কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব ১ থেকে ৫)
১
ইঁদুর মারার ওষুধ খেয়ে বিড়াল মারা গেছে!
ইঁদুর মারার ওষুধ খেয়ে বিড়াল মারা গেছে! বছর চারেক আগে কলকাতায় কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়, ৫/বি ডা. শরৎ ব্যানার্জি রোডের ঠিকানায় বিড়ালগুলোকে দেখতে গিয়ে দেখি অনেকগুলো বিড়াল! এত বিড়ালের খাবার জোটাতে পুপে হিমশিম খাচ্ছে।
ঢাকায় ফিরে ‘কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় বিড়াল সংরক্ষণ কমিটি’ করে দিই। কুমারখালির বীর মুক্তিযোদ্ধা সাত্তার ভাইয়ের সমর্থনে ও তাকে আহ্বায়ক করে ‘কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় বিড়াল সংরক্ষণ কমিটি’ করা হয়েছিলো, কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি হজব্রত পালন শেষে মক্কা থেকে ফিরে এ পথে আর আসেন নি।
সুভাষের জন্মশতবার্ষিকীর বাংলাদেশ উৎসবের অনুষ্ঠানমালা সামনে এসে গেলে সুভাষ-দার বিড়ালের কথা মনে পড়লো। সম্প্রতি তাঁর বিড়ালগুলো মারা গেছে। দু’একটা ছোট বাচ্চা আছে। তারা মানুষের কাছে আসে না।
খুবই দুঃখজনক ঘটনা যে, বিড়ালগুলো মারা গেছে ইঁদুর মারার ওষুধ খেয়ে! বর্তমানে পুপে লেক রোডের পথের কুকুরদের জন্য খাবার রান্না করে। মানুষ আর কতটুকুই বা পারে! তুচ্ছ মানব, অহংকারী কবিকন্যা শ্রীমতী কৃষ্ণকলি রায় পুপে।
১৯.০৭.২০১৮
২
তাহলে কি আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরণাপন্ন হবো?
কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও শক্তি চট্টোপাধ্যায়- এই তিন কবির প্রথমোক্ত দুজনই বাঙাল, আর শক্তি রাড় বঙ্গের বাঙালি, এবং তিনজনই ব্রাহ্মণ। এই পদ-বিভাজন, নেড়ে হিসেবে, এখনো আমার মগজে পরিচ্ছন্ন হয় নি।
তবে আরেক ব্রাহ্মণ নারী, বিদ্যাসাগর পুরস্কারপ্রাপ্ত শ্রীমতী গীতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে ব্রাহ্মণ পদবাচ্য বোঝানোর অনেক চেষ্টা করে যেটা বুঝিয়েছিলেন সেটা সম্ভবত এই যে, বন্দ্যোপাধ্যায়রাই হলো আসল ব্রাহ্মণ।
সেসময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিরালী ব্রাহ্মণদের সম্পর্কেও জ্ঞান গজিয়েছিলো। এই পিরালীরাও অবশ্য আদতে বাঁড়ুজ্যে, অর্থাৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি ঠাকুরের শেষ বংশধর শ্রীমান লাল্টু ঠাকুরকে বোলপুরের শান্তিনিকেতনে ভর্তিও করেছিলাম। আমরা লাল্টুকে বোলপুর লজে রেখে, একটা মধুচন্দ্রিমায় বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে ঘুরে ঘুরে রাত কাটিয়েছিলাম (এ গল্পের কিয়দংশ আমার ফেসবুক বন্ধুদের আগেই বলেছি) [বন্ধনী-ভুক্ত বাক্য রাখাটা কি জরুরি?] ।
সেই দুষ্টু লাল্টু সাইকেল বা মোটর গ্যারেজ ছেড়ে কলকাতার কোনো নাইট ক্লাবের বারটেন্ডার হয়েছিলো এবং মেদিনীপুর বা দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় হয়তো বিয়েও করেছিলো। সম্প্রতি লাল্টুর ফেসবুক ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করেছি। আরো অ্যাকসেপ্ট করেছি কণিকা হোসেনেরও। উদ্দেশ্য, কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কিছু লেখালেখি করবো।
কিন্তু বাংলার (প্রস্তাবিত) বসু ও ভট্টাচার্য জামানায় আমার ধারণা, সর্বশেষ বাঙালি লিজেন্ড সৌমিত্র মিত্রকে একটা থাকার (খাওয়া না) জায়গা করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম মুনমুনের (মুনমুন কে?) মাধ্যমে। সে চিঁড়ে এখনো ভেজে নি। ভাবছি ঘুরে দাঁড়ানোই ভালো (শক্তি বেঁচে থাকলে এ সমস্যা হতো না)।
তাহলে কি আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরণাপন্ন হবো? কারণ মুখোপাধ্যায়, গঙ্গোপাধ্যায় ও চট্টোপাধ্যায়- এই ব্রাহ্মণ চরিত্রে বাঙালি ও বাঙাল কবিতাবন্ধ উদ্ঘাটন করবো কী করে!
