-
মধ্যদুপুর ও একগুচ্ছ অপরাজিতা।
কাল একবার দেখা করতে পারবে? সেম প্লেস, সেম টাইম।
গত ১০ মিনিট যাবত আমি ফোনটা হাতে নিয়ে মেসেজ টার দিকে তাকিয়ে আছি, এই অবস্থার বাংলায় একটা খুব সুন্দর নাম আছে, হতভম্ব, আমি এখন হতভম্ব। হতভম্ব হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে, মেসেজ টা এসেছে, বিশেষ এক ব্যাক্তির কাছ থেকে। এই ব্যাক্তির সাথে আমার যোগাযোগ নেই প্রায় ৬ মাস হয়ে গেলো। কোনো এক ভুল বুঝাবুঝির কারণে ভাংন ধরেছিলো, আমাদের ৩ বছরের সম্পর্কের।আমার মাথায় এখন অনেক চিন্তা খেলা করছে, অস্বাভাবিক কিছু নয়, এ পরিস্থিতিতে যে কারো মাথায় চিন্তা খেলা করা সাভাবিক। যুক্তির সিড়ি দিয়ে মেলাতে চাচ্ছি ঘটনা কি, কথা নেই বার্তা নেই হঠাৎ দেখা করতে চাইলো। ধাপে ধাপে সিড়ি পেরোতে হবে।
সকাল ১০ টা।
একগুচ্ছ অপরাজিতা ফুল হাতে দাঁড়িয়ে আছি, কাংখিত সেই জায়গায়, বিশেষ ব্যাক্তির জন্য অপেক্ষমান। বাইরে থেকে দেখে আমাকে খুব স্বাভাবিক ও সহজ মনে হলেও ভেতরে হাজার হাজার চিন্তা ছুটাছুটি করছে, আচ্ছা এই চিন্তাগুলোর ছুটাছুটি বন্ধ করার কোনো উপায় নেই? এমন সিস্টেম থাকলে ভালো হতো, কোনো এক নির্দিষ্ট সুইচ এ চাপ দেওয়া মাত্রই চিন্তা গুলো ছুটো ছুটি বন্ধ করে, এক কোনায় চুপটি মেরে বসে থাকবে like a good boy.
নাহ কি সব ভাবছি, আমিতো রোবট না, রোবট এর সুইচ থাকে, তাকে সময়মত বোতাম টিপে সজাগ, নিষ্ক্রিয় করা যায়। মানুষের বোতাম থাকেনা, তাই এসব নিয়ন্ত্রনের ও ব্যাবস্থা নেই। একটা সুইচ থাকলে মন্দ হতোনা।ফোন বাজছে,
আমার চিন্তার সুতা কেটে গেলো, অন্যসময় হলে খুবই বিরক্তবোধ হতো, হয়তো ফোন দেওয়া মানুষটাকে মনে মনে দু চার টা টুট টুট ও দিয়ে ফেলতাম। আমি জানি কে ফোন দিয়েছে, কাজেই বিরক্ত হওয়ার প্রশ্ন ওঠেনা।
ফোন কানে নিতেই সেই, সুমুধুর কন্ঠ, তবে রাগ মেশানো।
কই তুমি?
এইতো রাস্তার এপাড়ে, তুমি কই?
গাধার মত রাস্তার ওপাড়ে যেয়ে দাড়িয়েছো কেনো? জানোনা আমি একা রাস্তা পার হতে পারিনা।
ওহ হ্যা সরি ভুলে গেছিলাম।
তড়িঘড়ি করে ফোন টা রেখেই, ছুটলাম রাস্তার ওপাড়ে, না জানি কপালে কি আছে।
এই বিশেষ ব্যাক্তিকে আমি অজানা কোনো কারণে খুব ভয় পাই।সেই পরিচিত রেস্তোরা, যেখানে প্রায় আমাদের সুন্দর কিছু মুহুর্ত ভাগাভাগি হতো, যেখানে একে অন্যের কাধে মাথা রেখে ভরসা খুজে নিতাম, গুনগুন করে গান গাইতাম।
আজো সেই পরিচিত জায়গা, তবে মাঝে অনেক দুরত্ব, আজ পাশাপাশি নয়, সামনাসামনি বসেছি। আজ চাইলেও হাতে হাত রেখে মুচকি হাসি দিতে পারবোনা। প্রকৃতি মাঝে মাঝে নিষ্ঠুর খেলা খেলে, মানবসন্তান দের নিয়ে।কি ব্যাপার আজ এত জরুরি তলব? ঘটনা আছে নাকি কোনো।
কোনো ঘটনা নাই, আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই ডেকেছি, তোমার যদি থাকতে না ইচ্ছে করে চলে যেতে পারো, you can go anytime.হাতে ওটা কি, কি এনেছো? তোমার সাথে তো আমি প্রেম করতে আসিনাই যে তুমি আমার জন্য গিফট নিয়ে আসবা, এসব আলগা পিরিতি আমাকে দেখাবানা বিরক্ত লাগে। একসময় ভালো লাগতো, কারন তখন আমি ছিলাম মহা বোকা।
এখন কি চালাক হয়েছো?
