-
ভাঙা ডানার পরী
হেই রাইতেও পূর্ণিমা আছিলো। বিশাল আসমানের বিরাট কপালে দুধ সাদা চাঁনডা যেন মায়ের হাতের আদরের টিপ। ভাঙা বেড়ার ফাঁক দিয়া ফকফকা চাঁনডা রাইতভর গড়াগড়ি দ্যায় দিলরুবার মাটির বিছানায়। খলখল জোছনায় জ্বলজ্বল করে ওর সুন্দর মুখখান! বহুদিন এমন জোছনা দ্যাহে নাই দিলরুবা- যেন দূর আসমানের আলোর বৃষ্টি দুনিয়ার রাইতে।
‘চান্দের বুড়িও বুঝি আইজ সাদা শাড়ি পরছে’- ভাবতে ভাবতে উদাস অয় দিলরুবা। আর তহনই কোলের মাইয়াডা কাইন্দা উঠলে একটা দুধের বোঁটা মাইয়ার মুখে দেয়। অভাবের শরীর বাচ্চার দুধের যোগান ঠিকঠাক দিবার না পারলেও মিথ্যা সান্ত্বনায় ছোট্ট চোখ জোড়ায় ঘুম অন্তত দ্যায়।
০২.
মাইয়া ঘুমাইয়া গেলে ঘর ভরা চান্দের আলো দিলরুবারে আবার উদাস করে- চার বছর বয়সে মায়েরে হারাইয়া এতিমখানায় আইছিলো। বাপেরে দ্যাহে নাই কোনদিন। বয়স অইলে বুঝছে- জন্মের বাপ একজন থাকলেও কাগজ-কলমে লেখাপড়া করা বাপ ওর নাই। আগের সংসার ভাঙনের পর রহমত নামে এক ব্যাডার লগে মায়ের সম্পর্ক অয়। বিয়া ছাড়াই দুইজন একসাথে থাকতো। দিলরুবা পেটে আওনের পর লোকটা কই যে উধাও অয়- আর খোঁজ মিলে নাই। ঐ ব্যাডাই ওর জন্মের বাপ বইলা হুনছে কিন্তু কোনদিন তারে চোখে দ্যাহে নাই- তাই বাপ ডাকটা আর মুখে ফুটে নাই।মায়ের আগের ঘরের সৎ ভাইডা দিলরুবার চাইতে সাত বছরের বড়। যেই বাড়িতে ওরা ভাড়া থাকতো মায়ের মরণের পর ভাইডা ঐ বাড়িতেই কাম নেয়। যন্ত্রের মতন খাটার বদলে থাকন-খাওন ফ্রি, সাথে লাথি-গুতা মাগনা। হেইবার দ্যাশে ভয়ংকর শীত! এত ঠান্ডা- মুখের কতাও জইম্যা যায়, গলা আসমানে তুইলা কতা কওন লাগে। হেই শীতের মধ্যে মেঝেতে থাইকা থাইকা ভাইডার বুকে ঠান্ডা জমলো। ডাক্তার-বদ্যি মিলে নাই, আল্লার মাল চইলা গেল আল্লার কাছে। মরা ভাইয়ের লাশ দেখতে বিয়ার আগে শেষবার এতিমখানার সদর দরজা পার অইছিলো দিলরুবা। কাফনে মোড়া নিথর ভাইডা ‘ছুটি’ গল্পের ফটিকের মতন ওরে যেন কইলো- “বইন, আমার অহন ছুটি অইছে বইন, আমি অহন যাই,,,।”
বাপ দুই অইতে পারে কিন্তু গর্ভ তো এক! গর্ভের টান কি মুছা যায়?
সৎ-আপনের পার্থক্য মুইছা খুব কাঁদছিলো মরা ভাইডার জন্যে।
০৩.
মন উদাসী এই জ্যোছনা রাতে মনে পড়ে প্রিয় বান্ধবী শবনমরে। শবনমের পাহাড় সমান দুঃখের কাছে দিলরুবার দুখী জীবনটা একটু আড়াল পাইতো, নিজের বিশাল দুঃখকেও সামান্য মনে অইতো।বড় ঘরের বাপ পায় নাই শবনম কিন্তু সুখের নহর আছিলো সংসারে। শবনমের একমাত্র ফুবু ওর বাপেরে খুব ভালবাসতো। এক বর্ষায় সাপের কামড়ে বইনটা মারা গেলে বইনের মত একটা মাইয়া জানি অয়- জীবন সংসার বুঝবার পর থাইক্যাই শবনমের বাপের চাওয়া। বাসর রাইতে নতুন বউরে এই কথা কইতেই বউ রোকসানা ঘোমটা টাইনা শরমে মুখ ঢাকে। তারপর কেবলই সময় গড়ায়- ওঝা, কবিরাজ, ঝাড়, ফুঁক, তাবিজ, কবজ সব চেষ্টাই চলে। কিন্তু সুসংবাদ আর মেলে না!
