-
ছোটগল্প – রমজানের এক সন্ধ্যায়
———————————————-
কাজ করতে করতে যখন ক্লান্ত তখন হঠাৎ পিওন এসে বলে গেল, “ম্যাডাম, আপনার সাথে একজন দেখা করতে আসছে। নিচে অপেক্ষা করছে।”
আমি বিব্রত হলাম একটু। এখন এই মুহূর্তে কারো আসার কথা না, তাও আবার অফিসে। এই মুহুর্তে হোক আর যে কোন মুহূর্তেই হোক, কেউই আসার কথা না। ভাবতে ভাবতে আমি আবার কাজে মনোযোগী হয়ে পরি। ভাবলাম হয়তো কোথাও ভুল হচ্ছে, অন্য কাউকে বলতে গিয়ে আমাকে এসে বলে গিয়েছে অথবা যে এসেছে সে অন্য কাউকে খুঁজতে গিয়ে আমার কথা বলে ফেলেছে। কিন্তু যদি সত্যিই কেউ এসে থাকে, আমার কি গিয়ে দেখা উচিত? ঠিক তখন আবার আমাকে এসে ডেকে গেল পিওন, এবার একটু বিরক্ত হয়েই। আমার আর কি করার! হাতের কাজ সব রেখে নিচে গেলাম। লিফ্ট নষ্ট হয়ে আছে অফিসের আর রোজা রেখে সিড়ি দিয়ে উঠা নামা করতে হচ্ছে। মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেল।
নিচে গিয়ে চারপাশ ঘুরে দেখলাম। কেউই তো নেই। ওয়েটিং রুমে, লবিতে অথবা অফিসের বাইরেই রাস্তায়, কাউকেই দেখতে পেলাম না। রিসিপশনিস্টকে জিজ্ঞেস করলে সেও কিছু বলতে পারলো না। পিওনের উপর রাগ হলো। তারপর নিজের উপর। নিশ্চয় যে এসেছিল সে তার মানুষের সাথে দেখা করে চলে গিয়েছে, পিওন ভুলেই আমাকে এসে বলে গিয়েছে। রমজান মাস নাহলে মুখটাই খারাপ হয়ে যেত এখন। গরম মেজাজ নিয়ে যখন আবার উপরে উঠতে যাবো তখন পেছন থেকে কে যেন কাধে টোকা মারলো। একবার দুইবার তিনবার। মাথা ঠান্ডা রেখে তবুও বিরক্তি নিয়ে ঘুরে তাকালাম।
যা হলো তা আমি আশা করিনি কল্পনাতেও। মুহূর্তেই রাগ আমার পানি হয়ে গেল আর অবাক হওয়ার কারণে কি থেকে কি করবো ভেবে উঠতে পারছিলাম না। খুশি হয়েছিলাম? হয়েছিলাম বোধহয় তবে সেটা বুঝে উঠার আগেই মনে হলো চারপাশে সবাই তাকিয়ে আছে। হুট করেই এভাবে একজনকে জড়িয়ে ধরার চিত্র নিশ্চয় সচরাচর কেউ অফিসে দেখে না! তাই আমাকে জড়িয়ে ধরে রাখা রোহানকে জোর করেই ছাড়ালাম কিন্তু তখন আবার আরেক কাহিনী করলো সে। ঠিক যখন আমাকে ছাড়বে তখন আমার ঘাড়ে একটু চুমু বসিয়ে দিল আর আমার সামনে দাঁড়ালো। আমার চোখ কপালে উঠে গেল। কেউ দেখেছে কিনা সেটা দেখার মত সাহস করতে পারলাম না। কিন্তু মহাশয় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাসছেন।
“তুমি হঠাৎ এখানে? এই সময়ে?”
রোহানকে আমি প্রশ্ন করলাম। আমার অফিসে কখনো সে আসে না। আমি অনেক অনুরোধ করেও কখনো তাকে আমার অফিসে নিয়ে আসতে পারি নি, বসের সাথে পরিচয় করাতে পারি নি আমার স্বামীর আর এটা নিয়ে একটা চাপা অভিমান আমার সবসময়ই কাজ করতো তার উপর। অদ্ভূত কোন কারণেই হয়তো সে আসতে চায় নি। আমি জানি না। অনেকবার জিজ্ঞেস করার পরেও রোহান আমাকে কোন উত্তর দেয় নি। তাই আমিও জোরাজুরি করা বন্ধ করে দিয়েছি। কিন্তু আজকে বিয়ের ছয় মাস পরে হঠাৎ সেই রোহান আমার অফিসে কিভাবে চলে আসলো?
