বাংলাদেশের কবিতা এবং অপরাপর কলা-চর্চার ওপর আলোকপাত :

বাংলাদেশের কবিতা এবং অপরাপর কলা-চর্চার ওপর আলোকপাত :

ফরিদ হুদা লিখেছে, ”আমাদের ২০/২৫ বছর বয়সেই যাদের কে কবি সাহিত্যিক হিসেবে চিনে গিয়েছিলাম”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফরিদ যে সময় চারুকলাতে পড়েছে, অর্থাৎ আশির দশকে, সেই একই সময় অর্থাৎ আশির দশকে আমি এবং যমজ বোন কঙ্কণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি। কঙ্কণ ছিলো চারুকলায় ফরিদদের ব্যাচে, আমি ছিলাম বাণিজ্য বিভাগে। উচ্চ মাধ্যমিকে গড়ের অনেক ওপরে ফলাফল করে ঢাবিতে এলেও আমি ক্লাস তেমন করতাম না, কিন্তু ঢাকার বিভিন্ন স্তরের কবিতা আন্দোলন, নাট্য আন্দোলনে সক্রিয় থেকে সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী সঙ্ঘবদ্ধ প্রয়াসগুলোতে অংশ নিতাম। কিন্তু নিজের কবিতা লেখার ব্যাপারে ব্যক্তিক উল্লাস, বেদনাসহ বিভিন্ন অনুভূতিকে প্রশ্রয় দিয়ে একেবারে আনর্থোডক্স জীবন যাপনের পাশাপাশি ছাত্র মিছিলে যোগ দিলেও কবিতার স্লোগানধর্মিতাকে সচেতনভাবে এড়িয়ে চলতাম।

ফরিদ যে ২০/২৫ বয়স উল্লেখ করেছে, আক্ষরিক ভাবে সেশন জটে অনার্স শেষ করতে সে সময় অনেকের ২৫ পেরিয়ে গেছে। ফাইনাল সেমিস্টার লেজে, গোবরে করে ১৯৯০সালে ব্রিটিশ কাউন্সিলে কমনওয়েলথ সেমিনারে নাটক নির্দেশনা দিয়ে, যুক্তরাজ্য পাড়ি দিয়ে কয়েক মাসের মাথায় ঢাকা বিমান বন্দরে ব্রিটিশ এয়ারের চাকুরী নিয়েছি, তাতে ইস্তফা দিয়ে ১৯৯৩তে স্থায়ীভাবে দেশ ত্যাগ করেছিলাম। এর কোনো পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত, অপ্রতিষ্ঠিত কবিতা চর্চার খোঁজ নিতে অসুবিধা হয় নি। ঢাবিতে ছাত্রছাত্রীরা মূলত কবিতার বা কবিদের খবর পেতো দৈনিক পত্রিকা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনের অনুষ্ঠান এসবের মাধ্যমে। ছাত্র ইউনিয়ন মানেই মহাদেব সাহা, নির্মলেন্দু গুন, যার ভেতর সাহার কবিতাকে আমার প্রাথমিকের বেশি কিছু মনে হয় নি। আর পশ্চিম বঙ্গের আগ্রাসী মার্কেটিং সিস্টেম একের পর এক ওদিককার মিডিওকার কবি দিয়ে বাজার সয়লাব করে দিতো, এখনো দিচ্ছে। আমাদের মেজর অনেক কবি থাকলেও মার্কেটিং ছিলো আনাড়ি। সাহিত্যের মার্কেটিং, স্বীকৃতি এখনো বাংলাদেশে দলাদলি নির্ভর।

