Profile Photo

রাহেনা বেগমOffline

  • Rahena-Begum
  • Profile picture of রাহেনা বেগম

    রাহেনা বেগম

    1 year, 8 months ago

    ফিরছি ঢাকায়।
    এবার আর পুরাতন কিছু নতুন করে বলে আপনাদের বিরক্ত করবোনা।
    ছোট বেলায় রচনা পড়েছিলাম ” একটি বট গাছের আত্ম কাহিনী বা একটি রাস্তার আত্মকাহিনী। ” আমি অপেক্ষায় আছি এরকম আত্ম কাহিনীতে আমার এই রাস্তাগুলোই আমার দূর্ভগের কথা তুলে ধরবে আপনাদের কাছে। এবার প্রমাণ হিসেবে সবচেয়ে ভালো দীর্ঘ রাস্তার ছবি তুলেছি। এই রাস্তাকে ভালো বলছি এই কারণে যে এই রাস্তায় আমি আমার হাতদুটোকে মোবাইল ধরার কাজে ব্যবহার করার সৌভাগ্য পেয়েছিলাম 😀
    অন্য রাস্তায় হাতদুটো দিয়ে শক্ত করে ইজিবাইক এর রড ধরে থাকতে হয়েছে।
    যাক এবার একটা বুদ্ধি এসেছে ( এতবছরে) ঢাকা থেকে যাওয়ার সময় বেল্ট নিয়ে যাবো, ইজিবাইক এ উঠে রডের সাথে নিজেকে বেঁধে ফেলবো। ইনশাআল্লাহ তাহলে ছিঁটকে পড়ার সম্ভবনা থাকবেনা। বুদ্ধিটা ইজিবাইক এর ড্রাইভার এর কথায় এসেছে, সে বললো- “আপা, রাস্তাতো জ্যম্মের খারাপ, তার উপরে এত লাফাইতো না, যদি গাড়িতে আরো লোক থাকতো। আপনে একা, তার উপ্প্রে হালকা, পাতলা এই কারণে এত ব্যাথা পান।””
    আমি মনে মনে বললাম- আমি একলা, চলো নীতি তে চলি।
    ৬ দিনের ঘটনা বাদ, শুধু গতকালকেরটাই একটু ভাসা ভাসা ভাবে বলি।

    # যেতে হবে বেনাপোল, তাই হোটেল থেকে ভোর ৭টায় বের হলাম, যেনো রাত না হয় ফিরতে, অন্ধকার হলেই আমার বাহিরে থাকতে ভালো লাগেনা। কারণ?
    ওই যে ছোট বেলায় আম্মা শিখিয়ে ছিলেন- সন্ধায় সব পাখিরা ঘরে ফিরে আসে, মার কাছে, নিরাপদ আশ্রয় এ। মা নেই তবু মার উপদেশ মেনে চলি। তাছাড়া আমার নিজেরও রাতে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া থাকতে ভালো লাগেনা।
    বাস ষ্টান্ড এ রিক্সা এসে দাঁড়ানো মাত্র একজন ছুটে আসলো- কোথায় যাবেন? (আমার রিক্সার ভাড়া টাও সে দিতে প্রস্তুত) বললাম- বেনাপল। আসেন, আসেন, এক্কেবারে ফাঁকা, পছন্দ মত ছিট নেন”
    আসলেই বাস ফাঁকা, ব্যাটা মনে হয় রাজা হরিশ চন্দ্রের বংশধর। আমি পছন্দের সিট বেছে বসে পড়লাম। এই ফাঁকা বাস ভর্তি হলো বেশ সময় নিয়ে, তারপর চলতে শুরু করলো। আমি আমার কাগজ পত্র গুলো দেখছি, এবার এলো ভাড়া নিতে, বললাম- বেনাপল কত? কন্ডাকটর দাঁতকেলিয়ে বললো- এ বাস তো বেনাপল যাবেনা, বাগ আঁচড়া,( কি যেন নাম বললো) ওখানে যাবে। প্রাণ পণ চেষ্টায় মেজাজ ঠান্ডা রেখে বললাম- তোমাকে আমি কোথায় যাবো বলেছিলাম? সে বললো – “সম্যাস্যা নাইতো, আপনাকে ঝিকরগাছায় নামিয়ে বেনাপোল এর বাসে তলে দেবানি।”

