Profile Photo

NoonecaresOffline

  • noonecares
  • Profile picture of Noonecares

    Noonecares

    3 years, 8 months ago

    কিছু মুহূর্ত
    স্কুলে আজ নতুন মানুষের আগমন ঘটেছে। সবাই ই বেশি আগ্রহী এই নতুন ছাত্র কে নিয়ে। এমনটা নয় যে স্কুলে কখনো নতুন ছাত্র আসেনি কিন্তু এবার একটা নতুনত্ব আছে প্রত্যেক বার থেকে। ছেলেটি দেখতে বিদেশীদের মত কিন্তু স্পষ্ট বাংলায় কথা বলছে। এই সাধারণ স্কুলে বিদেশি কোনো ছাত্র জীবনেও পড়বে বলে কেউ কখনো কল্পনা করেনি। তাই তাকে দেখতে সবাই ভিড় জমিয়েছে। প্রায় সব ক্লাসের মানুষের ভিড়ে যোগদান করেছে। শুধুমাত্র একটি মেয়ে ক্লাসে বসে নিজের মত ছবি একেঁ যাচ্ছে মেয়েটির নাম সানা। সে এবার লাস্ট হয়ে কোন মতে দশম শ্রেণীতে উঠেছে। বাইরের পৃথিবীতে কি হচ্ছে তা জানার বিন্দুমাত্র আগ্রহ তার নেই। সে তার নিজের আপন দুনিয়ায় বাস করতে পছন্দ করে। সানা একটা ছেলে ছবি আকঁতেছিল। ছেলেটি ক্লাসের প্রথম বয়। নাম সীমান্ত। সীমান্তকে সানার ক্লাস সেভেন থেকেই ভালো লাগতো। সীমান্ত তাকে ছোটবেলা থেকেই অনেক ধরনের সাহায্য করেছে। অবশ্য সীমান্ত সকলেই সাহায্য করে, এটি তার অন্যতম একটা ভালো গুণ। নিনা এসে সানাকে ডাকলো, “কিরে সবাই নতুনছাএকে দেখতে যাচ্ছে। তুই যাবি না?” নিনা হচ্ছে সানার সবচেয়ে বেস্ট ফ্রেন্ড এবং নিনাই একমাত্র যেটা তার ক্রাশ সম্বন্ধে জানে। সানা বললো,” না”। নিনা বললো,”তোর কি ভাল লাগে ম্যাডাম? শুনেছি যে ছেলেটার বাবা নাকি ইংলিশ মা নাকি বাঙালি। তাই ও ভালো বাংলা কথা বলতে পারে, দেখতেও সুন্দর আছে।“ “খুবই ভালো আর কিছু?” “কি আজব ব্যাপার তো সবাই যে ব্যাপারে আগ্রহী সে ব্যাপারে তোর কোনো মাথাব্যথা নাই কেন?” নিনা আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল কিন্তু সাথে সাথে ক্লাসের ঘন্টা পড়ে যায় এবং সবাই যার যার জায়গায় বসে পরে। ক্লাস টিচার আজ সানার পড়া ধরেছে। কিছু ই না পারায় তাকে যথেষ্ট বকাবকি করেছে। বকা শুনতে শুনতে ওর অভ্যাস হয়ে গেছে। তবুও ওর আজ মন খারাপ। ক্লাস শেষে তার বাসায় যেতে ইচ্ছা করছিল না। তাই সে গাছের পেছনে বসে ছবি আকঁছিল। হঠাৎ বাতাসে তার ছবি উড়ে গেল এবং কারও পায়ের কাছে এসে থামল। সেই অপরিচিত ব্যক্তি তখন কুকুরের সাথে খেলা করায় মশগুল ছিল। সে ছবিটি তুলে নিল এবং দেখে বলল,” ছবির ছেলেটাকে চেনা চেনা লাগছে। কোথায় যেন দেখেছি। ওহ এটা তোহ সীমান্ত। “ সানা বেশ ঘাবড়ে গেল। অপরিচিত ব্যক্তিকে এবার হাত বাড়িয়ে বললো,” হাই, আমি জনি। আজই এসেছি স্কুলে।“ “হাই, আমি সানা“। জনি ছবি ফেরত দেওয়ার কোনো আভাস না দেখায়ই বলতে লাগল,” সীমান্ত এর উপর ক্রাশ খাইছো নাকি?” মেয়েটা নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,” তুমি সীমান্ত কে চেনো? “আমার কাজিন হয়। আমি ওর বাসাতেই থাকবো যতদিন এই স্কুলের পড়ব।