-
প্রেমে পরা ছেলেটি
_______________________( ১ )
রফিক মদের বোতল হাতে নিয়ে মুখে দেবে, এমন অবস্থায় শায়েখের চিরকুটটার কথা মনে পড়ে গেল পকেট থেকে বের করে পড়া শুরু করেছে!….
এলাকার সকল যুবকের থেকে রফিক অন্যরকম। সব সময় মসজিদের সাথে লেগে থাকা তার মন শায়েখদের সাথেও তার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তার এই পরিবর্তন দেখে কিছু যুবক সহ্য করতে পারেনি। তাদের সাথে রফিকের তেমন মেলামেশা হয়না। এবার সকল বন্ধুমিলে পরামর্শ করলো কিভাবে রফিককে খারাপ পথে নিয়ে আসা যায়। তাদের মধ্যে এক দুষ্টু যুবক বললো ওকে মেয়ের ষড়যন্ত্রে ফেলে আমাদের দলে নিয়ে আসতে পারি।
তাদের মধ্যে একজন হলো মামুন। সেও একসময় অনেক আল্লাওয়ালা ছিলো। কিন্তু এলাকার বখাটেদের কু-চক্রে পরে এখন মাদকে আসক্ত হয়ে গেছে। মামুন তাদের থেকে দ্বিমত পোষণ করে বলল ‘তোমরা রফিককে আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারবেনা’। কিন্তু তারা সকলে বলল ‘আমরা তাকে আমাদের দলে নিয়ে আসবই’। তাদের কাছে বিষয়টি একটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ালো।( ২)
তাদের এলাকায় সারিয়া নামে এক সুন্দরী যুবতী ছিলো। তবে স্বভাব ছিল প্রতিতার মত। এলাকার বখাটে ছেলেরা তার কাছে যেতে আর নানা রকম অপকর্মে লিপ্ত হতো। বখাটে ছেলেদের এবার মূল টার্গেট কিভাবে রফিককে তাদের দলে নিয়ে আসা যায়। যথারীতি তারা সারিয়াকে সবকিছু বলল এবং বিভিন্ন ষড়যন্ত্র মূলক আলোচনা করল।(৩)
রফিক ফজরের নামাজ শেষে শায়েখদের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলার পর একটু হাঁটতে বের হয়েছে। পথিমধ্যে এক বোরখা পরা নারী( তবে মুখ খোলা ছিল )। রফিকের সম্মুখ দিকে আসছে। রফিক নিজের চোখ অনবত করে দ্রুতপায়ে হেটে চলছে।
“ভাইয়া”! বলে ডাক দিল মেয়েটি।
অচেনা এক মেয়ে রফিককে ডাক দেওয়ায় সে একটু চমকে উঠল।
কিন্তু শায়েখদের সতর্কবাণী গুলো তার সমসময় স্বরণে থাকায় মেয়েটির কথা তাকে সামান্যতম বিচলিত করে নি।
মেয়ে: ভাইয়া আমি একটা বড় সমস্যায় পড়েছি! একটা কথা ছিল, একটু শুনবেন?
রফিক : চোখ নিচু করে ‘বলুন ‘
মেয়ে : কান্না করার কন্ঠে,’আমার বাবা খুবই অসুস্থ কিন্তু আমার কোন ভাই নেই। এমন অবস্থায় কি করব কিছু বুঝতে পারছিনা। আপনি যদি একটু সাহায্য করতেন’।
এবার মেয়েটির মিষ্টি কন্ঠ আর দুঃখের কথা শুনে রফিকের মন নরম হয়ে গেল। মাথা তুলে মেয়েটির দিকে তাকাতেই তার অপূর্ব রূপ রফিকের ঈমানী শক্তির একটি খুঁটি ভেঙ্গে চুরমার করে দিল। রফিক বলল ‘আমি কিভাবে সাহায্য করতেপারি?
