Profile Photo

Shofi-MuhammadOffline

  • Shofi-Muhammad
  • Profile picture of Shofi-Muhammad

    Shofi-Muhammad

    4 years ago

    চাপকল থেকে পানি নিয়ে ফিরছিলেন বড় ভাইয়া। জীর্ণ-শীর্ণ অন্ধকার পথ। সন্ধ্যার রাত্রি। পাশে রান্নাঘরের উনুনে জ্বলতে থাকা আগুনে নিভু নিভু প্রকৃতি। হঠাৎ থমকে দাঁড়ান তিনি। কোত্থেকে যেন একটা অদ্ভূত শব্দ ভেসে আসছে। কৌতূহলবশত রান্নাঘরের পিছনে নজর বুলাতেই কিছু একটা চোখে পড়ল তাঁর। ঝাপসা অন্ধকারে বাঁশবনের ধারে কে যেন দাঁড়িয়ে কাঁদছে। ক্রমশ বাড়ছে কান্নার গতি। কান্নার বিকট শব্দ রাতের সুশান্ত পরিবেশকে অশান্ত করে তুলেছে। ভাইয়া তার পিছু নিতে উদ্যত হলেন। পরক্ষণে ভাবলেন, যদি তাঁর কোনো ক্ষতি করে? এমনটা ভেবে দ্রুত ছুটলেন কাছারি ঘরের দিকে।

    বেশ কিছুদিন ধরে গ্রামে অদ্ভুতসব ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। কখনো চাপা কান্নার আওয়াজ,কখনোবা টিনের চালে হাঁটার শব্দ বা গভীর রাতে দরোজায় খট-খটানি গ্রামবাসীকে করে তুলেছে কৌতূহলী। হাজারো চেষ্টা শেষেও বিষয়টি সমাধা করতে পারেনি কেউ।

    সে রাতে কাছারি ঘরটা ছিল মহাব্যস্ত। ভাইয়া বন্ধুদের সাথে মুড়ির আড্ডা জমিয়েছিলেন। সবাই ভাইয়ার পানি নিয়ে আাসার অপেক্ষা করছিল। এমন সময় দৌড়ে কাছারিতে প্রবেশ করেন তিনি। হাঁপাচ্ছিলেন খানিকটা। বন্ধুদের বিষয়টি বলামাত্রই সবাই লাঠি সোটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে।
    আমি তখন ফুপির ঘরে। ফুফাতো বোন নাবিলা পাশে বসা। বয়স আট কি নয় হবে। তার নয়; আমার। তার তো তখন ঘুম পাড়ানি গান শুনে ঘুমিয় পড়ার বয়স। তার সাথে ‘এক দেশে ছিল এক রাজা’ টাইপ গল্প জুড়ে দিয়েছিলাম। আচমকা শোরগোল পড়ে গেল। লোকদের চেঁচামেচিতে সরব হয়ে উঠল পুরো এলাকা। কি হয়েছে জানার জন্য দৌড়ে ঘর ছেড়ে বেরুলাম। ততক্ষণে বাঁশবনে উপচে পড়া ভিড়। সবাই ক্রন্দনকারীকে খোঁজছে। তন্ন তন্ন করে।যেন চিরুনী অভিযান! গ্রামের সবাই আজ একেকজন ব্যাজহীন পুলিশ। মাঠ পর্যায়ে চলছে তার প্রশিক্ষণ। নাহ, সে উধাও। ঘন আঁধারের বাঁশবনের আড়ালে ভারি আলোর টর্চ জ্বেলেও কিছুই দেখতে পেলোনা তারা। বহু খোঁজা-খুঁজির পর ব্যর্থ হয়ে সবাই বাড়ির পথ ধরল।

