Profile Photo

রাহেনা বেগমOffline

  • Rahena-Begum
  • Profile picture of রাহেনা বেগম

    রাহেনা বেগম

    2 years, 2 months ago

    ধরুন, আপনি প্রচন্ড জ্বর, মাথা ব্যাথা, হাঁচি-কাঁশি নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছেন। ডাক্তারকে আপনার সমস্যার কথা বললেন। ডাক্তার উত্তর দিলেন- “আপনার আর কি জ্বর, আর কি মাথা ব্যাথা!! আমার নিজের এমন জ্বর আর মাথা ব্যাথা, মনে হচ্ছে মাথাটাকে কেঁটে কিছুক্ষণ ফ্রিজের ভিতর ঢুকিয়ে রাখি।” তখন কেমন লাগবে আপনার? আপনি কি সেই ডাক্তারের কাছ থেকে আর চিকিৎসা নিতে উৎসাহবোধ করবেন?

    অথবা আপনার চাচা আপনার বাড়ি দখল করে নিয়েছে। আপনাকে করেছে বাড়ি ছাড়া। আপনি গেলেন উকিলের কাছে। আপনার সমস্যার কথা তাঁকে খুলে বললেন। উকিল সাহেব তখন উত্তর দিলেন- “কি বলবো ভাই, আপনার চাচাতো আপনার সাথে ভিষণ অন্যায় করেছে, আর আমার যে নিজের মায়ের পেটের ভাই আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে?” উকিলের কথাটা শুনে তখন কেমন লাগবে আপনার? উকিলের কাছ থেকে এমন কথা শুনে আপনি কি কোনো ভরসা খুঁজে পাবেন?

    অথবা ধরি, আমার কাছে কোনো ক্লায়েন্ট এসেছে- তাঁর সমস্যা- সে তার Husband এর আচরণে খুব কষ্ট পাচ্ছে। তার Husband এর সাথে বাহিরে বেড়াতে যাওয়ার আগে প্রত্যেকবার ঝগড়া লাগে। কারণ তাঁকে তাঁর Husband তৈরি হওয়ার জন্য সময় দেয় না। তৈরি হতে দেরী করলে তাঁর Husband তাঁকে রেখেই চলে যায়। এখন যদি আমি বলি – “আপা, আপনারটাতো অনেক ভালো। আমারটাতো ৫ মিনিট সময় দেয়, তারপর আমাকে কিছু না বলে নিজে গিয়ে, রিক্সা, বাস, ঠেলা গাড়ী যা পায় সেটাতে যেয়ে বসে থাকে।”
    কেমন লাগবে আমার ক্লায়েন্টের? ক্লায়েন্ট তখন মনে মনে ভাববে “আপাই তো আমার থেকে অনেক বেশী সমস্যাতে আছে? আপা আর আমাকে কি সাহায্য করবে?”

    তাই বলে কি ডাক্তার, উকিল, কাউন্সেলরের কোনো সমস্যা থাকবেনা? অবশ্যই থাকবে, তারাও তো মানুষ। কিন্তু এই মানুষগুলো যখন বিশেষ বিশেষ দায়িত্ব পালন করবেন, তখন ব্যক্তিগত জীবণকে পেশার থেকে আলাদা করে রাখবেন। এটাই আমাদের সবার কাম্য এবং প্রকৃতপক্ষে এটাই হওয়া উচিৎ।

    এবার আসি আসল ঘটনাতে- গতরাতে, আমার বাচ্চাদের বাবার, এক বছর বয়সি এক জোড়া মোবাইল ফোন (যারা কিনা, আমেরিকান এবং সুইডিশ) তস্কর ম্যাজিক মশারি সুকৌশলে কেঁটে, জানালা দিয়ে (৫ তালা বাসার ২ তালা থেকে) কাটা বাঁশের টুকরা দিয়ে নিজের মনে করে টেনে নিয়ে চলে গিয়েছে। বাচ্চাদের বাবাতো বাকরুদ্ধ।

    এ বাসায় এটাই প্রথম না, গত বছর মে মাসে আমার মা মারা যাওয়ার পরে আমরা যখন রাজশাহী থেকে ফিরে আসলাম। আসার পর চাবি দিয়ে দরজা খুলতে পারছিলাম না। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিলো। আমাদের Landlord, Caretakers-দের সাহায্য নিয়ে দরজা ভেংগে ভিতরে ঢুকে দেখি তস্কর ব্যাটা হাতে প্রচুর সময় নিয়ে এসেছিলো। মনের আনন্দে আরাম-আয়েশে যা যা নেওয়ার তা নিয়ে গিয়েছে। বাসার সামনের সিসি ক্যামেরাতে কিছুই পাওয়া যাবেনা, কারণ তস্কর ব্যাটারা এসেছিলেন পিছন দিয়ে। সেই ঘটনার পরে গত রাতের ঘটনা। দোষ আমাদের ১০০%। আমরা সাবধান ছিলাম না, আমাদের বেডরুম আর বেডের মোবাইলতো আমাদেরকেই দেখে রাখতে হবে।