সাত বছর পর অবশেষে খোদার মর্জিতে রোকসানার শরীর কতা কয়। শবনমের বাপের আনন্দ কি আর ধরে! খুশিতে কি যে করে মানুষটা! বৌয়ের পেট আর নিজের কান- সুতার দুই দিক ধইরা নাড়ীর বান্ধনে আটকা পড়া গর্ভের শবনমের লগে কতা বান্ধে বাপ- ‘মির্জা বাড়ির টিভিতে কইছে বিমান পইড়া মানুষ মরছে ম্যালা। আমি বোতল বন্দী পরীর ডানা কাইটা পাঠামু, তুমি পরীর পালকে ভাইসা ভাইসা দুনিয়ায় আইবা মা।’
আবেগে ডোবা স্বামীর আউলা চুলে আদরের হাত বোলায় আহ্লাদি রোকসানা, কয়- “পাগল!”
দিন যায়। পেট বাড়ে। একদিন ব্যথাও ওঠে। কিন্তু গাঁয়ের দাই পারে না, ভ্যানে কইরা গঞ্জের ডাক্তারের কাছে নিতে অয়। হাসপাতালে যাওনের সময় শবনমের মা স্বামীর হাত দুইখান নিজের হাতে নিয়া কয়- “আমি তো ম্যালাই দেখলাম দুনিয়াডারে, বাচ্চাডা মাইয়াই মনে কয়। আমার কিছু অইয়া গেলে ওরে দেইখা রাইখো, নাম রাইখো চন্দ্রা।” আল্লাহর উপর ভরসা কইরা ভীত রোকসানারে সাহস দেয় ওর স্বামী।
নিজের অনাগত সন্তান কোলে নেয়ার আগাম আনন্দে অপারেশন রুমের সামনে পায়চারি করতে থাকে শবনমের বাপ।
কিন্তু বাচ্চার জন্মের খবরের বদলে চিন্তিত মুখে ডাক্তার জানায়- মা অথবা সন্তান, একজনরে বাঁচানো যাইবো। সহজ কতা, একজনরে মরতে অইবো!
এই কতা হুইনা বাপের বাঁধ ভাঙা আনন্দে হঠাৎ ভাটা পড়ে, নিজের অজান্তেই গাল বাইয়া কান্দন নামে। কান্দন ধরা কন্ঠে ডাক্তাররে কয়- “আমাগো তিনজনরেই মাইরা ফেলা যায় না স্যার?”
কিছুক্ষণ পর শিশুর কান্দনের শব্দ কানে ভাসে- একজন যোগ অয়, একজন বিয়োগ। হিসাবের সহজ নিয়ম- যোগ আর বিয়োগ মিলাইয়া বিয়োগ। তাইতো যোগের আনন্দ ছাপাইয়া ওঠে বিয়োগের বেদনায়।
মা মরা শবনম ছোট চাচার সংসারে পরগাছা অইয়া বাড়তে থাকে। ভালো যে ওরা আগাছা ভাবে নাই, নইলে উপড়াইয়া ফেলতো!
০৪.
মায়ের মরণে নাকি সন্তান এতিম অয় না, বাপেরে মরতে অয়! এতিম হওয়ার শর্তপূরণের জন্যেই বুঝি শবনমের আট বছর বয়সে ওর বাপেরও মরণ অয় বজ্রপাতে। বাপের মৃত্যুতে এতিম পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় চাচার অভাবের সংসার ছাইড়া শবনমের নতুন ঠিকানা অয় এতিমখানা। এতিমখানায় ভর্তির সময় বাধে নতুন বিপত্তি, বড় কর্তা কয়, “তোর নামডা ক্যামন হিন্দু হিন্দু ঠ্যাকে। তোরে একখান নতুন নাম দেই- শবনম, শবনম অর্থ ভোরের শিশির। বুঝলি, নামের ফজিলতেও জান্নাত মিলবার পারে।”মৃত মায়ের কাছ থাইকা পাওয়া একমাত্র উপহার নিজের চন্দ্রা নামডা ঢাকা পড়ে বড়কর্তার দেওয়া শবনম নামের ছায়ায়।
নিজের সাথে মায়ের শেষ এবং একমাত্র স্মৃতিটুকুও হারাইয়া যায় এতিম আলয়ে!
