-
টুইন আর্থ
দ্বিতীয় পর্বআমি আমার মাথার ভেতর শুনতে পেলাম , আমার নাম লি / অনেক দূর থেকে এসেছি আমি / তুমি আর আমি একি গ্যালাক্সিতে বসবাস করি , তবে আমরা যে সৌরজগতের বাস করি তা তোমাদের এই পৃথিবী থেকে ওয়ান থাউজেন্ড লাইট ইয়ার দূরে অবস্থিত / হা করে তাকিয়ে রইলাম আমি / তাহলে একজন এলিয়েন আমার সামনে দাঁড়িয়ে ? আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলাম / আরেকটু খুলে বল , কে তুমি ? কেনইবা এসেছো ? কি দরকার আমার কাছে ? অধৈর্য ভাবে জানতে চাইলাম আমি / মেয়েটির হাসির শব্দ শুনতে পেলাম / এই ধরনের হাসি কেই মনে হয় বলে কাচ ভাঙা হাসি / তার হাসিটা যেন আমার কানে বারবার মধুর সুরে বাঁজতে লাগলো / তবে তার ঠোঁট দুটো বন্ধ / কিন্তু আমি আমার মাথার ভেতর আবার শুনতে পেলাম , আমাকে বসতে বলবে না ? তোমরা এ পৃথিবীর মানুষগুলো খুব যত্নের সাথে ভালোবাসা দিয়ে অতিথি কে আপ্পায়ন করো / তোমরা তোমাদের নিজেদের শরীরের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বস্তু রক্ত শুধুমাত্র তোমাদের মানবতা রক্ষার খাতিরে অন্যকে দিয়ে দিতে সামান্যতম চিন্তা ও করোনা / আমি না বলে তোমার বাড়ির ভিতরে ঢুকেছি / এজন্য আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি / আমি আবার প্রশ্ন করলাম . তুমি আমাদের ভাষায় কিভাবে কথা বলছো ? এটা কি তোমাদের ও ভাষা ? তোমরা কি এই ভাষাতেই কথা বল ? মেয়েটি দু দিকে মাথা দোলালো আমি আমার মাথার ভেতর শুনতে পেলাম , বাংলা বা ইংরেজি কোনটাই আমার ভাষা নয় / আর আমি সরাসরি তোমার সঙ্গে কথা ও বলছি না / আমি মনে মনে যা বলছি বা ভাবছি তা আমার এই হাতের মধ্যে বাধা ডিভাইসের মাধ্যমে আমাদের গ্রহের সেন্ট্রাল কম্পিউটার সিস্টেমে আপলোড হচ্ছে এবং আমাদের সেন্ট্রাল কম্পিউটার তা প্রসেস করে তোমার বোধগম্য ভাষায় ট্রান্সলেট করে এই ডিভাইসের মাধ্যমে তোমার ব্রেনের মধ্যে ট্রানস্ফার করে দিচ্ছে / তোমার ব্রেইন এর ফ্রিকুয়েন্সি 527 পয়েন্ট 23 কিলো হার্জ / আমাদের কম্পিউটার সেটা ক্যালকুলেশন করে বের করেছে এবং তুমি আমার মনের কথা বুঝতে পারছো / বোঝা যাচ্ছে লি তুমি আমাদের চেয়েও একজন বুদ্ধিমান প্রাণী / তোমাদের জ্ঞান আমাদের চেয়েও অনেক বেশি / তুমি আমাকে আর একটু বুঝিয়ে বলবে কি ? কেন তুমি আমার ঘরে দাঁড়িয়ে ? কি করতে পারি আমি তোমার জন্য ? ওকে সরাসরি আমি কাজের কথায় আসছি / শোনো তোমাদের এই গ্রহটাকে আমাদের অ্যাস্ট্রোনমি ডিপার্টমেন্টের গবেষকরা আরো পাঁচ বছর পূর্বে আবিষ্কার করেন এবং যখন আমরা বুঝতে পারলাম এখানে প্রাণের অস্তিত্ব আছে তখন আমরা এই গ্রহটাকে নিয়ে গবেষণা শুরু করলাম এজন্য আমরা তোমাদের প্রতিবেশী উপগ্রহ চাঁদের অন্ধকার অংশে বেজ সেশন স্থাপন করলাম /তোমাদের ইন্টারনেট সিস্টেম এর সিকিউরিটি ব্রেক করে নানা ধরনের তথ্য আমরা পেলাম / আমরা অবাক হয়ে লক্ষ করলাম তোমাদের সাথে আমাদের শারীরিক গঠনগত কোন পার্থক্য নেই তোমাদের দেহের সিস্টেম এবং আমাদের সিস্টেম প্রায় একই / এবং তোমাদের গ্রহটাও আমাদের গ্রহের মতই / গাছপালা নদী সাগর সব ই আছে /এমনকি তোমাদের বায়ুমণ্ডল ও আমাদের বায়ুমণ্ডলের মত ই / তেমন কোন পার্থক্য ই