৩
হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
ডা. শরৎ ব্যানার্জি রোডের বাসায় প্রাতঃভ্রমণ করে প্রায় প্রতিদিনই একজন ক্লিনশেভড প্রবীণ আসতেন। সুভাষ ও ভদ্রলোক কি নিয়ে আলাপ করতেন সেটায় আমার কোনো আগ্রহ ছিলো না।
ভদ্রলোকের কণ্ঠটি ছিলো বেশ নিয়ন্ত্রিত; হয়তো পাশেই সোফা-কাম-বেডে আমি ঘুমোচ্ছি দেখে ভদ্রতা দেখাতেন। কিন্তু, সুভাষের কণ্ঠ মাঝে মধ্যেই তার স্বাভাবিক উচ্চতায় প্রতিভাত হলে আমি বুঝতাম সেই ভোরের দর্শনার্থী এসেছেন। আমিও ভদ্রতার বশবর্তী হয়ে তড়িঘড়ি উঠে বাসার ভেতরে ঢুকে যেতাম, হাতমুখ ধুয়ে হয়তো কোনো কোনো দিন আবার সেই বসার ঘরে ফিরে আসতাম আনন্দবাজার পড়ার জন্য।
সেই ফাঁকে, সোফা-কাম-বেডকে আবার সোফায় রূপান্তরিত করতে কবিকন্যা পুপে ব্যস্ত হয়ে পড়তো। ভদ্রলোক মেঝে থেকে তখন সোফায় উঠে বসতেন। তারপর এককাপ চা খেয়ে চলে যেতেন।
একদিন সুভাষ-দা আমাকে বিস্ময়ের সঙ্গে জিজ্ঞেস করলেন, সোহেল তুমি ওকে চেন না?
আমি থতমত খেয়ে উত্তর দিলাম, না-তো!
ভদ্রলোকের মুখেও একটু মুচকি হাসির রেখা খেলে গেলো।
সুভাষ-দা বললেন, আরে, ও-ই তো হেমন্ত মুখার্জী!
সত্যি বলতে কি, হেমন্ত মুখার্জী কে, সেটা সেই মুহূর্তে আমার মাথায় আসছিলো না, কিন্তু বুঝতে বাকি ছিলো না, তিনি যে-ই হোন-না কেন সুভাষের খুব ঘনিষ্ঠ এবং একজন প্রবীণ ব্যক্তি! আমি মাথা নুইয়ে গভীর শ্রদ্ধার ভঙ্গিতে প্রায় জোর করেই পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে করতে আন্দাজ করার চেষ্টা করলাম ইনি `হেমন্ত মুখোপাধ্যায়’ নন তো? তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে, আরে না না বলে বিশুদ্ধ প্রণাম প্রচেষ্টাকে একটু বাধাগ্রস্তই করলেন।
সুভাষ-দা আমাকে দেখিয়ে বললেন, ওর নাম সোহেল, বাংলাদেশের ছেলে, থাকে বাগদাদে ।
হেমন্ত মুখার্জী বাগদাদ শুনে আবার একটু আদ্যোপান্ত আমাকে চেয়ে দেখলেন।
সুভাষ-দা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, গীতা তোমাকে ওর কথা কিছু বলে নি?
আমি কোনো শব্দ উচ্চারণ না করে মুখভঙ্গিতেই বুঝিয়ে দিলাম- না তো!
সুভাষ-দা অবাক ও হতাশ হলেন হয়তো, আর ভাবলেন, তাহলে আমি আর গীতা সারারাত ধরে কীসের ঘুসুর-ফুসুর করি! সুভাষের এমন ঘনিষ্ঠজনের কথা গীতা কিছুই আমাকে বলেন নি!
চা নিয়ে এলে এবার তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কিরে, তোরা সোহেলকে তোদের কাকুর কথা বলিস নি? সোহেল তো ওকে চেনেই না!
ঝামটা মেরে উত্তর দিলো, সোহেল জিজ্ঞেস করে নি তো! কী করে বলবো? তা ছাড়া, হেমন্ত মুখার্জীকে চেনে না এটা একটা কথা হলো!
