Profile Photo

সাইফুন নেসা সীমা।Offline

  • MeherMeherShima
  • ছোট_গল্প।
    না_বলা_ভালোবাসা।

    দ্বিতীয়_খন্ড

    এই মেয়ে চুপচাপ বসে থাকতে পারো না,
    সবসময় পন্ডিতী করতে হবে কেন।

    সাবিহার মেহেদী হাসানের কথা শুনে মন খারাপ হয়ে গেছে,ও কখন পন্ডিতী করেছে!
    তার তো বিছানায় শুয়ে বসে থাকতে ভালো লাগছে তাছাড়া ও বসে থাকলে চলবে কেমনে ও হচ্ছে এই বাড়ির বড় বউ।
    সাবিহা বিছানায় বসে কাঁচুমাচু করছে আর মনে মনে ভাবছে স্বামী নামক মানুষটি তাকে বুঝে না কেন?

    সাবিহার ভাবনার অবসান ঘটাতে মেহেদী হাসান তার স্ত্রীর দিকে কটমট করে তাকিয়ে বলে উঠেন,
    এক পাও বিছানার থেকে নামলে তোমার ঠ্যাং ভেঙে
    দরকার হলে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবো।
    কখনো কিছু বলি না বলে বেশি সাহস হয়ে গেছে তাই না?

    মেহেদী হাসানের অগ্নিরূপ দেখে ও ধমক শুনে সাবিহা ভয় পেয়েছে।
    মানুষটাকে এতদিন ধরে ঠান্ডা স্বভাবের দেখে এসেছে,
    আজ হঠাৎ করে এমন রেগে যেতে দেখে ভয়ে
    মুখটি কাঁচুমাচু করে বললো,এখন তো আর জ্বর নেয়।
    একজন মানুষ কতক্ষণ এভাবে কাজকর্ম ফেলে বসে থাকতে পারে বলুন আপনি?
    তাছাড়া আমি তো জানি বাবার বাহিরের খাবার খেতে কষ্ট হয়।একটু তো বুঝতে চেষ্টা করুন।

    সাবিহার কথা শুনে মেহেদী বলেন,চুপচাপ বসে থাকতে বলেছি শুনতে পাওনি?
    আর এখন যে ফটর ফটর করছো গতকাল রাতে তো জ্বরে আসেপাশের হুঁশ ছিলো না।
    সকাল হতে না হতে পাকনামি শুরু করে দিয়েছ।

    স্বামীর কথা শুনে সাবিহা মুখ গোমড়া করে বসে আছে।

    তা দেখে মেহেদী মনে মনে বলেন, তুমি এমন কেন বৌ?
    আমাদের সবার খেয়াল রাখার কথা তোমার মনে থাকে কিন্তু তুমি নিজের খেয়াল একটুও রাখো না।
    তুমি তোমার নিজের প্রতি কেন এতো উদাসীন ?

    সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, ইদানিং আমার মনে হয় তোমাকে বিয়ে করে আমি এবং আমার পরিবারের লোকজন তোমার সরলতার সুযোগ নিয়েছি।
    তা নাহলে তুমি যেমন এই বাড়ির বৌ তেমনি নূহাও তো এই বাড়ির বউ।
    এই বাড়ির বউ হয়ে সে সব সু্যোগ সুবিধা পাচ্ছে আর তুমি সংসারের দায়িত্বের বোঝার নিচে চাপা পড়ে রয়েছো।
    কখনো নিজের জন্য কোনো চাহিদা বা আবদার নেয়।
    বিয়ের পর থেকেই নিজের সবটুকু ভালোবাসা উজাড় করে দিচ্ছো সংসারের পিছনে।
    অনেক হয়েছে আর নয় এভাবে তো চলতে পারে না।
    তোমার দিক তুমি না দেখলে তো আমাকে দেখতে হবে যেহেতু তুমি নিজের প্রতি উদাসীন।
    মেহেদী যখন কথাগুলো ভাবছিলেন সে সময়ে সাবিহা বাচ্চাদের মত আবদার করে বলে উঠলো, একটু বাহিরে যাই না এমন করেন কেন?
    এই যাবো আর আসবো।
    বেশি সময় লাগবেনা।
    কথাটা বলে মনে মনে ভাবছে,একটু জ্বর হয়েছে এজন্য রুমে বসে থাকতে হবে এটা কোনো কথা হলো?
    কত বেলা হয়ে গেছে , সবাই নিশ্চয় না খেয়ে বসে আছে।
    আর আমি এখানে শুয়ে রয়েছি কেমন লাগে।
    নাস্তা বানাতে হবে।
    কত কাজ বাকি আছে তা কি ওনি বুঝতে পারছে না!
    উল্টো বর মহাশয় কিনা আমাকে রুমে থেকে বের হতে দিচ্ছে না।
    মেয়ে মানুষকে এই সামান্য জ্বর বুঝি কাবু করতে পারে!আরে আমি ঠিক আছি তো তবুও তিনি কেন বুঝতে চাচ্ছে না।
    এটা কোন কথা হলো?
    আচ্ছা এই সময়ে না ওনি অফিসে চলে যায় আজ কি হল!আজ কি সে অফিসে যাবে না?