নেই / আমাদের এই গ্যালাক্সির সর্বমোট সৌরজগতের সংখ্যা আনুমানিক 100 থেকে 400 বিলিয়ন / এর আয়তন আনুমানিক এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার থেকে 2 লক্ষ লাইট ইয়ার /এত বড় বিশাল আয়তনের গ্যালাক্সির খুব সামান্য অংশেরই সম্পর্কে আমাদের ধারণা আছে / যেটুকু ধারণা আছে ,এরমধ্যে বেশিভাগ সৌরজগৎই নিষ্প্রাণ / কিছু কিছু সৌরজগতের কোন কোন গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব আছে বটে তবে তার সবই অত্যন্ত নিম্নস্তরের / মানুষ সাদৃশ্য অর্থাৎ আমাদের অথবা তোমাদের মত প্রাণী ও কিছু কিছু স্থানে সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করেছেন কিন্তু তাও অত্যন্ত নিম্নশ্রেণির / অর্থাৎ এখনো তারা তোমাদের আদিম যুগের সমা পর্যায়ে আছে / একমাত্র এই পৃথিবীর তোমরাই প্রায় আমাদের সম পর্যায়ের / কিন্তু তারপরেও তোমাদের এবং আমাদের মধ্যে একটা বিরাট পার্থক্য আছে / আমরা মানুষ হিসেবে হান্ডেট পার্সেন্ট লজিক্যাল / অনেকটা তোমাদের রোবটের মত / কিন্তু তোমরা তা নও / তোমাদের মধ্যে ইমোশন বলে কিছু আছে / যা কখনো কখনো কখনো লজিকের বিপরীত আচরণ করে / ব্যাপারটা অদ্ভুত / তোমাদের এই ইমোশন জিনিসটা তোমাদের শরীরের ভিতর এক ধরনের ফোর্স সৃষ্টি করে / যাকে তোমরা বল ভালবাসা বা প্রেম / এই ভালবাসা বা প্রেম তোমাদের মানুষদের মধ্যে বা তোমার কাছের লোকদের মধ্যে এক ধরনের অদৃশ্য ম্যাগনেটিক ফিল্ড এর সৃষ্টি করে / তোমরা একজনের বিপদে নিজের জীবন বিপন্ন করে ও অপরজনকে সাহায্য করো / এই টোটাল বিষয়টা আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত / আমাদের খুব কাছের কেউ মারা গেলেও আমরা কোন প্রকার ডিস্টার্ব ফিল করি না / আমরা একে অপরের জন্য কাজ করি বটে কিন্তু সেটাও আমরা করি যুক্তির ভিতর দিয়ে / এখানে ইমোশন বলে কোন ব্যাপার নেই / প্রেম ভালোবাসা কি জিনিস আমরা বুঝিনা / আমরা ঘর সংসার করি কিন্তু তা আমরা করি আমাদের জৈবিক প্রয়োজনে / আমরা আমাদের সন্তানকে লালন পালন করি বটে , তবে সেটা করি তাদের এই ভুবনে আসার পেছনে আমাদের একটা ভূমিকা থাকে বলে , আমরা এটাকে আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করি / আমাদের মধ্যে তোমাদের মত বন্ডিং এর কোন ব্যাপার নেই / কেন তোমাদের এবং আমাদের মধ্যে এই পার্থক্য তা বোঝার জন্য , তোমাদেরকে পরীক্ষা করা আমাদের প্রয়োজন / আমরা অনেকটা তোমাদের ল্যাবরেটরীতে তৈরি রোবটের মত / আমরা সবসময় টু প্লাস টু ইকুয়াল টু ফোর এইভাবে হিসাব করতে পছন্দ করি কিন্তু তোমরা সব সময় তা কর না / তোমরা মাঝে মাঝে এমন কিছু কাজ করো যা কোন থিওরি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়না যেমন একজন মানুষ রাস্তায় পড়ে গেলে তা দেখে তোমরা হাস ? কেন হাসো আমরা বুঝতে পারি না / এটা কি হাসার কোন বিষয় ? তোমাদের কান্নার বিষয়টা খুব ই অদ্ভুত / আমরা এর কোন ব্যাখ্যা খুঁজে পাইনা / এজন্যই আমি তোমার কাছে এসেছি / তোমাকে আমার সাথে যেতে হবে / আমাদের ল্যাবরেটরীতে তোমাকে নিয়ে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে / কথা দিচ্ছি পরীক্ষা শেষ হলেই আবার তোমাকে আমি