Profile Photo

Shahadat HossainOffline

  • Shahadat-Hossain
  • Profile picture of Shahadat Hossain

    Shahadat Hossain

    4 years, 11 months ago

    টুইন আর্থ
    প্রথম পর্ব

    2202 সাল NSA স্পেস এয়ার ক্রাফট টি উড়ছিল আমাদের গ্যালাক্সি , মিল্কিওয়ের
    ভেতর দিয়ে / তবে আমাদের সোলার সিস্টেমের ভেতরে নয় / আমাদের কাছের প্রতিবেশী সোলার সিস্টেম Proxima Centauri এর ভেতর দিয়া / পৃথিবী থেকে এই নক্ষত্রের দূরত্ব 4.24 আলোকবর্ষ / এই নক্ষত্রের অনেকগুলো গ্রহ আছে যা তার চতুর্পার্শ্বে ঘুরছে / পৃথিবী থেকে NSA স্পেস এয়ারক্রাফট. টি পাঠানো হয়েছে এই সোলার সিস্টেমের একটা ডিটেলস ম্যাপ তৈরি করার জন্য / অর্থাৎ এই সোলার সিস্টেম এ কতগুলো গ্রহ আছে এবং এইগ্রহগুলির কতগুলি উপগ্রহ আছে এইসব তথ্যের একটা ডেটাবেজ তৈরি করার জন্য / কোন গ্রহের কেমন আবহাওয়া সেই আবহাওয়াতে কোন ধরনের প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা আছে কিনা অথবা এই গ্রহ গুলিতে পানি ও অক্সিজেন এ কোন অস্তিত্ব আছে কিনা এই সব তথ্যের ডেটাবেজ তৈরি করার জন্য / স্পেস এয়ারক্রাফটি উড়ছিল সময়ের ভেতর দিয়ে / সময়ের ভেতর দিয়ে মানেটা কি ? বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক আলবার্ট আইনস্টাইনের জেনারেল থিওরি অফ রিলেটিভিটি থেকে আমরা জানি সময় আপেক্ষিক / একটা উদাহরণ দিচ্ছি মনে করুন কোন একটা রকেট ইউনিভার্স এর মধ্য দিয়ে আলোর গতির কাছাকাছি গতি নিয়ে উড়ছে / পৃথিবীর ঘড়িতে যখন 24 চব্বিশ ঘন্টা পেরিয়ে যাবে তখন ওই রকেটের ভিতরে ঘড়ি তে হয়তো বা এক ঘন্টা সময় পেরিয়েছে / আমাদের এই ইউনিভার্সের বিভিন্ন স্থানের সময় একই রকম নয় / /সাধারণভাবে আমরা যেটা জানি তা হচ্ছে পৃথিবীতে আলোর গতি সর্বোচ্চ গতি / এই গতিকে অতিক্রম করা সম্ভব নয় /কোন বস্তুর গতি যখন আলোর গতির চেয়ে কম হয় তখন বস্তুটি সময়ের সাথে সাথে চলে / বস্তুটি কখনোই সময়কে অতিক্রম করে যেতে পারে না আবার সময় থেকে পিছিয়ে আসতে পারেনা / ফলে আমরা সবসময় বর্তমানে অবস্থান করি / আমরা অতীতে ও ফিরে যেতে পারি না আবার ভবিষ্যতেও যেতে পারি না / এটাই আমাদের জীবন এর সীমাবদ্ধতা / কিন্তু কোন বস্তুর গতি যদি আলোর গতির চেয়েও বেশি হয়ে যায় তখন এই ইউনিভার্সের সমস্ত নিয়মকানুন অচল হয়ে পড়ে বস্তু আর সময় সাথে সাথে চলে না / তখন সময় স্থির হয়ে যায় অথবা সময়ের গতি ধীর হয়ে যায় / এবং বস্তুটি তখন সময়ের ভেতর দিয়ে চলে / অর্থাৎ সময়টা তখন স্থির কিন্তু বস্তুটি সচল / অর্থাৎ সময় ব্যয় না করেই আমাদের ইচ্ছা মতো সময়ের ভেতর দিয়ে চলাফেরা করতে পারি / আরও সহজভাবে বলতে গেলে যতক্ষণ আপনি সময়ের ভেতরে