মুক্তগদ্য

আম্মার ফুলের বাগান

আম্মার ফুলের বাগান

যে কোন ইউফোরিক ট‍্যাবলেটের সাথে নন-ট‍্যাবলেট বাট ফ্লাওয়ার, ফুল, ফ্লাওয়ারিং প্ল‍্যান্ট, ঘাস জাতীয় গোত্রের ক‍্যানাবিস স‍্যাটিভার ফুল হাল্কা ডোজে কম্বাইন করলে ডিসেম্বরের দীর্ঘ রজনী মনোটনি হারায়। আর মনোটনি হারালে ঝলমল হয়ে ওঠে আরেক পাশ। অন্ধকার, ঠিক পুরা না, পৌনে অন্ধকারে বৃষ্টির মতো মোটামোটা স্নো ঝরে পড়াকে মনে হয় ভ‍্যানগগের অ‍্যামন্ড ব্লসম। এসময়... »

আঁধারে একা

আঁধারে একা

তানভির ভাবছে এবার সাহস করে বেরিয়েই পড়বে। দেখা যাক কী হয়। যদিও রিস্ক নিতে দ্বিধা হচ্ছে। কিন্তু কতদিন আর এভাবে ঘরে বন্দী থাকা যায়? থেকে থেকে সময়-অসময়ে ঘর থেকে বের হয়ে যাবার ইচ্ছেটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। নিঃশ্বাস নেওয়াও একঘেয়েমি হয়ে পড়েছে। বিছানায় কাটে দিন-রাতের বেশির ভাগ সময়। ঘুম ভাঙার পরও ঘাপটি মেরে উটের মতো মাথা গুঁজে বিছানায় পড়ে থাকে। আজ বের হবে ভেবে উঠে বসল। রাত থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি ... »

রোমে বসবাস

রোমে বসবাস

ইতালিতে বসবাসের গত কুড়ি বছরে আমি আমার যেসব লেখা প্রকাশ করছি তার প্রায় সবই ফেসবুকে। এইসব ফেসবুকীয় লেখা থিকা তুলট ব্লগজিন কিছু লেখা নির্বাচন কইরা ঐসব প্রকাশের অভিপ্রায় ব্যক্ত করলে আমি তাতে সামান্য যোজন বিয়োজন করি ও লেখাগুলার বানান পরিমার্জন করি। এই লেখাগুলা ২০১২ থিকা বর্তমান-তক কালে লেখা। ১. পর্তাফর্তুনা কাজে যাব বইলা সকালে ঘর থিকা বাইর অইয়া হাঁইটা মেট্রো রেলের দিকে রওনা দিলাম। সুবাগুস্তা মেট্রো স্ট... »

মা: নিজস্ব সিনেমা হলে একা একা

মা: নিজস্ব সিনেমা হলে একা একা

এক তলা বাড়িটার উঠান থেকা কখনোই দূরের আকাশটারে অতটা দূরের মনে হইতো না, তখনো সাবেকী আমলের এক তলার ছাদে খাড়াইলে লক্ষ্মীবাজারের হলিক্রস চার্চের ক্রসটা দেহা যায়। সকালে বিকালে চার্চের ঘণ্টার আওয়াজও হুনা যায়। এক তলার উঠান থেকা ৪ ধাপের মই বায়া পাকের ঘরের চালে, চাল থেকা দেয়ালের উপর দুই পা দিয়া পার হয়া দাদাভাই এর ঘরের চাল থেকা এক তলার ছাদে গিয়া আমার মাস্তানির আখড়া। পরিবারের চাইরদিকে ছোটকাল থেকা ক... »

সুবর্ণরেখা

সুবর্ণরেখা

সূক্ষ্ম ফাঁকের নেট আর কাঁচের জানালার মাঝখানে, দেড় ইঞ্চি ফারাকের মধ্যখানে একটা টিকটিকির লাশ। মরে শুকায়ে চ্যাপ্টা হয়ে ঝুলে আছে, মাকড়শার বানানো বৃত্তাকার বিস্তারে। বাইরে সোডিয়াম লাইটের ঘন আলো। বৃষ্টি টানা পড়ে যাচ হেই, দ্যাখসো, একটা টিকটিকি মইরা পইড়া আছে। শুধু মরে নাই। মইরা শুকায়া ঝুইলা আছে চ্যাপ্টা হইয়া।আমারে তো বৃষ্টি, বৃষ্টির সাথে আটকায়া থাকতে বাধ্য করতেসে। আমার নি:সঙ্গ লাগতেসে চরম।তুমি তো বাধ্য হও... »