    যাক যে পথে যেয়ে একবার পঁচা শামুকে পা কেঁটেছে, সে পথে যাওয়ার চিন্তা বাদ। কিন্তু একজন বাচ্চাদের বাবাকে বল্লো – থানায় জিডি করতে। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল ট্রাকিং করে মোবাইল দু’টো পাইলেও পাইতে পারে এই ভেবে উনি জিডি করার সিদ্ধান্ত নিলেন। আমাকেও সাথে নিলেন। যাওয়ার সময় বললাম, “কাগজ-কলম নাও।” উনি বললেন – “না এখন জিডির ফরমেট আছে।” আমি ভাবলাম, যাক এক বছরে তাহলে পুলিশের ভালই উন্নতি হয়েছে! গেলাম থানাতে, উনি মানে পুলিশ অফিসার আমাদেরকে চিনলেন, কারণ আমাদের বাসার গত বছরের চুরি, এবারের ঘটনা শুনে তিনি অর্থাৎ পুলিশ অফিসার বললেন, “কিছুদিন হলো আমার মোবাইলটাও চুরি হয়েছে, সেটাই তো আমি এখনও পাইনি!” আমি বললাম- “এভাবে বলবেন না, আপনাদের মোবাইল চুরি যাওয়া লজ্জার কথা।” যাদের কাঁধে জনগণের জান-মাল রক্ষার গুরু দায়িত্ব, তাঁরা যদি তাঁদের নিজের সামান্য একটা মোবাইলই রক্ষা করতে না পারে, তাহলে এর চাইতে বড় লজ্জার বিষয় আর কি আছে? তিনি বললেল – “চোররা এখন Updated হয়েছে, অনেক Smart হয়েছে। চুরি করা মোবাইলে চোররা সিমই ঢুকায় না” আমি বললাম- “তাহলে চোররা মোবাইল চুরি করে কিসের জন্য?” উনি বলতে লাগলেন- “ওরা সিম না ঢুকালেতো আমরা ট্রেস করতে পারিনা।” আমার মনে পরলো ৫ বছর আগে আমি আমার মোবাইল হারিয়ে যাবার পর জিডি করেছিলাম। আইও এখনো মাঝে মাঝে ফোন দিয়ে বলে ঐ মোবাইল এখনো বন্ধ।

    এবারের ডিউটি অফিসারও একি কথা বলছেন। চোররা অনেক Smart. আমি মনে মনে বললাম, তাহলে চোরদেরকেই পুলিশে নেওয়া হোক আর পুলিশদেরকে…………………….!!!! মনের কথা কপ করে গিলে ফেললাম, কারণ বাহির হলেই বিপদ।

    যাই হোক, এবার জিডি করার জন্য জিডি সংশ্লিষ্ট ডিউটি অফিসারের নিকট জিডি ফরম চাওয়া হলো।
    বসে আছি তো বসেই আছি…………..। অনেক পরে জানানো হলো জিডি ফরম ১টাই আছে। এখন উনি আমার উনিকে বললেন যদি কিছু মনে না করেন আপনি ফটোকপি করে নিয়ে আসেন, একটু বেশী করে ফটোকপি করে নিয়ে আসবেন। আমার উনি কিছু না বলে বের হয়ে আসলেন, করণ আমাদের ছেলেকে কোচিং সেন্টার থেকে আনতে হবে। আর ফটোকপি করার জন্য থানা থেকে অনেক দূর যেতে হবে। যদি বলি ছেলেকে আনতে হবে, তখন হয়তো তিনিও বলবেন “আমার শালীকেও আনতে হবে।” তাই কিছু না বলে ভগ্ন হৃদয় নিয়ে চলে আসলাম।

    আমার বাবা একজন পুলিশ অফিসার ছিলেন, চাচাতো ভাই ডি এস পি হিসেবে অবসর গ্রহণ করে এখন স্বপরিবারে আমেরিকা প্রবাসী। ভাই-বোন, ভাগিনা-ভাগ্নি, ভাস্তা-ভাস্তি, ভাস্তিজামাইসহ বাবার বাড়ী, শ্বশুড় বাড়ী মিলে কম করে ডজন খানেক এর উপর পুলিশ অফিসার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার উকিল রয়েছে।
    এখনো পুলিশ ডিপার্টমেন্টে উচ্চ পর্যায়ে নিজের লোকজনও কম নেই। তবে বলে রাখি, দুই পরিবারে আমি একজনই কাউন্সেলর, হা হা…………, সেইজন্য নিজের কলার নিজেই টানি। ভাই একজন Psychology-তে পাস করলেও সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছেন।

    তবু আমি যখন পুলিশ, ডাক্তার, উকিল এর কাছে যাই, তখন এদেশের একজন নাগরিক হিসেবে সেবা নিতে যাই, কারো পরিচয়ে নয় এবং সঠিক সেবাটাই তাঁদের কাছে পেতে চাই। কারণ, এটা আমার অধিকার। আর কি?…………………………….।
    ১৭/০৭/২০১৭

Friends

Profile Photo
naznin shamim
@nazninshamim
Profile Photo
Md Mofiz
@mdmofiz
Profile Photo
MAHMUD HAYAT
@mahmudhayat
Profile Photo
wajibad
@wajibad
Profile Photo
MAHAJABIN AFROZE
@mahajabinafroze
Profile Photo
Intisar Jabed
@intisarjabed
Profile Photo
মেঘ
@megh
Skip to toolbar