থাকতে থাকবেন ততক্ষণ ঘড়ির কাঁটা ঘুরবে না অথবা খুব ধীর গতিতে ঘুরবে / অবশ্য ওই সময়ে বস্তুটি আমাদের জগৎ থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় / তখন তার কোন অস্তিত্ব আমাদের এই ইহজগতে থাকেনা / সময়ের ভেতরে যে জগত তার ভেতরটা কালো অন্ধকার জমাটবাঁধা অন্ধকারের এক বীভৎস রূপ / এরপর আমরা আবার যখন আমাদের গতি আলোর গতির তুলনায় কমিয়ে আনি তখন বস্তুটি আবার আমাদের এই জগতে দৃশ্যমান হয় / তাই মহাজগতের যখন কোন বিশাল দূরত্ব অতিক্রমের প্রয়োজন হয় তখন বিশেষ ধরনের ইঞ্জিন ব্যবহার করে রকেটের গতিবেগ আলোর গতিবেগ এর চেয়েওবেশি গতিবেগে রকেট টিকে চালনা করা হয় / তখন রকেটটি সময়ের ভিতর দিয়ে চলতে শুরু করে / রকেট টি একবার সময়ের ভিতরে ঢুকে গেলে তখন আর তার ইঞ্জিনের শক্তির প্রয়োজন হয় না / অর্থাৎ কোনো রকম এনার্জি খরচ না করেই রকেট টি চলতে থাকে / নিমেষেই রকেটটি হাজার হাজার কিলোমিটার দূরত্ব পেরিয়ে যায় / কাঙ্খিত দূরত্বে পৌঁছানোর পর রকেট টি কে আবার ইঞ্জিন চালনা করে গতি কমিয়ে আনা হয় / এভাবেই এখন আর মহাশূন্যে ভ্রমণ করে কোটি কোটি কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করা তেমন কোনো কঠিন কাজ নয় / তাই 4.24 আলোকবর্ষ দূরত্ব অতিক্রম এর জন্য NSA স্পেস এয়ার ক্রাফট টি উড়ছিল সময়ের ভেতর দিয়ে / মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় / এয়ারক্রাফট এর ভিতর অক্সিজেন সাধারণভাবে রিসাইক্লিং করে ব্যবহার করা হয় অর্থাৎ মানুষ যে কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে সেটাকেই পুনরায় ভেঙে অক্সিজেন এবং কার্বন কে আলাদা করে অক্সিজেনকে/ পুনরায় ব্যবহার করা হয় / এছাড়াও বিকল্প আরেকটা পদ্ধতি আছে , এয়ারক্রাফটের বাইরের অংশে প্রচণ্ড ঠান্ডায় কিছু কিছু বরফ জমে / সেই বরফকে পানিতে রূপান্তরিত করে রেক্টিফাই করে ও ব্যবহার করা হয় এবং কিছু অংশ প্রয়োজন হলে তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনে কনভার্ট করেও অক্সিজেনকে ব্যবহার করা হয় / খাদ্য হিসেবে ফার্ন জাতীয় এক ধরনের উদ্ভিদ এই স্পেস এয়ার ক্রাফট টি র একুরিয়ামের ভেতরে ই চাষ করা হয় যা দ্রুতবর্ধনশী এবং পুষ্টিকর / স্পেস এয়ার ক্রাফট টি র শক্তি র উৎস পারমাণবিক চুল্লি / সম্পূর্ণ স্পেস এয়ার ক্রাফট টি নিয়ন্ত্রণ করে ওবিসি সুপার পাওয়ার প্রসেসর / এই ওবিসি এর সঙ্গেই পৃথিবীর যোগাযোগ / এখানকার মানুষ সরাসরি পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগের কোন ক্ষমতা নাই / এরা শুধু তাদের সমস্ত ডাটা তাদের কম্পিউটারে আপলোড করে থাকে এবং এই ওবিসি সুপার পাওয়ার প্রসেসর সময় মত পৃথিবীতে ডাটা গুলো ট্রান্স মিট করে /