    ওদিকে মেহেদী ‌তার স্ত্রী কে গোমড়া মুখে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে বলে উঠেন,তুমি কি চাও তোমার জন্য পরিবারের অন্য সদস্যরা অসুস্থ্য হয়ে যাক বা তাদের ক্ষতি হোক?
    সাবিহা যখন ভাবনার বিভোর সে সময়ে তার স্বামী বলা কথাটা শুনে আশ্চর্য হয়ে যায়!
    ও ভুলে এটা চায়বে না। তা কি তার অজানা?
    ওনি এসব কি বলছেন!
    মেহেদী সাবিহাকে চমকে উঠতে দেখে মনে মনে সরি বৌ।
    এই মুহূর্তে তোমার পর্যাপ্ত বিশ্রাম দরকার।
    তোমার রক্ত শূন্যতা সমস্যা রয়েছে তা গতকাল আমার বন্ধু বলেছেন, তোমাকে কয়েকদিন বেড রেস্টে রাখতে, পুষ্টিকর ও আয়রন জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে না হলে আবার যে কোনো মুহূর্তে তুমি মাথা ঘুরে পড়ে যাবে।
    এখন তোমাকে এই কথাটা বললেও জানি তো লাভ হবে না।
    তুমি বলবে ডাক্তার বাড়িয়ে বলেছেন।
    সেজন্য আমাকে মিথ্যার আশ্রয় নিতে হচ্ছে।
    যদি আমি মিথ্যা বলতে এবং শুনতে একদম পছন্দ করি না।
    এদিকে সাবিহা মেহেদীকে চুপচাপ দেখে আমতা আমতা করে বললো, আমি রুমের বাহিরে গেলে তারা অসুস্থ হবে কেন?
    মেহেদী সাবিহার কথা শুনে গম্ভীর হয়ে বললেন, রাতে তোমার শরীরে তাপমাত্রা এতোটাই বেড়ে যায় তা দেখে আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম।
    আমার ডাক্তার বন্ধুকে ফোন দিয়ে বাসায় আসতে বলি।
    গতকালকে ও আমার ফোন পাওয়ার সাথে সাথে এসে তোমাকে চেকআপ করে।
    তখন সন্দেহের বসে করোনা টেষ্ট করতে স্যাম্পল নিয়েছে।
    সেই পরীক্ষার রিপোর্ট আজকে এসেছে।
    তুমি ঘুম থেকে উঠার আগে ও ফোন করে বলেছে, তোমার‌ করোনা পজেটিভ এসেছে।
    সাবিহা মেহেদীর কথাটা শুনে চমকে যায়!
    তার পর ভয় ভয় কন্ঠে বলে, সত্যিয় আমার করোনা হয়েছে?
    মেহেদী সাবিহার কাঁধে হাত রেখে ইশারায় হ্যাঁ বোঝায়।

