‘আড়ং’ এর গ্লাসের ভেতর থেকে দেখছি
‘আড়ং’ এর গ্লাসের ভেতর থেকে দেখছি
আড়ং এর গ্লাসের ভেতর থেকে বৃষ্টি দেখছি
বিশাল রাস্তা জুড়ে লক্ষ ফুলের ফোঁটা
আর মুহূর্তেই ঝরে যাওয়া,
প্রাগৈতিহাসিক শিলায় মমি করা শ্যাওলারা
আজ জেগে উঠেছে চারিদিকে
টগবগ করে ফুটছে
রাস্তার নিচের লাল রক্ত,
শুরকির বন্ধনে আর কত!
রোডে রোডে তাদের প্রাণের উত্তাপ উড়ে
তবুও আমি শুধু ফুলই দেখি ।
সারি সারি সাদা কামিনী ফুল
ফুলের স্রোত
ড্রেনের বিস্ময়।
শহরের ল্যাপপোস্টে পাকা কাঁকরোল
ইকবাল রোডের দুই সারি বাড়ীর ফাঁকে
কয়েকটা পাকা কাঁকরোল ঝুলে থাকে ইলেকট্রিকের তারে
ভাবি : ওরা কি জ্বলে উঠবে ইলেকট্রন ফিলামেন্টে?
অথচ কিই বা প্রয়োজন এই নগন্য গাছের!
প্রয়োজন ইলেকট্রিক তারের
কোটি কোটি ইলেকট্রন সাভার-সদরঘাট ছুটোছুটি করবে
মস্ত মস্ত আলো জ্বালাবার কাজ সব পড়ে আছে ।
তবুও – সাদা কাগজের নিষ্প্রাণ দিনে
কাঁকরোল গাছ এত সখ্যতায় ইলেকট্রিক তারে জড়িয়ে থাকে
এ শহরেই !
পাকা কাঁকরোলগুলো কি জ্বলে উঠবে?
ক্লোরোফিল বাকলে ইলেকট্রন উৎসাহে
ওরা কি জ্বলে উঠবে?
হয়তো – না দেখা সন্ধ্যায় কয়েকটা কাঁকরোল জ্বলে ওঠে।
হয়তো – শহরের ল্যাম্পপোস্ট জুড়ে বাল্ব নয়
শুধুই পাকা কাঁকরোল।
যে রোগের কথা বলব না
বিকেল নয়।
চাতকের ডানায় স্বল্প-রাত নামে
শহরের অলক্ষ্যে উঠে আসে সরু চাঁদ
এই জোৎস্না রাত্রি হাওয়ায়, উন্মুক্ত
আমার শরীরে অসংখ্য গোপন রোগ
লকলক তারার মতো
ফুটে আছে অন্ধকার আভায়
তবুও যেন বলছে আমাকে,
কত ভাল মানুষের চোখ হতে
দূরে, দূরে থাকা।
সাদা সাদা দিনে এদেরকে ঢেকে রেখেছি
কালো কাপড়ের ওভারকোটে
ঘেন্নায় চোখ হতে দূরে
হাত পেতে থাকা আলোর অলক্ষ্যে
গোপনে আমার গোপন রোগ
লাজুকভাবে লেপটে আছে
আমার শরীরের সাথেই,
যার সাথে এমন নিবিড় সহবাস
ওগো রোগ প্রিয়তম তুমি
তোমাকে ঝেড়ে ফেলা যাবে?
যখন নিজ নার্সিসিস্ট
কী অদ্ভূত সুন্দর লাগছে নিজেকে
কী দারুণ রূপসী আমি আজকে
আগে তো কখনো দেখিনি
ঠিক এমনি করে
আমাকে?
অগণিত টিনএজারদের উদ্দেশ্যে হ্যালো
তাকিয়ে দেখ এসে গেছি আমি
তোমাদের চাহিদা মাফিক
যে কোন খান!
যারা স্পোর্টস ভালোবাস তাদের জন্য
নিমেষেই হয়ে গেলাম!
বেকহ্যাম।
কিন্তু
ঐ যে কয়েকদিন ধরে
ফ্রেঞ্চ কালচারাল সেন্টারে
যার সাথে প্রায়ই চোখাচোখি
ইন্টেলেকচুয়াল শে যে কিছুটা
সেটা ঠিকই বুঝতে পারি
বোধহয় ইংরেজীতে সাহিত্য পড়ে
কিংবা এখন ইরানী ফিল দেখে
তোমাকে বলছি, হেই লুক আ্যাট মি …
সাক্ষাৎ অমিতাভ ঘোষ আমি
তোমার সম্মুখে এসে দাঁড়িয়েছি।
তখন আমার মুখে থাকবে
যেভাবে টিভিতে দেখা সেলিব্রিটি
অন্যকে বোকা বানানো মিষ্টি মিষ্টি হাসি …
আমি আজকে সব কিছু সব কিছু
বনে যাব, বনে যাচ্ছি, বনে গেছি
আমি যেন একটা পিঠ চাপড়ে দেয়া বাপ-কা-বেটা
আজকে আমি বন আর ভূবনের রাজা
অন্যরকম কী যেন একটা
টারজান ০০৭ হয়ে গেছি।
আমি যেন
এই মাত্রই রোনালদিনহোর মতো
রুদ্ধশ্বাসে
গোল করছি কিন্ত
দর্শকদের গ্যালারি ভর্তি অভিবাদনের জবাবে
“এ আর এমন কী” – ভঙ্গিতে ভিভ রিচার্ডসের মতো
মুখে মৃদু হাসি, চুইংগাম চিবুচ্ছি।
আজকে
সেইরকম একটা সোনালি ডানার চিল
ছুঁয়ে যায় শহরের গ্রিল-কার্নিশ,
ভাবি, চিলগুলো যদি আমার ঘুড্ডি হতো
আমার ঘুডিডগুলো সব ভেসে যাওয়া চিল।
নিজস্ব স্লো-মোশন ভঙ্গিমায় চিলগুলো উড়ে যায়
দুপুরে এই রুমে কেমন বিষণ্ণ হয়ে যাই, একা।
ভাবি –
মোজাইকে কাৎরানো পোকা
আর চিলের দূরত্ব।
ভাবি –
শিরার ভেতর জেগে ওঠা চরগুলোকে
কোনো কেমিক্যাল প্লাবনই ডোবাতে পারবে না।
আজকে।
ইস, ATN-এর মতো যদি একটা জীবন হতো
MTV’র গানের মতো ছোট্ট, রঙ্গিন
আর তাজা!
