-
#ধারাবাহিক
একমুঠো জোনাকি ( শেষ পর্ব)
~ আবির হাসান সায়েমআমি প্রায় সবকিছু গুছিয়ে নিয়েছি। ফরিদ জামা কাপড় নিয়ে চলে এসেছে। গায়ে হলুদে যাওয়ার জন্য শিলা গাড়ি পাঠিয়েছিলো কিন্তু আমি যাই নি। তাই ফরিদকে দিয়ে খাবার পাঠিয়ে দিয়েছে। তখন ফরিদকে সব বললাম। সে হাসি মুখে বলল,
“তাগোরে ছাইড়া যাইতে খুব কষ্ট হইবো কিন্তু আপনের লগে যাইতে তার চেয়ে বেশি আনন্দ হইবো। ”
সে পরেরদিনই সবার চোখ ফাকি দিয়ে জামা-কাপড় নিয়ে চলে এলো।
আজ শিলার বিয়ে। আগামীকাল আমাদের যাওয়ার দিন। ট্রেন ছাড়বে সকাল এগারোটায়। বাসায় কেও এলে বুঝবে না যে আমি চলে যাচ্ছি। খুব কায়দা করে গোছানো হয়েছে যাতে কেও কিছু বুঝতে না পারে৷ আসতে হয় খুব হইচৈই করে কিন্তু বিদায় নিতে হয় নিরবে।
বিকেলের দিকে জানালার সামনে দাড়িয়ে আছি আকাশটা পরিষ্কার। আজ শুক্লাপক্ষ। খুব সুন্দর চাঁদ উঠবে। দোরজায় টোকা পরল। ফরিদ দোরজা খুলে দিয়েছে। নুপুরের ঝনঝন শব্দ হচ্ছে৷ শিলা ঘরে ঢুকল। আমি বললাম,
“আরে তুই। ”
শিলা দৌড়ে এসে আমাকে ধরে কাঁদা শুরু করল। কান্নার তেজ দেখে বুঝলাম সহজে এই কান্না থামবে না। নিলয়ও এসেছে। ঘরের দোরজার সামনে দাড়িয়ে আছে। আধ ঘন্টা পর কান্না থামল। আমি শিলাকে চেয়ারে বসেয়ে টিস্যু এনে দিলাম।
“এতো কাদতে হয় না। বেশি কাদলে অপর মানুষেরও কান্না পায়। দুঃখ ছোয়াচে । ”
“আমি তোর সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেছি। তোকে অবিশ্বাস করেছি। আমি ওইদিন বাসায় যাবার পর অনেক্ষণ কেদেছি। আমাকে ক্ষমা করে দিস। আমি এম সরি। ”
” ক্ষমা চাওয়ার মতো কিছু হয় নি৷ আর কাদিস না। কান্না বন্ধ কর। ”
নিলয়ের দিকে ফিরে বললাম,
“জামাই সাহেব, প্রথমবার বাসায় এসেছেন কিন্তু আপনাকে দেয়ার মতো কিছুই নেই৷ ”
“না ইটস ওকে। কোনো প্রবলেম নেই। ”
আমি আর শিলা দু’জনই একসাথে হেসে উঠলাম। নিলয় কিছুই বুঝল না, দাড়িয়ে দাড়িয়ে শুধু আমাদের হাসিতে ভেঙে পরার অমায়িক দৃশ্যটা দেখল।
রাত তখন বোধ হয় নয়টা বাজে। নাবিলা এসেছে। নাবিলা আসার কিছুক্ষণ পরই কারেন্ট চলে গেলো। সারা ঘর তন্নতন্ন করে খোজার পরও মোমবাতি পাওয়া গেলো না। শেষে ফরিদ মোমবাতি আনতে গেলো। নাবিলা আমার সামনে চেয়ারে বসে আছে। জানালা গলে জোছনা এসে পরেছে তার মুখে। তার মুখ ফকফকে সাদা মনে হচ্ছে। আচ্ছা জোছনার আলোতে কি সব মেয়েদের সাদা দেখায়? আমি নাবিলাকে বললাম,
“তুমি আসবে আমি জানতাম। ”
“কিভাবে জানলেন? ”
“কিছু মানুষের আগমন আগে থেকে জানা যায়। কে কিভাবে জানায় তা জানি না কিন্তু জানা যায়। ”
“ওহ আচ্ছা। ”
“তুমি এতো রাতে এইখানে এসেছো, তোমাকে সবাই খোজাখুজি করবে না? ”
“শিলা আপাকে বিদায় দেয়ার পর খালা-খালু ঘোষণা দিলেন তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। সবার মাথায় যেনো বাজ ভেঙে পরল। কিভাবে কি হলো সবাই তা নিয়েই ব্যাস্ত। মা -বাবা যখন মারা গেলেম তখন আমার বয়স আট বছর। আমাকে পালার মতো কেও ছিলো না। খালা -খালু আমাকে তাদের বাসায় নিয়ে আসলেন। আমি কলেজ পর্যন্ত তাদের বাসায় থেকেই পড়েছি।
তারপর কুমিল্লা ইউনিভার্সিটিতে পড়তে গেলাম।জানেন,খালা-খালুর সম্পর্কটা ছিলো অদ্ভুত রকমের। কখনো তাদের ঝগড়া করতে দেখি নি। ”
“পৃথিবীতে অদ্ভুত জিনিস মানেই কোন একটা বড় সমস্যা আছে। আর তুমি চাইলে আমাকে তুমি করেও ডাকতে পারো। ”
নাবিলা মাথা খানিকটা নীচে নামিয়ে বলল,
“জ্বি আচ্ছা। ”
” আচ্ছা একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা ছিলো তোমার সাথে। ”
“বলো। ”
“আমি কালকে চলে যাচ্ছি খুলনা। একেবারের জন্য। আমি আর ফরিদ। ”
নাবিলা চোখ বড়বড় করে আমার দিকে তাকালো।
“আমি কি তোমাদের সাথে যেতে পারি?”
আমি তার কথা উত্তর না দিয়ে বললাম,
“তুমি না একটা ইংরেজি গান খুব ভালো পারো৷ আমাকে শুনাবে? ”
নাবিলা ক্ষিণ গলায় গান ধরল। সাধারণত বাইরের দেশের গান বাঙালি মেয়ের গলায় মানায় না। কিন্তু নাবিলার গলায় খুব সুন্দর মানিয়ে গেছে।
Country roads, take me home
To the place I belong
West Virginia, mountain mama
Take me home, country roads.[ পুরো ধারাবাহিকটি পড়ে কেমন লাগলো জানাবেন। একটি রিভিউ কম্পিটিশান করলে কেমন হয়?]
2 Comments
Friends
Sajibul Alam — সজীবুল আলম
@sajibulalambd
Jabed A Emon
@jabedaemongmail-com
মোঃ আবু মুনিফ আল মুকিম।
@munifalmukimrocky
বশির আহমদ
@bashir93
মীর অনাবিল
@miranabil
Maolana Abdullah al mamun
@smmamun21
স্মৃতি রানী রত্না
@srratna1990
Nipun Chandra
@nipunch
Pranto Sarkar
@pranto-sarkar



আমার কাছে তো পুরো গল্পটা খুব ভালো লেগেছে। আচ্ছা! রিভিউ কম্পিটিশানটা কিভাবে হবে? পুরস্কার কি?