তোমার এই বাড়িতে পৌঁছে দেব / আমি হতভম্বের মতন কিছুক্ষণ চুপ করে লি এর দিকে তাকিয়ে থাকলাম , মাথাটা কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেল / আমি বললাম তা কি করে সম্ভব ? আমি তো চলে যাচ্ছি এই দেশ ছেড়ে / তোমার সাথে যাওয়ার মত সময় তো আমার হাতে নেই / আমার ভালোবাসার মানুষগুলো আমার জন্য অপেক্ষা করছে / না আমি কোন ভাবেই তোমার সাথে যেতে পারবো না / মেয়েটি কঠিন দৃষ্টি দিয়ে কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো / আমি আবার শুনতে পেলাম আমরা যুক্তি দিয়ে পরিচালিত প্রাণী / আবেগ দিয়ে নয় / তাই তোমার না যাওয়ার কারণটা আমার কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয় / বলেই সে তার বাম হাতে বাধা ডিভাইসটিকে মুখের সামনে ধরে কথা বলতে শুরু করল / কথাগুলো অনেকটা আমাদের পাখির ভোরের কিচিরমিচির শব্দের মত মনে হলো / হঠাৎ করে আমার প্রচন্ড ঘুম পেতে শুরু করল আমার মাথাটা কেমন যেন ঘুরতে লাগলো , আমি গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে পড়লাম /
গভীর ঘুম থেকে আস্তে আস্তে আমি জেগে উঠলাম / কোথায় যেন কল থাকে টপটপ করে পানি পড়ছে / আস্তে আস্তে চোখ মেলে তাকালাম / কিন্তু ঠিক বুঝতে পারলাম না ঠিক কোথায় আছি আমি / চতুর্দিকে চোখটা বুলিয়ে আমি এটুকু বুঝতে পারলাম যে ডিম্বাকৃতি একটা ঘরের ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় হাসপাতালের বেড এর মতো একটা বেডে শুয়ে আছি আমি / ঘরের মধ্যে হালকা কমলা রঙ্গের কিন্তু উজ্জ্বল আলো ঘরকে আলোকিত করে রেখেছে কিন্তু আলোটা ঠিক কোথা থেকে আসছে তা বোঝা যাচ্ছে না / মনে হচ্ছে দেয়ালের ভেতর থেকেই আলোটা বেরোচ্ছে /
আমি দেখতে পেলাম আমার হাতের ডান দিকে দেয়ালে অনেকগুলো মনিটর , দেয়ালের সঙ্গে লাগানো / সবগুলো মনিটরি ই ডিম্বাকৃতি / সেই মনিটরের একটি থেকেই সেই টপ টপ শব্দটা আসছে / কিন্তু ঘরের ভেতর কোথাও কেউ নেই / হঠাৎ করেই আমি দেখতে পেলাম আমার পায়ের দিকে ঘরের দেয়ালে র একটা অংশ সরে গেল এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই হাস্যজ্জল মুখে ঘরে ঢুকলো লি / আমার দিকে তাকিয়ে রইল / আমি আমার মাথার ভেতর শুনতে পেলাম ,কেমন আছো তুমি ? পরমুহূর্তেই লি এর চোখ দুটো মনিটর গুলির উপর স্থির হল / অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল মনিটর গুলির দিকে / এরপর আপন মনে বলতে লাগলো প্রেসার নর্মাল , হার্টবিট এইট জিরো / অর্থাৎ নর্মাল / লি একটু হেঁটে সামনে এগিয়ে গিয়ে মনিটরগুলোর কাছে গিয়ে মনিটরের দিকে তাকিয়ে কি যেন বুঝতে চেষ্টা করছিল / আমি লি এর পিছন দিকটা দেখতে পাচ্ছিলাম / চুলগুলো কাঁধ ছাড়িয়ে পিঠের মাঝামাঝি পর্যন্ত এসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে / চুলের রঙ সম্পূর্ণ কাল নয় একটু যেন লালচে বর্ণের / শরীরের গঠন আমি অনুমান করলাম 26 32 28 ./ উচ্চতা 5 ফুট 2 ইঞ্চি /
