয় অার অসুস্থ্যতা যেন আজ আমার জীবনের বড় বাধা। ভাবছি বিধাতা প্রদত্ব ভাগ্য কে, সব যোগ্যতা থাকার পরেও কেবল শুপারিশের অভাবে আমার আজকের এ জীবন।

    সামনে পড়লো কোরবানী ঈদের বিশাল হাট সবাই কেমন যেন দাম না করেই কেবলি কিনছে। আমি পারলাম না ,শুধুই দেখে এলাম। আবারো হাটছি ,দেখছি নানা সাজে সেজেছে তারকা হোটেল গুলো।তারকা হোটেলে কোন দিন যাওয়া হয় নাই,এটাও যে আমার সাধ্যের অতীত।পাশ দিয়ে হাটছিলাম হঠাৎ কে একজন যেন দড়জা খুলে বের হলো আর তার সাথে আমার গায়ে লাগলো হীম শীতল কিছু হাওয়া।মূহুতেই শীতলতায় ছেয়ে গেলো আমার উত্তাপ্ত শরীর।মনে হলো জীবনের জন্য এটায় হয়তো উপযুক্ত জায়গা!

    বুকের অপারেশনের পুরানো ব্যাথাটা কেমন যেন মাথা চাড়া দিতে চাচ্ছে,তবুও হাটছি আর হাটছি ,পা গুলো আর চলতে চায়ছে না ।

    ল্যাম্পপোষ্টের মৃদু আলোতে দেখলাম রাত প্রায় ১১ টা পেরিয়ে গেছে। যেতে হবে আপন ঠিকানায়।

    অনেক টা বিধ্বস্ত শরীর নিয়ে গেলাম বাড়ীতে। ঘড়ে ঢুকতেই ছোট মেয়েটা কাছে আসলো ,আমার দিকে তাকালো আর কিছু বলল না,
    ওর ছল ছল চোখ আর কোরবানীর ঈদের স্বপ্ন ভংগের ব্যাথাটা যে কতটা আমার বুকে লাগলো তা হয়তো মেয়েটা বুঝতেও পারলো।
    নিজেকে আর সামলাতে পালাম না ,অসর হয়ে আসছে আমার সারা শরীর,চারিদিকে কেমন যেন ঝাপসা লাগছে। হঠাৎ শুয়ে পড়লাম ।

    ছোট মেয়েটা কাছে এলো মাথায় হতে রাখলো আর বলল,
    “বাবা আমার তো আগের অনেক জামা কাপড় অাছে , ওটা না হয় ঈদের দিন পরবো।
    বাবা আমার না আবার এ্যালাজি হয়েছে গরুর মাংস খাব না,তোমার তো হার্টে অসুখ তুমিও গরুর মাংস খেও না। ”
    ওর কথা গুলো যেন সমস্ত পৃথিবী তোলপাড় করে আমার কানে বাজতে থাকলো।

    আস্তে আস্তে অার চোখ দুঠো ভাড়ী হতে লাগলো, কেমন যেন নিজের শরীরটা হালকা হতে লাগলো। বুঝতে বাকি রইলো না সামনে কি হতে যাচ্ছে। তবুও প্রাণ পনে চাইছি কোরবানীর ঈদ অাসুক ,কোরবানীর পশুর রক্তে ধুয়ে যাক সকলের মনের সব অহমিকা। দূর হয়ে যাক সমাজ থেকে ধনী অার দরিদ্রের ব্যবধান। সাজুক আমার মেয়ে পুরনো কাপড় দিয়ে ঈদের দিনের নতুন সাজে।

    লেখার ধরণঃ- ছোট গল্প
    পোস্টের তারিখঃ-১৭-০৭-২০২১

    5
    5 Comments
Skip to toolbar