তোমার ঘরচিন্তা ও অন্যান্য কবিতা

তোমার ঘরচিন্তা ও অন্যান্য কবিতা

খোয়াবের ইশতেহার

কোথাও পালাব না, এই স্বপ্নই বারবার দেখি
যদি বেশি ঝামেলা হয় আমাদের কালো খাহেশগুলা জমায়েত করে একটা পোটকা বানাব
তারপর সেটা সমাবেশ ডেকে সবার সামনে ফুটাব

এরপর আমি ত পাথর হয়ে যাব,
আমার খুন আর কিভাবে মাটিতে গড়াবে!

চোখ বন্ধ করি, আবার নজর দিই দুনিয়াতে
এভাবেই গেথে আছি, আমরা দাড়াব ঘুরে পশ্চিম দিকে
রক্ত অনেক চলে যায়, কতদুর কোথায় যাবে!

যে মাটি তাকে শুষে নেয়,
আমরা তার উপর দাড়ায়ে বলতে পারব,
এই এক নতুন দুনিয়া
কোনো ফ্যাসিস্ট নারি বা পুরুষ একে দখল করতে পারবে না, পারবে না

জালেমের দুকখিত অতিত হায় কখনোই মনে পড়ে না তার,
যেন সে আল্লা হয়ে গেছে,
কুন বলার ভিতর দিয়া তার সালতানাত দাড়ায়েছে

এটা ত আমার জমিন,
তুমি কে হে?
যতই কালাশনিকভ থাকুক তোমার খাজানাতে,
আমি আমার দুই চোখ দিয়ে কখনো বুনা ত বন্ধ করি নাই স্বপ্নের সবুজ শেমলিমা

আমি কবি আর
আমার উম্মতরে খোয়াব দেখাতে
এখনো জানরে বাজি রেখে বেচে আছি,
খোয়াব থেকে কোনোদিন তুমি তারে জুদা করতেই পারবে না

যতদিন খোয়াব আছে তার,
ততদিন সে পথহারা কখনো হবে না

আমি নাচব,
যেভাবে পাথর মেরে নাচে ফিলিস্তিনের সৌরছেলেরা
আমি কবিতা লেখব,
যেভাবে মহান কবিরা শায়েরির ভিতর ধিমধিমে আগুন উসকে দিসিলেন,
আমি বারবার বলব,
নতুন দেশ ও আজাদি পেতে এক দীর্ঘ বিপ্লবের কথা কোনোদিন ভোলা যাবে না

ইয়েমেন- আমাদের এক সাহসি কারবালা

ছোট থেকে শুনলাম,
ইয়েমেন থেকে আসছে ওরা,
আমাদের বাবা হলো ওরা, দাদা হলো
আমরা কেমনে যেন ইয়েমেন থেকে আসলাম এইভাবে

শাম নিয়া অত খবর কোনোদিন রাখি নাই,
এখন ইয়েমেন ভাবলে দেখি সাহস শব্দটা টগবগ করে,
যদিও ইয়েমেন শামের ভিতরে নয়,
তবু রক্ত ও স্বজন আমরা ভাগাভাগি করে নিয়েছি ত

কালাশনিকভ,
তোমার অসরো থেকে গোলাপটা তুলে রাখো
যেন স্বজনের দিকে হায়েনার দাত আমরা খুলে নিতে পারি

কোরান খুললে ইয়েমেনের কথা পাবা,
তুমি যদি কুটুম হয়ে যাও অদের কাছে
দেখবা এক কুমকুমে হাওয়া,
এমনই ইয়েমেন, যেখান থেকে আমি আসছি,
কাবার ডানদিক দিয়ে চলে গেলে এ শহর,
আম, খেজুর আর আঙুরের বাগান ছেয়ে আছে

লাল সাগরের উপর দিয়ে যেতে পারবে না কোনো খুনি আমার স্বজনের দিকে,
আমার যা আছে তা নিয়েই আমি ঈগলের মতো বড় রিদয়
আর সাহসি সিপাহসালার হয়ে এই দেখো দাড়ায়ে আছি

তোমার ঘরচিন্তা

তুমি ত জানো আমরা কিভাবে চলি,
কিভাবে কাধ ঝুকে থাকে হাটার সময়,
কোন পিরানে আরাম লাগে,
সুন্দর একটা ঘরের স্বপ্ন কিভাবে দেখতে থাকি
তাও দুকখো পেয়ে যাও, মন ছোট হয়ে যায় কমিক বাতাসে