বাড়ি ফেরার গান

বাড়ি ফেরার গান

মধ্যপ্রাচ্য থেকে সবাই আসে পেট্রো-ডলার নিয়ে; সবুজ চাচা ফিরে এলো কব্জিতে পেজার লাগিয়ে। দুবাইয়ের ডাক্তার বলে দিয়েছে—যে-কদিন টিক টিক, তারপর শেষ! সবুজ চাচাকে রাখা হয়েছে পিজি হাসপাতালে। বিলু ফুঁপি পিজির মেট্রন। তার প্রযত্নে দু-সপ্তাহ ধরে আছে। বাড়ির মেয়েরা দুইবেলা সুপ নিয়ে যায়। মিথি আর দোলন বুঝে গেছে, ওদের বাবা বাঁচবে না। ওরা আমগাছের নিচে দাঁড়িয়ে মৃত্যু নিয়ে আলাপ করে। তখন একটা রেলগাড়ি ঝমঝম ক... »

আন্তঃনগর ট্রেন

আন্তঃনগর ট্রেন

হুর হুর বাতাসে চুলগুলা গাছের পাতার লাহান ডানা ঝাপটাইতাসে। চোখ খুইলা রাখতে কষ্ট হইলেও টিপুর ভালো লাগতাসে। দিন শেষের টুকরা টুকরা আন্ধার চারপাশে ছড়ায় পড়তাসে। কী মিহি বাতাস। আন্তঃনগর ট্রেন চলতেসে ঝকাঝক ঝকাঝক ঝকাঝক। চলন্ত ট্রেনের দরজায় দাঁড়ায়া মাথা বাইর কইরা সে হাওয়া খাইতেসে। যদিও এই কারণে বহুবার চেনা অচেনা জনের ধমক খাইসে। তবুও টিপু সুযোগ পাইলেই এ কাজ কইরা একটু সুখ নেয়। আগে যখন স্কুলে পড়তো, মা... »

ভূমিকা: এসো চুল খুলে পথে নামি

ভূমিকা: এসো চুল খুলে পথে নামি

নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের বাংলা গান—গানের নদী চুড়ান্তরকম ভাবে প্রবাহিত হয়। অনেকটা প্রায় বর্ষাকালের নদীর মতো। এই দশকে বাংলা সংগীতের সকল শাখাতেই অগণিত অসংখ্য হৃদয়ছোঁয়া কালজয়ী গানের জন্ম হতে থাকে। এর মধ্যে সবচে বড় বিস্ফোরণ হলো সেই সময়ের ব্যান্ডগুলি। বাংলাদেশে নব্বই দশকের‘ব্যান্ডের গান’তুমুল শ্রোতাপ্রিয়তা লাভ করে। তরুণদের প্রিয় ও হৃদয়ের কাছের হয়ে ওঠে সেই সময়ের ব্যান্ডগুলি। এই দশকের শুরুতে... »

বিনয় : নক্ষত্রের আলো ছড়াতে ছড়াতে

বিনয় : নক্ষত্রের আলো ছড়াতে ছড়াতে

বিনয় মজুমদারের সাথে পরিচয় ম্যারিয়েটার মাধ্যমে। গুলিস্তানের পাশে স্টেডিয়ামের দোতলায় ছিলো দোকানটি। আমাদের গ্রীনরোডের বাসার পাশে ফার্মগেট বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে চেপে ঢাকা স্টেডিয়ামে চলে আসতাম। একদিন বই ঘাটতে ঘাটতে, সেটা ১৯৮৩ কি ৮৪ সাল হবে, “বিনয় মজুমদারের শ্রেষ্ঠ কবিতা”, এই বইটি হাতে পড়ে যায়। ভারতীয় মূল্য ১০ টাকা। আর বাংলাদেশী টাকায় তখন তিনগুণ দামে ইন্ডিয়ান বইগুলো কিনতে হতো। সেই অর্থে ৩০ ... »

ভাস্কর্য 

ভাস্কর্য 

মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে । নন্দিতাকে এই ঝড় -বৃষ্টির মধ্যেই বেরোতে হবে, উপায়  নেই, আর্ট কলেজে যৌথ প্রদর্শনীর উদ্বোধন, সেখানে নন্দিতার তিনটি ওয়াটার কালার আর দুটো পেস্টাল পেইন্টিং রয়েছে । এই প্রদর্শনীটা কিছুটা ভিন্ন ধরণের , এখানে একাডেমিক শিল্পীরা নয় বরং যারা অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে  আঁকা- আঁকি- করেন তাদের নিয়ে এক্সিবিশন ।  নন্দিতার বাবা একজন কবি ছিলেন , ছোটবেলা থেকেই বাড়িতে নানা ধরণের বইয়ের সমাবেশ ,... »

Skip to toolbar