    স্পেস এয়ারক্রাফটের কমান্ডার একজন সুঠামদেহী বাঙালি / বসে ছিলেন অবজারভেটরি টাওয়ারের 20 ফিট বাই 14 ফিট এলইডি মনিটরের সামনে / যে চেয়ারে তিনি বসে ছিলেন তা সম্পূর্ণ সিন্থেটিক চামড়ায় মোড়ানো সুন্দর নরম আরামদায়ক গদি আটা চেয়ারে / সামনে অর্ধ চন্দ্রাকৃতির পোর্সেলিনের তৈরি টেবিল / টেবিল জুড়েই নানা প্রকার সুইচ , কোনটা জ্বলছে নিভছে আবার কোনটা লাল হয় জলে আছে , আবার কোনটা উজ্জল সবুজ রঙের আভা ছড়াচ্ছে /এলইডি স্ক্রিনে পৃথিবীর ছবিটা ভেসে আছে / কমান্ডারের দৃষ্টি সেই নীল গ্রহটির দিকে / চোখ দুটি তার অশ্রু জলে টলমল / হঠাৎ করেই ঘরের আলোটা পরিবর্তন হয়ে হালকা কমলা রঙ্গের হয়ে গেল , কমান্ডার বুঝতে পারলেন কেউ একজন ভিতরে প্রবেশের অনুমতি চাইছে / কমান্ডার একটি বোতাম টিপে প্রবেশের অনুমতি দিলেন এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ঘরে প্রবেশ করল রেইন / ঘরে ঢুকে রেইন ঘরের এদিক ওদিক তাকিয়ে অবশেষে কমান্ডারের উপর তার দৃষ্টি টা স্থির হল / পরমুহূর্তেই তার দৃষ্টি পড়লো মনিটরের দিকে / তার চোখে-মুখে বেদনার একটা আভা ফুটে উঠল / কিন্তু কন্ঠে একটা কৃত্রিম রাগের ভান করে কোমরে হাত রেখে রাগত স্বরে বলল আবার তুমি পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে আছে ? অসহিষ্ণু ভঙ্গিতে দুদিকে মাথা নেড়ে বলল কেন তুমি এমন করো ? আমি তোমাকে বলেছি না অতীত ভুলে যাও কি হবে সেই অতীতকে মনে রেখে যেখানে তোমার প্রিয় জন বলতে আর কেউ নেই / আমাকে দেখো না সবকিছু ভুলে কি সুন্দর ভাবে বেঁচে আছি আমি ? কমান্ডার অপ্রস্তুত হয়ে তাড়াতাড়ি চোখ দুটো মুছে বললেন না না আমি এমনি বসে আছি / কেন যেন এই মেয়েটিকে দেখলেই তার মনে হয় যদি এই মেয়েটি তার নিজের মেয়ে হত ? খুব ইচ্ছে হয় মেয়েটির চুলগুলো ধরে আদর করে এলোমেলো করে দিতে / মেয়েটি দুই দিকে মাথা নেড়ে আবার বলতে লাগল চলো চলো নিচে চলো ,বল রুমে সবাই তোমার অপেক্ষায় আছে , তুমি ভুলে গেছো আজ স্যাটারডে নাইট / কমান্ডার মুখ তুলে মেয়েটির দিকে তাকালেন , তারপর মৃদু হেসে বললেন ওকে চলো / বলেই চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন /

    2019 সাল / সবেমাত্র সন্ধ্যা সাতটা / ঢাকা শহরের ছয় তলার একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের দোতালায় আমি আমার নিজস্ব ফ্ল্যাটে বসে গভীর মনোযোগ দিয়ে কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাজ করছিলাম / হাতে অনেকগুলি কাজ যা আগামী পনের দিনের মধ্যেই শেষ করতে হবে / হাতে সময় খুব একটা বেশি নেই / আজকে পনের ই ফেব্রুয়ারি / পহেলা মার্চ আমার সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের টিকেট কনফার্ম করা