“ সানার জনির পার্সোনাল লাইফে কোন ইন্টারেস্ট নাই। সানা ছবিটি চাওয়ার আগেই সীমান্ত সেখানে এসে হাজির হল সেখানে। সানাকে হাই হ্যালো দিয়েই জনিকে বললো, “ তোর কাগজ রেডি করে আসলাম। তুই আমার সেকশনেই পড়বি।“ সীমান্তের হঠাৎ চোখ গেল জনির হাতের দিকে। “কি এটা”? সানা এবার পুরো ই শেষ। এত বছর ধরে যে কথাটা ও নিজের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিল আজ সারা বিশ্ব জেনে যাবে। কি ধরনের লজ্জা জনক ব্যপার।সানা কিছু বলতে যাওয়ার আগেই জনি বলল, “এটা একটা বিড়ালের ছবি ওআকঁতে আকঁতে উড়ে গেছিল”।“ও্হ আচ্ছা, তো তোদের দুজনের পরিচয় হয়েছে কিভাব”?”দ্যাটস সিক্রেট”,জনি বললো। সীমান্ত আর কথা না বাড়িয়ে বলল,” চল বাড়ি চল। দেরি হয়ে গেছে”।ছবিটা ফেরত দিয়ে আস্তে আস্তে জনি সানাকে বলল,” সীমান্তকে আমি তোমার ক্রাশ খাওয়ার কথা কিছুই বলবো না আপাতত, নিশ্চিন্তে থাকো”. সানা তাড়াতাড়ি ছবিটা পেয়ে নিজের ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলল।“ বাহ আজকের মত বেঁচে গেলাম কালকেরটা কালকেকে দেখা যাবে “।এই বলে সে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলো।
    পরেরদিন সানা দৌঁড়াতে দৌড়াঁতে স্কুলে আসছে কারণ তার দেরি হয়ে গেছে। দেরিতে স্কুলে আসা ওর জন্য নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে কারন সে সবসময়ই ঘুম থেকে দেরিতে উঠে। ক্লাস এ ঢুকতেই যাবে এমন সময় একটা ফুটবল এসে ওর গাঁয়ে পড়ল। কিছু বুঝে উঠার আগেই সানা নিজেকে মাটিতে উপলব্ধি করল। চোখ খুলতেই দেখল জনিকে,তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে সীমান্ত। সীমান্ত জিজ্ঞেস করল,” তুমি ঠিক আছো? “ সানা বললো হ্যাঁ। “ তুমি এমনিই কথা কম বল যদি কিছু হয় তাহলে আমরা কিভাবে জানব? “ সীমান্ত বলল৷নিনা তখন যেই সানার হয়ে কথা বলতে যাচ্ছিল সেই সময় তাকে ইশারায় থামাবার ইঙ্গিত দিল জনি।নিনা ব্যাপারটা বুঝতে পেরে দুজনকে একা ছেড়ে দিল এবং দুজনেই মুচকি হাসতে থাকলো। নিনা সড়ে এসে জিজ্ঞাসা করলো জনিকে,” তুমি কিভাবে জানো এই ব্যাপারটা? সানা কাউকে বলবে বলে তে মনে হয় না।“” ইটস কমনসেন্স।“
    সানা দৃঢ প্রতিজ্ঞ হল জনিকে যতই এভয়েড করে চলবে ততই তার জন্য মঙ্গলের। জনি ক্লাস শেষে সানাকে কিছু বলার জন্য ডাকল। কিন্তু সানা না শোনার ভান করে হেঁটে যেতে থাকলো। জনি লাফ দিয়ে সামনে এসে বললো “কি রে, ইগনোর করছো নাকি?”সানা বললো “না না শুনতে পাইনি”। “যাইহোক তুমি সীমান্তকে কবে কনফেশন করছ?” সানা আকাশ থেকে পড়ার মত করে বল, “আমি কি বলব আমি কিছুই বলবো না।“কেন “?