কি, কি বললে তুমি চালাক? চালাক হয়েছি কিনা জানিনা, তবে চোখে আংগুল অবশ্যই পরেছে নাহলে তোমার মত লম্পট ছেলেকে কোনোদিনো চিনতে পারতামনা।
আমার মন তিক্ততায় ভরে উঠলো, বিশেষ ব্যাক্তি তাহলে সেই ঘটনার কথা ভোলেনি। অসস্তিবোধ হতে লাগলো।
এত রাগ পুষে রেখেছো তাহলে ডেকেছো কেনো? আসার পর থেকে যে পরিমান রেগে আছো, যেকোনো সময় একটা কিছু হয়ে যেতে পারে। হার্ট এটাক হলেও অবাক হবোনা।
তাকে পালটা জবাব দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই, অপরাজিতার গুচ্ছ সামনে বাড়িয়ে দিলাম।
বিরক্তিতে ভ্রু কচকে ফেলেছে সে, যেনো তার সামনে কোনো ফুল নয়, আবর্জনা রাখা হয়েছে।
অপরাজিতা ফুল আনলে কোন আক্কেলে, তুমি জানোনা আমার গোলাপ ফুল পছন্দ।
হ্যা জানিতো, তুমি গোলাপ ফুলের ভক্ত। একসময় গোলাপ ফুল এনে দিলে, তুমি দুটো পাপড়ি ছিড়ে চোখের উপর দিয়ে রাখতে, অকারনেই বার বার গোলাপের গন্ধ নিতে, যদিও গোলাপের গন্ধ তেমন একটা পাওয়া যায়না। একবার তো গোলাপের পাপড়ি ছিড়ে, মুখে দিয়ে কচ কচ করে চিবুতে লাগলে, ভাবখানা এমন যেনো অমৃত চিবুচ্ছো। চোখ বন্ধ করে টানা ৩ মিনিট গোলাপের পাপড়ি চিবিয়ে, চোখ খুলেই বললে একটু বিট লবন হলে ভালো হতো, তাইলে টেস্ট টা আরেকটু জমতো।
বিশেষ ব্যাক্তি পুরোপুরি হতাশ, এই মুহুর্তে সে হয়তো আমাকে ৪-৫ টা টুট টুট ও দিয়ে ফেলেছে। দৃষ্টি দিয়ে যদি কাওকে ভস্ম করে দেওয়া যেতো সে হয়তো আমাকে সেটাই করে দিতো।
দাতে দাত চিবিয়ে সে বলল, আমি কখোনোই এরকম কাজ করিনি, তারপরেও তুমি কেনো এই কথা বললে।
আমি ভাবলেশ হীন গলায় বললাম, আমার ইচ্ছা। শুধু যে তোমার ইচ্ছে আছে তা তো না ইচ্ছে নামক বস্তু টি আমার মধ্যেও ভরপুর আছে, কিলবিল করছে।রসিকতা করবেনা একদম, তোমার সংগে এখানে আমি রসিকতা করতে আসিনাই।
আচ্ছা আচ্ছা, বাবা, আর রসিকতা করবোনা, no রসিকতা।
এখন বলো অপরাজিতা কেনো এনেছো?আসলে আমি যতদুর জানি নীল শান্তির প্রতিক, তাই ভাবলাম যেহেতু তোমার সাথে আজ একটা শান্তিচুক্তিতে যাচ্ছি সেহেতু, নীল কিছু নিয়ে যাওয়া যাক। ফুল সম্পর্কে আমার ধারনা কম, নীল ফুল বলতে আমি অপরাজিতাই চিনি, ব্যাস নিয়ে এলাম।
শোনো উসমান তোমার সাথে এখানে আমি শান্তিচুক্তি করতে আসিনাই, তোমাকে আমি একবার বলেছি রসিকতা বন্ধ করতে, তোমার এসব সস্তা রসিকতা অন্য কারো কাছে কপচিও, আমার মাথা ধরে যায়। তোমার কাছে আমি দুটি বিষয়ে এসেছি, একটা জানতে আরেকটা জানাতে।
আচ্ছা।