আছে / গন্তব্য ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে অস্ট্রেলিয়া / দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি আমি / দেশে ফেরার আর তেমন কোনো সম্ভাবনাই হয়তো নেই / তাই আমার ক্লায়েন্টদের সম্পূর্ণ কাজ ই শেষ করতে হবে আমাকে / তাই এই ব্যস্ততা / ছেলেদের আর মানিয়ে রাখতে পারলাম না / , তাছাড়া আজকাল নাতি নাতনি গুলির কথাও একদমই ভুলতে পারছিনা / স্ত্রী মারা গেছে প্রায় পাঁচ বছর / স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই ছেলে দুটো ঘ্যানর ঘ্যানর করছিল ,আমাকে অস্ট্রেলিয়াতে তাদের কাছে চলে যাওয়ার জন্য , বারবার চাপ দিচ্ছিল / কিন্তু আমার কোন অবস্থাতেই এই দেশ ,বিশেষ করে এই বাবার দেওয়া ফ্ল্যাটটি ছেড়ে কোথাও যেতে ইচ্ছে করছিল না / ফ্ল্যাটটির প্রতিটি অংশই আমার স্ত্রীর নিজ হাতে সাজানো / ওই যে এসি টা মৃদু একটা গুঞ্জন তুলে চলছে সমস্ত ঘরটাকে ঠান্ডা মায়াময় করে রেখেছে তা আমার স্ত্রী কমলিকা নিজে পছন্দ করে কিনে এনেছিল / মনে আছে যেদিন এসিটা লাগানো হলো সেদিন কমলিকা সারারাত ঘুমায়নি / শুয়ে শুয়ে শুধু কথা বলছিল / আমাকেও ঘুমাতে দেয়নি / ওই যে দেয়ালে আমাদের পাচ ফুট বাই আড়াই ফুটের যুগল ছবিটা এটাও কমলিকা যেন কোথা থেকে করে এনে দেয়ালে ঝুলিয়ে ছিল / হঠাৎ করেই ফোনটা বেজে উঠলো , আমার মনোযোগ তখনো কম্পিউটারের দিকে / গভীর মনোযোগদিয়ে কাজ করছিলাম / ফোনের শব্দ শুনে ধ্যান ভাঙ্গলো , হঠাৎ করেই যেন একটু চমকে উঠলাম / পরমুহূর্তেই আমার ঠোঁটে একটা মৃদু হাসি ফুটে উঠল / আমি ঘাড় টা ঘুরিয়ে বিছানার উপর পড়ে থাকা ফোন টার দিকে একবার তাকিয়ে দেখলাম / ফোনটা বেজে ই চলেছে / মনে মনে ভাবলাম নিশ্চয় এটা আরিয়া এর ফোন / আরিয়া আমার বড় নাতনি / বয়স 10 বছর আমার দুটি ছেলে তার একজনের নাম রাজিব সে বড় এবং একজনের নাম সজীব সে ছোট দুজনেই অস্ট্রেলিয়াতে পড়ালেখা শেষ করে সেখানেই সেটেল্ড / রাজিব সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং সজীব নেটওয়ার্কিং ইঞ্জিনিয়ার / সজীবের দুই মেয়ে একজনের নাম আরিয়া ও অপরজন আয়েশা / আর রাজীবের শুধু একটাই ছেলে নাম রাভিদ / কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে আরিয়া তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে বড় তারপর রাভিদ এবং তারপর আয়েশা / অর্থাৎ ছোট ছেলেটা আগে বাবা হয়েছে এরপর বড় টা বাবা হয়েছে / এই মুহূর্তে আমার নাম মনে পড়ছে না তবে কে যেন বলেছিল বাড়ির বড় ছেলেরা একটা গাধা টাইপের হয় আর ছোট গুলা একটু বেশি ইসরে পাকা হয় / মনে মনে ভাবলাম কথাটা একেবারে মিথ্যা নয় / আমি চেয়ার থেকে উঠে দাড়ালাম এবং একটু হেঁটে গিয়ে বিছানা থেকে