Profile Photo

Md Ahsan Ullah RiponOffline

  • Ripon185
  • Profile picture of Md Ahsan Ullah Ripon

    Md Ahsan Ullah Ripon

    3 years, 8 months ago

    ছোটগল্প
    অদৃশ্য লাল দাগ-১

    রাস্তায় হঠাৎ গাড়ী থামিয়ে দরজা খুলে নেমে পড়লো আদি।দেবস্মিতা কিছুটা অপ্রস্তুত কণ্ঠে বললো,”কোথায় যাচ্ছ?”আদি কোন কথা না বলে গাড়ী থেকে নেমে অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা পাগলিনী মহিলাটির কাছে গেল।দেবস্মিতা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলো সেদিকে।দেবস্মিতার বিস্ময়ের ঘোর আরো বাড়লো যখন দেখলো আদি পকেট থেকে টিসু বের করে পরম মমতায় পাগলিনী মহিলাটির মুখ মুছে দিচ্ছেন।সামান্য দূরপর দোকান থেকে রুটি এনে মহিলাটিকে মুখে তুলে খাইয়ে দিচ্ছেন।জলের বোতলটা খুলে জল খাইয়ে হাতে জল নিয়ে মুখটা ধুয়ে দিয়ে আবার টিসু দিয়ে মুছে দিচ্ছে।বিস্ময়ে বাক শক্তি হারানোর অবস্থা হয়েছে দেবস্মিতার।কিন্তু আদি এমন ভাবে গাড়ীতে উঠে বসলো যেন কিছুই হয়নি।দেবস্মিতা গাড়ীর দরজার গ্লাসটা নামিয়ে মাথা বের করে একবার চারদিকটা দেখে নিলো।নাহ্,কেউ নেই।তার মানে আদির এতক্ষণের কর্মটি কারো কাছে দৃশ্যমান নয়।কেবল দেবস্মিতাই এ ঘটনার একমাত্র দৃশ্যমান স্বাক্ষী।