    সেটা দেখে সাবিহা ছিটকে মেহেদীর কাছে থেকে দূরে সরে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে,প্লিজ আমার কাছে আসবেন না।
    আমি চায় না আমার জন্য আপনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
    মেহেদী সাবিহার কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে বলেন,এই পাগলি ভয় পাচ্ছো কেন? আমার কিছুই হবে না।
    তাছাড়া তোমার আলিঙ্গনে থাকাকালীন মৃত্যু হলে সে তো আমার বড় ভাগ্যে।
    সাবিহা মেহেদীর কথা শুনে কাঁদতে কাঁদতে বলে, আপনি এসব কি বলছেন?
    প্লিজ আমার কাছে আসবেন না।
    মেহেদী সাবিহাকে অবাক করে দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য তার ওষ্ঠ দখল করে নেয়।
    সাবিহা মেহেদীকে সরাতে চেষ্টা করছে।
    কারণ সে চায় না তার জন্য তার স্বামীর ক্ষতি হোক মানুষটা অসুস্থ হোক।
    কিন্তু মেহেদী ওর কথা শুনলে তো।
    সাবিহার মুচড়ামুচড়ি দেখে
    মেহেদী সাবিহার ওষ্ঠ ছেড়ে মুচকি হেসে বলেন,এই মেয়ে এতো ভয় পাচ্ছো কেন?
    আল্লাহ ছাড়া আমাদের কেউ আলাদা করতে পারবে না।
    আল্লাহ না চায়লে করোনার আর আর শক্তি
    তুমিই বলো?
    মেহেদী সাবিহাকে আরও কিছুক্ষণ বুঝিয়ে ওকে রুমে থাকতে বলে সে রুমে থেকে বাহিরে আসে।

    মেহেদী আজকে এই মিথ্যে বলেছে শুধু নূহাকে শিক্ষা দিতে।
    তার বৌ গতকাল জ্বরে কাতরাচ্ছিল নূহা উঁকি দিয়েও দেখেনি।
    একটা পরিবারের মধ্যে সবার সাথে থাকতে হলে এভাবে চলা যায় না।
    এঁকে অপরের সুখ দুঃখে মুখ ফিরিয়ে থাকলে তো পরিবার বলা চলে না।
    পরিবারের সবাই একসাথে থেকে একে অন্যের প্রতি মায়া কাজ না করে তাহলে একসাথে থাকার দরকার নেই।
    সেজন্যই মেহেদী চাচ্ছেন ওরা ওদের নিজেদের দায়িত্ব বুঝাতে।

    মেহেদী বাহিরে আসতে আসতে কথাগুলো ভাবছিল।
    অন্যদিকে মেহেদী বাহিরে আসা মাত্র মিশু তার ভাইকে বললেন, ভাইয়া ভাবী কোথায়?
    এখনও যে নাস্তা বানাচ্ছে না!
    আমাদের অফিসে যেতে হবে তো নাকি?

    মিশুর কথা শুনে মেহেদীর রাগ উঠলে নিজের রাগকে বহুকষ্টে নিয়ন্ত্রন করেন।
    শান্ত কন্ঠে তার ভাইকে বলেন,মিশু নূহাকে একটু ডেকে দে তো ভাই।
    ওর সাথে আমার কথা আছে।
    মিশু ভাইয়ের মুখে নূহাকে ডেকে দেওয়ার কথা শুনে বলেন,ভাই বেচারি বেশ রাতে ঘুমিয়েছে।
    ওকে ডাকতে হবে না।
    তুমি যা বলার আমাকে বলো।
    ও ঘুম থেকে উঠলে আমি ফোনে বলে দিবো নে।
    মেহেদী তার ভাইয়ের কথা শুনে এবার আর নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারলেন না।
    কিছুটা রেগে বললেন,নূহার জন্য থ্রিপিস এনেছি তা ওকে না দিয়ে তোকে দিলেই তো মনে হচ্ছে ভালো হবে।
    তুই পরে মাপ ঠিক আছে কিনা আমায় বলবি আইডিয়া খারাপ না।
    কিন্তু ভাই তুই যে মেয়েদের ড্রেস পরিস তা তো জানতাম না?
    মিশু তার বড় ভাইয়ের কথা শুনে লজ্জা পেয়ে বলেন, ছিঃ ভাইয়া আমি মেয়েদের ড্রেস পরব কেন!
    কি যা তা বলছো!
    মেহেদী মিশুর কথা শুনে বলেন,যা তা কোথায় বললাম।
    আমি তোকে বললাম তো নূহাকে ডেকে দে কথা আছে।
    তুই ওকে ডেকে না দিয়ে বলছিস তোকে বললেই নাক হবে।
    তো এখানে আমি কি বুঝবো?

