কবিতা

Photo By: Jr Korpa | Unsplash

সখাসম্বাদ কিম্বা নিছক এক ইন্ট্রো

এই একটিমাত্র আয়ু। তাকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটি। হাঁটতে হাঁটতে পেরিয়ে আসি চারপাশের কাঁকুরে প্রান্তর। শালের সুউচ্চ সারি। কত শত কৈশোরিক আলো হাওয়া। যা এই লালমাটির প্রতি অঙ্গে বয়ে যায় প্রতিনিয়ত। বয়ে যায় আমাদের তিনবন্ধুর প্রথম দেখা হওয়ার দিনটিও। কবে। কখন। কোথায়। প্রথম মুখোমুখি হই। সেসব আর মনেও নেই। কেননা তা কোনো ফর্ম্যাল দেখাশোনা তো ছিল না। ছিল তিন অদম্য কিশোরের রক্তপ্রেম। কবিতার হাত ধরে পাশাপাশি হেঁটে যাওয়া। ... »

খেজুরের রস ও অন্যান্য কবিতা

খেজুরের রস ও অন্যান্য কবিতা

খেজুরের রস শেষ কবে খেজুরের রস খেয়েছিলাম এখন আর মনে পড়ে না।সেদিন কি খুব শীত পড়েছিল? আগুন পোহাচ্ছিলাম?গায়ে চাদর ছিল নাকি জ্যাকেট? নাকি উলে বোনা সোয়েটার?ওই সময় সঙ্গে কারা ছিল, কোনো টিয়া নাকি কাঠঠোকরা? সঙ্গীরা কেউ কি এরই মধ্যে প্রয়াত? এবারের শীতে আমাদের খেজুর গাছগুলোতেকোনো রসের হাঁড়ি বসানো হয়নি। আমাদের গ্রামে খেজুর গাছগুলো কুয়াশা হয়ে গেছে! ব্লাকর্বোড ব্লাকবোর্ডে নক্ষত্র আঁকতে আঁকতে মহাকাশে চলে যাই। শূ... »

Photo By: Jr Korpa | Unsplash

‘অনেকে পড়েনি’ থেকে কিছু কবিতা

আইসক্রিমডা: শাহজাহান সাজু-কে আমি যেন ফুটপাথের কিনারায় ফেলে দেওয়া আইসক্রিমের কাপ।তাতে একটু আইসক্রিম লেগে আছে।কোনো ভিখারি আঙ্গুল দিয়ে তুলে এনে চেটে চেটে খাচ্ছে। নদীর পাড়ের নির্জনতাপার্থ দত্ত-কে নির্জনতা কিন্তু আমি বড় ভালোবাসি।হৃদয় মন দিয়ে সর্বসত্তায় অনুভব করি।মনে হয় নদীর অনেক কথা বলবার আছে-বলেও নিশ্চয়ই।আমার বড় ইচ্ছে করে যদি নদীর মনের কথা শুনতে পেতাম।নদীর জলে থাকি কান পেতে, কাঁপে প্রাণ পাত... »

অন্ধকার মমি ও অন্যান্য

অন্ধকার মমি ও অন্যান্য

স্মৃতিযা পেয়েছি তা সব থেকে যাবেবালু কণার গভীরেজলের শব্দ তরঙ্গেএমনি এমনিআরো বহু দিন প্রতীক্ষা করবেযেভাবে আকাশ সেজে ওঠে ভয়এখন শুধু ভয় করেমনে হয় টেনে নিয়ে যাচ্ছে মন ডুবুরিউন্মাদের হাসির ভিতরলুকানো বন্দিশে।চুপ করে বসে থাকি একা একারোদ কেবিনে।নির্বাসিত স্মৃতি খুলে উড়তেও ভয় করে।ম্লান আলোর আদলেঘুমানো নদীর দিকে বয়ে চলা পথেফুটে উঠতে ভয় করে বোকা বুনোফুলে। আহবানঝুপ ক’রে সন্ধ্যা নামা গ্রাম পার হয়েআম... »

মানচিত্রফুল

মানচিত্রফুল

সূর্য মরে গেলে নীহারিকার দিকেআঙুলের উপত্যকায়যদি নাঈম ফিরোজতার কবিতার হতো সূর্যোত্থান— আঙুলে আঙুলে সুন্দর তাকিয়ে দেখা যেতো ভোরের ছোট ছোট বাচ্চা সূর্যনামছে নখের নিচে নীচে। দেবদারু আর নীম গাছ—ভালোই লাগতেসে— পাশাপাশি— পাতাগুলা একইরকম— তীক্ষ্ণ চিক্কণ— চিরল ও চামেলী। সূত্র মেনে নিলেএখন কপালে খারাবি আছে— ভারী আইসোটোপের আচ্ছাদনেঢেকে যাবে বৃক্ষবৃন্দ ও সৌরমন্ডলী। গ্যানিমেড অভ ট্রয় [Ganymedes] was the loveli... »

