Profile Photo

রাহুল চন্দ্র দাসOffline

  • গোলাপি শাপলার হ্রদ
    টেরাকোটা থাইগ্লাসের পাখায় ভর করে
    কমলা রঙের ফড়িং উড়ে সকালের রোদেলা কুয়াশায়
    আধা নিমজ্জিত অপল্লব গাছের শাখায় একটি কাছিম রৌদ্রস্নাত হয় পাথুরে চ্যাপ্টালো
    সাপের কুণ্ডলী থেকে গলা বাড়িয়ে দেখে পাশাপাশি
    প্রশাখায় পানকৌড়ি, জলপিপি শাপলার পাতায় পাতায় চরে
    যুগান্তরের বিশ্বযুদ্ধের বহু পিছনে থেমে থেকে।
    পাখিদের কেউ কেউ সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া থেকে তীর্থভ্রমে এসে হাকালুকি বিল গড়ে ফেলে।
    কাচা রোদের হ্রদের সৌন্দর্যের উষ্ণতার সেতুর
    ডানে একবার বামে একবার
    একবার ক্রাইস্ট দা রিডিমার একবার আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞতার ভেতরে তাকানোর অবসর
    বেশ অস্থিরতায় স্তব্ধ হয়ে উঠে
    নিজেকে পিপড়ে দেখি দোকানের দিককার মিছিলের
    সারবাধা চিনির লোভের অভ্যাসের নখরের পাশে।
    দুনিয়া বাজার হয়ে গেছে। বাজারগুলোকে ভেবে
    মেলা মেলা-
    মঞ্চ মঞ্চ লাগে দোকানের ডায়াসের ক্যানভাসারের
    অকবিতার অসৎ তর্জমা।
    গোয়ালের মিথেনের ঘ্রাণের পাশের
    পাকশালার ঝাঝালো সংখ্যার চেয়ে দরকারের স্বাদগন্ধের বেশি
    স্নায়ুর কোষের এককের নিউরনের লগ্নতায় স্থির
    পড়ে আছে ভাগে হাইড্রার বিদ্যুতের খুটির
    নিচে গ্রামে
    গোলাপি শাপলার হ্রদের সেতুতে ষাড়ের তাড়ার আড়ালে
    পাড়ায় ভার্জিন স্প্রিং অলৌকিক পণ্যপ্রস্রবণ।
    হাতছানি দিয়ে ডাকে স্ক্যান্ডিনেভীয় কৃষকের থেকে
    কেড়ে আনা শস্য মধ্যস্বত্বভোগীর কল্যাণে
    চীন কঙ্গোর প্রজন্মের খণিশ্রমিকের দীর্ঘশ্বাসের
    বাংলাদেশের কৃষক শ্রমিকের রক্তের বিক্রির
    স্বাধীনতার দৃষ্টান্তের ট্যাগমারা টাকার মুলোয়।
    মানুষ চূড়ান্ত স্বাধিকার পুতে রেখে মনের কবরে
    কেবল জম্বির মতো ঢাকার বাসের খোপে উঠে
    নামে
    হরতাল না থাকারও দিনে। থাকারও দিনে।
    চিলতে আলোর ভেতরে দৃশ্যমান নক্ষত্রের আণবিক
    আণুবীক্ষণিক গুড়ো সমুদ্র সৈকত থেকে ঝিরঝির ঝিকমিক রাংতার ঢেউয়ে উড়ে, চোখেমুখে
    অনবরত ভাইরাসের মতো লেগে থাকে উলের লোমমতো। শুধু গ্র‍্যাভিটি নিজেকে জানে নাকো
    মানুষের অন্তঃস্থলে আকাঙ্ক্ষার শীতনিদ্রারত।

    4
    3 Comments
Skip to toolbar