-
নেশা
লেখনীতেঃ মেহের_মেহের_সীমা।
সূচনা পর্ব
মম মম কোথায় তুমি?
রাজ সোনা কি হয়েছে? ছোট লোকদের মত এভাবে চেঁচামেচি করছ কেন!
চেঁচামেচি কি আর সাধে করছি! তোমার বর মারুফ খা..
ছিঃ রাজ বাবাকে নাম ধরে বলতে হয়?
তোমার ভাষা শুনে আমি ভেবে অবাক হচ্ছি যে তুমি আমার ছেলে!
ছেলে হয়ে তোমার সাহস হয় কি করে নিজের বাবাকে নাম ধরে ডাকার?এই তোমার শিক্ষা!কোথায় কি বলতে হয় বা কাকে কি বলতে হবে তা জানো না?
মম তুমি শিক্ষার কথা বলছ!
আচ্ছা মম বলতে পারবে কোন বাবা সমাজের কাছে বড় হতে বা নাম কামাতে নিজের হাতে ছেলের জীবন ধ্বংস করে?
মারুফ খান আজকে নিজের হাতে আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে।মনের মধ্যে লালিত এতো এতো বছরের স্বপ্ন আশা ভরসা সব শেষ করে দিয়েছে।
রাজ এসব কি বলছ?
আচ্ছা কি এমন হয়েছে এতো রাগ যাচ্ছ!
তুমি না তোমার বাবার সাথে তার বন্ধুর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলে, তাছাড়া তোমাদের না আগামীকাল আসার কথা ছিল কি এমন হয়েছে যে এতো জলদি এসে পড়লে?এসেছ ভালো কথা, বিশ্রাম নিবে তা না করে চেঁচামেচি করে বাড়ি মাথায় তুলছো!
মম তুমি আমার জায়গায় থাকলে আরও ভয়ংকর কান্ড ঘটাতে।(উপরে যারা কথা বলেছে তারা কথা বলুক আমরা এই ফাঁকে আসুন তাদের পরিচয় জেনে নেয়।
রাজ, তার পুরো নাম ফারদিন খান রাজ।
বয়সঃ২৮ এর কাছাকাছি হবে।
দেখতে বাংলা ছবির প্রাত্তন নায়ক মান্নার মতো।
শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ বিবিএ করেছেন।ব্যবসায় অনুষদে স্নাতক ডিগ্রী নিলেও তার ব্যাবসার প্রতি বিন্দু মাত্র টান নেই।
তার ধ্যান জ্ঞান হচ্ছে গান করা।
আরো ভালো ভাবে বলতে গেলে গান হচ্ছে রাজের নেশা।
অবশ্য এই গানের নেশা তাকে সবার কাছে পরিচিত দিয়েছে।
বাংলাদেশ ও বিদেশেও তার ভালোই নামডাক রয়েছে।
আরেকটি কথা রাজের একটা সুন্দরী প্রেমিকা আছে।
সে গান ও মডেলিং করেন।
রাজের মায়ের নামঃ কানিজ চৌধুরী।যিনি চৌধুরী কম্পানির বর্তমান মালিক।
কানিজ এর বাবা ছিলেন চৌধুরী কম্পানির মালিক আশরাফ চৌধুরীর,একমাত্র মেয়ে কানিজ চৌধুরী। তিনি
ইংলিশে অনার্স করে তার বাবার ব্যাবসার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন।
তার স্বামীর নাম মারুফ খান, অবশ্য সবার কাছে খান হলে আসল পদবী হচ্ছে মারুফ খাঁ।চাষী,আলী খাঁ এর পুত্র।
যা আজ অতীত।
চৌধুরী কম্পানির মালিক কানিজ চৌধুরীর স্বামী এখন সে।
চাষী মারুফ খাঁ নাম হলে সম্মান থাকবে!
