-
সকালবেলার স্নিগ্ধ সকাল।
এই স্নিগ্ধ রূপটি খেয়াল করার সময় এই শহরের বাসিন্দাদের নেই; কারণ সকালের প্রাতকৃত্য থেকে শুরু করে আরও ছয় সাতটা কাজ সেরে তাদের ছুটতে হবে রোজকার আহারের যোগাড়ে।
তাই ঘর থেকে বেরিয়ে কোনরকমে উঠে মনের গতির তুলনায় প্রায় গতিহীন অযান্ত্রিক একটা যানে বাস স্টপেজ অবধি আসে।
এরপর ইডেন কলেজে সিটি পাওয়ার মতো চল্লিশ সীটে একজন এই প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়ে বাসে একটি সীট পেয়ে যায়।
অবশ্য কোটা পদ্ধতিতে গেলে নারী আসনে বসতে পারত। কিন্তু অন্য অবলা আগন্তুকের জন্য সীটটা সংরক্ষণ করে সে বসে পড়ে সার্বজনীন সীটে।
ওম শান্তি এবারে চোখ বুজে মটকা পড়ে থাকতে হবে। তারপর এই অনন্ত যাত্রায় সেও একসময় পৌঁছে অফিস নামক কন্ডেম সেলের কাছাকাছি।
হুড়োহুড়ি গড়াগড়িতে চেঁচামেচিতে চোখ বোজার কোনো সুযোগ নেই। তাই মোবাইলই শেষ ভরসা , চোখ রাখে ফেসবুক নামক সোশাল জেওরে।হঠাৎ পাশের সিটে এসে বসলেন একজন অফিসগামী আগন্তুক। এতক্ষণ যে সীট টা খালি ছিল এটুকুই স্বস্তির।
বসতে গিয়েই যেন তিনি তার ন্যায্য অংশের চাইতে খানিক বেশিই দখল করতে চাইল।এবারে রিমি গলা খাঁকারি দিয়ে
তার অস্তিত্ব জানান দেয়, লোকটিকে বুঝিয়ে দেয় ফেসবুক ছাড়াও আশেপাশের সব দিকেই তার নজর আছে।লোকটি কয়েক সেকেন্ড সামান্য সরে যায়, তারপর আবার প্রাপ্য অধিকারের চাইতে বেশি স্থান দখল করেই যুত করে বসে পড়ল।
অবশ্য বাসের এই সীট গুলো ভীষণ রোমান্টিক । এখানে একজন আরোহী আরেকজনের এতটা কাছে বসার সুযোগ পায় যে দেখলে মনে হয়; এরা একে অপরের আত্নীয় হেন।
যাইহোক, লোকটি বসার লড়াই শেষ করে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করায়,
রিমি খানিকটা কোনঠাসা হয়ে পড়েছে।
পুরোটা রাস্তা ওকে এখন গলা লম্বা বকের মতো বসে থাকতে হবে । এরপর লোকটি তার অস্তিত্বের এদিক ওদিক করলে বিশেষ করে রিমির সীটের দিকে আর একটু আগালেই ধরতে হবে বলে মনে মনে ঠিক করে।
সজাগ দৃষ্টি।
কিন্তু ভাড়া দেওয়ার সময় বাঁধলো বিপত্তি। লোকটি বাহু বাঁকিয়ে হাতটা পকেটে ঢোকাতে গিয়ে ঘটে গেল ঘটনা।
রিমি হাতের কবজির দিকের অনাবৃত অংশে, লোকটি বাহু স্পর্শ লাগল।
রিমি আরেকটু হলেই তাতিয়ে উঠছিল।
লোকটি দ্রুত হাত সরিয়ে নিল।
যাইহোক এবারে রিমি লোকটিকে ক্ষমা করে দিল।
আরেকবার যদি এরকম করে লোকটিকে জুতা পেটা করবে বলে মনস্থির করে।
প্রায় গন্তব্যে এসে পড়েছে। হঠাৎ আশ্চর্য জনক ভাবে লোকটি হাত রিমির কোমরে স্পর্শ করে। আবার ঠিক একই কাহিনী।
অবশ্য রিমি সচকিত হওয়ার আগেই লোকটি হাত সরিয়ে নেয়।
যাই হোক, এবার লোকটিকে ছেড়ে দেয়া যায়না।
অল্প কিছু ক্ষনের মধ্যে বাস থামবে। লোকটিকে কিছু জ্ঞান দিতে হবে। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট কিভাবে ব্যবহার করতে হয়। এই সংক্রান্ত জ্ঞান।
রিমি উঠে দাঁড়ায়। লোকটি ওর মুখের দিকে তাকায়। রিমি লোকটির মুখের দিকে তাকায়।
বেশ সুন্দর দেখতে একটা ছেলে।
রিমি কিছু বলতে উদ্যত হয় কিন্তু থেমে যায়, লোকটির ভদ্র সভ্য চেহারা দেখে।
রিমিকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে লোকটি মুচকি একটা হাসি দিয়ে বাস থেকে নেমে হারিয়ে যায়।
রিমি লোকটিকে কিছুই বলতে পারলনা, কেন বলতো পারলো না!
প্রতিটা দিন এভাবে দেখে দেখে সয়ে সয়ে চলে যায়।
রিমির মনে হয় কে জানে এক সময় ও হয়তো এতটাই সহনশীল হয়ে যাবে যে , এই রকম লোকগুলোর গায়ে গা লাগিয়ে অফিস যাওয়ার বিরক্তিকর জার্নি টাকে রোমান্টিক করে নেবে।
রিমি একটা দ্বীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।
অনাসৃষ্টি ভাবনায় ওর গা ঘিন ঘিন করে। লোকটিকে সমুচিত জবাব না দিতে পারার গ্লানিতে দাঁতে দাঁত চেপে রাখে, চোখ জলে ভরে যায়।
তারপর সব ভুলে সে অফিসে পৌছে যায়।2 Comments
Friends
মোখলেসুর রহমান
@mokhles
পরিমল রায়
@parimal-roy
নাজমুল হক জুয়েল
@nazmulhoqjewel
আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির
@anwar-parvez-nur-shishir
Neel tripura
@neel
Kabi Doctor Mohammad Zakir Hossain Biplob
@zakir-hossain
Foyzur Khan
@foyzur-khan
অবাক রহমান
@jahedi
স্মৃতি রানী রত্না
@srratna1990



এই সমাজে মানুষ বেশে ঘুরে বেড়ায় কিছু হায়েনার দল। যারা প্রতি পদে পদে কলুষিত করছে গোটা দেশটাকে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হোক!