    সম্যাস্যা আছে, আমাকে আপনার তুলি দেওয়ার দরকার নেই, আমি আমার হাত- পা নিয়ে উঠি যাবানি।
    “আপা, আপনি অনেক্ষানি আগুয়ে থাকলেন। ”
    আমি কি তোমাকে আগুয়ে দিতে বলেছিলাম? সরাসরি বাসে যাবো নেমে পড়বো বেনাপোল। তাছাড়া অতিরিক্ত ভাড়াও দিতে হলো, যেটা যাবে নিজের পকেট থেকে, অফিস নিশ্চয়ই এটা দিবে না, কি ব্যাখ্যা দিবো? যাক অতশত বিষয় নয়, এই ঝামেলাই মাথা গরম করে দিলো।
    সে আমার পিছনে পিছনে আসছে আর বলছে- “আপা, এই বাস বেনাপোল যাবে।”
    আমি আর পিছনে তাকাইনি, সোজা চলে গেলাম কাউন্টারে। যেয়ে বললাম বেনাপোল এর টিকিট দিতে,বললো- বাসে যেয়ে বসলেই হবে, টিকিট লাগে না,বাসে টাকা দিলেই হবে।
    উঠে বসলাম বাসে, মনে ভয়, না জানি আবার কোথাকার বাসে উঠলাম! আশেপাশের সবার কাছে শুনে নিলাম, এই বাস কোথায় যাবে? না এবার ভুল বাসে উঠিনি। ঝক্কর মক্কর বাস চলছে।এর মধ্যে ফোন এলো আমাকে যে ভলেন্টিয়ার নিয়ে যাবে “গোগা ” সে যেতে পারবেনা, তার সমস্যা আছে। আমাকে নিষেধ করলেন যেতে, কিন্তু আমি বললাম আমি যাবো, যেহেতু আমি আমার ক্লায়েন্ট কে কথা দিয়েছি,তাই আমাকে যেতেই হবে।
    এর পরে ভলেন্টিয়ার বললো সে এসে আমাকে গোগা যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিবে। আমি বেনাপোল এ পৌছে অপেক্ষায় থাকলাম। অনেকক্ষন পরে ভলিন্টিয়ার এসে আমাকে বললো- আপা চলেন মোটরসাইকেল এ উঠিয়ে দেই, ইজিবাইক এ অনেক সময় লাগবে, তাছাড়া আসার সময় ইজিবাইক পাবেন না। আমি বললাম- আমি মোটরসাইকেল এ উঠতে পারি না, পরে যাই। সে বললো কোন ভয় নেই এভাবেই সবাই যায়। মোটরসাইকেল ওয়ালা এগিয়ে এসে বললো একদম বাড়ির সাইকেল এর মত করে নিয়ে যাবো। আমি বললাম – না ভাই বাড়িতে সাইকেল নেই, তাই নেওয়ার ও দরকার নেই। এক মটরসাইকেলে ড্রাইভার ছাড়া ও ২ জন প্যাসেঞ্জার যায়। ভাবা যায়। এরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাবে? আমি রাস্তা চিনি না, ড্রাইভারকে চিনিনা আমি যাবো ওর সাথে!!🤔🤔
    আমি ভলেন্টিয়ার কে বললাম আমি ইজিবাইক রিজার্ভ নিয়ে যাবো, তবু এভাবে যাবো না, তুমি অনেক , কষ্ট করে এসেছো, এবং রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছো।
    ধন্যবাদ তোমাকে।