আমি বেশ লজ্জাই পেলাম। প্রকৃত অর্থে তখনো আমার সঙ্গীতের সঙ্গে তেমন গাঁটছড়া বাঁধে নি। চেহারায় না চিনলেও হেমন্তের গান শুনি নি তা কি হয়! সে যাত্রায় মহান শিল্পী স্বমহিমায় পরিবেশটাকে হাল্কা করে দিয়ে বিদায় নিলেন। গীতাদি এসব শোনার পর সবাই মিলে বেশ হাসাহাসি হলো।
পরবর্তীতে, সুভাষ-দা-ই আমার কাছে হেমন্ত সম্পর্কে তাঁদের তারুণ্যের অনেক স্মৃতিচারণ করেছিলেন। কী করে একজন জিমন্যাস্টকে (হেমন্ত কি সত্যিই কখনো জিমন্যাস্ট ছিলেন?) সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে গড়ে ওঠার সাহস যে তিনি যুগিয়েছিলেন, সেটাও জেনেছিলাম। সুভাষ আর গীতার শুভ বিবাহে কবির নিজের লেখা আর মহাগায়কের কণ্ঠে `কেউ দেয়নি কো উলু কেউ বাজায়নি শাঁখ’ কতবারই না শুনেছি! সুভাষ আর হেমন্ত দুজনেই কলেজ-বন্ধু, আমৃত্যু তাঁদের বন্ধুত্ব ছিলো প্রগাঢ়, সেটা আমি নিজ চোখেই দেখেছি।
এর কিছুদিন বাদেই সব জল্পনা-কল্পনা ছেড়ে আমি এক প্রতিভাময়ী সঙ্গীত শিল্পীর সঙ্গে প্রণয়াবদ্ধ হয়েছিলাম। ফলে, হেমন্ত মুখার্জীর মূল্যও আমার কাছে জরুরি হয়ে পড়েছিলো। আমার নবপরিণীতাকে সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে কলকাতায়, সুভাষের আগ্রহে ও লাস্ট বেঙ্গলি লিজেন্ড সৌমিত্র মিত্রের পরিশ্রমে, গোর্কি সদনে একটা সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিলো। যেখানে নিশ্চয় হেমন্ত মুখার্জীই ছিলেন মুখ্য আকর্ষণ।
গান শুনে বাংলাদেশের সেই নবীন শিল্পীকে অনেক আশীর্বাদ করেছিলেন তিনি, যা ঐ শিল্পীর তারকা হওয়ার সংগ্রামকে প্রায় আকাশে তুলে দিয়েছিলো। হেমন্ত, সুভাষের আগেই শারীরিকভাবে পরপারে চলে গেলেন। সুভাষের জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজনে এই মহাগায়কের কথা মনে পড়লো।
৩১.০৭.২০১৮
৪
রসগোল্লা
সুভাষ-দার মাথার মধ্যে কাজ করছিলো, আমি যেন কলকাতার সঙ্গে একটা ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ি। সেই সুদূর ইরাকে যদি ব্যবসা করতে পারি, কলকাতায় নয় কেন? তাই প্রায়শই নানা প্রকার ব্যবসার প্রসঙ্গ নিয়ে আলাপ করতে ভালোবাসতেন আর আমাকে সেই ব্যবসায় উৎসাহিত করতে সুড়সুড়ি দিতেন।
সাহিত্য, রাজনীতি এসব আলোচনা তো ছিলোই, কিন্তু বেশি ভালোবাসতেন বাংলাদেশকে নিয়ে আলোচনা করতে। কেন যে বাংলাদেশ আর কলকাতার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু হচ্ছে না, এটা নিয়ে ছিল তাঁর যত আক্ষেপ। কলকাতার সবকিছুই অবাঙালিদের হাতে, বাঙালিরা যেন নিতান্তই তেলাপোকার মতো হয়ে আছে।
আর্ট ফিল্ম আর রবীন্দ্র বাহাদুরির পাশে কলকারখানায় বন্ধ- এই যেন কলকাতা! তাঁর ধারণা, আমি যদি এখানে ব্যবসা শুরু করি তাহলে নিশ্চয় টাটা-বিড়লা গোছের কিছু একটা হয়ে যাবো।
আমি সুভাষ-দাকে আশ্বস্ত করি, বাগদাদে ব্যবসা করলেও ইন্ডিয়ান কোম্পানির সঙ্গেই তো করি। ভারতের প্রাচীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘উত্তম সিং দ্যুগল’, যাদের রেজিস্টার্ড অফিস কলকাতা হলেও সব কাজকর্ম হয় দিল্লির অফিস থেকে, তারাই তো আমার প্রিন্সিপাল।
কবি’র এক মারোয়াড়ী বন্ধু ছিলো, আপদে-বিপদে যাঁর কাছে থেকে তিনি আর্থিক সহযোগিতা নিতেন আর সেই মারোয়াড়িকে বাঙালিই মনে করতেন, তাঁর সঙ্গে আমাকে বসিয়ে দেবার নানা উদ্যোগ নিলেন। ভাগ্যিস সেই মারোয়াড়ী কেন যেন তখন বাংলার বাইরে ছিলেন, ফলে আমিও হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।
গীতাদিও মনে-মনে খুশি, কেন-না, তিনি সুভাষের এসব আদিখ্যেতা পছন্দ করতেন না। তাঁর কথা ছিলো- সোহেল তো নিজেই ব্যবসা করছে, অহেতুক ওকে ওই মারোয়াড়ী-ফারোয়াড়ির মধ্যে ঢোকানোর দরকার কী!