সানা বলল,” তোমার মাথা ঠিক আছে? আমি কেন বলবো, যদি রাজি না হয় তখন আমার মান-সম্মান নষ্ট হবে। আমি নিজেও তা মেনে নিতে পারবোনা।যদি চেষ্টায় না করা হলে কিভাবে জানবা সামনে কি হতে যাব? “ জানির এসব কথা সানা এক কান দিয়ে ঢোকাচ্ছে অন্য কান দিয়ে বের করছিল। কারণে সে জানে সীমান্ত ১১ মাসের ছোট ওর থেকে। সীমান্ত মেনে নিলেও সমাজ পরিবার জীবনেও মেনে নিবে না। তাই এসব উপদেশ কোন মূল্য নেই। সেই সময় নিনা পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। সানা নিনার সাথে কথা বলার অজুহাত দেখিয়ে জনির কাছ থেকে বিদায় নিল। নিনা জিজ্ঞেস করল “কিরে তোদের পরিচয় হয়েছে কিভাবে? সে দেখি তোর সম্বন্ধে সবই জানে।“ অনেক লম্বা কাহিনী কোনদিন বলব। নিনা তখন বলতে লাগলো “আমাকে তো বলবা না। জনি স্কুলের এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় ছাত্র। সবারই চোখের মনি। জনি আর সানা কি পারফেক্ট ম্যাচ”।“ তুই তোহ সীমান্ত এর কথা জানস ই। এখন এগুলো কি বলস। সানা প্রসঙ্গ চেঞ্জ করার জন্য বলল উল্টাপাল্টা কথা ছাড় ভালো কোন কথা থাকলে বল।“ নিনা বললো, “ আচ্ছা ফিজিক্স অলিম্পিয়াড হচ্ছে এটেন্ড করবি? “আমার মত ফেলুদের এসব বলতে আসবিনা। আমার কাছে এসব ফালতু কথা না বলে কোন ভালছাএদের বলতে যা ওরা যথেষ্ট খুশি হবে। “ তুইই তো বললি ভালো কিছু বলতে তাই এগুলো বললাম আমি। আর তুই লেখাপড়া অতটা খারাপ না। আর তোর মত এত সুন্দর করে নাচতে কে পারে বল। সানা তখন বলল,” ক্লাসের টপ গালের মুখে এসব কথা মানায় না।“ এভাবে কথোপকথন করতে করতে দুজন দুজনের বাড়ি চলে গেল।
    পরের দিন ক্লাসে ঢুকতেই পিকনিকের নিয়ে যাওয়ার গুজব শোনা গেল। শাহেদা টিচার মেয়ে এই গুজবের রচয়িতা বলে সানার মনে হল। সবাই এখন গুজব নিয়ে কথা বলছে কিন্তু কেউ শিওর না। সুতরাং যতক্ষণ কনফার্ম না হচ্ছে ততক্ষণ এটা গুজব ছাড়া আর কিছুই নয়। সানার লাস্ট বেঞ্চে বসে ক্লাসকে পর্যবেক্ষণ করতে খুবই ভালো লাগে। আজকে তার লাস্ট বেঞ্চে বসার পালা। সে দেখল ম্যাক্সিমাম মানুষ গল্পে মশগুল। ভাল স্টুডেন্টরা লেখাপড়ায় ব্যস্ত। কিছু মানুষ ঘুমাতে ব্যস্ত। তারমধ্যে জনি অন্যতম। ক্লাসের মাঝখানে হেডমাস্টার এসে গুজব টাকে সত্যি প্রমাণ করে চলে গেল। নিনা টিফিন ব্রেক এসে বলল ছুটির সময় দাঁড়াইস, আমার তোর সাথে গুরুত্বপূর্ন অনেক কথা আছে। সানা প্রথমে ভাবছিল কি নাকি গুরুত্বপূর্ণ কথা। কিন্তু পরে দেখল এটা পিকনিকে যাওয়ার তোড়জোড় ছাড়া আর কিছুই নয়। ওরা দুজনেই প্রয়োজনীয় কিছু টুকিটাকি সামগ্রী একসাথে কেনার সিদ্ধান্ত নিল এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী কিনল।। এরপর থেকে প্রত্যেকটি দিনে সানার সাধারণ ভাবেই কেটে গেল। নতুনত্ব কিছু নেই । সম্পূর্ণ নেই বললে ভুল হবে কারন একটা নতুনত্ব আছে। সেটি হল জনির কানের কাছে এসে কনফেশন এর জন্য প্যাঁ প্যাঁ করা। সানা এখন এসব শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তাই আর তেমন রিয়্যাকশন দেয় না জনির কথার।