    আমাদের বাড়ির পাশে জেঠীদের বাড়ি। জেঠীমা সে রাতে উঠোনে বসে তসবি গুনছিলেন। হেলে দুলে। নিচে চাটাই বিছানো। পাদুটো ছড়ানো সামনের দিকে। দৈনন্দিন রুটিন তাঁর। সেদিনও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। আকস্মিক রাতের আকাশ ভ্রু কুঞ্চাল। তার চেহারা রূপ নিল কালো থেকে নিকষ কালো আধারে। শুরু হলো ঝড়। ঝড়ের ঝাপটায় গাছপালা ভেঙে পড়ার উপক্রম। আকাশ যেন অনবরত তার সমূহক্রোধ ঝেড়েই চলেছে। বিকট শব্দে কাঁপিয়ে তুলছে পুরো জনপদ।
    জেঠিমা তড়িৎগতিতে উঠে পড়লেন। চাটাই গুটিয়ে ঘরের দিকে অগ্রসর হতেই টনক নড়ল তাঁর। কেউ একজন জোরকদমে পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। অন্ধকারে কিছুই দেখাচ্ছেনা। পরিচয় জানতে চেয়েও কোনো সাড়া পাননি তিনি। ঘর থেকে টর্চ নিয়ে দ্রুত তার পিছু নিলেন। কিছুদূর যেতেই তাঁর মনে হল,কেউ পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। ঘুরে টর্চ ফেলামাত্রই থমকে গিয়ে চমকে উঠলেন। আপাদমস্তক সাদা চাদর মুড়ানো একটা ছায়ামূর্তি চোখ বড় করে তাকিয়ে আছে। ভয়ংকর তার চোখ। যেন আগুনের ফুলকি বেরুচ্ছে । চেহারার বা পাশটা আগুনে পুড়ে গেছে হয়তো। ধীরে ধীরে সেটি জেঠিমার দিকে এগুতে লাগল। ভয়ে আত্মা কেঁপে উঠল জেঠিমার। থরথর করে কাঁপছেন তিনি। ধপাস করে হাত থেকে পড়ে যায় টর্চটি। জেঠিমা জোরে চিৎকার দিতেই ছায়ামূর্তিটি মেইন গেটের দিকে দৌড়ে যায়। চিৎকার শুনে লোকজন ওই গেট দিয়েই বাড়িতে ঢুকে পড়ে। আজব কাণ্ড! সে তো এখান দিয়েই পালাল। গেল কোথায়? ইত্যবসরে নেমে এল বৃষ্টি। মুষলধারে। মধ্যরাত অবধি চলল এ বারিধারা। তারপর শান্ত হল পরিবেশ। শান্ত হল সবকিছু।

    পরদিন। ভোরবেলা। মসজিদে মুসল্লীরা কাতারবন্দি হয়ে আছে। ইমাম সাহেবের আপেক্ষায় সবাই। বড্ড দেরি হয়ে গেল। কিন্তু, ইমাম সাহেব এলেননা যে?,,সবাই ভাবল, বোধহয় তিনি ঘুমিয়ে আছেন। মেঘলা রাতের কড়া ঘুম তাঁকে পেয়ে বসেছে নিশ্চয়ই। একজন ইমামকে ডাকতে তাঁর ঘরে গেল। দরজা খোলা পেয়ে ভিতরে ঢুকল সে। অবাক কাণ্ড! হুজুর তো নেই,তার উপর ঘরের সবকিছু কেমন যেন এলোমেলো হয়ে আছে। ঘরের কোণে পিটপিট জ্বলতে থাকা কুপিটা নিস্প্রভ হয়ে যাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। আশেপাশে কোথাও তার ছায়া পর্যন্ত নেই। এদিকে নামাজের সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। অগত্যা সে মসজিদে ফিরে এল। নিজেরাই জামাত করে সবাই যে যার বাড়িতে ফিরে গেল।

    ঘন্টাখানিক পর। সবেমাত্র সূর্য তার কিরণ ছড়িয়েছে। মেঘের আড়াল ভেদ করে পূবাকাশে হেসে উঠেছে সূর্য। গ্রামের কৃষক বরকত চাচা। কোদাল কাঁধে গোরস্থানের পাশ কেটে হেঁটে যাচ্ছেন। রাতের বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমায় তিনি আজ ভীষণ খুশি। খুশির তালে, তালের খুশিতে বেশ হেলেদুলে চলছিলেন। কিন্তু, কী হল? খুশির তাল টিনের চাল হয়ে গেল। গোরস্তানের শেষ সীমানায় চোখ ফেলতেই একটি ঝুপড়িতে আটকে গেল তার দৃষ্টি। ধবধবে সাদা কিছু একটা দেখাচ্ছে। কৌতূহলবশে ধীর পায়ে সেখানে এগিয়ে গেলেন। ঝুপড়ির মুখে একটা সাদা চাদর ঝুলছে। চাদর সরাতেই আঁৎকে উঠেন তিনি। আরে! এইডা আমগো ইমাম সাব না?.,,ভারী কিছুর আঘাতে কেউ তার মাথা থেতলে দিছে। আগুনে পুড়ে গেছে চেহারা বাঁ দিক।