একদিন সুভাষ-দা জিজ্ঞেস করলেন, সোহেল, রসগোল্লা কে আবিষ্কার করেছে, তুমি কি তা জানো?
আমি তো অবাক! ‘রসগোল্লা’ আবার আবিষ্কারের একটা জিনিস হলো! জন্মাবধিই তো পথে-ঘাটে রসগোল্লার উৎপাদন দেখে এসেছি! এটাও যে কোনো একজনকে আবিষ্কার করতে হয়েছে তা-তো ভেবে দেখি নি!
আমি ‘জানি না’ বলায়, সুভাষ-দা খুশি হলেন। তাঁর ভুবনমোহিনী সেই মুচকি হাসিটা হেসে হৈ-চৈ শুরু করলেন। গীতাদিকে ডেকে বললেন, শুনেছ, সোহেল রসগোল্লার আবিষ্কারক কে, সেটাই জানে না! হেঁ হেঁ হেঁ….!
গীতাদি হয়তো ভেতরে রান্নাবান্না কিছু একটা করছিলেন- ঘর্মাক্ত অবয়বে ছুটে এসেছিলেন জরুরি ভেবে- বিরক্ত হয়ে বললেন, তাহলে ওকে দিয়ে এবার রসগোল্লার ব্যবসা করিয়ে ছাড়বে! যত্তসব…….! এটাই বলে উনি আবার ভেতরে চলে গেলেন।’
সুভাষ-দার তাতে কিছু এসে গেলো না। রসগোল্লার আবিষ্কার-কাহিনী এবং তার সাফল্য নিয়ে উনি এক নাতিদীর্ঘ বক্তৃতা দিলেন। বাঙালির এই রসগোল্লা সাফল্যে তিনি বড়ই তৃপ্ত এবং গর্বিত বলে মনে হলো।
এবার আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার বাগদাদে রসগোল্লা আছে?
আমি ভেবেচিন্তে বললাম, না! তবে সাদা রঙের গোল একটা কী যেন দেখেছি, যা রসের মধ্যে ফেলে না, চিনি দিয়ে বানানো মনে হয়েছে; তবে কোনোদিন খাই নি।
`ব্যাস, এই তো পাওয়া গেছে! তুমি কলকাতা থেকে রসগোল্লার ব্যবসা করতে পারো বাগদাদে।’ এরপর তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়লেন রসগোল্লার আবিষ্কারক পরিবারের সঙ্গে আমাকে বৈঠকে বসিয়ে দেবার জন্যে। পুপেকে ডেকে ডায়রি থেকে ফোন নম্বর বের করে ফোন করালেন।
পুপের ফোনের কথা শুনে বুঝলাম, দু’বাড়ির মধ্যে যোগাযোগটা খুব নিবিড়। সুভাষ-দা দেখা করতে যাবেন শুনে ওপার থেকে মনে হলো বেশ খুশি হয়েছে। পুপেকে ফোনটা সুভাষ-দাকে দিতে বলায় পুপে বাবাকে ফোন ধরিয়ে দিয়ে হাসতে হাসতে বললো, ‘কাকাবাবু তোমার সঙ্গে কথা বলবে।’
ফোনটা সুভাষ-দা হাতে নিয়ে খুব একটা কথা বলার সুযোগ পেলেন না। ও প্রান্তই কথা বলে গেলো, সুভাষ-দা হ্যাঁ-না, হেঁ হেঁ, ভালো আছে- এরকম কিছু উত্তর দিয়ে গেলেন।
ফোনালাপ শেষে জানা গেলো, আগামীকাল সকালেই যেতে হবে। আমি যে তার সঙ্গে যাবো সেটা আর তিনি বলার সুযোগ পান নি। রসগোল্লা-ওয়ালাদের সুভাষ স্মরণ করেছেন, এতেই যেন তাঁরা বর্তে গেছেন। একেবারে তাঁদের গৃহে যেতে আমন্ত্রণ জানালেন।