    মিশু তার ভাইয়ের কথা শুনে বুঝতে পারছে আজকে নূহাকে ডেকে না দিলে ওকে আরো কিছু শুনতে হবে।
    সেজন্য তাড়াহুড়ো করে নূহাকে ডাকতে চলে যায়।

    কিছুক্ষণ পর নূহা ঘূমে ঢুলতে ঢুলতে মেহেদী সামনে এসে দাঁড়ায়।
    মেহেদী নূহার থেকে চোখ সরিয়ে নিল।
    এই মেয়ের মধ্যে লাজ লজ্জার বালাই মোটেও নেই।
    না হলে বড় ভাসুরের সামনে উড়না ছাড়া দাঁড়িয়ে থাকে।
    কথাটা ভেবে মেহেদী তার চোখ সরিয়ে সোফায় আরাম করে বসে বললেন,নূহা আমাদের জন্য জলদি করে কিছু নাস্তা তৈরি করে আনো তো বোন।
    মেহেদীর কথা শুনে নূহার ঘুম ছুটে যায়!
    ওদিকে মিশু তার বড় ভাইয়ের মুখে নূহার নাস্তা বানানোর কথা শুনে বলেন, ভাইয়া ভাবী থাকতে নূহা কেন নাস্তা বানাবে?
    তাছাড়া ও রাত জেগে পড়াশোনা করে এমনিতেই ক্লান্ত আর মেয়েটা ঘুম থেকে উঠতে না উঠতেই তুমি নাস্তা বানাতে বলছ!
    মেহেদী মিশুর কথা শুনে বললেন, নূহা কেন নাস্তা বানাতে পারবে না।
    ওকে নাস্তা বানাতে বলে কি হয়েছে!
    তাছাড়া তোর ভাবী পারলে ও কেন পারবে না।
    তাছাড়া সাবিহা যেমন এই বাড়ির বৌ নূহা ও তো তাই।
    আর পড়াশোনা তো সাবিহা কেও করতে হয়।
    ওকে তো পড়াশোনার দোহাই দিতে শুনলাম না কখনো!

    মেহেদীর কথা শুনে মিশু বলেন, ভাইয়া তুমি বুঝতে পারছো না ভাবী গ্রামের মেয়ে।
    আর নূহা শহরে মানুষ।
    তাছাড়া নূহা কখনো এসব কাজ করেনি।

    এদিকে নূহা মনে মনে ফুঁসছে ।
    তাকে কি বোকা ভেবেছে।
    ভাইয়া কি ভেবেছেন,রান্না করে সে তার সুন্দর হাত দুটো নষ্ট করবে কখনোই না।
    রান্না করা ওর কর্ম নয় ওসব কাজ সাবিহা ভাবীর জন্যেই ঠিক আছে।