ফরিদ যে ‘২০/২৫ বয়সের’ চেনাচিনি বলছে, সে সময় বাংলা বিভাগের ছাত্রী, ছাত্র ইউনিয়নের এক নেত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠ ছিলাম। তাদের কাছেও কবি বলতে দলনেতারা যাদের কবি বলে। আর এদের পাঠের ধরণ ছিলো বাম সেন্সর নির্ভর। আমি যখন সোলঝেনিতসিনের ‘গুলাগ’ দিলাম, মেয়েটি তা পড়লোই না। আবার আশির দশকে শহীদ কাদরী স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ত্যাগ করেছিলেন। কবিতাঙ্গনে ওনার নাম শোনা যেতো না। কিন্তু ফরিদ যাদের নাম নিয়েছে ওর তালিকায়, তাদের চেয়ে শহীদ কাদরী অনেক অনেক শক্তিশালী এবং মাত্র চারটি বই নিয়ে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। শহীদ কাদরীর বই দেশের বইঘরগুলোতে তেমন পাওয়া যায় না। যারা নাম জানে তারা সুমন চট্ট’র গানের দৌলতে জানে।

ফরিদ বাংলাদেশের যাদের নাম নিয়েছে তাদের সব বইপত্র বাংলাদেশে পাওয়া যায় না, কিন্তু পশ্চিম বঙ্গের যাদের নাম নিয়েছে, তাদের বইপত্র দেদারসে পাওয়া যায়। কোনো তালিকা শেষ কথা নয়, বরং একজনের অভিরুচি প্রকাশ করে, তাতে সবার অধিকার। ফরিদ লিখেছে, ”আমরা ভাগ্যবান একই সময়ে এতো কবি সাহিত্যিকদের একসাথে দেখতে পেয়েছিলাম। তাঁদের কয়েক জনের নাম-”

আসলে পড়া অনেক কিছু আমরা ভুলে যেতে পারি। চোখের সামনে থাকাদের কয়েকজনকে আমরা মনে রাখি। শামসুর রাহমান প্রবলভাবে আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অস্তিত্ববান ছিলেন, আবার শক্তিমান কবিও ছিলেন। হেলাল হাফিজ অনেক ভাবে উচ্চারিত নাম, কিন্তু আমার কোনো সঙ্কলনে ওনার কবিতা নেবো না। আমার সঙ্কলনে ফরিদের দেয়া নামের প্রথম ৫টি নাম, রফিক আজাদ থাকবে, তার সাথে থাকবে শহীদ কাদরী, মুস্তফা আনোয়ার, বেলাল চৌধুরী, রুবি রহমান, দিলারা হাফিজ, ওমর আলি, ওমর শামস, রবিউল হোসাইন, আবিদ আজাদ, সাবদার সিদ্দিকী, ত্রিদিব দস্তিদার, আমার প্রজন্মের এবং পরের প্রজন্মের বেশ কয়েকজন। ফরিদের মত অনেকের কবিতার সাথে জানাশোনা ‘২০/২৫’এর পর থেমে গেছে। আবার ঐ ‘২০/২৫’ বয়সেও কবিদের নাম আমাদের কাছে যে মূলত দৈনিক পত্রিকা এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর বরাতে আসতো তা বলেছি।

কবিদের নিয়ে, কবিতা নিয়ে বলবার অধিকার সবার। কবিতা লিখবার অধিকারও সবার। সাদি মহম্মদ তেমন বড় রাষ্ট্রীয় পদক পান নি, কিন্তু রাষ্ট্রীয় পদক দিয়ে সব মান বোঝা যায় না। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ওমর শামসের কবিতা কি মাপের শক্তি ধারণ করে একটি দৃষ্টান্তে তা বোঝা যায়। ‘খোয়াবনামা’ শিরোনামে দীর্ঘ কবিতাটি লিখে ওমর তা প্রথমে পড়তে দিয়েছিলেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াসকে। ইলিয়াস তা পড়ে এতোটাই আলোড়িত হয়েছিলেন যে একই থিম থেকে নিজের ‘খোয়াবনামা’ উপন্যাস লেখেন। ইলিয়াস তার জীবৎকালে এই প্রভাবের কথা বলে যান নাই। আমরা তা জানতে পারছি, হাসান আজিজুল হক প্রকাশিত ইলিয়াসের একটি চিঠি থেকে। চিঠির মুসাবিদায় হাসান বলেছিলেন যে ইলিয়াস তার ‘খোয়াবনামা’ থিমে অনেক বেশি হাড়, মজ্জা যোগ করেছিলেন। কিন্তু আমি ওমর শামসের ‘খোয়াবনামাতে’ যে অবয়ব পেয়েছিলাম, তা ইলিয়াসে পাই নি। ইলিয়াস সব ধরনের সাহিত্য পদক পেয়েছিলেন। ওমর শামস তেমন কোনো পাদক পান নি, বাংলা একাডেমির ওয়ালিউল্লাহ পদক ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