“একসাথে ইফতার করবো আজকে আমরা। তুমি তোমার সব কাজ শেষ করে নাও তাড়াতাড়ি, আমি এর মাঝে তোমার বসের সাথে একটু কথা বলে আসি।”
আমি আবারও অবাক হলাম। একটু না, অনেক অবাক হলাম। আজকে সূর্য কোন দিক থেকে উঠেছে? রোহান হঠাৎ এরকম আচরণ করছে কেন? রোহানের কপালে হাত রাখলাম তার জ্বর হয়েছে কিনা দেখার জন্য কিন্তু সবই তো ঠিক আছে। তাহলে এরকম করছে কেন সে?
আমার চাহনি দেখে নাকি নিজে থেকেই জানি না, রোহান আমাকে একটু ব্যাখ্যা করলো তার কাজের পেছনের কারণ।
“আজকে এদিকেই কাজ ছিল আমার। ভাবলাম একসাথে ইফতার করি আজকে। আমাদের তো বিয়ের পরে প্রথম রমজান, একটু তো সেলিব্রেট করাই উচিত। আর তুমি এতো করে আসতে বলতে, সবার সাথে দেখা করতে বলতে, চলে আসলাম তাই আজকে। সবার সাথে দেখাও হবে, তোমাকেও সাথে করে নিয়ে যাবো। ঠিক আছে?”
আজকে একটার পর একটা শক রোহান আমাকে দিয়েই যাচ্ছে। এই অত্যাচার কেন আমার উপর? মাথা ফেটে যাচ্ছে আমার! যাই করছে সে যেই কারণেই করুক, হঠাৎ তার চিন্তার মধ্যে আমার অফিসে আসার কথা কিভাবে আসলো? রোহান কি সত্যিই এসব ভেবেই আসলো নাকি অন্য কিছু?
রোহান এতটা রোমান্টিকও না, বিয়ের পরে একবার কি দুবার আমরা বের হয়েছিলাম তাও বাড়ির সবার জোরাজুরিতে নাহলে নিজে থেকে রোহান কখনোই কিছু করতো না। তাই আজকে ইফতারে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটাও হজম হচ্ছে না ঠিক মত। কোন গণ্ডগোল হবে নাকি আজকে?
“কি হলো? দাড়িয়ে দাড়িয়ে কি ভাবছো? যাও। শেষ করো সব। আমাদের বের হতে হবে।”
“তোমাকে বসের কাছে নিয়ে যাই চলো।”
রোহানকে নিয়ে আগাবো যখন পিওন সামনে এসে দাঁড়ালো আমাদের।
“স্যারকে আমি নিয়ে যাচ্ছি ম্যাডাম, আপনি আপনার কাজ শেষ করেন।”
রোহান পিওনের সাথে বসের রুমের দিকে চলে গেল। লিফ্টের কারণে বস অস্থায়ীভাবে নিচতলার কেবিনে চলে এসেছে তাই রোহানকে ঢুকতে দেখলে আমিও উপরে চলে যাই।
কাজ সব শেষ করতে আরো দেড় ঘন্টার মত লেগে গেল। যত দ্রুত করার চেষ্টা করি, তত যেন কাজ আরো হাতে এসে পরে। যাই হোক, অবশেষে সব শেষ করে রোহানের সাথে বের হয়ে পরলাম। স্টার কাবাবে নিয়ে এসেছে আমাকে আর এখন আমরা বসে আছি খাবার অর্ডার করে। ঢাকা শহর আমি বেশি একটা চিনি না ভালো মত। চট্টগ্রামের মেয়ে আমি কিন্তু বিয়ে করে এখন ঢাকায় আসতে হয়েছে। আমার অফিসের একটা ব্রাঞ্চ এখানে থাকায় বদলি করে চলে আসতে পেরেছি নাহলে চাকরিটাও ছাড়তে হতো।
“তোমার কাজ কর্ম কেমন যাচ্ছে?”
নীরবতা ভেঙ্গে রোহান কথা বললো। এই প্রথম তাকে ভালো মত খেয়াল করলাম। একটা নীল টি শার্টের উপরে সাদা শার্ট পরেছে, বুক পর্যন্ত বোতামগুলো লাগানো আর সেখানে তার গলায় আমার দেওয়া লকেটটা ঝুলছে। সাধারণত লকেটটা শার্টের ভেতরেই রাখে সে সবসময়, বাসায় গেলে মাঝে মাঝে চোখে পরে যদিও সারাক্ষণই তার গলায় থাকে কিন্তু আজকে যেন গর্বের সাথেই এটা সবাইকে দেখিয়ে বেড়াচ্ছে। সেই সাথে চুলে জেল দিয়েছে, হাতে ঘড়ি আর মুখের নিচে হাত দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। রোহান আর আমার দৃষ্টি এক হতেই সে চোখ তুলে ইশারায় প্রশ্ন করলো আবার। আমি একটু গলা পরিষ্কার করে নিলাম। আজকে এত মাস পরে তার এত আদিখ্যেতা কেন সেটাই বুঝতে পারছি না। ভালোই তো যাচ্ছিল সময় দুজন শুধুই একে অন্যের জীবনে থেকে, কোন রকম রোল প্লে না করে। শুধু জানি সে আছে, এ ছাড়া আর কিছুই নেই আমাদের মাঝে। আমি শত চেষ্টা করেও তার কাছে যেতে পারি নি তাই ছেড়ে দিয়েছি তাকে তার হালে। ভাগ্যে যা আছে তাই হবে।
“ভালোই যাচ্ছে অফিস। কাজের চাপ বাড়ছে দিন দিন।”
“তাই তো চোখের নিচে কালি পরেছে। পার্লারে যাও না তুমি? মেয়েরা তো সাধারণত খুব সচেতন হয় সেসব বিষয়ে।”
“তুমি খুব জানো মেয়েদের ব্যাপারে!”
