-
পর্ব-২৪
রিকশাওয়ালা আরও জোরে পা চালায়।
কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির দিকে মেইন গেইটের সামনে এসে রিকশা থামল। হাকিম চত্বরে এদের গ্রুপের কেউ নেই। সৈকত আশপাশে তাকায়। কাউকে দেখতে পেল না সৈকত। নিশ্চিত হল সবাই জায়গায় আছে। সৈকত সামনে পা বাড়ায়।
ওদের মজমাটা জমে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সংলগ্ন বিক্রয় কেন্দ্রের দক্ষিণ দিকে, বাগান ঘেরা দেয়ালে আড়াল হয়ে বসে। এখানে ওদের আড্ডা জমে সকাল এগারোটা সাড়ে এগারোটা থেকে রাত এগোরাটা বারোটা পর্যন্ত [ গাঁজার আড্ডায় দশ-বার জন রীতিমত যাওয়া আসা করে। তবে কোন কোনদিন আবার বিশ-পঁচিশজনও হয়ে যায়। এখানে কেউ নেশায় পড়ে নেশায় ডুবে আছে, কেউবা আবার খেয়াল বশে জমাতে আসে, কেউবা আবার পুরনো অভ্যাসে আটকে আছে, আবার হয়ত আসে কৌতূহলের ঘোরে। নেশায় নেশাগ্রস্তরা সারাদিনই গাঁজা টানে আর ঘোরে ঘোরে কাটিয়ে দেয় সময়। অন্যরা কিছুক্ষণ সময় দেয় আবার চলে যায়।
গাঁজার নেশাকে উসকে দেয়ার জন্য চলে বিরামহীন চা। দুপুরের খাওয়া ওদের চায়ের সাথে বড়জোর বিস্কুট-কলা চলে। এর বেশি ওদের চাওয়া কখনও মাথাছাড়া দেয় না। এখানে কাউকে বলে দিতে হয় না যে, তুই মহারাণী (ওরা গাঁজাকে মহারাণী বলেই ডাকে) নিয়ে আসিস। কারণ যেই আসে সময়-সুযোগ পেলেই গাঁজার পুরি নিয়ে এসেই হাজির হয়।
সৈকতের এক বন্ধু আসফি। ওর সাথে সৈকতের খুব একটা ঘনিষ্ঠতা না থাকলেও ইদানীং হয়ে গেছে। আসফি এই আড্ডার এক নম্বর পাবলিক। আসফির ধ্যান-জ্ঞান-স্বপ্ন হল গাঁজার আড্ডা। রুটিন মাফিক যাওয়া আসা চলে। সকালের ঘুম ভাঙে দশটায়। ঘুম থেকে উঠইে খালি পেটে একখানা সিগারেট না হলে টয়লেটে যাওয়া হয় না। টয়লেট শেষে গোসল। তারপর রিকশা নিয়ে সোজা ক্যাম্পাসে। ক্লাস করতে নয়, গাঁজার আড্ডায়। হলে ফিরতে ফিরতে কোন কোনদিন রাত একটাও বেজে যায়। চোখে থাকে ঢুলু ঢুলু ঘুম। চেয়ারে বসে পরপর চলে কয়েকটা সিগারেট। কোন কোনদিন আবার ছাদে উঠে। গাঁজা টানার জন্য একা একা ছাদে উঠতে আসফির ভালো লাগে না। তাই একে ওকে সাধাসাধি করে । অবশ্য এ সাধাসাধিটা গুটি ক’জনার মাঝেই সীমাবদ্ধ। কোন কোন রাতে কেউ হয়ত যায় গাঁজাটা কেমন একটু চেখে দেখতে।
এক রাতে হলে ফিরেও আসফির নেশাটা একটু ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল। হাঁটতে হাঁটতে সৈকতের হলে চলে এল। রাত তখন একটা। দরজা হাট খোলা। অনিক নাক ডেকে ঘুমুচ্ছে। সৈকত চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে চোখ বন্ধ করে আপনমনে সিগারেট টানছে। আসফি অবাক। কারণ আসফি জানে সৈকত সিগারেট টানে ঠিকই তবে এখন যেভাবে টানছে সে পরিস্থিতির সাথে আসফি পরিচিতি না। কোন কথা না বলে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। সৈকত পরপর তিনটি সিগারেট টানল। আসফি কাছে এসে সৈকতকে ডাকল- সৈকত।
সৈকত ফিরে তাকায়। কোন কথা বলে না। আসফি সৈকতের পাশে বিছানায় বসে। তারপর গভীর হয়ে সৈকতকে দেখে। সৈকতের তেমন কোন ভাবান্তর হয় না। আসফি না জিজ্ঞ্যেস করে পারল না- তোর কী হয়েছে রে সৈকত?