কবি বেলাল চৌধুরী অত্যন্ত শক্তিশালী কবি এবং দুই বাংলার কবিতা ইতিহাসের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ছিলেন, যা ধরে রাখা আছে ওনার সাথে আমার ম্যানচেস্টারে কথোপকথনে। সেই কথোপকথন যে অনেক দূর ছড়িয়েছিলো তা বোঝা যায়, ‘হাংরি’ আন্দোলনের পুরোধা মলয় রয় চৌধুরী মৃত্যুর আগের কয়েক বছর নিয়মিতভাবে বেলাল চৌ, আমাকে ‘বাংলাদেশি ইডিয়ট’ বলে শাপান্ত করতেন। সেসব লিঙ্ক আমাকে ইনবক্স করেছিলো ফরিদের বন্ধু দিলিপ কর। পশ্চিম বঙ্গের অগ্রগণ্য ‘কৃত্তিবাস’ সাহিত্য পত্র সম্পাদনা ছাড়াও, বাংলাদেশের ‘পদাবলি’ এবং ‘কবিতা পরিষদ’ গঠনে বেলাল চৌধুরী শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছিলেন।

”ম্যঞ্চেস্টারে কবি বেলাল চৌধুরীর সাথে”

অনেকে রফিক আজাদের কবিতায় এসে থেমে যায়। রফিক আজাদসহ ষাটের কবিতার সবচেয়ে পরিণত ফসল হচ্ছে আবিদ আজাদের কবিতা। আবিদ আজাদ তার আজাদ নামটি নিয়েছিলো রফিক আজাদের প্রতি অর্ঘ থেকে। এরশাদ পন্থী কবিতা-কেন্দ্রে যোগ না দিলে আবিদ আজাদ একঘরে হতেন না এবং সারা দেশে ওনার কবিতা যে সমীহ আদায় করেছিলো তা দিয়ে ছাত্র ইউনিয়ন কবিদের অনায়াসে ডিঙ্গাতে পারতেন। এর বড় দৃষ্টান্ত হচ্ছে আবিদ আজাদের ঘনিষ্টতম বন্ধু শিহাব সরকার ‘কবিতা পরিষদে’ যোগ দিয়েছিলেন এবং পরে রাষ্ট্রীয় সব পদক পেয়েছিলেন। আমার মত যেসব অনুজ কবিতা প্রয়াসী আবিদ আজাদের ঘনিষ্ঠ ছিলো, আমি সহ তাদের অনেকে আবিদ আজাদের সঙ্গ ত্যাগ করেছিলো।

সাবদার সিদ্দিকী কোনো বই না রেখে মারা যান। মৃত্যুর পর তার একটি গ্রন্থিকা কিছু অনুজ আবদুল মান্নান সৈয়দের সম্পাদনায় প্রকাশ করে। সে গ্রন্থে দেখার আগেই আশির দশকে আবিদ আজাদের ‘কবি’ পত্রিকায় আমি সাবদারের অনেক কবিতা দেখেছি, সেগুলোর তরতাজা উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং সহজ যোগাযোগ সখ্যতায় অবাক মেনেছি। সাবদারকে নিয়ে আমার ব্লগে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং আমার ‘ভাষা-প্রমিতের নোম্যান্স ল্যান্ড গ্রন্থে’ সেই আলোচনা স্থান পেয়েছে।

”নোম্যান্সল্যান্ডের মুক্তিযোদ্ধা সাবদার সিদ্দিকি”

