Profile Photo

রাহেনা বেগমOffline

  • Rahena-Begum
  • Profile picture of রাহেনা বেগম

    রাহেনা বেগম

    1 year, 9 months ago

    একটি ফুটবলের আত্মকাহিনীঃ⚽⚽⚽

    আমি একটি ফুটবল । তবে আমাকে যেনতেন ভেবে ভুল করবেন না।FIFA WORLD CUP এর ফুটবল আমি।
    আমার জন্ম ২০০৬ সালে জার্মানীতে, Adidas পরিবারে। নাম TEAMGEIST, CAPITANO. ২০০৬ বিশ্বকাপ ফুটবল এর কথা নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে?সেবার ইতালি বিশ্বকাপ জয় করেছিলো ।
    অনেক গুলো ঘটনার মধ্যে আমি শুধু একটি ঘটনা মনে করে দেই, সেটা হলো- জিনেদিন জিদানের লাল কার্ড পাওয়া। মার্কো মাতেরাজ্জিকে মাথা দিয়ে গুতো দেওয়া।আরে সে এক ঘটনা বটে!

    আমার মালিক এ,এফ, এম আফজাল হোসেন। তিনি একটা বিশেষ ব্যাংকের কার্ড হোল্ডার হওয়ার কারণে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁকে উপহার হিসেবে আমাকে দেন। আমার মালিক অতি নম্র, ভদ্র খেলা প্রেমিক মানুষ। একসময়ের নামকরা হকি খেলোয়াড় তিনি। আমি তাঁর আশ্রয়ে পরম যত্নে দিন অতিবাহিত করতে লাগলাম।
    কিন্তু এত সুখ কি কারো কপালে বেশি দিন সহ্য হয়!? একদিন শুনতে পেলাম মালিক বলছেন আমাকে নাকি বাংলাদেশ এ মালিকের দেশে পাঠিয়ে দিবে। তাঁর আত্মীয়স্বজনদের কাছে। আমার মন খুব খারাপ হয়ে গেলো, কারণ আমার জন্ম জার্মানীতে, বেড়ে ওঠা আমেরিকাতে, এখন আমি কিভাবে বাংলাদেশে যেয়ে নিজেকে মানিয়ে নিবো? শুনেছি সেখানে প্রচন্ড গরম, আমার চামড়া সেই গরম কিভাবে সহ্য করবে? এটা ভেবেই আমি আৎকে উঠেছি!
    তাছাড়া আমার মালিক, তাঁর দুইটা লক্ষ্মী মেয়ে তারা কখনো ই আমাকে একটা ফুলের টোকাও মারে নি, হাতে নিয়ে খেলেছে। কিন্তু বাংলাদেশে গেলে কি আর সেই আদর পাবো? না জানি কোন দুষ্টু ছেলেরা আমার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে!

    যখন বাংলাদেশে পাঠানোর সময় এগিয়ে আসলো, তখন আমার মালিকের স্ত্রী এগিয়ে আসলেন আমার জীবন বাঁচাতে। আমি আমার মালিক পত্নীর এই উপকারের কথা চিরজীবন মনে রাখবো। তিনি অতিবিচক্ষন মহিলা। তিনি মালিককে বললেন- দেখো, ফুটবল ১ টা, কিন্তু দেশে সম বয়সী বাচ্চা তিনজন। শুধু তাই নাহ্, তিন বাচ্চা থাকে তিন জায়গায়। সবচেয়ে ছোট্ট বাচ্চা যার বয়স ১০ বছর সে থাকে রাজশাহীতে,নাম নাকি মাহিন( এ আবার কেমন নাম?), সবচেয়ে বড় যে, তার বয়স ১১ বছর, নাম শিহাব, থাকে বীরগঞ্জ। তার একদিনের ছোট ভাই অর্নব,থাকে কুষ্টিয়াতে। তাই মালিক পত্নী বললেন- তিনজনই ছোট, সবাই চাইবে এই ফুটবল নিজের কাছে রাখতে। কোন ভাবেই ওদের সাথে অন্যায় করা যাবে না। ব্যাস! আমার জীবন নিশ্চিন্তে চলতে লাগলো।

    মালিকে বড় কন্যার নাম- রুবাইয়া আজমেরী মিথুন, ছোট কন্যার নাম- রাইফা আজমেরী। অতি ভালো মেয়ে দুইজন। মিথুন আমাকে নিয়ে মাঝেমধ্যে হাতে নিয়ে ঘুরাতো, খেলতো, রাইফা খুব একটা আমাকে নড়াচড়া করতো না। ২০১২ সালে মিথুন এর বিয়ে হয়ে যায়, সে চলে যায় তার নিজের বাড়িতে। ও চলে যাওয়ার পরে আমি একদম অলস সময় কাটাতে থাকি।
    আমার জন্মের একবছর পরে মালিকের ছোট বোনের পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করে এবং তার দুইবছর পরে আরো একটা পুত্র জন্মগ্রহণ করে, মালিকের বোনের।আমি স্বপ্নেও ভাবি নি যে, এই দুই পুত্র এসে আমার জীবন এর মোড় ঘুরিয়ে দিবে!
    মাত্র ১৬ বছর বয়সে আমাকে স্বপ্নের দেশ ছেড়ে চলে আসতে হলো বাংলাদেশে।
    মালিক পরিবারকে ছেড়ে আসতে আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছিলো। আমার মালিকের ও হচ্ছিলো, তাই তিনি আমার বর্তমান মালিক দ্বয়কে বলেদিয়েছেন- তারা যেন আমাকে নিয়ে না খেলে, তাদের মামার স্মৃতি হিসেবে যেন আমাকে রাখা হয়।
    এইকথা শুনে আমার খুব কষ্ট হয়েছে, কিন্তু কি আর করবো!?

    ওমা এখানে এসে দেখি- সেই এছেলেও ( মাহিন) আমার মালিক৷ অর্থাৎ আমার তিনজন মালিক। যতটা খারাপ থাকবো ভেবেছিলাম, ততটা খারাপ নেই ।
    তাছাড়া একটা ফুটবল এর ১৬ বছর অনেক দীর্ঘ সময়। দেখা যাক ভাগ্যে কি আছে আমার।
    ২৯/০৮/২০২২

    5
    5 Comments
Skip to toolbar