Profile Photo

মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেলOffline

  • Ashraful710
  • বিশিষ্ট কবি, লেখক ও গীতিকার যাকির সাইদ এর উক্তি:
    সক্রেটিস যে অমৃত পান করে ছিলেন তাঁর নাম হেমলক, প্রেমিক মজনু যে বিষ পান করে ছিলেন তাঁর নাম প্রেম, যাকির সাইদ, তুমি যদি বিষ ও অমৃত পান করতে পারো তবে তুমি নীলকণ্ঠ……

    নিজ মন্তব্য:
    হিন্দুধর্মের মূল স্তম্ভ ত্রিশক্তির (ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব) মধ্যে অগ্রগণ্য, শৈব সম্প্রদায়ের প্রধান দেবতা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরমেশ্বর ভগবান শিব সমুদ্র থেকে হলাহল (কালকূট) নামক ভয়ংকর জীবন ধ্বংসকারী বিষাক্ত বিষ পান করার ফলে তার গলাতেই আটকে থাকে ও বিষে কন্ঠটা গাঢ় নীলবর্ণ হয়ে যায় । মহাদেব বা শিবের স্ত্রী পার্বতী (হিন্দু দেবী দুর্গা রূপ বা দিব্য জননী / আদি পরাশক্তি সর্বোচ্চ দেবী মহামায়া) ছুটে এসে ভগবান শিবের কন্ঠ চেপে ধরলেন যেন শিবের দেহ পর্যন্ত এ বিষ নেমে না যায় । বিষ পানের ফলে শিবের কণ্ঠ বিষে নীলবর্ণ হয়েছিল আর সে জন্যই শিবের আরেক নাম নীলকন্ঠ বা নীলকান্ত (Neelkantha) ।
    প্রাচীন গ্রীসের তৎকালীন শাসকগণ বর্ষীয়ান রাজনীতিক আনুতুস এর অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে ধর্মদ্রোহিতা, গণতন্ত্রের প্রধান শত্রু, রাষ্ট্রস্বীকৃত দেবতাদের বিরুদ্ধাচরণ, Eleusinian শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠান অপবিত্রকরণে সহায়তা, সামাজিক-নৈতিকক্ষেত্রে তীব্র সমালোচনা, তরুণ সম্প্রদায়কে দুর্নীতিগ্রস্ত-বিপথগামী এবং স্পার্টা’র নীতির প্রশংসা করার কারণে রাষ্ট্রীয় অপরাধী হিসেবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পশ্চিমি দর্শনের ভিত্তিস্থাপনকারী গ্রিক মহান দার্শনিক সক্রেটিসকে হেমলক গাছের (Conium maculatum) নিষিক্ত সুস্বাদু রস পান করিয়ে হত্যা করেন (৩৯৯ খ্রিস্টপূর্ব) ৷ যদিও সক্রেটিস বিবেকের দ্বারা চালিত হয়ে ব্যক্তির সর্বাঙ্গীণ স্বাধীনতা এবং দেশের নীতি-রীতির চেয়ে ঈশ্বরকে মানা শ্রেয় মনে করতেন ।
    কিংবদন্তী প্রেমিক পুরুষ-আরবের নাজদী বেদুইন কবি কায়েস ইবনে আল মুলাওয়া (মাজনুন / মজনু) তার প্রিয়তমা প্রেমিকা লায়লা বিনতে মাহদীকে (লায়লা আল- আমিরিয়া / লাইলী) গভীর ভালোবেসে তাকে নিয়ে পবিত্র প্রেমের কবিতা রচনা করেন ও পাগলপ্রায় হয়েছিলেন ৷ তিনি লায়লার পিতার কাছে লায়লাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর লায়লা’র পিতা তা প্রত্যাখ্যান করে লায়লার ইচ্ছার বিরুদ্ধে থাকিফ গোত্রের সম্ভ্রান্ত, ধনী ও সুদর্শন পুরুষ ওয়ার্দ আল সাকাফি (আরবীতে ‘গোলাপ’) এর সাথে লায়লাকে বিয়ে দেন ৷ এক সময় লায়লা প্রাণপ্রিয় প্রেমিক মজনুকে না পেয়ে বিরহ ও ভগ্ন হৃদয়ে নিদারুণভাবে মৃত্যুবরণ করেন ৷ অন্যদিকে আরব মরুভূমিতে ৬৮৮ খ্রিস্টাব্দে (উমাইয়া খলিফা আবদ আল মালিক ইবনে মারওয়ানের শাসনামলে) প্রিয়তমা লায়লা’র কবরের পাশে মজনুকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ৷ এ এক অমর প্রেম কাহিনী ৷
    যাই হোক- হিন্দু দেবতা বা মহা ঈশ্বর বা ভগবান শিব হলাহল বিষ পান করে “নীলকণ্ঠ” (নীলবর্ণ) হয়েছিলেন এবং সক্রেটিস হেমলক সুধা পান করে ও মজনু প্রেমবিষে “নীলকণ্ঠ” হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন ।
    কিন্তু ‘যাকির সাইদ’ আপনি যদি সে বিষ ও অমৃত পান করে “নীলকণ্ঠ” ধারণ করেন- তাহলেতো কবিতা বা সত্তা’র মৃত্যু হবে । সেটি কি আপনি চান?
    না-কি, আত্মোৎসর্গ ।
    তবে কি- বিষ হজম করে “নীলকণ্ঠ” হওয়ার মাঝে আছে এক পরম সুখ, আত্মার শান্তি, নবজাগরণ এবং অজেয়তা?
    Sohel.

Skip to toolbar