    পিকনিকের দিন আজ। গন্তব্যস্থান থানচি। সবাই মোটামোটি উপস্থিত এবং রেডি হয়ে বসে আছে বাস ছাড়ার জন্য। সানা রীতিমতো আবারো সময়মতো উপস্থিত হয়নি। সীমান্তের দায়িত্ব ছিল সবাইকে তদারকি করার। সে নিনার কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে হরদম কল দিতে থাকলো। নিনাও যথারীতি কল দিয়েই যাচ্ছে সানাকে।জনি বাসের মধ্যে হাতে বাস্কেটবল নিয়ে ড্রিবলিং করছিল সময় কাটানোর জন্য। সানা মোবাইল না ধরায় সিদ্ধান্ত হলো বাস ছেড়ে দেয়ার জন্য। ঠিক বাস ছাড়ার মুহূর্তে সানা এসে উপস্থিত হলো। নিনা তখন বলল,” কিরে এত দেরি কেন কই ছিলি এতক্ষণ? “ জনির সানাকে নাড়তে খুবই ভালো লাগে। সে বলল,” আমি জানি ও কোথায় ছিল। তুমি তোমার প্রিন্স চার্মিং এর ছবি আকঁতে বেশি সময় নিয়ে ফেলেছ, তাই না? সীমান্ত বলল,” তুই জানোস সানার প্রিন্স চার্মিং কে?””আমি জানলেও তোকে বলবো না। “এই বলে জনি সানার দিকে তাকিয়ে চোখ মারলো। সীমান্ত বলল, “তোর জানার দৌড় আমার বোঝা আছে। “সানা বললো এসব কিছুই না ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়েছিল এবং মোবাইল সাইলেন্ট ছিল সিম্পল। নিনা সানার মাথায় হালকা করে মেরে বলল,” আরও ঘুমাতিই। আসতে বলেছিল কে তোরে। এরপর বাসের মধ্যে সবাইকে নাস্তা বিতরণ করা হলো। নাস্তা শেষ হওয়ার পর সবাই বললো চলো গানের কলি খেলি। সানা, নিনা, সাদমান আর রবিন একটা টিমে ছিল। জনি, সীমান্ত সায়মা ও রিম আরেকটি টিমে ছিল। ফাইনালে দুটো টিম উঠলো একটি হলো সানাদের টিম এবং অপরটি হলো ঈশানদের টিম। সানাই ওদের টিম থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে সানা। কারন ওই সবচেয়ে বেশি গান জানে। আর অপর টিম থেকে মৌরি এই ভূমিকা পালন করছে।
    সানা “হ” দিয়ে একটা গান শোনানো শেষে শেষঅক্ষর আসলো “গ”। মৌরদের টিম থেকে কেউ ই গ” দিয়ে কোন গান জানেনা। তাই বিজয়ী দল হিসেবে ঘোষিত হলো নিনাদের টিম। এভাবেই হইহুল্লোড় করে ওরা গন্তব্য স্থানে পৌঁছালে সকাল ১১ টার দিকে। হেডমাস্টার সবাইকে বাস থেকে নেমে বললো আশেপাশে ঘুরে দেখো। বারোটার দিকে আমরা নাফাখুমে যাব। তোমরা চারজন করে এক একটি টিম করবা। ৪ জন ছাত্রছাত্রী এবং একটা মাঝি থাকবে প্রত্যেক নৌকায়। তখন নিনা সানাকে বলল, “সীমান্তদের বলে দেখি আমাদের দুজনকে ওদের টিমে নেয় কিনা। তাহলে মজা হবে”।সানা বলল,” তোর যা ইচ্ছা তাই কর আমার গেলেই হল। নিনা জনিকে বলতেইও বলল অবশ্যই নিব। সীমান্ত বললো চলো আমরা চারজন চারপাশটা এখন ঘুরে আসি। সবাই ঘুরতে গেলো। মেয়ে দুইটাই ছেলেদুটোকে পার্সোনাল ফটোগ্রাফার বানাই ফেলল। সীমান্ত খুবই বাজে ছবি তুলে।