আমাদের প্রজন্মের অনেকের কবিটা, গল্পে মুস্তফা আনোয়ারের প্রভাব আছে। স্বাধীন বাংলা বেতারের একজন সংগঠক, পরে রেডিও বাংলাদেশের একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হলেও মুস্তফা তার পদকে সাহিত্য এগিয়ে নিতে ব্যাবহার করেন নি। আমি মনে করি বাংলা একাডেমির অনেক অনেক ভ্রান্ত আচরণের ভেতর অন্যতম ভ্রান্তি হচ্ছে মুস্তফা আনোয়ার সমগ্র একাডেমি থেকে প্রকাশ না করা। মফস্বলের কলেজে অধ্যাপনা করেও কবি ওমর আলী যে পরিমাণ নেট ওয়ার্কিং করতেন, ঢাকা শহরের কেন্দ্রে গন মধ্যমের কর্তা হয়েও মুস্তফা তা করতেন না। ওনার স্ত্রী অভিনেত্রী নাজমা আনোয়ার, নাট্যকর্মি কন্যা নিশাত আনোয়ারকে অনেক বেশি লোকজন চিনতো। মুস্তফা আনোয়ারের ক্ষুর গল্পগ্রন্থের যে বিস্তারিত ইংরেজি রিভিউ আবু রুশদ করেছিলেন, তা ছাড়াও অনুজ কবি, গল্পকারদের ভেতর তার প্রভাব থেকে মুস্তফার লেখালেখির শক্তি বোঝা যায়।

”মুস্তফা আনোয়ারের ‘ক্ষুর”

২৫ বছর আগে ইন্টারনেটের আগমনে, ২০ বছর আগে সামাজিক নেটওয়ার্কের আগমনে আমি মনে করেছিলাম যে বাংলাদেশে নান্দনিক আন্ত যোগাযোগ এবং বিদেশের সাথে যোগাযোগ আরো বিকশিত হবে। আমার ধারনা যে ভুল তা বুঝতে পেরেছি। সামাজিক মাধ্যমে দলাদলি, নিজস্ব গন্ডিবদ্ধতা ছাড়া কিছু দেখি না। স্থানীয় শিল্পের বিভিন্ন মাধ্যমের ভেতর আন্তঃযোগাযোগ অন্তন্ত্য কাহিল। আমি এটা বুঝেছি ‘কুমিল্লা সাংস্কৃতিক উৎসবে’ নিয়মিত যোগদান করে, শিল্পকলা একাডেমিতে ‘জুলেখা ট্রিলজি’ নির্দেশনা দিয়ে, আফরোজা জামিল কঙ্কা এবং প্রশান্ত মহারানার সাথে ‘বাঙালির পরিচয় কাব্য’ তালপাতার পুঁথি সম্পন্ন করবার সময়।

কবিতার লোক নাটকের খোজ নেবে না, নাটকের লোক কবিতা, চারুকলার খোজ নেবে না, চারুকলার লোক কোন কিছুর খোজ নেবে না। রুডিয়ার্ড কিপলিং এর আমলে জাহাজে করে কোলকাতা, লন্ডনে ডাক পৌছতে লাগতো তিন মাস। এখন তিন সেকেন্ডের কম লাগে। কিন্তু আমাদের যোগাযোগ প্রভাবিত হয়েছে আমাদের অন্তর্মুখিনতায়, আমাদের কূপমণ্ডূকটায়। প্রত্যেকটি কলা ভুগছে বিচ্ছিন্ন, বিমূর্ততায়। কয়ে কাকে আড়াল করবে, তাই মূল প্রবণতা।

আমাদের চারুকলা চর্চা-কারিরা নির্ধারণ করে ফেলেছে যে আর্টের ভেতর যে অংশটাকে আমরা চারুকলা বলি, তা নিয়ে শুধু চারুকলার লোক কথা বলবে। অন্যরা তাকায় তাকায় দেখবে। দেখুন খেয়াল করে, আর্টের সাংগঠনিক তৎপরতা অনেক বেড়েছে। চারুকলা ফ্যাকাল্টিও অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি। কিন্তু তাকিয়ে দেখার লোক খুব কম। সেই একই গণ্ডির লোকের ঘুরপাক। এটা মনে হয় একেবারে হিলফুল ফজুলের প্রতিজ্ঞা, আমরা চারুবিদরা পড়বো না, আমরা আঁকবো। বাধাটা শুধু স্বামী, স্ত্রী, বাবাদের না, নিজেদের চিন্তা পদ্ধতিরও বাধা। আঁকাআঁকি সহ সব ক্রাফটের একটা পর্যায়কে আর্ট বা ফিলসফি বলা যায়। যে কোনো ফ্যাকাল্টির সর্বোচ্চ জায়গাটিকে ডক্টরেট অব ফিলসফি এ কারণে বলে। শুধু নিজের ক্রাফট দিয়ে এটা করা গেলে তাতি, কুমোর, স্বর্ণকারদের আমরা গ্রেট শিল্পী বলতাম। অবশ্য তাদের ভেতরও অনেক গ্রেট শিল্পী আছে।