    ওদিকে মিশুর কথা শুনে মেহেদী বলেন,মিশু তুই হয়তো ভুলে গেছিস সাবিহা তার পরিবারের অনেক আদরের মেয়ে।
    সবচেয়ে বড় কথা ওর মা বাবা বিয়ের আগে কখনো ওকে দিয়ে কিছু করাননি। এমনকি তাকে মুখে তুলে খাওয়াতে দেখেছি।
    কিন্তু বাবা মায়ের সেই আদুরে মেয়েটা এখানে এসে সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।
    ওর কাজ দেখলে কেউ বুঝতে পারবে না সে কখনো বিয়ের আগে বাপের বাড়িতে কাজ করেনি।
    এছাড়া আমার জানামতে নূহাদের থেকে আর্থিক অবস্থা সাবিহাদের বেশি ছাড়া কয় নয়।
    মেহেদীর কথা শুনে মিশুর মুখ কালো হয়ে গেছে।
    নূহা মেহেদীর কথা শুনে তাকে বলেন, ভাইয়া আমি তো রান্না করতে চাই কিন্তু বাবা তো ভাবীর রান্না ছাড়া খেতে পারেন না।
    মেহেদী নূহার কথা শুনে বললেন, বাবাকে নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না।
    সেটা আমি দেখবো।
    তুমি আপাতত এদিকে দেখো।
    তাছাড়া তোমার ভাবী সুস্থ থাকলে তোমাকে কাজের কথা বলতাম না।
    নূহা মেহেদীর কথা শুনে বললো,ভাবীর তো সামান্য জ্বর এসেছে।
    এমন জ্বর নিয়ে ভাবী তো সবসময় কাজ করে অভ্যস্ত।
    নূহার স্বার্থপরের মত কথা শুনে মেহেদী মনে মনে বললো, তোমাকে শায়েস্তা না করলে হচ্ছে না বোনটি।
    আমার বৌয়ের অসুখ তোমার কাছে সামান্য লাগছে দাঁড়াও তাহলে।
    কথাটা ভেবে মেহেদী নূহাকে বলল আসলে নূহা তোমাদের বলতে চাচ্ছিলাম না কথাটা।
    কিন্তু এখন দেখছি না বলে উপায় নেয়।
    আসলে সাবিহার এই জ্বর সামান্য নয়,ওর করোনা হয়েছে।
    গতকাল আমার বন্ধু এলো না? সে কালকে টেষ্ট করেছিলো আজকে ভোরে ফোন করে জানিয়েছেন করোনা পরীক্ষার রেজাল্ট পজেটিভ এসেছে।
    নূহা কথাটা শুনে মেহেদীর থেকে দশহাত দূরে সরে যায়।
    তা দেখে মেহেদী মুচকি হেসে দেয়।
    এদিকে নূহা মেহেদীকে বললো, ভাইয়া ভাবীকে এখনো বাসায় রেখেছেন কেন?
    হসপিটালে খবর দিন।
    তাকে এসে নিয়ে যাক।
    নাহলে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিন।
    তার জন্য তো আমরা মরতে পারবো না।
    মেহেদী নূহার কথা শুনে ধমকে বললেন, একটা চর মারব বেয়াদব মেয়ে।
    ওকে কোথায় রাখবো বা পাঠাবো তা তোমাকে বলতে বলিনি।
    আমার বৌয়ের বিষয় নিয়ে বাজে কথা বলবে না।
    সাবিহা কোথায়ও যাবে না, বাসায় থাকবে।
    ওর সব চিকিৎসা বাসায় বসে হবে।
    তাছাড়া ওকে নিষেধ করেছি কিছুদিন রুমে থেকে বের না হতে।
    আর ও যে কয়দিন অসুস্থ থাকবে সেই ক’দিন তুমি সব দেখবে।
    মেহেদীর কথা শুনে নূহার কান্না পাচ্ছে।
    এ কোথায় ফেঁসে গেছে।

    দুইদিন পর
    মেহেদী সেদিন ভোরে তার পরিকল্পনার কথা তার বাবাকে জানান।
    নূহা ও মিশুকে দায়িত্ব বোঝাতে সে এসব করছে।
    তার বাবা সব শুনে খুশি হয়।
    মেহেদী বাবাকে বলেন, কিছুদিন গ্রামে থেকে বেড়িয়ে আসতে।
    কারণ নূহার বিশ্বাস নেয়।
    এই মেয়ে তার বাবার যত্ন তো দূরের কথা ঠিকমত খাবার দিবে কিনা তা সন্দেহ।

    মারুফের বাবা সবকিছু শুনে ছেলের কথায় রাজি হয়ে যায়।এমনিও অনেক দিন ধরে সাবিহার বাবা মানে তার বন্ধু তাকে যেতে বলছেন ।
    সময় সুযোগ হয়নি এবার যেহেতু সুযোগ পেয়েছেন তাহলে কয়েকদিন বন্ধুর সাথে আড্ডা দিয়ে কাটানো যাবে।
    সেদিন ভোরে মেহেদী তার সুমিন্ধকে ফোন করে তার বাবাকে নিয়ে যেতে বলেন।

    এদিকে দুই দিনেয় নূহা হাঁফিয়ে উঠেছে।
    এতো কাজ করতে করতে মাঝা বাথা হয়ে যাচ্ছে।
    এতদিন নিজের রুমটা সে পরিষ্কার করেনি।
    সাবিহা করে দিয়েছে।
    কিন্তু দুই দিন ধরে ,সব কাজকর্ম করতে করতে তার নাজেহাল অবস্থা।
    তবুও ভালো ওকে রান্না করতে হচ্ছে না।
    মিশুকে দিয়ে খাবার বাহিরে থেকে আনিয়ে নিচ্ছে।
    অবশ্য শ্বশুড় মশাই বাসায় নেই সেজন্যই মিশুকে দিয়ে বাহির থেকে খাবার আনাতে পারে।