ফোনটা হাতে নিলাম / ফোনের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম এটা আরিয়া এর ফোন নয় ফোনের অপর প্রান্তে রাভিদ / আমি ফোনের বোতামটি চাপ দিয়ে কানে ধরতেই ও প্রান্ত থেকে রাভিদ এর কন্ঠ ভেসে এলো , দাদাভাই আমার গাড়িটা তোমার লাগেযে ঢুকিয়েছে ? আমি হেসে ফেললাম, বললাম সকালে না তোমাকে আমি বললাম গাড়িটা আমি ঢুকিয়েছি / আচ্ছা ঠিক আছে গাড়িটা আমাকে দেখাও / কিভাবে দেখাবো গাড়িটা তো লাগেজের ভিতরে ভরা / প্লিজ দাদাভাই গাড়িটা একটু বের করো এবং আমাকে আবার দেখাও / ওকে ওয়েট / আমি সুটকেস টা খুলে গাড়িটা বের করে ফোনের ক্যামেরার সামনে ধরলাম / এরপর আবার রাভিদের কন্ঠ শুনতে পেলাম , আই লাভ ইউ দাদাভাই / কথার মাঝখানেই ফোনটা আবার বিপ বিপ শব্দ করছিল আমি বুঝতে পারছিলাম আরেকটা কল এসেছে / আমি রাভিদ কে বললাম ওকে দাদাভাই , বাই , বলেই কলটা কেটে দিয়ে অন্য কলটা রিসিভ করলাম / প্রথমে কিছুই শুনতে পেলাম না , 5 সেকেন্ড নীরবতা তারপর ফোনের ওপ্রান্তে আয়েশার কণ্ঠ শুনতে পেলাম / আয়েশা কান্না জড়িত কন্ঠে বলছিল দাদাভাই মা আমাকে বকা দিয়েছে / আমি রাগের ভান করে বললাম বকা দিয়েছে ? কেন ? তুমি কি করেছো ? দাদাভাই আমি কিচ্ছু করি নাই / তাহলে তো তোমার আম্মু খুব ব্যাড কাজ করছে ? ওকে ওয়েট আমি আসছি , তোমার আম্মুকে আচ্ছা করে বকে দেবো ঠিক আছে ? আয়েশা হঠাৎ করে রেগে গেল , বলল না তুমি আম্মাকে বকা দিবা না / তুমি ব্যাড / বলেই লাইনটা কেটে দিল / আমি ফোন টার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হা হা করে হাসলাম / ফোনটা হাতে নিয়েই কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম , একটা ভালোবাসা একটু আবেগ আমার মনটাকে এক ধরনের ভালোলাগায় ভরিয়ে দিল / মনে মনে ভাবলাম এইতো আর মাত্র কয়েকটি দিন / তারপরে তো সারাদিন রাত এই নাতি নাতনি গুলোর কাছাকাছি থাকবো আমি /

    আমি আবার কম্পিউটারের সামনে গিয়া বসলাম /কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইলাম , হঠাৎ করেই মনটা কেমন যেন খারাপ হয়ে গেল / স্ত্রীর সেই মায়াবী মুখটা মনের ভিতর ভেসে উঠতে থাকলো / স্ত্রীর কথা মনে হলে আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই টোল পড়া গালে কমলিকা হেসে হেসে কথা বলছে / কমলিকা যখন কথা বলতো তখন মাথাটা একটু ডানদিকে কাত করে আঙুল নেড়ে নেড়ে কথা বলতো / যখন খুব ভালো মুডে থাকতো তখন কমলিকা আমাকে মানিক বলে ডাকত আবার যখন বিরক্ত হতো তখন আমাকে ডাকত এই যে মিস্টার বলে / ব্যক্তিগতভাবে আমি খুবই একজন পরনির্ভরশীল মানুষ / প্রতিটি ব্যাপারে ই আমার কমলিকাকে প্রয়োজন / আমার চশমা কই . আমার রুমাল কই কোন শার্ট পরে অফিসে যাব ? সব ই কমলিকা