চারুকলার ক্ষেত্রে যা বললাম ওপরে, নাট্যকলা, সঙ্গীতকলার ক্ষেত্রেও তা বলা যায়। আহমদ শরীফ লিখেছিলেন যে লোকজ সংস্কৃতির বিকাশ হচ্ছে পিছুটান। আমাদের ব্যান্ড সঙ্গীতও লোকজ সঙ্গীতের প্রবল পিছুটানে আক্রান্ত। কবির সুমন সেখানে শহীদ কাদরীর কবিতাকে উপলক্ষ করা একটি ব্যতিক্রম। কথিত কবিদের ক্ষেত্রেও এই অন্তর্মুখীটা ঘটেছে এবং বৈষয়িক চাহিদার বাজারে পেছানোতে, শুধুমাত্র সচিব, মিডিয়া কর্তা কবিদের বার বার উচ্চারিত দেখে তুলনামূলকতার নান্দনিক স্বাস্থ্যের জায়গাটাও অনেকে সন্দেহের চোখে দেখছে। যার ফলশ্রুতিতে ফরিদের মত অনেকে সন্দেহ করছে কবিতার নামে এই ৫০তম জয়ন্তীগুলো আরেকটি ইভেন্টের, নেটওয়ার্কিংএর অজুহাত না কি! হলেও ক্ষতি নাই।

এই সন্দেহ অমূলক নয়। খাটিয়ার চরবার আগে কখন আমাদের অন্বেষা জাগবে, তা যার যার ব্যাপার। স্বামী, স্ত্রী, সমাজের সাথে বিভিন্ন কলার শিক্ষকেরা মিলেই হয়তো সেই খাটিয়া বানিয়েছে। সন্দেহ নিরসনের একমাত্র উপায় পাঠ এবং রিভিউ। সেদিকেও অনেকে কম বেশী এগিয়ে আসবে বলে আমার আশাবাদ।

ফরিদকে ধন্যবাদ জানিয়ে। নিবেদন ইতি।

১৬/০৩/২৪
ব্রিটানি, ফ্রান্স

উপরের লেখাটি যে লেখার পরিপ্রেক্ষিতে রচিত:
জনাব ফরিদ হুদা লিখেছেন ১৬ই মার্চ ২০২৪-এ:

এই সময়ে পঞ্চাশ পঞ্চান্ন বছরের মতো বয়সি দুই তিনজন কবির নাম বা কবিতা আপনার জানা আছে?

আমাদের ২০/২৫ বছর বয়সেই যাদের কে কবি সাহিত্যিক হিসেবে চিনে গিয়ে ছিলাম তাঁদের মধ্যে হাতে গুনা দুই একজনের বয়স হয়তোবা পঞ্চাশ পেরিয়ে ছিলো।

আমরা ভাগ্যবান একই সময়ে এতো কবি সাহিত্যিকদের একসাথে দেখতে পেয়েছিলাম।

তাঁদের কয়েক জনের নাম—

শামসুর রাহমান

আল মাহমুদ

সৈয়দ শামসুল হক

আবদুল মান্নান সৈয়দ

নির্মলেন্দু গুণ

হুমায়ুন আজাদ

আসাদ চৌধুরী

হেলাল হাফিজ

মহাদেব সাহা

রফিক আজাদ

রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

পূর্ণেন্দু পত্রী

শঙ্খ ঘোষ

জয় গোস্বামী ——

Loading

Leave a Reply

Skip to toolbar