“জানতে হয়, বোন আছে একটা বাসায় আমার।”
“ওহ।”
এরপর আবার নীরবতা ছেয়ে গেল। এরকম কেজুয়াল কথোপকথন আমাদের মাঝে হয় নি কখনো, পরিবারের কোন সদস্য ছাড়াও আমরা দুজন একা হই নি কখনো। তাই আজকে অস্বস্তি হচ্ছে তা সত্যি কিন্তু রোহান যদি এক পা এগোতে পারে, আমারও এগিয়ে যাওয়া উচিত। রোহানের দিকে তাকাতেই খেয়াল করলাম সে তার চোখ সরিয়ে ফেললো। এতক্ষণ দেখছিল আমাকে?
“তো বললে না, তুমি পার্লারে যাও না?”
রোহান আবার একই প্রশ্ন করলো।
“না। আমার ঠিক যাওয়া হয় না। পার্লারে একবার যাওয়া শুরু করলে সেটা চালিয়ে যেতে হয় আর আমি রেগুলার যেতে পারবো না। তার উপরে আমার দরকার পরে না।”
“তোমার যাওয়া উচিত। অন্তত মাসে একবার। একটা হেয়ার ট্রিটমেন্ট, একটু মাসাজ আর স্পা। এই কয়টা জিনিস করা উচিত। এটা রেগুলার না করলে কোন ক্ষতি হয় না কিন্তু যতবারই তোমার পক্ষে করা সম্ভব হয় যদি করো, দেখবে খুব ভালো লাগবে। কাজে, কর্মে, জীবনের সব অধ্যায় আরো বেশি ফোকাস করতে পারবে কারণ তোমার মন ও শরীর দুটোই ভালো থাকবে।”
একটানা কথাগুলো বলে থামলো রোহান। জবাবে আমি শুধু মাথা নাড়ালাম। পার্লারে যাওয়া নিয়ে এত কথা? আর বেশি কিছু বলার সুযোগ হলো না, আজানের সময় হয়ে গেল আর আমরাও ইফতারের প্রস্তুতি নিলাম।
এখানের খাবার বেশ ভালোই আমার মতে। চিকেন তো আমার সবসময়ই পছন্দ আর সেই সাথে তাদের চা বেশ ভালো লেগেছে। খাওয়া শেষ করতে করতে রাত নয়টা বেজে গেল। কিন্তু রোহান তারপরেও বসে থাকলো, পাশের চেয়ারে এক হাত রেখে আরাম করে বসে আছে আর এক নাগারে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমার কেমন যেন লাগছিল। এভাবে কেউ কখনো আমার দিকে তাকিয়ে থাকে না এতটা সময়, রোহান তো কখনোই না। আমি আমার মত করে ব্যাগ গুছিয়ে নিলাম, আয়নায় একটু দেখলাম নিজেকে, পানি খেলাম, চুলগুলো ঠিক করলাম, হাত ঘড়িতে সময় দেখলাম কিন্তু পুরোটা সময় জুড়ে রোহানের চোখ আমার উপরেই ছিল। কি হচ্ছে কিছু বুঝতে পারলাম না আর যেই আমি কিছু একটা বলবো তখন রোহান টেবিলের উপরে থাকা আমার হাত তার হাতের মুঠোয় নিলো। এতে সে আমার আরো কাছাকাছি চলে এসেছে আর আমার দম যেন একটু বন্ধই হয়ে আসলো। সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আমার হাতে চুমু খেলো। এই নিয়ে দুবার, তাও একদিনে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে। রোহান এরকম অদ্ভূত আচরণ কেন করছে?