জনির ছবি তোলা তাও ঠিক আছে। জনি বলল, “পার ফটোর জন্য ৫ টাকা না দিলে তুলে দেবো না।“ফাজলামি বাদ দিয়ে ছবি তোল, না হলে দেরি হয়ে যাবে। আর ওরা যে রকম ছবি তুলছে আমাদের চারপাশে ঘুরতে দিবে বলে মনে হচ্ছে না আমার” সীমান্ত বললো। ওরা ঠিক বারোটার মধ্যে খেয়াঘাটে চলে আসলো। ওদের নৌকা ছাড়লো সবচেয়ে দেরিত। কারণ ওরাই সবচেয়ে লাস্ট ব্যাচ ছিল। জনি নৌকায় যেতে যেতে অনেকগুলো প্রকৃতির ছবি তুলল। তারপর পেছন ঘুরে বলল “এবার দেখবি ফটোগ্রাফি কম্পিটিশনের চ্যাম্পিয়নট্রফি তে “জনি দি গ্রেট এর নাম থাকবে, ““নিনা বলল, “আমাদের নামা অ্যাড দিতে ভুলবিনা। আমরাই তো তোকে ছবি তোলার প্র্যাকটিস করাইছি আমাদের ছবি তুলতে বলে, নাহলে ভালো ছবি তুই কিভাবে তুলতি?” জনি ব্যঙ্গ করে বলল,” ম্যাডাম, আপনারা আমার অনেক উপকার করলেন, ধন্যবাদ। “এরইমধ্যে ওরা নাফাখুমে চলে এলো। নাফাখুম জলপ্রপাত সত্যিই অসাধারণ ছিল।
    লাঞ্চ শেষ করেই পিলো পাসিং খেলার তোড়জোড় শুরু হলো এবং রীতিমত সব আয়োজন করা হলো। টপ ৩ তে উঠলো নিনা, সানা ও সীমান্ত। এরপেরর রাউন্ডে নিনা বাদ হয়ে গেল। ফাইনাল রাউন্ড টানটান উত্তেজনা। মিউজিক যখন থেমে গেল তখন বালিশটি শুন্যে ছিল। সীমান্ত তখন বালিশটা ধরে নিল এবং এক ধরনের স্বেচ্ছায় সানাকে জিতিয়ে দিলো। পুরস্কার পাওয়ার পর সানা সীমান্তকে জিজ্ঞাসা করল “ইচ্ছা করে হেরেছ তুমি?” জনি তখনই পেছন থেকে এসব বলল “কেউ কখনো ইচ্ছা করে হারে নাকি? তোমার মত পাগলি দুইটা নাযই পৃথিবীতে। রবিন তখন সবার উদ্দেশ্যে বল, “চল আমরা ট্রুথ এন্ড ডেয়ার খেলি।“ সবাই বললো হ্যাঁ হ্যাঁ চলো খেলি। যেমন ভাবনা তেমন কর্ম। খেলা শুরু হলো নিনা ছাড়া ওদের গ্রুপের সবাই একবার করে পালা আসলো। সীমান্ত ট্রুথ নিয়েছিল। ওকে সবাই জিজ্ঞাসা করল স্কুলের এমন কোন মেয়ে আছে যাকে তুমি অনেক বেশি পছন্দ করো? সীমান্ত অনেক ইতস্তত করে বলল,” হ্যাঁ আছে, তাকে আমি ছোটবেলা থেকেই লাইক করি। কিন্তু নাম বলবো না আমি । জনির পালা আসতেই ও বলল,” আমি ডেয়ার নিব। আমার দ্বারা ট্রুথ সম্ভব নয়।“ সবাই বললো মোবাইলের যে মেয়ের নাম্বার আছে তাকে প্রপোজ করতে। জনি বলল,” এটা কোন ব্যাপার, এখনই করে দিচ্ছি।“ ওপ্রায় সঙ্গে সঙ্গে মেসেজ পাঠায় দিলো। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে খেলা চলতে থাকলো। সানার পলা আসলে সে প্রথমে বলেছিল ট্রুথ নিব। তাকেও সীমান্তের মতো একই প্রশ্ন করা হল। সানা কিছুক্ষণ ভেবে বলল, “আমি পেনাল্টি নিব। “এরপর সবাই তাকে নেঁচে দেখাতে বলল। সানা নাঁচতে গিয়ে হঠাৎ করে পা বেঁধে পড়ে গেল এবং প্রচণ্ড ব্যাথা পেল পায়ে। সীমান্ত সঙ্গে সঙ্গে সানাকে তুললো। নিনা কোনোমতে ধরে ধরে নিয়ে এসে বসাল সানাকে।খেলার ওখানেই ইতি ঘটলো। হেডমাস্টার এসে বলল,” দেরি হয়ে যাচ্ছে সবাই গাড়িতে উঠো”। সানা কোনোমতে ধরে ধরে গাড়িতে উঠলো।