পরদিন সকালে, সেজেগুজে আমাকে নিয়ে রওনা দেয়া পর্যন্ত আমরা রসগোল্লায় ডুবে থাকলাম। সন্ধ্যায় ‘রামে’র আসরেও সেই গোল্লাই রস ছড়ালো। সুভাষ-দা রীতিমতো একটা ব্যবসার সুলুক-সন্ধান পেয়ে গেছেন আর আমি অনেক টাকা কামাচ্ছি সেই সূত্রে, সেটা যেন পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছেন! এই গল্পে গীতাদির তাচ্ছিল্য, আর পুপে আমাদের সঙ্গে যেতে পারবে না, সব মিষ্টি আমিই খাবো, সেই হিংসের খোঁচায় আমাদের রাত কাটলো।
কলকাতার কোন্ রোডে, কোথায় সেই রসগোল্লা-গৃহে গিয়েছিলাম, সেটা কি আমি জানি! তবে সেদিন সুভাষ-দাকে পেয়ে এক মধ্যবয়সী গৃহস্বামী খুব খুশি হয়েছিলেন। বোঝা গেলো, অনেকদিন তাদের দেখা হয় না এবং সেটা সুভাষের কারণেই।
বনেদি হিন্দু বাড়ির প্রবীণ ভৃত্য জল ও মিষ্টান্ন দিয়ে গেলো। ভদ্রলোক নিজ হাতে পরিবেশন করে সেই অদ্ভুত আকৃতি ও নতুন স্বাদের মিষ্টান্ন সম্পর্কে সুভাষ-দাকে জানালেন যে, এটা নতুন মিষ্টি, রসগোল্লা নয়, এখনো বাজারে বিক্রি করা হয় নি।
এই সুযোগে সুভাষ-দা আমার প্রসঙ্গ তুললেন। তিনি যে রসগোল্লা দেখাতে আমাকে নিয়ে এসেছেন, সেটা জানার পর ভদ্রলোক দুঃখ প্রকাশ করে বললেন, বাসায় তো কোনো রসগোল্লা নেই!
তারপর যখন শুনলেন সুভাষ-দা রসগোল্লা ব্যবসার প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন, তখন তো তিনি অবাক! এবার তিনি আমার দিকে নজর দিলেন, জিজ্ঞেস করলেন, ইরাকের লোকেরা কি মিষ্টি পছন্দ করে?
আমি ব্যবসায়িক চাতুর্যের সঙ্গে উত্তর দিলাম, খুব পছন্দ করে!
তারপর আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ওখানে কি গরুর খামার আছে বা ওরা কি গরু পোষে?
এবার বিপদে পড়লাম! সত্যিই তো, ওখানে তো কোনো গরুর সঙ্গে আমার দেখা হয় নি! সেটাই তাঁকে জানালাম।
তিনি বললেন, তাহলে ওখানে ছানার মিষ্টি নেই। থাকার কথাও না।
সুভাষ-দা বললেন, দারুণ চলবে রসগোল্লা ওখানে!
ভদ্রলোক জানালেন, তাঁদের রসগোল্লা এখন লন্ডনে যাচ্ছে, ভালোই চলছে।
সুভাষ-দা জিজ্ঞেস করলেন, কীভাবে রসগোল্লা সেখানে যাচ্ছে! পথে মাটির হাঁড়ি যদি ভেঙে পড়ে!
তিনি সাফল্যের হাসি হেসে বললেন, না সুভাষ-দা, আমরা টিনজাত করে পাঠাচ্ছি। এক বছর পর্যন্ত মিষ্টি নষ্ট হবে না। তারপর জানতে চাইলেন, নতুন যে মিষ্টি আমরা খেলাম এইমাত্র, সেটা কেমন লাগলো?
