পুরুষালী আলো

পুরুষালী আলো


গুপ্তবিদ্যা

মাছের বেপারি মজনুরে আমি ভুলি নাই। আশির দশকের এক রিহ্যাবে, সে আমারে দিয়াছিল পচা মাছ চিনবার অব্যর্থ গুপ্তবিদ্যা ; যা কাজে লাগায়ে, আমি, সেই থেকে সর্বদা তাজা মাছ কিনে বাড়ি ফিরি, ঠকি না।

লোকাল বাজারের মাউচ্ছারা মাঝে মাঝে আমার দিকে সরু চোখে তাকায়, ব্যাপারটা আমি বেশ উপভোগ করি।

মাছের বেপারি মজনুরে ভোলাটা আসলেই টাফ। অজস্র তাজা মাছের স্মৃতির সাথে সে যেন ঢুকে গেছে আমার মগজে।


রানি-কিচ্ছা

এই শহরে বসন্ত আসে ভিখারিনীর মত ; শুষ্ক, শূন্য, রিক্ত এক ভিখারিনীর মত। তাই দেখে চঞ্চল হয় বাতাস; আর যত গাছ, ফুলপাখি-কীটপতঙ্গ, যত জীব-অণুজীব, তারা তাদের যা আছে তাই নিয়ে দাঁড়ায়ে যায় বসন্তের পথে। তাদের সকলের প্রাণের অর্ঘ্যে ভিখারিনী হয়ে ওঠে রানি; জন্মাতে থাকে গান, ভালবাসার গান।

আর ঠিক তখনি, ওঁত পেতে থাকা মানুষেরা এই সব গান শিকার করে মেলার টাইটেল ধরে। কিচ্ছা বিকায় — র রানি-কিচ্ছা।


রহমত

আষাঢ় আসলেই আমার সেক্স উঠে যায়।
জংলা গাছের মত ব্যাঙের মত মেঘের মত
দেহে ভাব বসে যায়।

কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে
এই মানব মন কখনই শেখে নাই
কোথায় কার কাছে গিয়া কী করে খরচ করে এই ধন।

সমস্ত রহমত মাঠে মারা যায়।


পুরুষালী আলো

নারীদের যা-ই পরিচয়, তা আসলে এক প্রকার পুরুষানুবাদ।

নারীরা ঠিক আলো না, অন্ধকার। আর গাণ্ডু পুরুষেরা সেই নারীরে পাইতেই আলোতে আলোতে ভাসায়ে দিলো দুনিয়া।

যে স্তন যে যোনি যে নিতম্ব ক্লাসিক, তাতে নারীর ‘ন’ও নাই। আছে পুরুষানুবাদ, বাৎস্যায়ন, আছে পারফিউমড গার্ডেন।

যোনি গমন করেও, পুরুষদের অধিকাংশই তাই সমকামী, অথচ তারা তা জানে না। তারা জানে না নারীর কী মন, তাদের লিঙ্গ অস্বাভাবিক।


সিরিয়া

সিরিয়া আসলে কোন দেশ না, সিনেমার নাম, একটা হার্ডকোর ওয়ার-মুভির নাম। এখানে বোমারুরা ছাড়া আর সবই বিবর্ণ, ধূসর। এবং মৃত্যুর অবিশ্বাস্য সব অপমান ধ্বস্ত নগরের সাথে চুরমার হয়ে পড়ে থাকা প্লে-টয়।

আহ, স্ক্রিন অব্যয়। চারিদিকে হাঁক পড়েছে। সিক্ত-চোখ, সিক্ত-সংঘ, সিক্ত-বাসনারা চে-সার্ত্রে-আর্ট আর টি-সার্ট উঁচায়ে কহে সিরিয়া নাকি দেশ, একটা রাষ্ট্র, একটা ভূখণ্ড — আমার বিশ্বাস হয় না, আমি মেলাতে পারি না। সিরিয়া আসলে একটা সিনেমার নাম, সিনেমাই !

Loading

Leave a Reply

Skip to toolbar