    পরের দিন স্কুলে অনুপস্থিত ছিল সানা। জনি টিফিন ব্রেকে নিনাকে জিজ্ঞেস করলো, “তোমার ফ্রেন্ড আজ আসেনি?”” নিনা বলল,” না আজ তো আসেনি।“ তখন সীমান্ত বললো “ ওকি বেশি ব্যাথ্যা পেয়েছিল?” নিনা বললো ,”ও এই সম্বন্ধে আমাকে কিছুই বলেনি।“” এত কথার কি আছে? চল ছুটি শেষে আমরা সবাই একসাথে ওর বাসায় গিয়ে দেখে আসি,”জনি বললো। সীমান্ত বলল,” ওর মা আমাদের দেখে ঢুকতে দিবে বলে মনে হয় না, মেয়ে হলে তাও দেয়ার সম্ভাবনা ছিল।“ জনি বলল, “তুই এত ব্যাকডেটেড মেন্টালিটির কেন? একটু আপডেট হ না।“ এরপর সিদ্ধান্ত হলো সবাই মিলে একসাথে ছুটির সময় সানাদের বাসায় দেখা করে আসবে। নিনা সানাদের বাসাটা চিনে কারণ ও আগেও অনেকবার এসেছে। বাকি দুজনের জন্য এই জায়গাটা নতুন। সানার মা দরজা খুলে দিল। ওরা সবাই সলাম দিল এবং আন্টির সাথে কিছুক্ষণ কথা বললো। আন্টি বলল সানা পাশের রুমে আছে তোমার ইচ্ছা করলে যেতে পারো। সানা প্রথমে প্রচন্ড অবাক হয়েছিল সবাইকে দেখে কারণ ও জীবনে ভাবতে পারেনি ওর কোন ফ্রেন্ড ওর বাসায় আসবে।সানা ভালোমতোই পা মচকায় খাটে বসে আছে। এক সপ্তাহর আগে উঠতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। জনি একটা চকলেট বের করে বলল,” তুমি তো দেখি কোন কাজেরই না। নাচতে না পারলে ট্রুথটা বলে দিলেই তো পারতে। নিনা বললো,” এসব কথা বাদ দে। তোর না সামনের সপ্তাহে পার্ক পরিষ্কার করার কথা?” সানা বলল,” হ্যাঁ।” নিনা বললো,”আমি আগেই বলেছিলাম এসব ভলেন্টারি ওয়ার্ক তোর দ্বারা হবে না।“ সানা বলল,” নাম দিয়ে দিছি এখন এসব বলে লাভ নেই। যেতেই হবে।“ সীমান্ত বলল “তাহলে আমরা সবাই মিলে যাবো।“ জনি বলল” আমি এসব ময়লা টয়লা ধরতে পারবোন। “ “তোমাকে যেতে বলেছে কে? আমি নিজেই যাব সানা বললো ।“ নিনা বলল” না সবাই কাল এক সাথে যাব।জনিও যাবে।“
    পরের সপ্তাহে সানা কোনমতে কাউকে কিছু না বলেই পার্কে যায় এবং সবাই ওর আগেই উপস্থিত। ও টিম লিডারকে একসাথে কাজ করার কথা বলে, ওরা সবাই কাজে নেমে পড়ল। জনি কে ময়লা ফেলার এবং সানাকে তদারকি করার দুটোই দায়িত্বমএকসাথে দেয়া হলো। নিনা আর সীমান্ত একসাথে গেল। জনি কাজ করতে করতে বলল,”তোমাকে এসব উল্টোপাল্টা কাজে নাম দিতে কে বলছে ম্যাডাম?” সানা বললো, “তোমার সমস্যা আছে? কাজগুলো করো না হলে চলে যাও।“ জনি বলল “যে কাজটা আমি ধরি সেই কাজটা শেষ না করে আমি যায় না যেমন তোমার কনফেশনের কেসটা।“ কাজ শেষ করে নিনা আর সীমান্ত ফিরে এল। সীমান্ত বললো চলো পার্কে হেঁটে বেড়াই।“ জনি বলল, “আরেকজন তো পায়ে ব্যাথ্যা পেয়ে বসে আছে।“ “ তাহলে আমরা রোলার কোস্টারে উঠি।“ সানা ও নিনা দুজনই বললো ওকে। সানা ও নিনা একসাথে এবং জনি সীমান্ত একসাথে বসল। এভাবে তারা একটার পর একটা রাইডস উঠতে থাকলো।
    সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। ওরা সবাই বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হল।। জনি পথের মধ্যে সানাকে জিজ্ঞেস করল, “ আচ্ছা তুমি কি আদৌ কখনো কন্সেশন করবে সীমান্তকে?”আসলে আমি বলতে চাই কিন্তু আমার মনে হয় না আমার দ্বারা এটা সম্ভব।“ জানি বল, “ সম্ভাবনা আছে। কারণ আমার মনে হয় পিকনিক এ সীমান্ত যে মেয়েটার কথা বলেছে ওটা তুমি”। সানা আত্মবিশ্বাস পেয়ে বললো, “সত্যি বলছো?তাহলে যাও এই সামনের নববর্ষের দিন আমি সীমান্তকে বলবো। ১ লা তারিখ নতুন বর্ষে নতুন জিনিসের সূচনাপর্ব”। জনি বলল, “ওকে পারফেক্ট। রেডি থাকিও আমি ওকে নিয়ে হাজির হব।“

    ১০ বছর পর
    আজ ও নববর্ষ। রাস্তার দুপাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে দুটি অপরিচিত ব্যক্তি। ভিড়ের মধ্যে কেউ কাউকে চিনে না। সেই অপরিচিত মেয়েটি হল সানা এবং তার পাশে তার হাসবেন্ড ঈশান। সেই দিনের কিছু মুহূর্তের ঘটনা মেয়েটাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। সে এখন একজন সফল ব্যবসায়ী।নিনা আর সীমান্ত এখনও এক সাথে আছে।সেই ১০ বছর আগের নববর্ষের দিন সানা স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল ঠিকই, কিন্তু তার আগেই নিনা ও সীমান্ত এক হয়ে গিয়েছিল।সীমান্তই আগের রাতে নিনা প্রপোস করে। তাদের ছোট পরিবারে এখন নতুন সদস্য এসেছে। আর ভিড়ের ভিতরে সানার প্বার্শগামী বিপরীত দিকে যাওয়া লোকটি হল জনি। নববর্ষের ঘটনার এক সপ্তাহ পরেই সে পারিবারিক কারণে বিদেশে চলে যায়। সে কিছুদিন হল দেশে এসেছে। জনির কাছে এখনো ও সানার নাম্বার আছে কিন্তু ওই নাম্বারে আর কল দিতে সাহস পায় না সে।সময়ের ব্যবধানে চেনাও অচেনা হয়ে গেছে। । পুরোনে স্কুল বিল্ডিং এখনও আগের মতই আছে, শুধু পরিচিত মুখগুলো ছাড়া। বাস্তবতার খাতিরে সবাই এখন ব্যস্ত নিজেদেরকে নিয়ে । প্রতি সেকেন্ডে তাদের বন্ধুতের বন্ধনকে পরস্পর থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। আজ যা বর্তমান কাল তা স্মৃতি। কৌশরের আনন্দ যৌবনের বাস্তবতার চাপে ধুলোয় জমে যাচ্ছে।

    2
    1 Comment

Friends

Profile Photo
Farhana Yeasmin
@farhanajust-edu-bd
Profile Photo
Panna Akter
@hiramon
Profile Photo
Md.Mamun Hossain
@priyomamun
Profile Photo
Khadijatul Kubra
@binteali123
Profile Photo
Manimohan-Mondal
@manimohan-mondal
Profile Photo
MD NAYEEM HASAN
@nayeem404
Profile Photo
Shibly Ahmed Mozumder
@shiblyahmedmozumder
Skip to toolbar