-
ছোট গল্প
কাজ
রোহিনীর মেয়ে তুবার বয়স ৪ বছর। আজ শুক্রবার । তুবা মায়ের হাতে ভাত খাচ্ছে আর টিভিতে মিনা কার্টুন দেখছে।মিনা আর রাজু কে বেশি কাজ করে তা নিয়ে ঝগড়া করছিলো । রোহিনী কার্টুন দেখে মুচকি হেসে রোহানের দিকে তাকায়। কারণ রোহান সারাদিন রোহিনীকে বলে ঘরে আর কি কাজ থাকো ফ্যানের নিচে তুমি কাজের কি বুঝবে। রোহান তখন নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। যাই হোক রোহিনীর সারাদিন এর কাজ এর কোন বেতন নেই তাই রোহিনীর কাজ রোহানের কাছে সহজ মনে হয়।
রোহিনী মনে মনে ঠিক করলো আগামীকাল তো শনিবার একটা ছোট চিঠি লিখে একদিনের জন্য হাওয়া হয়ে গেলে মন্দ হয় না। রোহান কি করে ঘর সামলায় দেখতে হবে।
রাতে রোহিনী চিঠি লিখে রেখে ভোরে তুবা আর রোহান উঠার আগে বোনের বাসায় রওনা হলো । মেয়ের জন্য খারাপ তো লাগছে, তাও রোহানকে একটা শিক্ষা তো দিতে হবে।
রোহান ঘুম থেকে উঠে দেখে তুবা কাদছে আর বলছে আম্মু বাসায় নেই। রোহান ঘুম চোখে বলে, আছে বাবা বাহিরে হয়তো চলে আসবে। তুবা কেদেই যাচ্ছে তা শুনে রোহান উঠে ড্রেসিং টেবিল উপর এর কাগজ দেখে চুপ হয়ে গেলো।
রোহিনীকে কল দিয়েই যাচ্ছে সে ধরছে না।রোহিনীর মেজ বোন রিনাকে কল করে রোহান,হ্যালো রিনা আপা রোহিনী কই। রিনা আপা বলে সকালে এসে ঘুম দিয়েছে বলছে আজ তার ছুটি,তোমরা কি ভাই ঝগড়া করেছো নাকি? রোহান বললো, না আপা। আপনার বোনের মনে হয়েছে আজ আমাকে শাস্তি দিবে। আপা বলেনতো অফিস এর কাজ কি কম,ওর পাগলামির সীমা থাকা দরকার মেয়েরা ঘরের কাজ করবে এটা তো নরমাল। সেটা এতো কি ঝামেলার ও যেভাবে বলে “যাই হোক এই বলে রোহান কল কেটে দেয়।
রোহান তুবার জন্য খাবার বানাতে যায় ব্রেড গরম করতে গিয়ে গেলো পুড়ে, ডিম ভাজতে গিয়ে ডিম আর খোসাতে একাকার। তুবার খেলনা সারাঘর ছড়ানো। রোহান সব তাকিয়ে দেখছে। রোহান অনলাইন সকালের এ খাবার অর্ডার করে দিলো।
তুবা ঝাল খেতে পারতো না এটা রোহান সেইদিন প্রথম জানে কারন সকালের খাবার খেয়ে তুবা বমি করে দেয়। তুবাকে ব্রেড কলা খাইয়ে স্যালাইন খাইয়ে ঘর পরিস্কার করতে করতে রোহান দেখে ঘড়িতে ১২ টা বাজতেছে।
এইদিকে রুমে এসে দেখে তুবা আবার খেলনা দিয়ে সারাঘর একাকার করেছে। মেয়েটা সকালের খাবার খেয়ে বমি করেছে দুপুরে কি খাওয়াবে সেভাছে।তখন সে পাশের বাসার ভাবিকে ডেকে আনলো, ভাবি রোহিনী একটু কাজে বাহিরে গেছে আপনি যদি ভাত আর ডিম ভেজে দিতেন উপকার হতো। বাচ্চা বাহিরের খাবার খেতে পারে না।এই ভাবি হলেন রোহিনীর বান্ধবীর মতো। তিনি হেসে নিজের বাসা থেকে খাবার এনে দিলেন। কারন রোহিনী আগেই ভাবিকে সব বলে গিয়েছিলো আর অনুরোধ করেছিলো তুবার জন্য কিছু রান্না করে দিতে।রোহান আজ উপলব্ধি করব রোহিনীর কাজ আসলে অনেক কঠিন। তার কত কিছু মাথায় রেখে রান্না করতে হয়, তুবা ঝাল খায় না,সে খাবারে ঝাল না দিয়ে করা, সে ঝাল খায় তার টায় ঝাল দেওয়া, মেহমানদের সবার পছন্দ সে জানে,কখন কাকে কি দিতে হবে, বাচ্চার খাবার হচ্ছে কি না ঠিকমতো, তুবার অসুখে সারারাত জেগে থেকে সকালে পুরা ঘর সামলোনো মুখের কথা নয়। সে তো সপ্তাহে দুইদিন ছুটি পায়। আর গৃহিনীরা যুগ যুগ ধরে কাজ করে যাচ্ছে, অসুখ হলেও রেহাই নেই। আজ রোহানের নিজের মায়ের কথা মনে পড়ে অনেক খারাপ লাগলো। এই খাবো না সেই খাবো না বলে কত বাহানা তাদের ঘরের ফসল সারাবছর থাকতো তাই মায়ের ফসল নেওয়ার কাজ থাকতো গরমে ঘেমে লাকড়ির চুলায় যত্ন করে সবার পছন্দ মতো খাবার করতে হতো। তাও লবনে কম বেশি হলে বাবা আর আমাদের চিৎকার উঠে যেতো। মা চুপ করে সব শুনতেন। মায়ের কোন অভিযোগ ছিলো না আজ ভেবে অনেক খারাপ লাগছিলো রোহানের।
বিকালে রোহিনী এসে বলে ঘর না এটা কি গরুর ঘর। এইজন্য তোমাকে শাস্তি দিবো বলেও সাহস করতে পারি না। এই দেখো আমার শাস্তি হলো, তুবাও অসুস্থ। নিজেকে অপরাধী লাগছে তুমি যে এতো অপদার্থ কে জানতো ডিম ভাজতেও জানো না। রোহান বললো বসো দুইজন মিলে করে ফেললে বেশি সময় লাগবে না। এইবার রোহিনো হেসে বললো যাক আমার শাস্তি তোমার কাজ এ লেগেছে। কিন্তু তুবা যে বমি করলো সেটাই খারাপ লাগছে। যাক শেষ ভালো তো সব ভালো ।
4 Comments
Friends
আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির
@anwar-parvez-nur-shishir
Md.Emamuzzaman Wahedi
@emamuzzaman
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam
মাহ্দী সাকিব
@mahdi-sakib
Saiful-Malek
@saiful-malek
Simon Mrong
@simon-mrong
Kazi Shafiul Boshor Sami
@shafiulsam
Lamia-Tasfia
@lamia-tasfia
Jannatul Ferdous Nusrat
@jannatulferdousnusrat

অসাধারণ 💖