আচ্ছা মানে, আচ্ছা মানে কি? তোমার মধ্যে একটুও কৌতুহল হচ্ছেনা কি জানতে আর কি জানাতে এসেছি আমি এত দিন পর।
প্রথমে হচ্ছিলো এখন আর হচ্ছেনা।
তুমি যে একটা আজিব আদমি তুমি কি এটা জানো উসমান? তুমি আজিব চিড়িয়া।
হুম জানি। এবার বলে ফেলো কথা বলতে চাও।
কৌতুহল যে আমি বোধ করছিনা তা নয়, যথেষ্ট কৌতুহল হচ্ছে, তবে প্রকাশ করছিনা, ব্যাপারটা সম্পুর্ন তাকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। সে একটু বিভ্রান্ত হোক।আমি একটা ছেলেকে পছন্দ করি, কিছুদিন পরেই তার সাথে আমার বিয়ে, মোটামুটি সব ঠিকঠাক আছে। কথা গুলো বলেই সে আমার দিকে তাকালো, আমার মুখভংগি পরিবর্তন হয় কিনা সেটা দেখার আশায়।
আমি বড়সড় ধাক্কার মত খেলাম। বলে কি, এত তাড়াতাড়ি আরেকজন কে পছন্দ হয়ে গেলো, বিয়েটা পর্যন্ত ঠিক। চাপা কষ্ট অনুভব হলো, তাহলে সোনার হরিণ হাতছাড়া হয়েই যাচ্ছে।
তবে সেই কষ্টভাব চোখে মুখে প্রকাশ হলোনা, বলা যেতে পারে ইচ্ছে করেই করলামনা।
ভাবলেশহীন গলায় বললাম ও আচ্ছা,
ও আচ্ছা মানে? তোমার খারাপ লাগছেনা?
খারাপ লাগবে কেনো, জন্ম, বিয়ে এসবি আল্লাহপাকের হাতে, সমস্তটাই পূর্বনির্ধারিত।
বিশেষ ব্যাক্তি মনে হচ্ছে রেগে যাচ্ছে, রেগে যাওয়ার পূর্বলক্ষন তার মাঝে ভালো করেই প্রকাশ পাচ্ছে, নিচের ঠোট কামড়ে ধরে প্রানপনে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা সে করে যাচ্ছে।
তার এই ভংগির সাথে আমি খুবই পরিচিত, খানিকটা মজাও লাগে, এই সময় ইচ্ছে করে তাকে আরো রাগিয়ে দিতে, অন্যসময় হলে অবশ্যই দিতাম, এখন ইচ্ছে করছেনা।তাহলে তুমি বলতে চাচ্ছো এ নিয়ে তোমার কিছু বলার নেই?
নাহ, কি বলার থাকবে, বিচ্ছেদের ৬ মাসের মধ্যে যদি তুমি আরেকজনকে পছন্দ করে, বিয়ের পাকাপাকি করে ফেলতে পারো তাহলে সেখানে আমার কিছু বলার দরকার থাকতে পারেনা। তাছাড়া ছেলে হিসেবে আমি খুবই অপদার্থ টাইপ, ভবিষ্যত নিয়ে কোনো চিন্তা নেই, কিছু করার উদ্যোগ নেই। এমন ছেলেদের সাথে প্রেম করা যায়, তবে বিয়ে নয়, এরা marrige material নয়। এদের সস্তা ধরনের রসিকতা গুলো একসময় খুব ভালো লাগে, মুগ্ধ হয়ে শুনতে ইচ্ছে করে, একসময় আর ভালো লাগেনা, বিরক্তি আসে। মুগ্ধ রসিকতা তখন হয়ে যায়, ভ্যাজর ভ্যাজর।
তুমি এত কথা বলছো কেনো? তোমাকে তো এত কথা বলতে বলা হয়নি।
সরি, ভুলে বলে ফেলেছি, আর হবেনা, never ever.
তুমি তো ছেলেটার নাম একবারো জানতে চাইলেনা বা সে কি করে না করে।
ও আচ্ছা, ছেলের নাম কি, কি করে?
আমি বললাম বলে জানতে চাচ্ছো? তোমার নিজের আগ্রহ নেই?