    বাসায় এসেও এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে ইচ্ছে করছে না দেবস্মিতার।আদির কান্ডে সে বিস্মিতই শুধু নয়,বাকরুদ্ধ ও বলা চলে।দেবস্মিতা ঠিক বিশ্বাস করতে পারছে না। আদির মত এত শিক্ষিত একজন মানুষ একজন পাগলিনী র সাথে এভাবে আচরণ করতে পারে এটা বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছে দেবস্মিতার।কিন্তু নিজের চোখকেতো আর অবিশ্বাস করা যায় না?নিজের চোখেই সে দেখেছে আদি রাস্তার ঐ পাগলিনী টাকে পরম যন্তে মুখ মুছিয়ে দিয়েছে,খাবার কিনে মুখে তুলে খাইয়েছে এমনকি জল দিয়ে মুখটা ধুয়ে দিয়ে আবার মুছেও দিয়েছে।দেবস্মিতা ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না,এটা কি করে সম্ভব?
    একটা বিষয় স্পষ্ট বুঝতে পেরেছে দেবস্মিতা তাহলে আদির এ কান্ডে কোনরূপ পাপ ছিলো না।ছিলো পরম শ্রদ্ধা,ভালোবাসা আর মায়া।আদি ঐ পাগলিনী র সাথে যা করছিলো তা কেবল একজন সন্তান তার মার সাথে করতে পারে যদি সে সন্তান হয় সু সন্তান।নচেৎ একজন পাগকিনীকে মায়ের মত সেবা করা সম্ভবপর নয়।আজকালকার সময়েতো একেবারেই নয়।এখনকার সময়ে সন্তান যখন সম্পত্তির জন্য পিতা মাতাকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে,মারধর করছে,বিদ্যাশ্রমে দিচ্ছে সেখানে একজন পাগলিনীকে মায়ের যত্নে খাইয়ে দেয়া বিস্ময়েরই বটে।
    বিছানায় এসে বালিশ ঠিক করে শুতে শুতে দেবস্মিতার দিকে তাকিয়ে আদি বললো,”ঘুমিয়ে পড়েছ?”দেবস্মিতা হালকা মাথা ঝাঁকিয়ে সম্মতি জানালো।আদি হেসে উঠে বললো,”মাথা ঝাঁকিয়ে বুঝিয়ে দিলে তুমি এখনো ঘুমাও নি।তা ছাড়া গত তিনমাসে একদিনও তুমি আমার আগে বিছানায় এসে শুয়ে পড়নি।আজই এর ব্যতিক্রম হলো।বিষয়টা কি একটু বলবে?”দেবস্মিতা কাঁথাটা বুকের উপর রেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো,”তেমন কিছু হয়নি।”
    ——— তুমিমকি কোন বিষয় নিয়ে খুব বেশী চিন্তিত?
    ——— খুব বেশী চিন্তিত কি না জানিনা।তবে খুব বেশী বিস্মিত।
    ——— তুমি কি সকালের ঘটনাটা নিয়ে ভাবছ?
    দেবস্মিতা উঠে বসলো।বললো,”তোমার কি মনেহয়? এটা ভাববার বিষয় নয়?”আদি অন্য মনস্ক হয়ে বললো,”অস্বাভাবিক মনে হলেতো অবশ্যই ভাবনার বিষয়।তোমার কি আমার আচরণটাকে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে?”
    ———- অবশ্যই।
    ———- আসলে তুমি এর আগে আমার সাথে আর কখনো ঘুরতে বের হওনিতো,তাই আমার আজকের কাজটা তোমার কাছে অস্বাভাবিক ঠিকছে।কিন্তু যারা আমার সাথে কিাচুদিন টানা ঘুরতে বেরিয়েছে বা যারা আমাকে ভালোভাবে জানে,তাদের কাছে আমাসর আজকের কাজটি কোন অস্বাভাবিক কাজ বলে মনে হবেনা।আরে কিছুদিন আমার সাথে ঘুরতে বের হলে আমার আজকের কাজটি তোমার কাছে স্বাভাবিক মনে হবে।
    নাহ্,আর কথা বাড়ানো অনুচিত মনে হয়েছে দেবস্মিতার।তাই নীরব হয়ে গেছে।তবে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে,আদির এ কাজের রহস্য উম্মোচন করতে হবে তাকে,সম্পূর্ণ নিজের প্রয়োজনেই।
    আদির সাথে দেবস্মিতার বিয়েটা হয়েছে সম্পূর্ণ পারিবারিক সম্মতিতে,সামাজিক রীতিতে।বলা যায় দেবস্মিতার বাবা নিজেই উপযাচক হয়ে আদির সাথে দেবস্মিতার বিয়েটা দিয়েছেন মাত্র মাস তিনেক আগে।যদিও বিয়েতে আদির পক্ষের কেউ তেমন একটা উপস্থিত ছিলো না।গার্ডিয়ান হিসেবে একজনই উপস্থিত ছিলেন তিনি দেবস্মিতার বাবা অনিরুদ্ধ চৌধরীর বস্ নিলাদ্রি রহমান।আদি তাঁকে বাবার মত শ্রদ্ধা করলেও আঙ্কেল বলে ডাকে।বিয়ের অনুষ্ঠানে তিনিই ছিলেন আদির একমাত্র গার্ডিয়ান। দেবস্মিতা তাঁর কাছ থেকেই আদির এ পাগলিনী কান্ডের বিষয়ে জানতে চাইবে বলে মনে মনে স্থির করে নেয়।
    খুব একটা ভালো ঘুম হয়নি দেবস্মিতার।কোনো ভাবেই আদির ঘটনাটা চোখ থেকে তাড়াতে পারেনি সে।বার বার কেবল মনে হয়েছে আদির পাগলিনী কান্ডটি স্রেফ কোন ঘটনা নয়,এতে কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে।কি সেই রহস্য তা জানতেই আজ নিলাদ্রির বাসায় যেতে স্হির সিদ্ধান্ত নেয় সে।আদি আজ অফিসে গেলে নিলাদ্রির সাথে কথা বলতে তাঁর বাসায় যাবে দেবস্মিতা।তাঁকে সব ঘটনা খুলে বলবে।জানতে চাইবে কারণ।

Skip to toolbar