দুই চোখে আমার যত ইমেজ জমে আছে, তাও জানো
পিথিবির দিকে যেভাবে তাকাই রঙিন সবজির কথা ভেবে,
তরুণ স্থপতির মতো মিনিমালিস্ট বারান্দায় বসে
ক্যাপসিকামের হলুদ হয়ে যাওয়া দেখি

যখন আসবে সময়
ঘরটা বানাব এভাবে,
যেন হাওয়া ঢুকে মিউজিক করে
যে সময় মন নরম থাকবে,
শায়েরিও করে নিব মজলিস বসায়ে একফাকে

একটা এলাকা বানাব নিজের মতো করে,
মনে মনে কত কত ঘরের ডিজাইন করি
পিতলের বাটি আর জাপানি ছুরির ব্যবহারে
একটা পশুর শহর ছোটখাটো ভাবি,
থাকবে ইমামবাড়া আর উৎসব ঝিলিমিলি,
মেয়েদের গায়ে উড়নার আলোর পজাপতি
আমাদের পরনগুলার ভিতর পতাকার বাতাস ঢুকাব,

আমি যেন কোথাও জন্ম না নিয়াই সেখানের হয়া যেতে পারি
আমি যেন যেখানেই যাব, তার রুহ আমার দেহে ফুকে দিতে পারি

তোমার কানে কানে বলা এইসব ফিসফিস শুনে
ফালগুন নড়েচড়ে উঠে,
সিমাছাড়া বাতাস বয়া যায় এই সাবলিল আবহাওয়া ধরে

এশিয়ার মানুশ

আমার দুনিয়ার কথা বলার জন্য আজকের এ সভা ডেকেছি

আমার সফর শুধু খোয়াবের আশপাশে,
আমার দুইপাশে ঝুলে কালাশনিকভ,
অনেক আওলাদ, তারা সবাই কালো ঘোড়ায় চড়ে,
কখনো আলখাল্লা পরে হাটতেসে হাতে ভেড়ার দড়ি নিয়ে

এশিয়ার নবিদের কথা মনে পড়ে আর আমি আড়ষ্ট হয়া যাই,
সাদা চুল আর দাড়ির বাহারে এক লোক হাটে আর ডাকে ইউসুফ ইউসুফ
এক লোক পানিতে আঘাত করে আর তার সামনে বারোটা পথ হয়া যায়,
আর কখনো কুমারী মেয়ের পেট থেকে জন্ম নেয় আল্লাহর মহান রসুল

তোমার ইতিহাসের সবুজ তুমি নিজেই হাত ধরে আগায়া নাও এশিয়ার মানুশ,
তোমার পিরিতের ভঙিমার সাথে কার তুলনা হতে পারে বলো?

তোমার দেহের সুন্দর আর মেহমানদারিতে মোহিত হয় দুনিয়ার সব লোক,
তোমার ল্যান্ডস্কেপ জুড়ে উর্বর ফসলের ঘ্রান আর পশুদের হাটাচলা,
তোমার এত সব রেখে অন্যদিকে কোন খাহেশে এভাবে তাকায়া থাকো?

আমি ছোট ও অল্প করে বলতে চাই, আমাদের নানাবিধ লোক ছিল
চীন, জাপান, ইরান আর উজবেকিস্তান কিংবা এশিয়ার কত সবুজ এলাকা
সেখানে দীর্ঘ হাটার ইতিহাস, ফালাসাফা আর এক রুহানিয়াত নির্ভরতা,
কোনোকিছুই লুপ্ত হয় নাই ত আমাদের কাছ থেকে

তোমার সিলসিলা তুমি ভালোভাবে ধরো অথবা জেনে নাও এশিয়ার মানুশ
এলম ও রুহের জগত তুমি কোন মাখনের ঘ্রানে রাঙাবা,
আর নাহলে দেখো এক পরাধিন দরিয়া, যার ভিতর মগজ আর চোখ শিজ্ঞির আটকা পড়বে

বুকের ভিতর রাখি সব,
বুকের ভিতর সমস্ত আবহাওয়া,
এশিয়ার বুকে থেকে চারপাশ করি নাড়াচাড়া

এশিয়া এশিয়া
সবুজ কেশরের দোল দোল থেকে রুহের নরম ভঙিমা!

Loading

Leave a Reply

Skip to toolbar