০৫.
দিলরুবা এতিমখানায় সহজে কারো সাথে মিশবার পারতো না, কান্না করতো খুব। শবনমই আছিলো ওর খেলার-মেলার সাথী। আঙুলে আঙুল মিলাইয়া বান্ধবী অইছিলো। এতিমখানায় থাকতেই শবনমের বিয়া অয় দিলরুবার তিন গাঁও পরের নিশ্চিন্তপুরে। মায়ের শরীর পাইছিলো শবনম কিন্তু মায়ের মত জামাইয়ের এত ভালোবাসা ওর কপালে জুটে নাই। বিয়ার তিন বছর পরও বাচ্চার মা অইতে না পারায় জামাই দ্বিতীয় বউ ঘরে আনলো প্রথম সন্তানের মুখ দেহনের লাইগা। অথচ শবনমের বাপ সাত বছর গেলেও আরেকটা ঘর করে নাই, মায়েরে পর করে নাই।সতীনের সংসার, সারাক্ষণ শীল-পাটার ঘষাঘষি। শবনম কুলাইতে পারে না, একদিন রাইতের আন্ধারে ঝুইলা পড়ে কুয়াতলার আমগাছে। চিরজীবনের মুক্তি মেলে!
অথচ ওর জামাই পরে আরও একটা, মানে তিন নাম্বার বউ ঘরে আনলেও বাপ ডাক হুনার ভাগ্য তার অয় নাই। পুরুষের কি আর কোন দোষ থাকে!
চোখের পানিতে দিলরুবার চটচটা বালিশখান ভিজা ওঠে।
০৬.
পনের বছর বয়সে দিলরুবা প্রথম বুঝবার পারে, একখান জোছনা ভরা চাঁন ওর মনের আকাশে উঁকি দিছে। রোজই খেয়াল করে, এতিমখানায় বাজার দেয় যে ছেলেটা; শ্যামলা, লম্বা, বড় বড় চোখ আর কোঁকড়া কোঁকড়া চুল, ক্যামন বোকা বোকা চাইয়া থাকে ওর দিকে, চোখ আর সরে না। দিলরুবার শরম পায়! ক্যামন ক্যামন লাগে! এই ক্যামন ক্যামন গোপন অনুভূতিই যে দুই’য়ের ভবিষ্যৎ বান্ধবো, দুই’রে এক কইরা দিবো তা নিজেরাও বুঝবার পারে নাই।প্রতিদিন কাজ শেষে মানুষটা যহন ফিরা যায় দিলরুবা বারান্দার গ্রীল ধইরা চাইয়া থাকে। গেট থাইকা বাইর হউনের শেষ কদমটা দেওনের আগে পিছন তাকাইলে চার চোখ শেষবার মিলে, রোজই মিলে। দিলরুবার নিস্তরঙ্গ জীবনে এ কোন ঢেউ উঠলো! খালি মানুষটারে মনে আহে!
স্বপ্নেও আহে মানুষটা, কয়- “তোমার চোখ আমারে সবই কইছে। পরাণডারে বাঁধবা আমার লগে?”
“সুতা কাইটা দিবা নাতো?” -দিলরুবা আশ্বস্ত অইতে চায়।
কিন্তু উত্তর মিলবার আগেই ভোরবেলার বেরসিক ঘন্টা পড়ে। দিলরুবার ঘুম ভাঙে, ভাঙে স্বপ্ন।
লোকমুখে অনেকবারই হুনছে ভোরবেলার স্বপ্ন নাকি সত্যি অয়! কথাটা মনে আইতে নিজের অজান্তেই শরমের হাসি ফোটে দিলরুবার ঘুম জড়ানো চোখে-মুখে ।
০৭.
মাঝে একদিন দিলরুবা অসুখে পড়ে, হাসপাতালে ভর্তি করতে অয়। দুইদিন ওরে দেখবার না পাইয়া মানুষটা নিজেরে ধইরা রাখবার পারে না, জিগায়- কেউ এখান থাইকা চইলা গেছে কিনা? জানবার পারে, দিলরুবা অসুস্থ। শহরের সরকারি হাসপাতালে খোঁজ করে, ঠিকই খুঁইজা নেয়। চুপে চুপে কাছে যায়, দ্যাহে দিলরুবা ঘুমে। মানুষটা অপেক্ষায় থাকে। ঘুম ভাঙলে দিলরুবা বড় অবাক অয়- ঐদিনের স্বপ্নডা কি ও আবার দেখতাছে? গায়ে চিমটি কাটে- না, স্বপ্ন না, বাস্তব, খুব বাস্তব!“তোমারে মনে চায়। রইবা আমার লগে?”- একসাথে একজীবন থাকবো বইলা হেই যে হাত ধরলো মরণের আগে কোনদিন দুইয়েরে দুই ছাড়ে নাই।
০৮.