খুব সুন্দর লাগছে লি কে দেখতে / আমি আবার শুনতে পেলাম বাহ বেশ ভালোই তো আছো তুমি / একেবারে ফুরফুরে মেজাজে / আমাকে তোমার গাইড হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে / তোমার যে কোন সমস্যা দেখার দায়িত্ব আমার / তুমি যতদিন আমাদের এখানে আছো তোমার সবকিছু আমি দেখভাল করব / তুমি আমাদের এখানে অতিথি হয়ে এসেছ আজ প্রায় 20 দিন / অতিথি হয়ে এসেছি মানে ? আমি গলায় একটু রাগ মিশ্রিত কন্ঠে প্রশ্ন করলাম , তোমাদের এখানে অতিথি কে জোর করে ধরে এনে অতিথি বানানো হয় নাকি ? /কি অদ্ভুত নিয়ম তোমাদের ? লি আমার কথা শুনে রাগ করল না / বলল বাব্বা খুব রেগে আছো দেখছি / আমি তো তোমাকে কথা দিয়েছি খুব বেশিদিন তোমাকে এখানে থাকতে হবে না / আমি নিজেই তোমাকে তোমার পুরনো বাসস্থানে ফিরিয়ে দিয়ে আসবো /তুমি তো জানো না গত 20 দিন এই তুমি অচেতন অবস্থায় ছিলে / তোমার জন্য আমি কত পরিশ্রম করেছি / আমি রাতদিন তোমার পাশে বসে থেকেছি / নিজ হাতে তোমাকে খাইয়ে দিয়েছি / এসবের কি কোন মূল্য নেই ? এজন্য কি আমি তোমার কাছ থেকে একটা ধন্যবাদ আশা করতে পারি না ? একটা কথা বলি ? তুমি না দেখতে খুব সুন্দর / বলেই লি তার মুক্তোর মতো দাঁতগুলো বের করে হাসল / মেয়ে মানুষদের জন্য সাধারণত সব পুরুষেরই মনের ভিতর একটা সফট জায়গা থাকে / খুব কম পুরুষই পারে একজন মেয়ে মানুষকে উপেক্ষা করতে / তারপর যদি সেই মেয়ে মানুষটা অতীব সুন্দরী হয় তবে তো কথাই নেই / লি এর মুখে আমার প্রশংসা শুনে মনটা একটু খুশি হয়ে উঠলো / আমার রাগের মধ্যে কেউ যেন জল ঢেলে দিল / আমি হেসে ফেললাম / আমি আবার লি এর কথা শুনতে পেলাম , তোমাকে নিয়ে আমাদের গবেষণাগারে আমরা নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি অবশ্য এখনো আরো অনেক পরীক্ষা ই বাকি আছে / আমরা আশা করছি সমস্ত পরীক্ষা গুলি শেষ হলে আমরা আমাদের সমস্যার একটা সমাধান পেয়ে যাব /লি য়ের এই ব্যাপারটা আমার একদম ভালো লাগেনা / লি কোন কথা বলছে না তার ঠোঁট দুটো নড়ছে না মুখে কোন এক্সপ্রেশন নেই অথচ তার কথা আমি শুনতে পাচ্ছি / খুবই অস্বস্তিকর একটা ব্যাপার / আবার লি এর কথা শুনতে পেলাম আমি ,,তুমি এখন তোমার বিছানা ছেড়ে নামো ,বাথরুমে যাও , ফ্রেশ হও / বাথরুম থেকে বের হয়েই তুমি তোমার খাবার রেডি পাবে / এরপর খাবার শেষ করে আমি আজকে তোমাকে নিয়ে বেড়াতে বের হব আমরা আজ সারাদিন বাইরে ঘুরবো / আমাদের এই সুন্দর গ্রহটিকে. তোমার সঙ্গে পরিচয় করে দিব / আমার ধারণা খুব ভালো লাগবে তোমার / হঠাৎ করেই আমার মনে পড়ে গেল আয়েশা আরিয়া ও রাভিদ এর কথা / ঝট করে লি এর দিকে মুখ করে তাকিয়ে প্রশ্ন করলাম আজ কত তারিখ ? আমার তো আমার নাতি নাতনিদের কাছে যাওয়ার কথা , নিশ্চয়ই ওরা আমার জন্য অপেক্ষা করছে / রাভিদ হয়তো রাগ করছে আমাকে না দেখে , আয়েশা কাঁদছে , আর আরিয়া মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে আছে / আমি একজন বাচ্চা শিশুর মতন আর্তনাদ করে বললাম , আমাকে ছেড়ে দাও আমি আমার নাতি দের কাছে যাব / সবকিছু মনে পড়ে গেল আমার / আমি আমার ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম জোর করে আমাকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে / আমাকে এখানে এভাবে আটকে রাখার কোন নৈতিক অধিকারী তোমার নেই / আমাকে ছেড়ে দাও / আমি চলে যাব / লি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল / আমি শুনতে পেলাম , না আর বেশি দিন তোমাকে এখানে আমরা আটকে রাখবো না / আমাদের গবেষণার কাজ শেষ হলেই আমরা তোমাকে তোমার সেই পুরনো বাসস্থান দিয়ে আসব / তুমি ফিরে যাবে তোমার আদরের আরিয়া আয়েশা ও রাভি দ এর কাছে / জাস্ট আর কয়েকটা দিন মাত্র / প্লিজ কুল ডাউন / মন খারাপ করোনা / চলো আমরা এখন বাইরে যাই তুমি তোমার পৃথিবী থেকে ওয়ান থাউজেন্ড লাইট ইয়ার দূরের একটা গ্রহে বসে আছো তোমার ভাবতে ভালো লাগছেনা ? তোমার জানতে ইচ্ছা করছে না এই গ্রহটি কেমন ? এখানকার প্রাণী গুলো কেমন ? একশত আসি ডিগ্রী এবাউট টার্ন করে লি একেবারে আমার মুখোমুখি এসে দাঁড়ালো / এতটাই কাছে যে তার মুখে চিবুকের ডান পাশের ছোট্ট তিলটা আমি খুব পরিষ্কার ভাবে দেখতে পাচ্ছিলাম / যা তাকে দেখতে আরো মায়াময় করে তুলেছে / টুকটুকে হালকা গোলাপি ঠোঁট দুটো সামান্য একটু খোলা / ওই খোলা অংশ দিয়ে তার উপরের পাটি দাঁতের কিছুটা অংশ দেখা যাচ্ছে / মুক্তোর মত ঝকঝকে দাঁত / কেমন যেন আমি একটু আনমনা হয়ে গেলাম / এক ধরনের অস্বস্তি লাগছিল / সেই অস্বস্তি কাটানোর জন্য ই আমি বললাম তুমি একটু সরে না দাড়া লে আমি কেমন করে বাথরুমে যাব ? লি একটু হাসল / এবং পথ ছেড়ে দাঁড়ালো / আমি বাথরুমে ঢুকে গেলাম / আমি বাথরুম থেকে লি এর আবার সেই হাসির শব্দ শুনতে পেলাম /লী চিৎকার করে বলছে , বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখবে বিছানার উপর তোমার ড্রেস রাখা আছে সেগুলো পড়ে তুমি রেডি হয়ে নাও /
ড্রেসগুলো নরম তুলতুলে অনেকটা আমাদের রেশমের মত কিন্তু আরো হালকা / আমি ঘারটা কে বাঁকা করে লি এর দিকে ফিরে একটু একটু হেসে বললাম তুমি যদি একটু আড়ালে না যাও তবে আমি কিভাবে আমার ড্রেস চেঞ্জ করব ? আমি আবার সেই মধুর হাসিটা শুনতে পেলাম / লি আমার খুব কাছে এসে দাঁড়ালো / একেবারে প্রায় গা ঘেঁষে , তারপর চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে রইল / আমি শুনতে পেলাম তাই ? ঠিক আছে দর্শ মিনিট সময় দেয়া হল তোমাকে , এর মধ্যেই রেডি হয়ে যাবে ওকে ? তুমি কি আমার ,গাইড নাকি মাস্টার ? প্রশ্ন করলাম আমি / লি হেঁটে দরজার সামনে গিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে বলল মনে করো দুটোই / বলেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেল / (চলবে)
#Shahadat Hossain2 Comments
Friends
ভাস্কর
@vaskarchou
Prithula Zaman
@prithula
AdabenTatali
@adabentatali
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
চাঁদ সদাগর
@chand_sodagor
তুলট ডেস্ক
@toulot
নির্বোধ সুদীপ্ত
@sajalbhowmick
M A Kuddus Hossen
@makuddushossen
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
@mohammad-shahzaman



“মেয়ে মানুষদের জন্য সাধারণত সব পুরুষেরই মনের ভিতর একটা সফট জায়গা থাকে / খুব কম পুরুষই পারে একজন মেয়ে মানুষকে উপেক্ষা করতে /” প্রকৃতি এক অসম্ভব বৈষম্য তৈরি করে রেখেছে। একজন মেয়ে মানুষ মনে এক আকাশ ভালবাসা নিয়েও কিন্তু খুব সহজেই উপেক্ষা করতে পারে। এলিয়েন লি ও তার গ্রহের চমৎকার বর্ননা দিয়েছেন। প্রীতি ও শুভেচ্ছা লেখক।