    # সেই যে সকালে খেয়ে বের হই সারাদিন আর কিছুই খাইনা। না না সব ধরণের খাবারই পাওয়া যায়, তবুও আমি কিছু খাই না। বরং কিডনি রোগীদের মত মেপে মেপে এক ঢোক পানি পান করি। কারণ – প্রাকৃতিক কর্মকান্ড কোথায় করবো?ক্ষুধা, পিপাসাতে জীবন শেষ। গোগা থেকে অন্য ইউনিয়ন এ গেলাম, একঘন্টা ও বেশি সময় লাগলো। ভাবলাম পান চিবাই, তাও কিছুটা মুখের ব্যায়াম হবে। একচাচা মিয়ার দোকানে পান নিলাম, দাম দেওয়ার সময় বললাম – কত দিবো চাচা? চাচা বললেন ১০ টাকা। আমিতো অবাক! ঢাকাতেই আমি এই পান ৫ টাকা দিয়ে নেই, আর এই অজ পাড়া গায়ে ১০ টাকা! বললাম – চাচা আমি পানের দাম জানতে চাইলাম জন্য ১০ টাকা বললেন? এই পানতো আমি ঢাকায় ৫ টাকা দিয়ে কিনি। চাচা বললেন ঢাকায় সব সুপারি চলে যায় তাই ঢাকায় পান ৫ টাকা। আমি বললাম তাই হবে হয়তো। আমি দাঁড়িয়ে আছি পান হাতে নিয়ে, অপেক্ষা করছি আর কেউ কত টাকা দিয়ে পান নেয় সেটা দেখার জন্য। এর মধ্যে চাচা মিয়া আমার সাথে গল্প শুরু করেছেন- বাড়ি কোথায়, এখানে কোথায় এসেছি, কেন এসেছি ইত্যাদি ( এমন প্রশ্ন সবাই করে) আমি তো অপেক্ষাই করছি দেখি চাচা মিয়া( মাথায় টুপি, জোব্বা পড়া) কি করেন? হ্যাঁ একজন এলেন পান নিয়ে ৫ টাকা দিলেন- আমি বললাম – চাচাকে ১০ টাকা দেন, ৫ টাকা কেন দিচ্ছেন? সুপারিতো সব ঢাকায় তাই পানের দাম বেশী। যিনি পান কিনলেন তিনিতো অবাক! বললেন- না পানের দাম ৫টাকাইতো।
    আমি বললাম – চাচা আমি আপনার পান ও নিবো না, টাকাও নিবো না। বলে দোকানে পান রেখে র ওনা দিলাম। পিছনে থেকে চাচা মিয়া ডাকছিলেন -পান নিয়ে যান বলে,আমি আর ফিরে তাকাইনি।
    # অবশেষে তিনটা ইউনিয়ন এর কাজ শেষ করে যশোর এ যাওয়ার বাসে উঠে বসলাম। ড্রাইভার এর পিছনের সিটে বসেছি, বাসে লোক ভর্তি, তাও বাস ছাড়ে না। গরমে সবাই ড্রাইভার কে ফ্যান দেওয়ার কথা বলছে, কিন্তু ড্রাইভার নির্বিকার। ইঞ্জিন এর উপর একদম ড্রাইভার এর পাশে একটা ৯/১০ বছরের ছেলে বসেছে, সে ড্রাইভার কে বলছে- ও কাক্কু ফ্যান ছাড়েন, সবাই ফ্যান ছাড়তে বলছে। ড্রাইভার বললো- চুপ, ফ্যান ছাড়তে লাগবে না। পিছন থেকে সবাই বলছে কি ড্রাইভার সাহেব শুনতে পারেন না? ফ্যান ছাড়েন। আমি বললাম- ড্রাইভার সাহেব দূরের কথা শুনতে পারেন- কেউ মনে হয় বাড়িতে বসে ভাত খেতে খেতে বলছে – ড্রাইভার সাহেব একটু দাঁড়ান আমি আসছি, তাই শুনে উনি অপেক্ষা করছেন, ফ্যান ছাড়ার কথা তাই শুনতে পারছেন না। এইবার ড্রাইভার সাহেব আমার দিকে দেখে হেসে শুধু সামনের ফ্যানটা ছাড়লেন। পিছনের লোকজন আবার তাঁকে বললো সবগুলো ফ্যান ছাড়তে। তিনি আমার দিকে ঘুরে বললেন – ও মনি আর কিছু বলিও না।
    কি আর করা! মনি চুপ করে থাকলাম।
    ০৩/১০/২০১৯

    4
    1 Comment
Skip to toolbar