আমি হাই তুলতে তুলতে বললাম, নাহ, আগ্রহ পাচ্ছিনা, ছেলের ঠিকুজি কুলুজি দিয়ে আমি কি করবো, আমি তো আর তাকে বিয়ে করছিনা, করছো তুমি। তুমি এসব জানলেই হবে।তোমাকে এখানে ডাকাটাই আমার ভুল হয়েছে।
বিশেষ ব্যাক্তি যে চরম রেগে গেছে, তা বোঝার জন্য মনোবিজ্ঞানি হওয়া লাগেনা, তার দিকে তাকালেই যে কেও বুঝে যাবে এই মেয়ে, রাগান্বিত। গালে ফুলে থাকা মাংস, ঈষৎ লাল বর্ন ধারন করেছে, চোখ দুটি কেমন বিষন্ন হয়ে আছে তার। হঠাৎ করেই তাকে অনেক সুন্দর লাগছে, যেনো, রূপবতী রাজকন্যা বিষন্ন চোখে অপেক্ষা করে আছে প্রিয় মানুষটার, আমি মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইলাম, আহা, কত সুন্দর, প্রকৃতি তার সমস্ত রুপ, রহস্য যেনো খুব যত্ন করে ঢেলে দিয়েছে তার মাঝে। এই অসম্ভব সুন্দরী তরুনী কি আমার হতে পারতোনা? কি জানি, প্রকৃতির খেলা বোঝা কঠিন, যাকে যার জন্য তৈরী করেনি তাকে তার প্রতি কেনো গভীর ভালোবাসা দিতে হবে। এই ভালোবাসার মুল্য কি। প্রকৃতি নিষ্ঠুর বড়ই নিষ্ঠুর।
কি হলো চুপ করে গেলে যে?
কি বলবো?
তোমার কিছু বলার নেই তাহলে?
একবার বলেছি নেই, তবে তোমার যদি কিছু শোনার ইচ্ছে হয় তাহলে বলতে পারি।
না, শুনতে চাচ্ছিনা কিছু। তুমি প্লিজ এখান থেকে বিদেয় হও৷ তোমাকে আর সহ্য হচ্ছেনা।
তাড়িয়ে দিচ্ছ?
হ্যা দিচ্ছি, দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছি বলেই দিচ্ছি।
অপরাজিতা গুলো নিবেনা?
না, অমন বিদঘুটে ফুল আমার পছন্দ নয়।
অনেক ঝামেলা করে এনেছি।
খুব ভালো করেছো, এবার যেয়ে রাস্তার পাশের নর্দমায় ফেলে দাও।
আমি, উঠে পরলাম, যদিও চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হচ্ছিলো, আমি তোমায় ভালোবাসি, গভীর মমতায়, যত্ন করে তোমাকে জায়গা দিয়েছি, আজ তুমি শুন্য করে দিয়ে চলে যাচ্ছো। প্লিজ থেকে যাও, আমার অগোছালো, জীবনে তোমার খুব দরকার। ইচ্ছে করলেও বলতে পারলামনা। ইচ্ছেমত সব কিছু করার ক্ষমতা আমাদের নেই, বিধাতা আমাদের সেই ক্ষমতা দেননি।
যাই, ভালো থেকো। কখোনো যদি, সময় পাও, তপ্ত দুপুরবেলা কাটফাটা রোদে আমার কথা স্মরন করো, এক পাগলা ছেলে দাঁড়িয়ে থাকতো ব্যাকুল নয়নে শুধুমাত্র, তোমাকে একপলক দেখার জন্য।এখন মধ্যদুপুর, তপ্ত রোদ এসে জালিয়ে, পুড়িয়ে দিচ্ছে পুরো শহরটাকে। রোদে পুড়ছি আমিও, ফুটপাতের ধার বেয়ে ঘেসে চলা, এলোমেলো চুলের যুবক। হাতে ধরা একগুচ্ছ অপরাজিতা ফুল, ফুলগুলো নর্দমায় ফেলে দিতে হবে, হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর কোনো মানে হয়না।
পেছন থেকে, বিশেষ ব্যাক্তির গলা শোনা যাচ্ছে, উসমান এই উসমান শোনো, এই উসমান।
উসমান, তার গলা শুনতে পেয়েছে বলে মনে হচ্ছেনা, অথবা শুনেও সে হয়তো না শোনার ভান করছে, কি লাভ পেছনে ফিরে, কিছু তো পরিবর্তন হবেনা। উসমান হন্য হয়ে নর্দমা খুজছে, ফুলগুলো ফেলে দিতে হবে। এই শহরের মানুষ অপরাজিতার সৌন্দর্য ভুলে গিয়েছে। তপ্ত রোদে, নিজেকে পোড়াতে, পোড়াতে এগিয়ে চলেছি আমি, গন্তব্য নেই।
লেখাঃ উসমান।3 Comments
Friends
নন্দিনী
@nandini-chowdhuri
Mahmuda Sultana
@mahmudamahi
Prithula Zaman
@prithula
Shaikh-Mohidul-Islam
@shaikh-mohidul-islam
Md Tashnim Rahman
@wire-taseen
Reza e Rabbi
@rabbi121
Mesbah-Ahmed
@mesbah-ahmed
Rafiq-Ullah
@rafiq-ullah


গল্পে প্রাণ আছে। বিরহ, মান-অভিমান এসবের মাঝে ছোট ছোট হিউমার গুলো খুব আনন্দ দিল…❤️