    ইমাম সাহেবের লাশ দেখে ঘাবড়ে যান বরকত চাচা। ভয়ে তার শরীর হিম শীতল হয়ে গেল। কাঁপতে লাগলেন তিনি। কোদালটা ফেলে কোনোমতে হাঁপাতে হাঁপাতে লোকালয়ের দিকে ছুটলেন।
    কিছুক্ষণ পর। গোরস্তানে ভিড়। ছোট-বড় সবাই সমবেত হল ঝুপড়ির মুখে। আমি ভাঙ্গা হাত নিয়ে সবার পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। বড্ড ভয় করছিল। রাতের ঘটনায় তখনো গা শিউরে ওঠছিল আমার। এরই মাঝে পুলিশ এসে হাজির। বরুড়া থানা প্রধান ফরহাদ। আকারে কিছুটা বেঁটে। তার উপর ইয়ে বড় ভূরি! আস্ত একটা হাঙ্গর বোধহয় ভিতরে সাতরিয়ে বেড়াচ্ছে। গজগজ করে পান চিবুচ্ছিলেন তিনি। পানের পিকে লাল হয়ে আছে গোঁফগুচ্ছ। কেশবিহীন মুণ্ডুতে বয়স বোঝা দায়,তবে চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ বিদ্যমান।

    তিনি ভিড় ঠেলে লাশের কাছে এলেন। হাতে গ্লাভস লাগিয়ে হাতড়াতে লাগলেন পড়ে থাকা নিথর দেহটাকে। ক্যামেরায় ফটোও নিলেন কয়েকটি। তারপর হুযুরের ঘরে এলেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে কামরাজুড়ে তল্লাশি চলল। সেলফে থাকা বইগুলো ঘেঁটেও কোনো ক্লু মিললনা। হঠাৎ ঘরের কোণে থাকা কুপিটার দিকে চোখ পড়ল তার। কেন জানি অদ্ভুত লাগছিলো সেটিকে। ধীরপায়ে সেটির কাছে যেতেই অমনি তার মাথা ঘুরতে লাগলো। উদ্ভট একটা গন্ধ নাক দিয়ে ঢুকল মনে হচ্ছে।। দম বন্ধ হয়ে আসছিল তার। কাঁশতে কাঁশতে হেঁচকি পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। কালক্ষেপণ না করে অতিদ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। তারপর এলাকার মুরুব্বিদের থেকে শুনলেন গত রাতের ঘটনা। সবশেষে তার মনে হল, এ যাবৎ ঘটিত সব ঘটনা যেন একই সূত্রে গাঁথা, কিন্তু কী সেই সূত্র? অনেক ভেবেও ফলাফল দাঁড়ালো যাকে বলে “শূন্য”। নিরুপায় হয়ে থানার পথ ধরলেন ফরহাদ স্যার। মৃতদেহকে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠালেন ময়নামতি মর্গে।

    ইমাম হত্যার বেশ কদিন পর। আমি বাগানের পথ ধরে হাঁটছিলাম। নাবিলা হাঁটছিল আমার হাত ধরে। তখন ছিল দুপুর। প্রখর রোদ্দুর। দীর্ঘ ব্যস্ততা শেষে গাছের ছায়ায় জিরিয়ে নিচ্ছে কৃষকরা। রোদের প্রকট থেকে বাঁচতে গাঁয়ের ছেলেরা পুকুরে লাফিয়ে পড়ছে। সাঁতরিয়ে বেড়াচ্ছে পুরো পুকুর। হাঁটতে হাঁটতে মসজিদের কাছে চলে এলাম। আচমকা একটা খচখচে আওয়াজ কানে বাজল। একটু খটকা লাগল মনের ভিতর। ব্যাপারটা পাত্তা না দিয়ে পুণরায় হাঁটা শুরু করলাম। আবারো একই আওয়াজ! ইমাম সাহেবের ঘরের পিছনের ঝোপঝাড় থেকে আসছে সেটা। অবুঝ মন কেন যেন সেখানে যেতে আগ্রহী হল। নাবিলার কানে ফিসফিস করে বললাম,
    _ তুই একটু দাঁড়া তো দিকি! আমি ওদিকটা দেখি আসি।
    নাবিলা ভাঙ্গা চাঁপা কণ্ঠে বলল,
    _ কই যান? আামাকে নিবেন না বুঝি!
    _ না, যাওয়া যাবেনা। ভূত আছে। চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে দেখিস।