“রুপকথা, আমি ঘুরিয়ে পেচিয়ে কথা বলতে পারি না। কোন কথাই আসলে বলতে পারি না, সেটা তুমি এতদিনে নিশ্চয় বুঝতে পেরেছো। কিন্তু কিছু কথা আজকে বলতে চাই নাহলে পরিণতি কি হবে তা আমি ভালো করেই বুঝতে পারছি। তাই সরাসরি বলে দেবো আজকে সব কথা।”
এতটুকু বলে রোহান থামলো। সে আর কি নার্ভাস হবে? তার থেকে বেশি আমিই নার্ভাস। রোহানের কি কোন রোগ আছে? বড় কোন গোপন কথা কি সে বলতে যাচ্ছে? এমন কি কিছু আছে যেটা না জানিয়ে ধোকা দিয়ে আমাকে বিয়ে করেছে? ঢোক গিললাম আমি আর খেয়াল করলাম রোহানের দৃষ্টি আমার গলার দিকে চলে গেল। বড় একটা নিশ্বাস নিয়ে আমার হাত আরো জোরে চেপে ধরে রোহান আবার আমার চোখের দিকে তাকালো।
“আমি তোমাকে ভালোবাসি রুপকথা। বিয়ের রাতেই আমি তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু বলতে পারি নি। সাহস করে উঠতে পারি নি। আর বলতে পারছিলাম না বলেই নিজের উপর আরো রেগে ছিলাম। সেই রাগ বোধহয় তোমার উপরেও ঝেড়েছি তাও তুমি কিছুই বলো নি আমাকে। তোমাকে যেদিন প্রথম দেখেছি তার আগে থেকেই আমি তোমাকে ভালোবাসি। মায়ের হাতে প্রথম তোমার ছবি দেখার পর আমার কি যেন হয়ে যায়, আমি নিজে চট্টগ্রাম চলে যাই তোমাকে দেখার জন্য, আমার কেন কি হচ্ছে সেসবের কারণ খোঁজার জন্য আর সেদিন তোমাকে যখন প্রথম নিজের চোখে দেখলাম তখন উত্তরটা আমি পেয়ে গিয়েছিলাম। এরপর আর একটুও দেরী করি নি। আল্লাহর রহমতে তুমিও বিয়েতে অমত দাও নি কিন্তু এত ভালোবেসে যাকে বিয়ে করলাম তাকে ভালোই বাসতে পারছিলাম না। খুবই কষ্ট লাগছিল, তোমাকেও কষ্ট দিচ্ছিলাম জানি। আসলে, আমি কখনো মেয়েদের সাথে মিশতে পারতাম না। দূরে দূরে থাকতাম তাই তোমাকে ভালোবাসলেও তোমার সাথে সহজ হতে পারছিলাম না। তার উপরে একটা ভয় কাজ করতো যে তুমি কি সত্যিই নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছো নাকি পরিবারের কথায়। তুমি কি অন্য কারো সাথে জড়িত ছিলে, কাউকে কি ভালোবাসতে, কোন কিছুই না জেনে তোমাকে বিয়ে করে নিয়ে আসলাম। সেটার জন্য আমাকে ক্ষমা করে দিও প্লিজ কিন্তু বিশ্বাস করো, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। জানি না তোমার উত্তর কি হবে কিন্তু আর যাই হোক, আমি তোমাকে হারাতে পারবো না তাই তো আজকে কথাগুলো বলে ফেললাম। নাহলে কি হতো ভবিষ্যতে কে জানে! অপেক্ষা শুধু এখন তোমার উত্তরের।”
খুশি হবো নাকি অভিমান করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না তবে আর যাই হোক, আল্লাহ যে আমার জন্য শ্রেষ্ঠ একজনকে পাঠিয়েছেন সেটায় আমার কোন সন্দেহ নেই আর। বিয়ের পরে স্বামী যখন স্ত্রীকে ভালোবাসার কথা বলবে, আবার তার কাছ থেকে উত্তরের অপেক্ষা করবে, এভাবে হাতে হাত রেখে বসে থাকবে কাতর এক চাহনি নিয়ে তখন কোন বলদ মেয়েই পারবে সেই ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে। ভালো লাগছে ভেবে যে আমার স্বামী তাহলে সত্যিই আমাকে চায়, আমার মত। এবার গল্পটা তাহলে বেশ জমবে।
—————————————————–
–সমাপ্ত–1 Comment
Friends
স্মৃতি রানী রত্না
@srratna1990
Nipun Chandra
@nipunch
Namshi Nahin
@namshi-nahin
ভাস্কর
@vaskarchou
ভাস্কর
@vaskarchou
ভাস্কর
@vaskarchou
ভাস্কর
@vaskarchou
Prithula Zaman
@prithula
AdabenTatali
@adabentatali

সুন্দর রোমান্টিক গল্প। বেশ ভালো লাগলো। শুভেচ্ছা নেবেন।