আমরা দুজনেই সেই মিষ্টির প্রশংসা করলাম। তিনি সুভাষ-দাকে বললেন, আমাকে নিয়ে তাঁদের সেলস সেন্টারে যেতে। ক্ষমা চাইলেন, সঙ্গে যেতে পারছেন না বলে। গৃহে কীসের যেন পূজার্চনা আছে। আজ বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না।
আমাকে পরামর্শ দিলেন, আমি কিছু মিষ্টি বাগদাদে এবার নিয়ে গিয়ে ওখানে লোকজনকে খাওয়ানোর পর, রেজাল্ট কী হয় দেখে, তারপর ব্যবসার আলাপ হবে।
খুবই সম্মানের সঙ্গে আমরা সেই গৃহ ত্যাগ করলাম। বিদায়বেলায় গৃহস্বামী আমাকে আড়াল করে সুভাষ-দার পকেটে কী যেন একটা ঢুকিয়ে দিলেন। সুভাষ-দা ‘না না… হ্যাঁ…হ্যাঁ’ করে একটু আপত্তি করলেন। তারপর আমরা ট্যাক্সি নিয়ে সোজা সেই মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে (মিষ্টান্ন ভাণ্ডার কথাটা প্রচলিত হলেও ঠিক না। কারণ ‘মিষ্টান্ন’ মানে ‘মিষ্টি ভাত’, যেটা মূলত ‘পায়েস’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। এখানে ‘মিষ্টির ভাণ্ডার’, ‘মিষ্টির দোকান’ বা সরাসরি ‘বিক্রয় কেন্দ্র’ ব্যবহার করলে ভালো হয়) হাজির হলাম।
কে সি দাস মিষ্টান্ন ভাণ্ডার! এত বড় মিষ্টির ঝকমকে দোকান সেকালে আমার দেখা হয় নি এর আগে। সুভাষ-দাকে দেখেই, রাজকীয় সম্ভাষণে আমাদের সেই আলোচিত বিখ্যাত রসগোল্লা দিয়ে আপ্যায়ন করা হলো। বেশ কয়েক প্যাকেট নানা জাতের মিষ্টি দেয়া হলো সুভাষ-দার বাসার জন্য, আর আমার এক্সপোর্টের জন্য এক কার্টন রসগোল্লা।
ট্যাক্সি ডেকে এনে কর্মচারীরা আমাদের অতীব যত্নের সঙ্গে আমাদেরকে উঠিয়ে দিলেন। বুঝতে বাকি রইলো না, রসগোল্লা-ওয়ালার ব্যবস্থাপনা নিখুঁত। ফিরতে ফিরতে জানলাম, ভদ্রলোক রসগোল্লা আবিষ্কারক হিসেবে পরিচিত ও স্বীকৃত নবীন চন্দ্র দাস ওরফে নবীন ময়রার নাতি, এবং স্পঞ্জ রসগোল্লার ও রসগোল্লা টিনজাত করার প্রযুক্তির আবিষ্কারক তথা কে সি দাস অ্যান্ড সন্স-এর প্রতিষ্ঠাতা কৃষ্ণ চন্দ্র দাস ওরফে কেসি দাসের পুত্রধন! নিজেও তিনি মিষ্টি নিয়ে নিরন্তর গবেষণা করে চলেছেন।
০৩.০৮.২০১৮
৫
প্রথম দর্শন
কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কর্নেল বিশ্বাস রোডের বাসা থেকে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় আমাকে এক প্রকার অপহরণ করেই, শ্রীমতি গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খোঁয়াড়ে বন্দি করে ফেলেছিলেন। আমি তখন অনেক জলকাদা মাড়িয়ে দীর্ঘপথ পরিভ্রমণ করে আমার স্বপ্নের পুরুষ শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে সেই-ই প্রথম খুঁজে পেয়েছি, কোনো এক বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যারাতে। সে কথা, আমার ‘ডিভোর্সকালিন পদ্য ও শক্তিদার স্মৃতি’ পাণ্ডুলিপিতে লেখা আছে, এখানে যা অপ্রাসঙ্গিক।
একটা অনুজ্জ্বল, সংক্ষিপ্ত বসার ঘরে প্রায় ঠাসাঠাসি করে কয়েকজন প্রাতঃস্মরণীয় কবিবন্ধু আনন্দবাজারের ঐতিহাসিক ধর্মঘট নিয়ে উদ্বিগ্ন আলোচনায় মগ্ন। আমি সেখানে অলৌকিক এক তরুণেশ্বর আগন্তুক! পদ্যের রাজা শক্তিকে যেন পেট ভরে দেখছি চোখ দিয়ে!
অন্দরমহল থেকে চশমা চোখে মঙ্গোলয়েড অবয়বে ‘কবির স্ত্রী’ এটা-ওটা নিয়ে আসা-যাওয়া করছেন আর পশ্চিমা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার ভঙ্গিতে খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে জিজ্ঞেস করছেন আমার আদ্যোপান্ত। আমাকে যেমন ওরা কখনো দেখে নি, আমিও ওদেরকে চর্মচক্ষুতে দেখি নি কখনো, কিন্তু আমার চক্ষু স্থির শক্তিতে!
এমন সময়, দরজায় এক কণ্ঠস্বর কোনোা গেলো- শক্তিকে কেউ ডাকছে। রহস্য উপন্যাসের দৃশ্যে সবাই যেন চুপ! চোখে-মুখে প্রশ্ন, কে? দুয়ার এঁটে জেগে থাকা পাড়ায় কে কড়া নাড়ছে?