আমার নিজস্ব টেক্সটের ভাষা
টেক্সটের সবুজ দূর্বা দুলছে দোলায়
আমি হব সকাল বেলার পাখি
সকাল বেলার পাখিতো কাক
সকাল থেকেই কা-কা করছে
তাতে আমার ঘুমের খুব ডিসটার্ব হচ্ছে
তাই আমি হতে চাই সুন্দর নীরব পাখি
সন্ধ্যা যখন অবিশ্বাস্য রাতের পরিণতিতে
টিএসসি – লাইব্রেরির ছায়া কেটে কেটে
হালকা-ঝাপসা সেক্স চলছে
ভয় দেখালে নগদ টাকাও মেলে
আমি হতে চাই ঐতরুণীর ভয়ের উৎস
যদি বা কখোনো রাতে হলুদ রং এর চাঁদ উঠে
চাইবো শুধু মুন-গ্লাস,
তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবো –
কোন অধ্যবসায়ী যদি বা বিদ্যার সাগর
স্ট্রিট লাইটের নিচে জেগে জেগে বই পড়ছো
ওর জন্য ফাক আপ
বই ওর সাওয়ায় ঢোকাব
নিজস্ব প্রয়োজনে আমি
সম্পূর্ণ আমার জন্যই
ব্যক্তিগত একটা টেক্সট
ধীরে ধীরে লিখে চলেছি আমি।
আমাদের আভারগ্রাউন্ড
আমাদের বাড়িগুলো আমাদের ব্যাকগ্রাউন্ড
উজ্জ্বল আভায় ভেসে উঠছে আমাদের আত্মবিশ্বাসী
মুখ, সবাই আমাদের দেখছে।
ওরাই আমাদের ব্যাকগ্রাউন্ড; আমাদেরকে নিয়ে
ওদের যত আশা, আমাদের প্রতি
কনফিডেন্টও তারা, ওরা জানে – ওদের মর্যাদার দিকে
আমাদের প্রখর ভালোবাসা।
আমরাও আমাদের পবিত্র বাড়িগুলোতে
জ্বালিয়ে যাব ভবিষ্যতের আলো
আর জামার পকেটের কালো গোপনের মতো
ধীরে ধীরে যেই ভাবে উইপোকা কাটে
সেভাবেই ভিতর ভিতর কাটতে থাকব ঠিক
আমাদের আন্ডারগ্রাউন্ড!
কাউকে বলব না
কখনোই বলব না।
(কবিতাগুলি ‘ছাঁট কাগজের মলাট’ লিটল ম্যাগাজিনের সংখ্যা ও ‘সেলিমের চোখ’ (ফৃ কর্তৃক প্রকাশিত পুস্তিকা) থেকে সংগৃহীত)
![]()
2 Comments
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.
Drako Shajib
অনেকদিন আগে “শহরের ল্যাপপোস্টে পাকা কাঁকরোল” কবিতাটির প্রেমে পড়ে যাই! তখন জানতাম না কবিতাটি কার লেখা, আজকে অনেকদিন পর কবিকে আবিষ্কার করতে পেরে অদ্ভুত আনন্দ হচ্ছে! ভালোবাসা নেবেন!
মীর অনাবিল
আমার শরীরে অসংখ্য গোপন রোগ
লকলক তারার মতো
ফুটে আছে অন্ধকার আভায়
তবুও যেন বলছে আমাকে,
কত ভাল মানুষের চোখ হতে
দূরে, দূরে থাকা।
ওরাই আমাদের ব্যাকগ্রাউন্ড; আমাদেরকে নিয়ে
ওদের যত আশা, আমাদের প্রতি
কনফিডেন্টও তারা, ওরা জানে – ওদের মর্যাদার দিকে
আমাদের প্রখর ভালোবাসা।
শিরার ভেতর জেগে ওঠা চরগুলোকে
কোনো কেমিক্যাল প্লাবনই ডোবাতে পারবে না।
ইকবাল রোডের দুই সারি বাড়ীর ফাঁকে
কয়েকটা পাকা কাঁকরোল ঝুলে থাকে ইলেকট্রিকের তারে
ভাবি : ওরা কি জ্বলে উঠবে ইলেকট্রন ফিলামেন্টে?
সারি সারি সাদা কামিনী ফুল
ফুলের স্রোত
ড্রেনের বিস্ময়।
এই লাইনগুলো সময়ের সীমানা দিয়ে আবদ্ধ কোন কিছু নয়। চির উন্মুক্ত, চির সবুজ। সেলিমের চোখের কবিতাগুলো কখন লেখা হয়েছে তা আমি সঠিক জানি না৷ তবে তা অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যতে একইভাবে গরম তেলে পানি পড়ার মতো পাঠকের হৃদয়ে ছ্যাঁত করে ওঠানোর ক্ষমতা রাখে৷
অভিনন্দন, কবি আবু আহাসান।
আরও লেখা পাবো সে কামনা করছি।