-
।। আমাদের দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের গল্প।।
আনিছুর রহমান
আমাদের দেশ বাংলাদেশ। এক সময় এ দেশের নাম ছিল পুর্বপাকিস্তান। আমাদের দেশ শাসন করতেন পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর লোকেরা। তারা আমাদের দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও দেশ পরিচালনার আড়ালে বিভিন্ন সময় আমাদের এদেশকে শোষন করত।এ সব অনিয়মের কারনে এ দেশের জনগণ ক্রমে ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার এক দফা আন্দোলন শুরু করে। পাকিস্তানের সামরিক জান্তা সরকার এই আন্দোলন ও এদেশের জনগণের কণ্ঠ রোধ করার জন্য বিভিন্ন সময় জুলুম অত্যাচার মিছিল এবং সমাবেশে গুলি চালায়। ইহাতে বহু শ্রমিক ছাত্র জনতা সাধারন মানুষ নিহত ও আহত হয়।
১৯৫২ সাল হতে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত আমাদের দেশের বহু মানুষ বিভিন্ন আন্দোলনে তাদের হাতে জিবন উৎসর্গ করেছে।এদেশের স্বাধীনতা একদিনে আসে নাই।
এ দেশের মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে জিবন দিয়ে এদেশকে স্বাধীন করেছে। সে এক বিরাট আত্বত্যাগের ঘটনা।বাঙালিদের উপর পাকিস্তানি সেনাদের জুলুম অত্যাচার যখন বেড়ে গেল তখন ৭ই মার্চ ১৯৭১ সাল রেসকোর্স ময়দানে বিশাল জনসভায় পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিলেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালো রাত্রে পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালির উপর হঠাৎ আক্রমন করল।
পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে আক্রান্ত হল বহু নিরহ মানুষ। তারা পর্যায় ক্রমে রাজধানী ঢাকা সহ কয়েকটি বিভাগীয় শহরে আক্রমন চালালো এবং বহু লোককে হত্যা করল। বঙ্গবন্ধু ২৬ শে মার্চ এক বার্তায়
পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষনা দিলেন।তাঁর কথায় ছাত্র জনতা সবাই সাড়া দিল। তিনি আমাদের মহান নেতা। তাঁর নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি আমাদের জাতির পিতা।
পাকিস্তানি সেনারা ছিল হায়না দানবের মত। তারা এদেশের লাখ লাখ বাঙালিকে মেরে ফেলল। পুড়িয়ে দিল হাজার হাজার অসহায় মানুষের ঘর বাড়ি।
বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাঙালিরা সাড়া দিল। ঝাপিয়ে পড়ল পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। পাকিস্তানী সেনাদের বিরুদ্ধে শুরু হল এক ঐতিহাসিক মরনপণ যুদ্ধ। ৯ মাস যুদ্ধ চলার পর ৩০ লক্ষ লোক শহীদ ও ২ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা পেলাম স্বাধীনতা।
যাঁরা পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলো তারা মুক্তিযোদ্ধা।
এই মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছিলো আমাদের দেশের সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ (মুক্তিবাহিনী) আর পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী হতে স্বপক্ষ ত্যাগ করা নিয়মিত বাহিনী ও ইপিয়ার ( বিডিআর) জোয়ানগণ।তারা মুক্তিবাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ রেখে যুদ্ধ করে এদেশ কে শত্রু মুক্ত করেছে। তাদেরকে ভুলে গেলে চলবে না। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্ম না হলে আমরা কোনদিন স্বাধীন জন্মভুমি ও রাষ্ট্র পেতাম না। তারা রক্ত দিয়ে আমাদের এনে দিয়েছেন স্বাধীন স্বার্বভৌম রাষ্ট্র, পতাকা ও মানচিত্র। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশকে বিশ্বের সবাই এখন চেনে ও জানে।
তাই মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের দেশের সূর্য্য সন্তান। তাদের কারনে আজ এদেশ মুক্ত হয়েছে। আমরা তাদের কারনে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছি।
মুক্তিযোদ্ধাদের বুকে ছিল অদম্য সাহস। ছিল দেশের জন্য মায়া-মমতা ভালোবাসা। তাদের অনেকে এই যুদ্ধে জীবন দিলেন। নয় মাস ধরে চলল মুক্তিযুদ্ধ। শেষে পরাজিত হলো আর হার মানল পাকিস্তানি সেনারা। অনেক রক্তের বিনিময়ে ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে আমাদের বিজয় অর্জিত হলো। আমরা পেলাম স্বাধীন রাষ্ট্র। মুক্তিযোদ্ধারা প্রথম এ দেশে উড়ালো স্বাধীন পতাকা। আমাদের স্বাধীন দেশে পৎ পৎ করে উড়ল লাল সবুজের পতাকা।
আমরা আমাদের দেশকে সবাই ভালোবাসি। ভালোবাসি আমাদের দেশের জিবন দান কারী সকল মুক্তিযোদ্ধাদের। আমরা তাদের এ ঋন ও অবদান কোনদিন ভুলব না। আমরা এই বিজয়ের মাসে তাদের কে জানাই হাজার কোটি সালাম।
আজ আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ৫০তম বিজয় দিবসে যে সকল মুক্তিোদ্ধারা আমাদের দেশের জন্য জিবন উৎসর্গ করেছে তাদের কে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে যারা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে আমরা তাদের কে কোনোদিন ভুলব না।
০৩/০৬/২০২২.3 Comments
Friends
Shubha-Jit-Datta
@shubha-jit-datta
Raju Barua
@raju-barua
রিফাত মাহমুদ
@rifat-mahmud
ফারুক আব্দুল্লাহ - Faruq Abdullah
@faruq-abdullah
সাকিব-উন-নবী দীপ্ত (নির্বাক)
@sakib-un-nabi-dipto
Kazi Adam
@kaziadam
এম.আর মুহাম্মাদ ইস্রাফীল
@misrafil420
মোঃ আরিফুল ইসলাম
@ammouriful
শাহাদাতুর রহমান সোহেল
@sr-sohel



অনন্য প্রকাশ।