কুউউ ঝিক ঝিক এগারসিন্দুর

কুউউ ঝিক ঝিক এগারসিন্দুর

দুপুর

গোপন আবিষ্কৃত হচ্ছে খুব গোপনে …

তার দুই একটা রশ্মি
কাঠের দরজার ফাঁক দিয়া চলে আসে
বদ্ধ ঘরের ভিতর

বাইরে
জানালার উপরের কার্নিশে

বাসা বানাচ্ছে দুইটা চড়ুই
তাদের কিচিরমিচির, সারাক্ষণ

ওরা কি দেখতে পাচ্ছে?

মানুষের গোপন, মানুষ লুকচ্ছে কিভাবে?

কুউউ ঝিক ঝিক এগারসিন্দুর

ছোট ছোট প্রাণ
আপনারা খিলগাঁ রেলক্রসিংয়েও
কয়েকজন, বৃষ্টির রাতে
ট্রেন এক্সিডেন্টে মারা যান

আমি কবিতা লিখবাম।

ভ্যাকুয়াম

সারাটা দিন ধইরা সে তার অপেক্ষাটারে বানায়

সকালের নাস্তায় রুটি সেঁকতে সেঁকতে চুলায়, ফ্লোর মুছতে মুছতে, দুপুরের রান্নায়, বাথরুমে একা, ডেইলি পত্রিকার নিউজ, ইউটিউবের গান, স্কুলে যাওয়া-আসা, রইদ, মেয়েদের গোসল, দুপুরের ঘুম, সন্ধ্যার টিভি, হোমওয়ার্কের ভিতর… অপেক্ষাটা তৈরি হইতে থাকে

রাতের বেলা গুটিসুটি হয়া আমি ঢুইকা পড়ি সেই অপেক্ষাটার ভিতর
আরেকটা অপেক্ষার মতন।

নিউমার্কেটের পিছনের রাস্তাটা

রিকশা কইরা আসছি আমরা নিউমার্কেটের পিছনে। পোস্ট অফিস পার হয়া। বিজয় ৭১ হলের সামনে। দুপুরবেলা। চায়ের দোকানগুলি জমে নাই। বিকালের ভিড়ের লাইগা ঝিমাইতেছে প্লাস্টিকের চেয়ারগুলা। আমি ফুটপাতের একটা চায়ের দোকানের টুলে বসলাম। সিগ্রেট-টা ধরাইলাম। রইদ আইসা বসলো আমার লগে। তুমি তো আসতেই পারো। আমি ওয়েট করতেছি। আসলে আমি বইসা আছি একটা পারপাস নিয়া যে, আমি ওয়েট করতেছি। মানে, এমন যদি হইতো আমি একলা একলা চইলা গেছি নিউমার্কেটের পিছনে, দুপুরবেলা বইসা চা খাইতেছি, কোন কারণ ছাড়া । খুবই উইয়ার্ড মনে হইতে পারতো তো! এইজন্য আমি ওয়েট করতেছি। আমি আসছি তোমার সাথে । তুমি তো আসছো তোমার কাজে। একলাও আসতে পারতা। বা কোন ফ্রেন্ড নিয়া। তারপর ধরো, বইসা একসাথে চা খাইলা। বললা, কাজটা তো হইলো না! আরেকদিন আসা লাগবে! আমি ভাববো, এই যে কাজ বলা গেলো, কাম বললে তো সেক্সের কথাই ভাবা লাগতো একটু; একটু হাসি এড়ানো লাগতো । রইদটা তখন আমার এই কুটনামি দেইখা মুচকি হাসতে হাসতে সইরা যাইতেছিলো একটু একটু কইরা। আমি দেখলাম, তুমি আসতেছো। কাজটা শেষ হইছে তোমার। আর আসা লাগবে না। আইসা বললা। নিউমার্কেটের পিছনের রাস্তাটারে আমি দেখলাম আবার। রিকশা কইরা ফিরা যাইতেছি আমরা। রাস্তাটা অই জায়গাতেই পইড়া থাকলো। আমার লগে, আমাদের লগে আর তো আইলো না!

মার্চ, ২০১৯

আমি আর আমার ইনসেনেটি

আমি আর আমার ইনসেনেটি রাস্তার সাইডে দাঁড়ায়া সিগ্রেট খাইতেছিলাম। তখন সন্ধ্যা নামল। হর্নে হর্নে রাস্তা ভরে উঠতেছে, নদীতে জোয়ারের পানির মতন, ফুলে-ফেঁপে উঠতেছে। আমি আর আমার ইনসেনেটি সিগ্রেট খাইতে খাইতে দেখতেছি। একটু পরে ফাল দিয়া আমরাও স্রোতে নামবো। অনেকগুলি ছোট বড় ক্যারক্যারা হর্নের ঢেউয়ের ভিতর চুপ কইরা বইসা থাকবো।

মার্চ, ২০১৯

বৃষ্টি

আমরা বসে দেখতেছি, বৃষ্টি
বৃষ্টি পড়তেছে, রাস্তায়
আমি আর আমার টেবিল বসে বসে দেখতেছি

জুন, ২০১৯

কথাগুলি

কথাগুলি হইতেছে পাখি, ডানায় আরো কোমল হতে গিয়া তোমার কাছে তারা ফিরা আসছে আবার। বুদ্ধিমতী কথায় কথায় কতো গল্প বলে যাবে সারা সময়। তোমার কাছে যাবো, আকাশে স্বপ্নের মতো। শব্দহীন বৃষ্টিতে অথবা জোছনায় যেমন ঝরে কবিতাগুলি, গোপনে, জবাফুল দেখে, অনেক অনেক কথার মতো ফুটেছে আজও তারা, এই দৃষ্টিগোচরে তুমি দেখতেছো, হাসিতে বিলীন, ডুবে যাওয়া।

আইসক্রিম

ও জমাট তরল, তোমার ভিতর ডুবে যেতে চাই আমি!

ফোঁটা ফোঁটা পানির স্বপ্নের ভিতর ভেসে যাচ্ছে এই শহর

মাসের বেতন পাওয়ার দিন, রিকশা করে আইসক্রিম খেতে খেতে যাচ্ছে
গার্মেন্টস-এ চাকরি-করা দুইজন কিশোরী মেয়ে, কালোপোশাক-পরা
এই রাতের-বেলা, উড়ছে তাদের ওড়না… ওইগুলি সামলাতে সামলাতে
চিকন কাঠি থেকে টুপটুপ পড়ে যাচ্ছে দুই-একটা ফোঁটা…

আর তাতেই জেগে উঠছে অবর্ণনীয় স্বপ্ন, এই শহরের
কি যে তৃষ্ণা!

কুয়াকাটা

অইপারে, আরো একা
অ্যান্টার্কটিকা;

দাঁড়াইয়া আছে…

Loading

1 Comment

  1. মুগ্ধ হলাম শহরের কথকতায়!
    প্রতিটি কবিতাই অসাধারণ তবে, সবথেকে সেরা “ভ্যাকুয়াম”!

Leave a Reply

Skip to toolbar