চারপাশের হাওয়া যে ভালানা ওর জামাই তা বুঝবার পারছিলো ঠিকই। রাইতে রাইতে গোপনে বাড়িতে আইতো সাপের মতন। হেইদিনও আইছিলো, ভয়ে ভয়ে। দিলরুবা গরম গরম ভাজা ডিমখান প্লেটে তুইলা দিতেই অদূরে কান্দনের শব্দ। জানের বাজিতে জীবনের শেষ দৌড় দিলো বাড়ির পিছন দিয়া। কিন্তু হেই রাইতেও পূর্ণিমা আছিলো, আকাশ ভাইঙ্গা জোছনার বৃষ্টি। চান্দের আলো ওরে পালাইতে দিলো না, ধরা পড়লো। বুট পরা মানুষগুলা জামাইডারে বিরাট বন্দুকের ছোট্ট গুলিতে নিথর কইরা দিলো! জ্যাতা একখান মাছ কাটার পর লাফাইলে আমাগোর মনটা কেমন কইরা ওঠে কিন্তু বুটওয়ালাগো কোন বিকার নাই! হাসতে হাসতে জানডারে আসমানে পাঠাইয়া দেয় যেন মিথ্যা বন্দুক দিয়ে আলতার রং মাখাইয়া মৃত্যু মৃত্যু খেলা। তমিজরে নিমিষে শেষ কইরা ওরা ঢুকে দিলরুবার ঘরে। তারপর কি অয় হেই কতা লোক মানসে লেখন যায়না! তবে নখের আঁচড়ে, দাঁতের কামড়ে ওর যৈবতী দেহডায় নির্মম অত্যাচারের ক্ষত চিহ্ন লেপ্টে থাকে, এটুকুন লেখা যায়।মনের আসমানে ওঠা চাঁন্দের আলো তমিজরে ওর সাথে যোগ করছিলো আর দুনিয়ার আসমানে ওঠা চাঁন্দের আলো তমিজরে ওর থাইক্যা বিয়োগ করলো!
দিলরুবার খালি মনে অয়, রাইতটা পূর্ণিমা না অইলে তমিজ বাঁইচা যাইতো।
০৯.
হেই রাইতে তিন বছরের হালিমারে কোলে কইরা আর পাঁচ বছরের আছমারে হাতে ধইরা নারীর আপন ঠিকানা নিজের স্বামীর ভিটা ছাড়ে সাত মাসের পোয়াতি দিলরুবা। নিজের মতোই অত্যাচারের শিকার অন্য অন্য গ্রামবাসীর সাথে বাড়ির পাশের চেনা পথ ধইরা অচেনা পথের উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়।আসমানের আলোয় চোখ রাইখা বেশ খানিকটা পথ পার আগাইলে বড় স্রোতের নদী, ভয়ংকর খরস্রোতা! গর্ভবতী দিলরুবার পক্ষে দুইডা ছোট মাইয়ারে নিয়া এই ধারের নদী পাড়ি দেওয়া অসম্ভব প্রায়। কোলের মাইয়াটারে বাঁচাইতে গেলে হাতের মাইয়াডা ছুইটা যায়। ক্ষুরধার নদীর জলে দিলরুবা প্রাণপণ চেষ্টা করে মাইয়া দুইডারে আগলাইয়া রাখতে। কিন্তু মাঝনদীতে আইসা দিলরুবা আর পারেনা। ভয়াল স্রোতে নিজের ভারী দেহের সাথে দুই মাইয়ার তাল রাখা অসম্ভব অইয়া পড়ে। হঠাৎ স্রোতের তীব্র টান কাইড়া নেয় বড় মাইয়া আছমারে। ভরা পূর্ণিমায় ডুবতে থাকা মাইয়াডারে বিন্দুর মতো দ্যাহে একবার, শেষবার। তীব্র আর্তনাদে ঐ দুঃসহ রাতের বাতাসই কেবল ভারী করবার পারে অভাগী দিলরুবা, সন্তানরে বাঁচাইতে আর পারে না।
স্বামী আর সন্তান হারানোর ঐ পূর্ণিমা রাইতে দিলরুবার গগনবিদারী কান্দনের সাক্ষী থাকে দূর আসমানের ফকফকা চান, গনগনে তারা আর কয়েকটা রাইতচরা পাখি।
১০.