কেই দেখতে হতো এমনকি আমার অতি প্রয়োজনীয় প্রেসারের ওষুধ টি খাওয়ার কথাও প্রতিবেলায় কমলিকা কেই মনে করিয়ে দিতে হত / কমলিকা প্রায়ই ওষুধের বাক্স টা হাতে নিয়ে এসে বলতো আমি মরে গেলে তোমার খুব কষ্ট হবে / আমি অস্ফুট সরে বিড়বিড় করে বললাম হ্যাঁ কমলিকা আমার খুব কষ্ট হচ্ছে / স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই জাগতিক সমস্ত বিষয়ে আমি আস্তে আস্তে নিজেকে গুটিয়ে ফেলতে থাকলাম / বেঁচে থাকার তাগিদে মানুষকে কিছু না কিছু করতেই হয় / তাই আমিও অনলাইনে কিছু কাজকর্ম করতে শুরু করলাম / উদ্দেশ্য দুটি , একটি নিজেকে কাজের মধ্যে ব্যস্ত রাখা এবং আরেকটি চলার জন্য কিছু ইনকাম করা / ফ্লাটের এই ভেতরের অংশটাই আমার পৃথিবী / সারাদিন আমি আমার এই ফ্ল্যাটের ভেতরেই থাকি / গান শোনা আর কম্পিউটার দুটি ই আমার জীবনের একমাত্র সঙ্গী // স্ত্রীর মৃত্যুর পর আমার জীবনের গতিপথ আস্তে আস্তে পাল্টে যায় / পাল্টে যায় গন্তব্যের ঠিকানাও / নিজের একটা ভুবন সৃষ্টি করে ফেলি আমি , যেখানে আমি একা , সম্পূর্ণ একা / আর কারো প্রবেশাধিকার সেখানে নেই / ছেলেদুটো তাদের জীবন সংসার নিয়ে ব্যস্ত / কালেভদ্রে মাঝে মাঝে বাবার খোঁজ খবর নেয় / তবে বাইরের জীবনের মধ্যে আমার নাতি নাতনি গুলির সাথেই আমার একমাত্র যোগাযোগ / তারা প্রতিনিয়ত কারণে অকারনে আমাকে ফোন করে / দাদা ভাইয়ের সঙ্গে নানা রকম দুষ্টামি করে / হাজারো কমপ্লেন তাদের / মা বকেছে আজ স্কুলে যাবেনা , বান্ধবীর সঙ্গে আড়ি নিয়েছে , এসবই তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু / সবকিছুর সমাধান ই দাদাভাই কেই দিতে হবে আবার যদি সমাধান গুলি তাদের মন মতন না হয় তবে দাদা ভাই ও পচা / দাদাভাই এর সাথে ও কিছুক্ষণের জন্য আড়ি / আমি আমার হাতের ডান দিকের দেয়ালে ঝুলানো ঘড়িটার দিকে তাকালাম / বিরামহীন , নিরলস ভাবে ঘড়িটার সেকেন্ডের লাল রঙের কাটাটি ঘুরে চলেছে / একা একা নিঃসঙ্গ ভাবে অনেকটা আমারই মত / তাকিয়ে দেখলাম রাত প্রায় বারোটা / ক্লান্ত লাগছিল / ভাবলাম শুয়ে পড়ি আবার ভোরে ওঠে কাজ শুরু করব / আমি কম্পিউটার টা বন্ধ করে বিছানার দিকে এগিয়ে গেলাম / বিছানায় গা এলিয়ে দিতে ই কমলিকার কথা মনে পড়ে গেল / সেই টোল পড়া গালের হাসি হাসি মুখ / সেই মুখটাকে চোখে নিয়েই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম আমি /