    ভূত শুনে চুপসে গেল সে। ভয়ে শুকিয়ে গেল তার মিষ্টি চেহারাটি। কাঁদতে শুরু করল- ওরে কান্না কারে কয়- আামি পড়লাম মহাবিপাকে। কত করে বোঝালাম ওকে। না,আজ তার কাঁদতেই হবে। তখনই ঝোপের আড়াল থেকে কে যেন বেরিয়ে এল। পরনে কালো গাউন। চোখ-মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা। কান্নার শব্দ টের পেয়েছে নিশ্চয়ই। আমাদের দিকে সে তেড়ে আসছে। । ভয়ে আমার কণ্ঠনালি ভেদ করে এক চিৎকার বেরিয়ে এল। আশেপাশে কোথায় ভাইয়া ছিলেন জানিনা; চিৎকার শুনে দৌড়ে এলেন। কালো মূর্তিটা ভয় পেল যেন। পালিয়ে গেল জঙ্গলের দিকে। ভাইয়া পিছু ধাওয়া করেও নাগাল পেলেননা তার। সে লাপাত্তা।

    ঘড়ির কাঁটায় রাত ৯টা বেজে ছুঁই ছুঁই। ফরহাদ স্যার অফিসের চেয়ারে বসা। চিন্তারা তার চোখে -মুখে ছাপ ফেলে দিয়েছে। আনমনে কী যেন ভাবছিলেন তিনি। এমন সময় হাবিলদার চা নিয়ে এল। চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে মুখে টেনে চুমুক দিতে যাবেন,অমনি উদ্ভট একটা গন্ধ নাক দিয়ে ঢুকে পড়ল। ঠিক ইমাম সাহেবের ঘরের গন্ধটা। দম বন্ধ হয়ে আসছিল তার। কাপটা রেখেই অফিস থেকে বেরিয়ে পড়লেন। বাইকটায় চড়ে দ্রুত ছুটলেন ঘটনাস্থল বিজয়পুর গ্রামে।
    আকাশে মিটিমিটি তারা জ্বলছে । বেশ চমৎকার দেখাচ্ছে ভরা চাঁদটাকে। একথালি রূপো যেন আকাশজুড়ে এঁকে দিয়েছে। গ্রামের অধিবাসীরা ইতোমধ্যে নিদ্রার কোলে ঢলে পড়েছে। তাদের চোখে- হৃদয়ে ভর করে আছে রাজ্যের ঘুমেরা।

    ফরহাদ স্যার হুজুরের ঘরের কাছে বাইকটা রেখে ভিতরে ঢুঁ মারলেন। ঘরভর্তি ঘুটঘুটে অন্ধকার। তিনি টর্চ জ্বেলে কুপিটা খুঁজতে লাগলেন। সারা ঘর তন্নতন্ন করে খুঁজেও কুপিটা পাওয়া গেলনা। কই গেল সেটা? নিরাশ হয়ে ফিরে যাবেন,তখনই ঘরের মেঝেতে চোখ পড়ল তার। এক ধরণের তরল পদার্থ মেঝের কোথাও কোথাও ছিটানো। আঙ্গুলের মাথায় নিয়ে কিন্ঞ্চিৎ শুঁকে দেখলেন । সেই একই গন্ধ! জিনিসটা পরীক্ষা করে দেখার জন্যে পদার্থের খানিকটা সংগ্রহে রাখলেন তিনি। আকস্মিক বাইকটার হরণ বেজে উঠল। থতমত খেয়ে যান স্যার। অদ্ভুত তো! বাইকের ইঞ্জিন তো বন্ধ। হর্ণ বাজল কী করে!? ঘর থেকে বেরিয়ে দৌড়ে বাইকের কাছে গেলেন। চারিদিকে ঘুরে ফিরে দেখলেন । কই? কেউ তো নেই আশেপাশে। কী আশ্চর্য ! শোনার ভুল তাহলে?