কিছু হয়নি। ভালো লাগছে তাই টানছি।- সৈকত কথা বলছে ঠিকই কিন্তু সব কথা জড়িয়ে জড়িয়ে আসছে। চোখ জোড়া রক্তের মতো লাল হয়ে আছে। আসফির মনটা খারাপ হয়ে আসে মুহূর্তেই এবং বেশ আন্তরিকতার সাথেই বলে- দেখ সৈকত তোকে আমি অন্যান্যদের চেয়ে আলাদা করে দেখি। আমার কাছে কোন কিছু লুকাবি না।
হঠাৎ মনে পড়ে গেল এমন ভাব করে সৈকত বলে- তোর কাছে শুকনা আছে?- সৈকত কথা বলতে বলতে আসফির পকেট হাতাতে থাকে।
আসফি কোন জবাব দেয় না। অন্য কথা বলে- আমি জানতে চেয়েছি তার কিন্তু কোন উত্তর পাইনি।
সব জানতে পারবি। এখন শুকনা আছে কি না বল?
আছে, কিন্তু তোকে দেয়া যাবে না।
কেন, আমাকে দেয়া যাবে না কেন?
এসেছিলাম অবশ্য এ উদ্দেশ্যে নিয়েই যে, তোকে নিয়ে গিয়ে টানব।
তবে?
অন্যদিন অবশ্য জাস্ট সঙ্গ নেবার জন্য তোকে নিয়ে যাই। কিন্তুু আজ আমি তোকে নেব না।
কেন, নিবি না কেন?
কারণ আমি চাই না তুই এই পথে আঁটকে যাস।
আসফিকে কথা শেষ করতে না দিয়েই সৈকত আবেগাপ্লুত হয়ে বলে- আসফি, আমি জানি তুই আমাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে দেখিস। খুব ভালোবাসসি। কিন্তু এখন যদি তুই আমাকে না দিস আমি নিজেও তো এনে খেতে পারব না কি? এ ব্যাপারে নিজের ইচ্ছেটাই আসল। কই গত একটা বছর তো তুই আমাকে প্রায়ই ডেকে নিয়ে যাস। আমি কি অ্যাডিক্টেড হয়েছি? হইনি। আর এখন তুই না-নিয়ে গেলেও আমি নিজে গিয়ে নিয়ে আসব। সেটা নিশ্চয়ই ঠেকাতে পারবি না।
আসফি কিছুক্ষণ ভাবল। তারপর বলল- ‘ঠিক আছে চল। তবে তোর কাছে অনুরোধ এসবে জড়াস না। আমার চোখের সামনে আমার জীবনটা শেষ হয়ে যাচ্ছে টের পাচ্ছি । কিন্তু সরে আসতে পারছি না। প্রথম প্রথম মজা করে টানতাম। এখন গাঁজা আমাকে টানে। ফিরে আসার ইচ্ছেটা খুবই দুর্বল হয়ে গেছে।
সেই থেকে সৈকত আসফির হাত ধরেই গাঁজার আড্ডার সদস্য হয়ে যায়। এখন মাছ-ভাতের চেয়ে গাঁজাই বেশি টানতে হয়।
সিগারেটে টান দিতে দিতে সৈকত বেশ খোশমেজাজের সাথে একটা গজলে সুর তুলল। চলন্ত অবস্থাতেই এক হাতে উরুতে তাল ঠুকছে। আড্ডার কাছে পৌছতেই চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে ওঠল। সবাই এসে গেছে। প্রথম রাউন্ডের জন্য প্রস্ততি চলছে। পকেটে হাত ঢুকিয়ে দু’পুরিয়া বের করে বিছিয়ে রাখা অন্য পুরিয়ার সাথে মিশিয়ে দিল। দূর্বার উপরে বিছিয়ে বসে সিগারেটটা পাশের জনকে দিল।
*
পারমিতা এবং সৈকতকে নিয়ে রুচিরার সুন্দর সময় কেটেছে। দু’জনকে ঘিরেই রুচিরার একটা নিজস্ব ভুবন গড়ে ওঠেছিল।। ওরা ছন্দের মাধুরী মিশিয়ে দিয়েছিল জীবনের ছেঁড়া তারের তানপুরাটায়। একজন আরেকজনকে ভালোবাসার ভালোলাগাটুকুর সুবাতাস রুচিরাকে মোহময় করে রাখতো। ওদের সাথে আত্নিক একটা যোগাযোগ ঘটেছিল। যখন ওদের সাথে ছিল নিত্য উঠা-বসা তখন কিন্তু রুচিরা ততটা বুঝতে পারেনি এসব ব্যাপারগুলো। পারমিতা সৈকতের সম্পর্কের ফাটলের প্রভাব রুচিরাকেও স্পর্শ করেছে।
চলবে…ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর
পার্থসারথি
( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )
♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
Friends
Ashaduzzaman-Khokon
@ashaduzzaman-khokon
D K MAHANTA
@dkmahanta01718942602
রাহুল চন্দ্র দাস
@rahulchandradas13011994gmail-com
আব্দুল মজিদ মারুফ
@abdulmojid
নন্দিনী
@nandini-chowdhuri
Diponkar Bhowmik Antu
@diponkar
Nilufar Ghani
@nilufar-ghani
Israt Lamia
@israt-lamia
Dhali Moin
@dhali-moin