কানিজের জেদের কাছে হার মেনে খাঁ কেটে খান লাগাতে হয়েছে।
তবে এতে তার একটা লাভ হয়েছে।
(তার বৃদ্ধ মা বাবাকে শেষ বয়সে ছেলেকে ছাড়া থাকতে হয়নি। কানিজের শর্ত মানায়)
মারুফ খান ছিলেন মেধাবী ছাত্র।
মারুফ খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স কমপ্লিট করে মাষ্টার্সে ভর্তি হয়ে চাকরির খোঁজে এক অফিস থেকে অন্য অফিস ঘুরে ঘুরে যখন জুতার তলা ক্ষয় ইন্টারভিউ দিতেন।
কিন্তু ফলাফল শূন্য দেখে হতাশ হননি বরং মাষ্টার্সে ভর্তি হয়েছিলেন।
মাষ্টার্সের ভর্তি হওয়ার মাস ছয় পর হঠাৎ একদিন চৌধুরী কম্পানি থেকে তার ডাক আসে। সেদিন থেকে মারুফের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়।
কানিজের বাবার অফিসে চাকরি পান তিনি।
মারুফের সততা ও পরিশ্রম দেখে আশরাফ চৌধুরী মুগ্ধ হয়ে তার একমাত্র মেয়ে যে ভবিষ্যৎ এ এই অফিসের নতুন এমডি তার দায়িত্ব তুলে দেন।
সেই থেকে চৌধুরী কম্পানি তে আছেন।)
অনেক বকবক করলাম এবার আসুন মূল গল্পে চলে যাই।
আসমা,সুমি কোথায় তোরা?জলদি তোদের খালাম্মা কে ডাক।
কথাগুলো বলতে আবার ডাক সোনা যাচ্ছে,এই কানিজ কোথায় তুমি বাহিরে এসে দেখে যাও কাকে নিয়ে এসেছি।
ওদিকে আসমা ও সুমি বাহিরে থেকে ভেসে আসা কথাগুলো শুনে তাদের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না তাদেরকে তাদের খালু এই বাসার মালিক মারুফ খান ডাকছেন। ওরা রান্নাঘরে কাজ করছিল মারুফের ডাক শুনে হাতের কাজ ফেলে তাড়াতাড়ি তাদের খালাম্মার কাছে এসে বলল, খালাম্মা খালু ডাকছেন। কানিজ ওদের দিকে গরম চোখে তাকালেন যার মানে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাক।
এরমধ্যে বাহিরে থেকে আবারো কানিজ কোথায় তুমি বল ডাকছে মারুফ খান।
কানিজ বিরক্ত হয়ে সদর দরজার কাছে গিয়ে স্বামীকে ধমকে বললো, তোমার জ্ঞান বুদ্ধি কখনো হবে না!
কি বুঝে তোমার মত লোকের কাছে বাবা আমায় বিয়ে দিলেন তা আদৌও বুঝতে পারলাম না।
স্ত্রীর ধমক শুনে মারুফ খান মুচকি হেসে বললেন, শ্বশুড় মশাই জানতেন তার বিগড়ে যাওয়া এই মেয়েকে আমি ছাড়া আর কেউ কন্ট্রোল করতে পারবে না।
কানিজ রেগে বললেন,রাখো তোমার ফালতু কথা, তোমাকে কতদিন বলেছি গন্ডমূর্খ আর চাষাদের মতো বাহিরে দাঁড়িয়ে ডাকাডাকি করবে না?
মারুফ খান মুচকি হেসে বলেন,কি করব বল? চাষাবাদ তো আমার রক্তে মিশে আছে।
শত হলেও একজন চাষীর ছেলে তা তো তোমাকে বুঝতে হবে।
কানিজ তার স্বামীর কথা শুনে বিরক্ত হয়ে ঘুরে অন্যদিকে তাকাতে গিয়ে থমকে যান!
এতক্ষণ স্বামীর সাথে কথা বলতে গিয়ে রাগে আর কোনো দিক খেয়াল করেনি।
খেয়াল করলে,তার স্বামীর পিছনে লাল তাঁতের শাড়ি পড়া একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে তা ঠিক দেখতেন। পিছনের দিকে চোখ পরতেই কানিজ মেয়েটার দিকে তাকিয়ে মারুফ কে বললেন, মারুফ তুমি যে কি কর না।
আসমা সুমি তো আছেই ওদের ছাড়া আরও দুজন আছে তাও তুমি আবারো কেন কাজের লোক আনতে গেলে?
মারুফ খান তার স্ত্রীর কথা শুনে চমকে উঠে বললেন, ছিঃ কানিজ এসব কি বলছ!