ইমিগ্রেশন অফিসার দরজা খুলে বললেন, আসুন আসুন! ঘাড় ঘুরিয়ে ঘরভর্তি কৌতূহলীদের জানালেন- সুভাষ-দা, সুভাষ-দা এসেছেন!
শুনে শক্তি ছাড়া সকলেই নড়ে চড়ে বসলো, ঘরে ঢুকলো বিশালকায় এক মানবদেহ!
বিস্ময়কর ঝাঁকড়া চুলের মুকুট পড়া সেই মানুষটার পোশাকে নেই কোনো আভিজাত্য! যেন পায়ে হেঁটে বনবাদাড় পেরিয়ে হাজির হয়েছে কোনো এক পদাতিক!
শক্তির কাছাকাছি আমার গা ঘেঁষে বসার ব্যবস্থা হলো তাঁর। শক্তি-পত্নীর চেহারায় মমতাময়ী ভাব ফুটে উঠলো। সুভাষ-দার বৃষ্টিস্নাত শরীর মুছিয়ে দেবার জন্য ভেতর থেকে শুকনো বস্ত্র নিয়ে এলেন। বোঝাই গেলো, আগন্তুক মহা কেউকেটা কেউ! রাতের কলকাতা শাসনকর্তার অসুস্থতায়, তাঁকে দেখতে এসেছেন।
জানা গেলো, শক্তিদা অনেকদিন ধরে অসুস্থ। সোমরস নিয়ন্ত্রিত শক্তি যেন বিদ্রোহী হয়ে উঠলেন- সুভাষ-দা এসেছে, মীনাক্ষী, আজ একটু দাও!
কী আহ্লাদ, কী কাতরতা শক্তি-কণ্ঠে! সুভাষেরও যেন তাতে সায় আছে- ও একটু-আধটু খেলে কিছু হবে না।
মীনাক্ষী (শ্রীমতি মীনাক্ষী চট্টোপাধ্যায়) তখন প্রায় নিরুপায়। ইমিগ্রেশন অফিসারের ভাবমূর্তি কখন যে উবে গেছে, কেউ লক্ষ্য করে নি। শক্তি’র অসুস্থতায় সুভাষ চলে এসেছে, সেকালের সেই মেট্রো খোঁড়াখুড়ির দুর্গম পথঘাট পেরিয়ে, এ যে কত আনন্দের তাদের জন্য, সেটা দেখে নিলাম গুরুগম্ভীর সান্ধ্য আড্ডায় ঝঙ্কার জেগে ওঠায়।
অনেকক্ষণ ধরে সে আড্ডা চলতে থাকলো। এরই মধ্যে মীনাক্ষী বৌদি সুভাষ-দাকে আমার পরিচয় জানিয়ে দিলেন- শক্তির কবিতার ভক্ত, বাংলাদেশ থেকে এসেছে।
কিন্তু সুভাষের পরিচয়টা তখনো আমার জানা হয় নি। পরিচয় করিয়ে দেয়ার প্রয়োজনই যে পড়ে না, সেটা পরে বুঝেছিলাম। তবে সেই সন্ধ্যায় এটুকু বুঝতে পেরেছিলাম যে, ইনি শক্তিদের সিনিয়র কোনো নমস্য কবি।
পুরো আড্ডাতে, আমি চুপচাপ সুবোধ বালক। কলকাতার লোকাল তরলের বিস্বাদ হজমেই নিজেকে সামাল দিচ্ছি। ভাবছিলাম, আমি যে ‘বিদেশি’ নিয়ে গিয়েছি উপহার হিসেবে, সেটা খুললেই তো আমার ভাবতরঙ্গ জেগে উঠবে। কিন্তু, কবিপত্নী গণসমুদ্রে তা আর বিলীন করতে চান নি। কাস্টমস অফিসারের মতো অন্দরমহলে নিয়ে সিজ্ করে রেখেছেন।
আর ভাবছিলাম, একটা কিছু তো বলতেই হবে। গায়ে গা লাগানো সুভাষ-দাকে-ই কথাটা বলে ফেললাম, কানে-কানে। তিনি কোনো উত্তরই দিলেন না। কী যেন একটা কথা বলছিলেন, সেটাই আরো লম্বা করলেন, আমাকে কোনো পাত্তাই দিলেন না।
পাত্তা না পেয়ে একটু বেকুব বনে যাচ্ছিলাম, ঠিক তখনই সুভাষ-দা ঘাড় ঘুড়িয়ে অন্য কানটি আমার মুখের কাছে এনে, আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আমি তাঁকে কী যেন বলেছিলাম? আমার আর বলার আগ্রহ ছিলো না, তবুও ফিসফিস করে আবার বললাম (অন্যরা যাতে না শুনতে পারে), “আমাদের প্রজন্মের জন্য কী রেখে যাচ্ছেন (যেন আমি প্রজন্মের নেতা বাহাদুর, আহা রে!)?”