মেজ মাইয়া হালিমার হঠাত ঘুম ভাইঙ্গা যায়, দ্যাহে, মায়ের চোখে জল- “মা,কান্দ ক্যা? আব্বারে মনে আইছে?” মাইয়ারে বুকের কাছে টাইন্যা নেয়, জোরে চাইপা ধরে। “মা, বুবু আজ স্বপ্নে আইছিলো। কইলো, আমাগো তাল গাছে নাকি ম্যালা সেলাই পাখি বাসা বানাইছে।”- মায়ের ভেজা চোখে চোখ রাহে মাইয়াডা। আবার কয়- “মা জানো, এই দ্যাশে আহনের আগে বুবুর পোলাডার লগে আমার মাইয়াডার বিয়া অওনের কথা আছিলো, বুবুর পষ্ট মনে আছে। কইছে, আমি যেদিন বুবুর দ্যাশে যামু ঐদিনই বিয়াডা দিবো। আচ্ছা মা, ততদিনে কি আমার মাইয়াডা অনেক ডাঙর অইয়া যাইবো? তহন ওরে বুঝি একখান বড় শাড়ি পরানো লাগবো, না মা!”মাইয়ার কথায় উত্তর দিবার পারেনা দিলরুবা, কন্ঠ ধইরা আহে। যে কান্দন থাইমা গেছিলো তা আবার ফিনকি দিয়া ওঠে। যতই চাপা দিবার চায় ততই তীব্র অয়- গরীবের লজ্জা ঢাকনের মত, একদিক ঢাকতে গেলে আরেকদিক খোলাসা অইয়া পড়ে। দিলরুবার চাপা কান্দন আর চাপা থাকেনা, ফুপাইয়া ওঠে। মায়ের কোলে বান্ধা পরা মাইয়া অপ্রস্তুত অইয়া পড়ে। ওর চোখও জলে ভইরা ওঠে।
“আর কোনদিন আমি তোমারে বুবুর কতা কমু না মা, বুবুরে আর স্বপ্নও দেখমু না।”- হাত দিয়া মায়ের চোখ মুছে মাইয়া, মায়ে মুছে মাইয়ারে। দুইজন দুইজনরে দ্যাহে চার চোখ মেইলা। তারপর মাইয়ার কপালের মধ্যিহানে একখান চুমা দিয়া দিলরুবা কয়- “মা রে, স্বপ্নই কেবল আমাগো বাঁচাইয়া রাখছে রে মা! জলপাই রং মানুষগুলা কেবল স্বপ্নটুকুই কাইড়া নিবার পারে নাই। স্বপ্নই আমাগো সুখ মা!”
১১.
দিলরুবার অন্দরে জমা পাথর চাপা দুঃখেরা অজানা এক দরিয়ার টানে বরফ গলা নদীর মতন গড়াইয়া পড়ে। কাজল ধোয়া ঐ কষ্ট নদী অজানা দরিয়ার সাথে মিলনের পথ ভুলে দিলরুবার পুরোনো বালিশের বুকে আঁকে দুঃখের মানচিত্র।ওদিকে শেষ প্রহরের ক্লান্ত রাইত পূর্ণিমার চাদর গায়ে ঘুমাইয়া পড়ে দুবলা ঘাসের নরম বিছানায়। দিনের আলো ফুটবার আগে শেষ আকাশে একলা জাগে একটা ধবল চাঁন।
১২.
হেই রাইতেও পূর্ণিমা আছিলো।6 Comments-
-
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 28 May 2024 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
Friends
Anika-Rahman
@anika-rahman
মোঃ সাইফুল ইসলাম
@saif007
SK MUNTASIM FUAD
@detyi89
সা দি য়া (নন্দিনী)
@nandini
Shoriful Shoron
@shoriful-shoron
কলমে পৃথিবী
@asin432
Mizan Rahman, Editor: Dainik Journal Asia
@mizan-rahman
রিয়েল আবদুল্লাহ আল মামুন
@realabdullah
নোমান খালভী
@nomankhalovi



অসম্ভব মনের জোড় না থাকলে, এই গল্পটা পড়ে পাঠকের হৃদয় কেঁপে উঠবে না!