Profile Photo

পরিমল রায়Offline

  • Parimal-Roy
  • Profile picture of পরিমল রায়

    পরিমল রায়

    • 4 years, 1 month ago

    পিতার পত্র-২
    প্রিয় পুত্র,
    পত্রে শত শুভেচ্ছা ও আর্শিবাদ রইল। আশা করি ভাল আছ। তোমার প্রেরিত পত্র পেয়েছি। পড়ে সবকিছু অবগত হলাম। তুমি ফলাফল সম্পর্কে হতাশ কখনো হবে না। তুমি তোমার দ্বায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাও। আর ঈশ্বর অবশ্যই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাবেই।
    ক্যাম্পাসে লেখাপড়া ঐভাবেই চলে। তুমি নিজেকে ম্যানেজ করে দ্বায়িত্ব , কর্তব্যে অবিচল থাকবে। সামনের পরীক্ষা ভালভাবে দাও, তবে অতি উচ্চাশা অনেক সময় ক্ষতির দিকে টেনে আনে।
    যাই হোক, বেতন না পাওয়ার জন্য তোমার কাছে টাকা কিংবা পত্র পাঠাইনি। জুনের বেতন কেবল ২৭ তারিখে পেলাম। বিয়ের ব্যাপারে বাহিরের ধার দেনাগুলো পরিশোধ করতে হচ্ছে , যার জন্য নিজেকে অনেক সময় ভেঙ্গে পড়ছিলাম। যাই হোক বেতন আবার আগামী ৫ই সেপ্টেম্বর পাব। আগামী ৭/৮ তারিখে আবার টাকা পাঠাব। তুমি এই কয়েকটা দিন কোন রকমে চালিয়ে নাও।
    এদিকে লোনের কাজ এখনো সমাধান হয়নি। —- এ জন্য কয়েক দিনের জন্য মাত্র — টাকা দিলাম। যা কখনো দেওয়া হয় নাই এবং ভবিষ্যতে হয়তো হবে না।
    তোমার কাকাসহ [ ২০০১ সালের নির্বাচন -উত্তর সাম্প্রদিক সহিংসতার পর ভারতে যায় ১০-১২ জন, যারা ধরা পরে কারাবাস ভোগ করেন ] সকলেই ৩রা আগস্ট রায়গঞ্জ থেকে নিঃশর্তে বাড়ী এসেছে।
    নূপুর [ সদ্য বিবাহিত বোন] ও জামাই বাড়ী এসেছিল। তারা বর্তমানে ভাল আছে।
    তোমার কুশল কামনা করে এখানেই শেষ করছি।

    ইতি
    তোমারই পিতা
    পুনশ্চঃ দুঃখটাকে পুষি জীবনের স্বপ্ন দিয়ে, ইচ্ছের ব্যর্থতা দিয়ে, বোধের গ্লানিটুকু দিয়ে, উপদেশ আর আশ্বাস দিয়ে, অনাগত দিনের রঙ দিয়ে…। দুঃখ জীবনের প্রধান শিক্ষক: তার কাছে প্রাপ্তির সমান ঋণ, অপ্রাপ্তির চেয়ে বেশি আবেদন, অনুভূতির ফলাফল আর আরেকটু আশ্বাস। সবথেকে দীর্ঘ প্রতিবেশী আর উপস্থিতির নাম দুঃখ ……….।

    লেখকের নোটঃ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় , বাবা আমাকে পত্র লিখতেন ; ২০১৮ সালে বাবার মৃত্যুর পর , পুরাতন কাগজ পত্র খুঁজতে গিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাগজ পত্রের মাঝে আমার লিখা ও আমাকে লেখা পত্রগুলো খুঁজে পাই , দেখতে পাই একজন মধ্যবিত্ত ও শিক্ষক পিতার হা-হা -কার! সাহিত্য মূল্য বিবেচনায় সেগুলো প্রকাশ করছি – আমার পিএইচডি শেষ হলে বই আকারে প্রকাশ করার ইচ্ছা ; বাবা চেয়ে ছিল আমি যেন পিএইচডি করি দেশের বাহির হতে, যা সম্পন্ন করছি, বাবা মা কেউ আমার এ ডিগ্রী দেখে যেতে পারলো না , সেই দুঃখ আমাকে জ্বালায় প্রতি রাতে প্রতিনিয়ত । কিছুটা সম্পাদন করে প্রকাশ করা হবে ধারাবাহিকভাবে ।

    https://diarybpatc.blogspot.com

Skip to toolbar