সুভাষ গম্ভীর হয়ে গেলেন! ভাবলাম, ভুল হলো কিনা। তিনি আড্ডার আলোচনায় আবার অংশ নিলেন। বুঝলাম, উত্তর পাবো না। কিন্তু, ওমা! ঘাড় না ঘুরিয়েই আমার কানের কাছে মুখ এনে আমার মতোই ফিসফিস করে বললেন- একটা গিঁট মেরে রেখে যাচ্ছি, হেঁ হেঁ হেঁ…..
এবার সকলেরই দৃষ্টি আকৃষ্ট হলো। সবাই বুঝতে পারলো, আমাদের মধ্যে অগোচরে কী যেন কথোপকথন হয়ে গেলো। কিন্তু কেউ কিচ্ছু জানলো না।
তখন অনুপস্থিত সুনীলের (কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়) প্রসঙ্গ চলছে। আমার সেদিকে মনোযোগ নেই। ভেবেছিলাম, আমার প্রশ্নের বিশাল একটা উত্তর দেবেন তিনি, এবং সেই প্রসঙ্গ আড্ডায় ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু না, তিনি প্রশ্নের আকৃতির সাইজেই ছোট্ট উত্তর দিয়েছেন এই বিশাল প্রসঙ্গেও। অনুমান করলাম, লোকটা ধেনো মরিচ!
রাত গভীর হচ্ছে দেখে মীনাক্ষী বৌদি ঝটপট সব কিছুতে একটা ডিসিপ্লিন নিয়ে এলেন। প্রায় সকলেই চলে গেলো, শুধু বিটুদা আর সুভাষ-দা ছাড়া।
রাতের খাবার খেতে সুভাষ-দাকে বলা হলো, কিন্তু তিনি খাবেন না। আমি যেহেতু এ বাড়ির মেহমান, তাই আমাকে খেতেই হলো। সেই প্রথম ‘পটলের দোলমা’ খেলাম, নাম শুনেছিলাম এই রেসিপির, কিন্তু আজই প্রথম পেটে পড়লো!
খাবার পরিবেশনের ফাঁকে মীনাক্ষী বৌদি জানলেন যে, কলকাতায় আমার কোনো পরিচিতজন নেই। একদম অচেনা, গল্পে শোনা এক শহর। শুধু শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে দেখতেই আমি কলকাতা এসেছি, অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। নেই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল দর্শনের তাগিদও!
একটু অবাকই হলেন তিনি, হয়তো সে-কারণেই তাঁর দায়িত্ববোধ থেকে একটু মায়াতেও জড়িয়ে গেলেন। খাওয়া শেষ হলে আমরা ফিরে এলাম বসার ঘরে।
তখন, সুভাষ আর শক্তি কী যেন গভীর তত্ত্ব আলোচনা করছেন, বিটুদা চলে গেছেন। মীনাক্ষী বৌদি শক্তিদাকে বললেন, “শুনেছো, সোহেল তো কলকাতার কিছুই চেনে না-জানে না! একা একা কোনো বিপদে পড়বে না তো? সৌমিত্রকে (চট্টোপাধ্যায় নয়, মিত্র) বললে কেমন হয়?”
শক্তিদা আমার হোটেলের অবস্থান জেনে নিয়ে বললেন, “হ্যাঁ হ্যাঁ, সৌমিত্রের অফিস তো ওর হোটেলের পাশেই। তুমি কাল সকালে অফিসে গিয়ে সৌমিত্রকে ফোন করে দিয়ো (শক্তিদের বাসার ফোনটা নষ্ট ছিল), ও যেনো হোটেলে গিয়ে দেখা করে।”
সুভাষ-দা হঠাৎ করে, অপ্রাসঙ্গিক-ভাবে বলে উঠলেন, “গীতা ওকে খুব পছন্দ করবে! চলো, আমি তোমাকে হোটেলে পৌঁছে দেবো, আমি ঐ দিকেই যাবো।”
শক্তিদা, মীনাক্ষী বৌদিও কিচ্ছু বললেন না। বুঝলাম, সম্মতি আছে। তারপর ‘শক্তি পিপাসা’ অতৃপ্ত রেখেই সুভাষ-দার সঙ্গে বেরিয়ে পড়লাম। আর মনে-মনে ভাবছি, কে সেই গীতা!
তার পরদিনই দেখা হয়েছিলো সেই গীতার সঙ্গে, আর অধুনা ‘লাস্ট বেঙ্গলি লিজেন্ড’ সৌমিত্র মিত্রের’ সঙ্গেও!
০৫.০৮.২০১৮
![]()