ও তো আমাদের রাজের বৌ।
কি রাজের বৌ! আমাদের রাজের বৌ!
এই মারুফ শেষ বয়সে পাগল হলে না তো?
আশ্চর্য পাগল হব কেন! যা সত্যি তাই বলছি।
সত্য বলছ না মিথ্যা তা পরে হবে।
আগে ভিতরে আসো তারপর তোমাকে আমি দেখছি”
কথাটা বলে কানিজ ভিতরে এসে দেখে রাজ ড্রইং রুমে নেই।
কিন্তু উপরে থেকে ভাংচুরের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।
আজ বাড়িতে হচ্ছেটা কি তা। তিনি বুঝতে পারছে না?
তার ভদ্র শান্ত ছেলেটা হুট করে এতো রেগে গেল কেন!
কানিজ যখন এসব ভাবছে সে সময়ে রাজের রুমে থেকে বিকট শব্দ আসে।
যা শুনে কানিজ দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে ছেলের কাছে যাচ্ছে এদিকে মারুফ খানের কানেও শব্দটি পোঁছে তিনিও তড়িঘড়ি করে তার সাথে থাকা মেয়েটিকে ছেলের রুমের দিকে ছুটছেন।
এদিকে কানিজ ছেলের রুমে গিয়ে হতবাক হয়ে গেছে রুমের মধ্যে কাচ ভেঙে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তবুও রাজের রাগ থামেনি বরং রাজ হাতের কাছে যা পাচ্ছে তাই ভাংচুর করছে।
কানিজ দৌড়ে গিয়ে ছেলেকে রুমে থেকে টেনে বের করে বলেন,রাজ সমস্যা কি!এভাবে ভাংচুর করছ কেন?
এরমধ্যে মারুফ খান ও রাজের সামনে উপস্থিত হন।
মেয়েটা এখনও তার হাত ধরে রয়েছে।
তা দেখে রাজের মাথায় রক্ত উঠে গেল।
রাজ তার বাবার কাছে গিয়ে মেয়েটিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে চিৎকার করে বলে, ছোট লোকের বাচ্চা তোর সাহস হয় কি করে আমার রুমের সামনে আসার।
কানিজ হতভম্ব গেছে ছেলের এমন আচরণ দেখে।
কানিজ ভেবে পাচ্ছে না বাচ্চা একটা মেয়ের সাথে তার ছেলে এমন আচরণ কেন করছে।
বাচ্চা মেয়ে বলার কারণ হচ্ছে, রাজের ধাক্কা খেয়ে মেয়েটা দূরে ছিটকে পড়ে সে সময়ে মেয়েটির মাথার ঘুমটা খুলে যায় যার দরুন মেয়েটাকে দেখা যাচ্ছে।
মেয়েটার বয়স চৌদ্দ কি পনেরো হবে আপাতত মেয়েটাকে দেখে কানিজের তাই মনে হচ্ছে।
দেখতে পুতুলের মতো হলেও চেহারার মধ্যে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট।আচ্ছা তখন যে মারুফ বললো,এই মেয়ে আমাদের ছেলের বৌ!
আবার রাজের ক্ষুদ্ধ আচরণের কারণ সত্যি সত্যি এই মেয়ে না তো?যদি তাই হয় তো এবার মারুফ কে ছাড় দেওয়া হবে না।
#চলবে
বিঃদ্রঃ লেখায় ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন,আমার লেখা যদি আপনাদের ভালো লাগে তো লাইক ও কমেন্ট করে জানাবেন।3 Comments

Saifun nesa Shima
Housewife
Friends
Nahar moyna
@moyna
বিপুল চন্দ্র রায়
@sreebipulchondrorayraygmail-com
এমদাদ হোসেন
@emdad123
Jebunnesa jebu (জেবুন্নেছা জেবু)
@jebunnesa-jebu
TARIN
@tarin
Latifur-rahman-Pramanik
@latifur-rahman-pramanik
Md-Nadiruzzaman
@md-nadiruzzaman
Md. Habibur Rahman
@habib
তাওহীদ সুফিয়ান
@tawhidsufian


নতুন গল্প মানেই নতুন আনন্দ! তবে আগের গল্পের শেষ পর্ব তো পেলাম না এখানো!