    ফরহাদ স্যার বাইকে চড়ে বসলেন। ভাবছেন থানায় ফিরে যাবেন। হঠাৎ কেউ তাকে স্বজোরে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় । শক্ত মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে রক্তাক্ত অবস্থা। চোখদুটো কেমন ঝাপসা হয়ে গেছে। তার উপর আবছা অন্ধকার। ব্যথায় অবশ হয়ে যাচ্ছে পুরো শরীর।

    বহুকষ্টে ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকালেন তিনি। কেউ মাটিতে ছায়া ফেলে দাঁড়িয়ে আছে। তার দিকে চেয়ে হাসছে। মৃদু বাতাসে সর্পের ন্যায় উড়ছে চুলগুলো। নাগিনীর চেয়ে কম কীসে? ওসি স্যার ভয় পেলেও সামলে নেন নিজেকে। শরীরটা মাটি থেকে ওঠিয়ে আনার একটা চেষ্টা চালান। সেটা সম্ভব না। দেহটা আঠার মতো আটকে আছে যেন। মনে হচ্ছে মাটি তাকে শক্ত করে কাঁমড়ে ধরেছে ।

    এদিকে ছায়ামূর্তিটা কাছাকাছি চলে এসেছে। একেবারে নাকের ডগায়। তার হাতে ধারালো কী যেন একটা। সেটি দিয়ে স্যারকে জোরে আঘাত হানে। আঘাতটা দু’ভাগ করে দেয় স্যারকে। না, মাটিকে। স্যার তখন সব শক্তি এক করে গড়ানি খেয়ে সরে গিয়েছিলেন। নইলে,,,তারপর পিস্তলটা বের করে তার পা বরাবর ছুঁড়েন এক গুলি। গুলিটা সরাসরি পায়ে এসে বিঁধে। ব্যাথায় হাঁসফাঁস করে উঠে সে। স্যার তাকে দৌড়ে ধরতে যাবেন,তার আগে সে গোরস্থানের দিকে পালিয়ে যায়। হারিয়ে যায় রাতের অন্ধকারে।

    আজ কদিন ধরে ঘর ছেড়ে বেরুচ্ছেননা বরকত চাচা। সেদিনের ঘটনা ভীষণ ভয় পাইয়ে দিয়েছিল তাকে। এদিকে গিন্নি বেচারি শোয়া থেকে উঠতে পারছেনা। পায়ের ব্যাথা তাকে বিষিয়ে তুলছে। বরকত চাচা ভাবলেন আজ ক্ষেতে যাবেন। বিশাল বড় কচু ক্ষেত তার। কচুর লতি বিক্রি করেই চলে তার সংসার। কিন্তু, কোদালটা কোথাও পাচ্ছেন না। পুরো বাড়ি হন্নে হয়ে খুঁজলেন। না,না এবং না। পাওয়া গেলনা। এমন সময় বাড়ির সামনে একটা গাড়ি এসে থামল। নীল রঙের জিপ গাড়ি। ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ২জন পুলিশ। তারা ঢুকল বরকত চাচার বাড়িতে। পুলিশ দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান চাচা। একজন পুলিশ চাচার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বলল
    – you are under arrest
    – মানে? আই কিতা করছি
    – থানায় চলেন। সব বুঝবেন।
    – না! আমনের এখানে কইতে হইব
    – ইমাম সাহেবের লাশের ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী তাকে ধারালো লোহার অস্ত্র দ্বারা খুন করা হয়েছে। আমরা হুজুরের ঘরের পিছনের ঝোপে একটা লোহার অস্ত্র পেয়েছি,যেটাতে হুজুরের রক্ত লেগেছিলো। সেটা আপনারই কোদাল বরকত চাচা।
    -চলবে।
    গল্পঃ #ভুত নয় ভুতুড়ে। পর্ব ১
    শফী মুহাম্মদ।

    9
    3 Comments

Friends

Skip to toolbar