    ওদিকে মিশু এই দুইদিনে একটা কথা বেশ বুঝতে পারছে, তার সাবিহা ভাবী এই সংসারের জন্য কি!
    তার ভাবী সারাদিন কতো কাজকর্ম করেন।
    কখনো বলে না আমার খারাপ লাগছে।
    বা এটা করতে পারবো না ,ওটা করতে পারবো না।

    দুইদিন ধরে ভাবী অসুস্থ হওয়াতে বাড়ি ঘর সব নোংরা হয়ে গেছে।
    এদিকে নূহা রান্না বান্না না করেও বলছে কাজ করতে করতে সে শেষ।
    কি কাজ করে ওই ভালো জানে‌

    মিশু নূহাকে ভয়ে একটা কথা বলতে পারছে না , তিন বেলা বাহিরে খাবার খেয়ে সে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।

    অন্যদিকে এই দুই দিন সাবিহা ভয়ে রুমে থেকে বের হয়নি।
    তার জন্য কেউ অসুস্থ হোক তা সে কখনো চাইনি।
    তবে রুমের মধ্যে একা একা বসে থাকতে খারাপ লাগছে।
    এই দুইদিন নূহা সাবিহার রুমে খাবার দিতে আসেনি ভয়ে।

    ওদিকে মেহেদী অফিসে থেকে দুপুরে এসে পড়েছিল।
    নিজের হাতে সুপ ,পাস্তা রান্না করে যত্ন করে তার বৌকে খাওয়াচ্ছে।
    সে সাথে ডিম দুধ ও ফলমূল তো আছেই।
    সাবিহা তার স্বামীর আদর যত্ন দেখে বোঝাতে পারছে মানুষটা ওকে কতটা ভালোবাসেন।
    সাবিহা মনে করেন,কখনো কখনো ভালোবাসি বলতে হয় না।
    মন দিয়ে বুঝে নিতে হয়।

    ওদিকে মিশু দুইদিন ধরে রাত পর্যন্ত অফিস করে এবং খাওয়া দাওয়া অনিয়ম করায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।
    গতকাল বৃষ্টিতে ভিজে বাসায় আসেন।
    সকাল বেলা হঠাৎ করে বুঝতে পারে শরীরে বেশ জ্বর
    খারাপ লাগছে, মাথা ভার হয়ে আছে।

    মিশু নূহাকে কাছে ডাকছে তার কিছু ভালো লাগছে না।
    এদিকে নূহা মিশুর জ্বর দেখে বললো,দেখো জান ভাবীর করোনা এরমধ্যে আবার তোমার জ্বর এসেছে।
    আমার মনে হচ্ছে তোমার করোনা হয়েছে।
    এখানে থাকলে আমিও অসুস্থ হয়ে পড়বো।
    আমি জানি তুমি কখনো চাও না যে আমি অসুস্থ হয়।
    তোমার কথা ভেবে, আমি আমাদের বাসায় চলে যাবো ভাবছি । তুমি ভাইয়ার বন্ধুকে দিয়ে একটা টেষ্ট করিয়ে নিও।
    রিপোর্ট নেগেটিভ হলে আমায় জানিও এসে পড়বো
    মিশু নূহার কথা শুনে চমকে গেছে!
    এই তার ভালোবাসা।
    যার জন্য সব সময় স্বার্থপরের মত পরিবারের কথা ভাবেনি।
    যে মানুষটিকে সে সব সময় আগলে রেখেছে সেই কিনা তাকে অসুস্থ রেখে চলে যেতে চাচ্ছে।
    এটাই কি তার ভালোবাসার মানুষ।
    #চলব
    আগামী পর্বে সমাপ্ত।

    #না_বলা_ভালোবাসা ।
    লেখনীতেঃ #মেহের_মেহের_সীমা।

    আগের পর্বের লিংক

    8
    6 Comments

Saifun nesa Shima

Housewife

Skip to toolbar