মেয়েটি বিভিন্ন আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে তার বাড়ির ঠিকানা দিয়ে বলল কাল সকালে যদি একটু আসেন তাহলে হয়তো আমার বাবা পরিত্রান পেতো।
( ৪)
ঘটনাটি অনেক স্বাভাবিক হলেও রফিকের কাছে তেমনটি ছিল না। মেয়েটির রূপ লাবণ্য আর কথার ভঙ্গি তার ইমানি শক্তিকে নিস্তেজ করে দিয়েছিল।এমনকি তার মনের পরিবর্তন হতে শুরু করল। কখন কাল আসবে!!! নামাজের মধ্যে ও তার মনোযোগ বসেছে না। সেদিন ফজরের নামাজের পর শায়েখেকের সাথে কোন কথা না বলেই চলে গেলো। শায়েখ তার পরিবর্তনও লক্ষ্য করতে পারল। ঠিক কথা মত মেয়েটির বাড়িতে প্রবেশ করেছে রফিক, পাশের ঘর থেকে মেয়েটি বলল বসুন। দুই ঘর বিশিষ্ট নির্জন একটি বাড়িতে এক ঘরে বসে আসে রফিক আর অন্য ঘরে মেয়েটি।রাস্তার একপাশে দেয়াল থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছে বখাটে ছেলে গুলো। আর মেয়েটি হল ঐ সারিয়া। কিন্তু রফিক ফাদে পা দিয়ে দিয়েছে। যেখান থেকে পরিত্রান পাওয়া খুব কঠিন। দেখছে তার ঘরে তো কেউ নেই, মেয়েটি তাহলে মিথ্যা কথা বলল!!!! এবার পাশের ঘর থেকে মেয়েটি এসে চুপ করে রফিকের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। রফিক : ‘কি ব্যাপার কোন কথা বলছেননা না কেন?’(৫)
এভাবেই মেয়েটি এক সময় রফিকের অন্তরে যায়গা করে নেয়। এটা যে ছিল তাদের ঘোর চক্রান্ত এব্যাপারে রফিকের বিন্দুমাত্র ধারণা ছিলনা। এক সময়ে এমন অবস্থা হলো যে সারিয়ার সাথে একদিন দেখা না করলে থাকতে পারত না। ধীরে ধীরে সত্যিই ছেলেদের সাথে তার সম্পর্ক তৈরি হলো। সবাই একসাথে মেয়েটির সাথে আড্ডা দিত। রফিকের ঈমান-আমল সবশেষ! ইতিমধ্যে শায়েখ ও রফিকের অবস্থা সম্পর্কে পুরোপুরি অভিহিত হয়েছে। সেদিন রফিকের সাথে বাজারে শায়েখের দেখা। একটি চিরকুট পকেট থেকে বের করে রফিকের হাতে দিয়ে কোন কথা না বলে চলে গেল। রফিক চিরকুটটা না করে পকেটে রেখে দিল।( ৬)
আজ বখাটে ছেলেদের উদ্দেশ্য পূরণ হতে চলছে। মামুনকে সবাই লক্ষ করে বলল ‘তুই বলেছিলি না রফিককে আমাদের দলে নিয়ে আসতে পারবোনা। আজ দেখবি ওকে মদ খাইয়ে নেশার জগতে ভাসিয়ে দেব। আজও আড্ডার আসর বসেছে, ছেলেরা মদ নিয়ে হাজির। সবাই বলে উঠলো আজ খুব ফুরতি হবে। মামুন নিরব হয়ে লক্ষ করছে কিভাবে একটি মেয়ে এতগুলো যুবককে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে! অবশেষে রফিক ও রক্ষা পাবেনা? সবাই মদ হাতে নিয়ে পস্তুত কিন্তু রফিক কোনতেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছেনা! রফিক যখন অসম্মতির ইশারা করল তখন সারিয়া এক গ্লাস মদ নিয়ে রফিকের হাতে দিলো। নানারকম ভাবনার পরে মুখে দেবে এমন সময় ভাবলো শায়েখের চিরকুটটা একটু দেখিতো

সুন্দর গল্প। প্রীতি ও শুভেচ্ছা লেখক।