রোমেনা বিলাস

রোমেনা বিলাস

চিচিংফাঁক ফুটপাতটা এ্যাকাএ্যাকা ছিল না, ঝুলন্তশার্টছিল, ছিল জিনস ও গেঞ্জিকোথাওকোথাও ছাতা ছিল, কোথাও নাইমানুষ মানুষের জন্য, প্রাণ প্রাণের জন্য—পলিথিন কুচকানোমুচকানো অশ্বত্থ গাছের নীচেইকটু আগে মানুষের হাত থেকেপতিত হয়েছে, নিজ অস্তিত্ব খুয়েনুয়ে আনমন—মানুষ মানুষের জন্য, প্রাণ প্রাণের জন্য—রেললাইনটা এ্যাকাএ্যাকা শুয়ে আছে, দারুণ রোদঝিকমিক স্লিপার, সাপের ভঙ্গিটিকেট শূণ্য, খোদাহাফেজ ব... »

প্রাণীবিতান

প্রাণীবিতান

১) জিরাফ ডাক কমে গেলে মানুষ দাড়ি কাটে। আফটার শেভ মাখে। চান করে পরিচ্ছন্ন লিফটে ঢুকে যায়। ফ্লোর এর বোতাম টিপে উঠতে উঠতে তার গলা কলারের ওপরে ঢলঢল করে।  ডাক কমে গেলে মানুষের গলা বড় হয়ে যায়। আর জিরাফ ডাকতে পারে না। ফলত ভাষাতত্ত্ববিদ হিসেবে এই এক প্রাণী মুখস্ত থেকে অনেক দূরে সরে পাতা খায়। ফল খায়। অনেক উঁচু থেকে দেখতে পায় নিম্ন-বুনিয়াদি, সয়াতুঁদগাছ গোলাপি মরচে পড়া সেড! গ্লোসি ও বার্নিশ ক... »

চিলমারী সিরিজ

চিলমারী সিরিজ

উপকূলে এখানে দক্ষিণের বাতাস মন ছুঁয়ে যায়, প্রাণ ভরে দেয় বনবিবির পালা। আমাদের ঘিরে বাঘের দেশে পূজা হয়, বনদেবীর আরাধনায় পালন করি ব্রত। জলে জঙ্গলে ডাঙায় স্মরণ করি তাকে, বিপদে আপদে আমাদের হাত ধরে হাঁটে শাজঙ্গলী ভাই। আর একজন কবি চাণক্য বাড়ৈ, বন-দুর্গার নামে কবিতা পড়ি- কবিতা পড়ে আমাদের। আমাদের চোখ জুড়ে থাকে ডোরাকাটা দাগ, শেষ জন্মে স্মৃতি হয় বড়ো মামা। বাঘমামির পাঁচালি আর বড়দার পুথিকুলে জন্মা... »

Photo By: Bruno Ramos Lara | Unsplash

তিনটি কবিতা

ভ্রমণ কক্সবাজারে আগেও এসেছি। আমার এক আর্টিস্ট বন্ধু থাকে কক্সবাজারে। ভিন্ন গ্রহের প্রাণীর নামে নাম। একটার পর একটা হোটেল সমুদ্রের পাড়ে। ওর মারমেড নামে একটা ক্যাফে আছে। আমেরিকা, রাশিয়া, জাপান থেকে প্রচুর পর্যটক আসে। + সস্তা হোটেলের সংখ্যাও অনেক। সারি সারি দোকান, রেস্তোরাঁ। এখানে একটা দারুণ সাজানো বাজার আছে পর্যটকদের জন্য। উঁচু উঁচু আকাশ ছোঁয়া হোটেলের ছড়াছড়ি। দু-এক বছর পরপরই এই জায়গার স্কাই লাইন দ্র... »

Photo By: Eberhard Grossgasteiger | Unsplash

অসামাজিক

বাস আসছে। বাস যাচ্ছে। ঠাসা ঠাসা মানুষ। পোকামাকড়ের মত মানুষ। কেউ কারো দিকে পর্যন্ত তাকাচ্ছে না। + ছাউনির পাশে কোলে বাচ্চা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক যুবতী মা। কিছুতেই উঠতে পারছে না বাসে। পুরুষ মানুষদের হুলুস্থুল পেশী-বুহ্যের মধ্যে একটা ছোট্ট দরদী ফাঁক খুঁজে পেতে বারবার ব্যর্থ হয়ে, ধাক্কা ঠেলা, চাপ খেয়ে, শেষে ফিরে এসে দাঁড়িয়ে আছে ছাউনির পাশে; নিরেট মেঘের দিকে তাকিয়ে থাকা কোন এক ভেজা কাকের মত। মানুষেরা আর ম... »

Skip to toolbar