Profile Photo

মাহমুদুর রহমান মনাOffline

  • অণুরম্য গল্প
    ঝাড়ের বাঁশ ঘাড়ে

    সামনে নির্বাচনী মৌসুম। আক্কাস আলী ব্যাপারির খায়েস হয়েছে নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন। সেই লক্ষ্যে তিনি গণসংযোগ, সমাবেশ শুরু করেছেন।
    এমনি এক সমাবেশে তার অনুগতরা বক্তব্য দিয়ে চলছে। তারা আক্কাস আলী ব্যাপারিকে ফুলের চেয়েও পবিত্র ভূষিত করে বক্তব্য দিচ্ছে। সমাবেশে স্বয়ং উপস্থিত রয়েছেন আক্কাস। নিয়ম অনুযায়ী শেষ বক্তার বক্তব্য রাখবেন আক্কাস কিন্তু তার হাটের বেলা হওয়ায় মাঝ সময়ে বক্তব্য দিতে শুরু করেন।
    আক্কাস আলী বলেন, এলাকায় জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়নের জন্য কিছুই করেনি। তাই আমি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাই। মনে রাখবেন, এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বাঁশ বিশেষ প্রয়োজন। আপনারা জানেন আমি বাঁশের কারবার করি। তাই উন্নয়নের প্রতীক হচ্ছে বাঁশ, আমার প্রতীক বাঁশ। আপনারা বাঁশ মাকাঁয় ভোট দিবেন। আমি ঝাড়ের বাঁশ ঘাড়ে তুলে নিয়েছি। নির্বাচনে জিতলেও আমি আপনাদের বাঁশ দিব আর হারলেও বাঁশ দিব। বাঁশ আমি বরাবর আপনাদের দিয়ে যাব। কেননা আমি বাঁশের কারবারি।
    আক্কাস আরও বলেন, আমার যা বলার ছিল তা পূর্বের বক্তারা বলে গেছেন। আর যেটুকু বলার আছে তা পরের বক্তারা বলবেন। আমার হাটের বেলার সময় হয়েছে। সেখানে প্রচুর বাঁশ নেওয়া হয়েছে। তাই এখন আমার সেখানে যেতে হচ্ছে। অনেকেই অপেক্ষা করছেন। তাদের বাঁশ দিতে হবে। আমি ফের বলছি, ঝাড়ের বাঁশ ঘারে নিয়েছি। ভোট আপনারা বাঁশ মার্কায় দিবেন। এতে আপনারা শান্তিতে থাকবেন আর আমি আপনাদের বাঁশ দিয়ে যাব। বাঁশ ছাড়া দেশের শান্তি নেই।
    বি.দ্র. অনেকেই ঝাড়ের বাঁশ ঘারে (বিশেষ ক্ষেত্রে পরোপকার) নিয়ে জীবন যাপন করছেন। এটি এমন একটি বাঁশ যা ঝেড়ে ফেলা যায় না, আবার বহনও করা যায় না। তাই ঝাড়ের বাঁশ ঝাড়ে রেখে পথ চলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

    6
    5 Comments
Skip to toolbar