    ঘুমের মধ্যে ই এক ধরনের বিফ বিফ শব্দ কানে আসছিল আমার / অনেকক্ষণ যাবৎ ই শব্দটা হচ্ছে / ঘুম ভেঙে গেল আমার / আস্তে আস্তে চোখ মেলে তাকালাম / আমার চারদিকে একবার তাকিয়ে দেখলাম / আমার সেই প্রিয় বিছানাতেই শুয়ে আছি আমি / ঘরের ভেতর একটা নীল রংয়ের এলইডি নাইট লাইট জ্বলছে / তাতে করে ঘরের অন্ধকার তেমন একটা দূর হয়নি তবে কেমন যেন একটা স্বপ্নীল পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে / ঘুমানোর জন্য এ ধরনের পরিবেশ খুবই আদর্শ / খুব পছন্দ আমার এই ধরনের পরিবেশ / কিন্তু অন্ধকার ঘরে কিসের শব্দ ? বুঝতে চেষ্টা করলাম আমি , কোথা থেকে আসছে এই শব্দ ? দু হাতের আঙুলগুলোদিয়ে চোখ দুটো ভালো করে রগড়ে নিয়ে আবার তাকালাম / চোখ দুটিতে অন্ধকারটা একটু সয়ে আসতেই মনে হল কেউ যেন আমার ড্রইং রুমে দাঁড়িয়ে আছে / বেডরুমের দরজাটা খোলা থাকার জন্য দরজা দিয়ে ড্রইংরুমের প্রায় দুই তৃতীয় অংশই দেখা যাচ্ছে / আবছা অন্ধকারে আমার মনে হল , যে দাঁড়িয়ে আছে সে একজন মহিলা / আমি আশ্চর্য হয়ে ওই আবছা অন্ধকারে চোখ দুটো আরো বড় বড় করে সমস্ত ড্রয়িং রুমটা কে তন্ন তন্ন করে খুঁজলাম / না আর কেউ নেই / মহিলাটি একাই দাঁড়িয়ে আছে / আমি একা থেকে অভ্যস্ত তার ওপর আগন্তুক একজন মহিলা , তাই খুব একটা ভয় পেলাম না , তবে আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় আমাকে বলে দিল সাবধান সামনে সমূহ বিপদ / শোয়া থেকে উঠে বসলাম আমি / একটু চাপা স্বরে বললাম হু ইজ দেয়ার ? আগন্তুক কথার কোন উত্তর দিল কিনা বোঝা গেল না তবে আমি আমার মাথার ভেতরে পরিষ্কারভাবে শুনতে পেলাম , ভয় পেয়ো না আমি তোমার বন্ধু / বিশেষ এক প্রয়োজনে আমি তোমার কাছে এসেছি / আমি কি তোমার রুমে আসতে পারি ? বুকের ভেতর এক ধরনের চাপ অনুভব করলাম / কিন্তু বুকে সাহস সঞ্চয় করে বললাম বিনা অনুমতিতে বাড়ি র ভেতর ঢুকে গেছে তাতে যদি অপরাধ না হয় তবে রুমে ঢুকতে দোষ কোথায় ? লজ্জা না করে আসো রুমের ভিতর চলে আসো / বলেই হাত বাড়িয়ে বেড সুইচ টা অন করে দিলাম / উজ্জ্বল আলোয় ভরে গেল ঘরটা / সে আলোয় আমি দেখতে পেলাম অপূর্ব সুন্দরী উদ্ভিগ্ন যৌবনা একজন তরুণী ধীর পায়ে আমার রুমের ভেতরে এসে দাঁড়াল / হ্যাঁ আগন্তুক একজন অপূর্ব সুন্দরী তরুণী ই বটে / খুবই সংক্ষিপ্ত পোশাক তার পরনে / আমি গভীর মনোযোগের সাথে আগন্তুককে দেখতে থাকলাম / না তার কোন পাখা নেই , সুতরাং সে কোন এঞ্জেল বা পরী নয় / গভীর দৃষ্টি ফেলে আমি তাকিয়ে থাকলাম অপূর্ব সুন্দরী রমণী টির দিকে / কিন্তু মাথার ভেতর ঝড় বইছে কে এই রমণী ? গভীর কালো সুন্দর দুটি চোখ / নাকটা ধারালো , পাতলা দুটো ঠোঁট / দুধে আলতায় মেশানো গায়ের রং /এত সুন্দর মানুষ তো পৃথিবীতে সাধারণত দেখা যায় না / একজন নিখুঁত অপ্সরী / তার পরনের কাপড় টা তার যৌবন কে মোটেও ঢেকে রাখতে পারেনি / মেয়েটি তার সেই গভীর কালো চোখ দুটি দিয়ে আমার চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে থাকলো / (চলবে)

    6
    4 Comments
Skip to toolbar