Profile Photo

মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেলOffline

  • Ashraful710
  • The Laniakea Supercluster
    ~~~~~~~~~~~~~~~~~~
    “Our Place in the Cosmos”
    অপার বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এক মহাবিস্ময়, রহস্যময় ও অনাবিল সুন্দর । যা আজো আমাদেরকে হাতছানি দেয় ।
    ছায়াপথের উচ্চ ঘনত্বসহ বর্ধিত অঞ্চলগুলোকে মহাস্তবক বা মহাগুচ্ছ (Supercluster) বলে । তবে সুনির্দিষ্টভাবে একটি মহাস্তবক হচ্ছে ছোট ছোট ছায়াপথ গুচ্ছ বা ছায়াপথ দলের একটি বড় দল বা গোষ্ঠী । এরা মহাবিশ্বের বৃহত্তম পরিচিত কাঠামোগুলোর মধ্যে একটি । পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বে মহাস্তবকের সংখ্যা ১০ মিলিয়ন বলে অনুমান করা হয় । ল্যানিয়াকিয়া মহাস্তবক (Laniakea Supercluster) হচ্ছে একটি ‘ছায়াপথ মহাস্তবক’ (Galaxy Supercluster) বা ‘স্থানীয় ছায়াপথ মহাস্তবক’ (Local Supercluster/LSC/LS) বা হাওয়াইয়ান ‘উন্মুক্ত আকাশ’ বা ‘অমোঘ স্বর্গ’ যেটি আমাদের নিজস্ব বাসস্থান আকাশগঙ্গা ছায়াপথসহ (Milky Way Galaxy) আশেপাশে প্রায় ১০০০০০ অন্যান্য ছায়াপথের আবাসস্থল । যেখানে ঐ আকাশগঙ্গা ছায়াপথের ছোট সর্পিল-বাহুতে (The Orion Arm) জলন্ত অগ্নিপিণ্ড সূর্য নামক নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে গঠিত আমাদের সৌরজগৎ এবং তার সবুজ গ্রহ পৃথিবীকে ধারণ করে । হ্যাঁ, সেখানেই আমাদের অবস্থান । হাওয়াইয়ান ভাষায় Laniakea নামের অর্থ হচ্ছে ‘অমোঘ স্বর্গ’ (Lani হচ্ছে ‘স্বর্গ’ এবং Akea হচ্ছে ‘প্রশস্ত বা অপরিমেয়’) । University of Hawaiʻi Kapiʻolani Community College এর হাওয়াইয়ান ভাষার সহযোগী অধ্যাপক Nawaʻa Napoleon পলিনেশিয়ান নাবিক বা সমুদ্রপথে সন্ধানকারীদের সম্মানার্থে Laniakea নামটি প্রস্তাব করেন, যারা আকাশের জ্ঞান ব্যবহার করে প্রশান্ত মহাসাগরের যাত্রাপথ বা অবস্থান নির্ণয় করতেন । বৃহদাকৃতির Laniakea ছায়াপথ মহাস্তবকটি কয়েক’শ বিলিয়ন নক্ষত্রসহ প্রায় ১০০০০০ ছায়াপথকে ঘিরে আছে, যা ৫২০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ (১৬০ Mpc) জুড়ে প্রসারিত । এ ছায়াপথ মহাস্তবকের আনুমানিক ভর হচ্ছে ১০১৭ সৌর ভরের সমান (১০০ কোয়াড্রিলিয়নেরও বেশি) অথবা আকাশগঙ্গা ছায়াপথের ১০০০০০ গুণ, যা প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ জুড়ে বিস্তৃত বিশাল Horologium Reticulum Supercluster এর সমতুল্য । এক বিস্ময়কর আকার! তাই, আমাদের স্থানীয় ছায়াপথ গোষ্ঠীটি Laniakea এর হৃদয়ের দিকে টানছে । এ ছায়াপথ মহাস্তবকটি চারটি উপভাগ নিয়ে গঠিত, যেটি পূর্বে আলাদা মহাস্তবক হিসেবে পরিচিত ছিল যেমন (ক) Virgo Supercluster: যে অংশে আকাশগঙ্গা ছায়াপথ থাকে (খ) Hydra–Centaurus Supercluster: [১] মহা আকর্ষক (Great Attractor) যেটি Norma এর কাছে Laniakea ছায়াপথ মহাস্তবকের কেন্দ্রীয় মহাকর্ষ বিন্দু [২] Antlia Wall যেটি Hydra Supercluster নামে পরিচিত [৩] Centaurus Supercluster (গ) Pavo–Indus Supercluster (ঘ) Southern Supercluster: [১] Fornax Cluster (S373) [২] Dorado এবং Eridanus cloud । মহাজাগতিক অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারী Laniakea ছায়পথ মহাস্তবকটির আবিষ্কার, ছায়াপথসংক্রান্ত (Galactic) অবস্থান ও বেগ এর পরিমাপ থেকে উদ্ভূত হয়েছে যে কিভাবে ছায়াপথগুলো কাছাকাছি বস্তুর ঘনত্ব এবং মহাজগতের সামগ্রিক প্রসারণের সাথে সম্পর্কিত । অসীম মহাবিশ্বের এক ক্ষুদ্রতম অংশে Laniakea ছায়াপথ মহাস্তবকই আমাদের ‘Home Supercluster’ । এ বিস্ময়কর ছায়াপথ মহাস্তবকের আশপাশের সবচেয়ে বড় ছায়াপথ স্তবকগুলো হচ্ছে: Virgo, Hydra (Abell 1060), Centaurus (A 3526), Abell 3565, Abell 3574, Abell 3521, Southern, Pavo- Indus, Fornax, Norma (ACO 3627 বা Abell 3627), Endorus, Pegasus, Puppis, Coma, Antlia, Cancer, Ursa Major এবং Eridanus । সম্পূর্ণ Laniakea ছায়াপথ মহাস্তবকে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০টি পরিচিত ছায়পথ স্তবক বা গুচ্ছ এবং দল বা গোষ্ঠী রয়েছে । তবে প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে, কারণ এর মধ্যে কিছু এড়িয়ে চলা অঞ্চল অতিক্রম করছে । এটি মহাকাশের এমন একটি এলাকা যা আংশিকভাবে আকাশগঙ্গা ছায়াপথ থেকে গ্যাস এবং ধূলিকণা দ্বারা অস্পষ্ট থাকার কারণে সেগুলোকে মূলত সনাক্ত করা যায় না । অপূর্ব এ ছায়াপথ মহাস্তবক হচ্ছে মহাবিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ কিছু কাঠামোর মধ্যে একটি এবং এর যে সীমানা আছে তা নির্দিষ্ট করা খুবই কঠিন, বিশেষ করে ভেতর থেকে । Laniakea ছায়াপথ মহাস্তবক নিজেই মীন-সেটাস মহাস্তবকের এক জটিল উপাদানের অংশ (Pisces–Cetus Supercluster Complex) । এটি একটি ছায়াপথ অংশু বা সূক্ষ্ম-সূত্র (Filament), যা অনেক বড় মহাকর্ষীয় কাঠামো তৈরি করে । একটি ছায়াপথ মহাস্তবকের মধ্যে বেশিরভাগ ছায়পথের গতি- ভরের কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট করে অভ্যন্তরীণভাবে পরিচালিত হয় । তাই ছায়াপথ মহাস্তবকের ক্ষেত্রে এ মহাকর্ষীয় কেন্দ্রবিন্দুকে মহা আকর্ষক (Great Attractor) বলা হয়, যেটি ছায়াপথ মহাস্তবকের স্থানীয় গোষ্ঠীর গতিকে প্রভাবিত করে যেখানে আকাশগঙ্গা ছায়াপথ থাকে এবং ছায়াপথ মহাস্তবক জুড়ে অন্যান্য সকল ছায়াপথকেও । Laniakea ছায়াপথ মহাস্তবকের উপাদান বা গঠক বা নির্বাচন-কর্তা (Constituent) ছায়াপথ স্তবকগুলো থেকে ভিন্ন । জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেন যে, অদ্ভুত ছায়াপথ মহাস্তবকটি মহাকর্ষীয়ভাবে একে অপরের থেকে আবদ্ধ নয় । আপাত কাঠামোগুলো ক্ষণস্থায়ী । এটি আশেপাশের অঞ্চলের তুলনায় অতিরিক্ত ঘনত্বের ছায়াপথ হিসেবে নিজেকে বজায় রাখার পরিবর্তে অন্ধকার শক্তি (Dark Energy) দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে বলে অনুমান করা হয় । তবে গবেষণায় প্রস্তাব করা হয় যে, Redshift অনুযায়ী পরিচিত কয়েকটি মহাস্তবক যেমন Vigro Supercluster এবং Hydra-Centaurus Supercluster সংযুক্ত হতে পারে । এ বিশাল মহাকাশে Laniakea ছায়াপথ মহাস্তবকের প্রতিবেশী মহাস্তবকগুলো হচ্ছে: Shapley Supercluster (SCI 124), Southern Supercluster, Virgo Supercluster (LSC বা LS), Pavo-Indus Supercluster, Centaurus Supercluster (এটি এ নামের নক্ষত্রমণ্ডলে রয়েছে), Perseus-Pisces Supercluster (SCI 40), Hercules Supercluster (SCI 160) (এটি এ নামের নক্ষত্রমণ্ডলে রয়েছে), Coma Supercluster (SCI 117), Ursa Major Supercluster (এটি এ নামের নক্ষত্রমণ্ডলে রয়েছে), Columba Supercluster (এটি এ নামের নক্ষত্রমণ্ডলে রয়েছে), Piscis-Cetus Supercluster Complex (Galaxy filament), Horologium Supercluster (এটি এ নামের নক্ষত্রমণ্ডলে রয়েছে), Hydra Supercluster (এটি এ নামের নক্ষত্রমণ্ডলে রয়েছে), Leo Supercluster (এটি এ নামের নক্ষত্রমণ্ডলে রয়েছে), Sextans Supercluster (এটি এ নামের নক্ষত্রমণ্ডলে রয়েছে), Capricornus Supercluster (এটি এ নামের নক্ষত্রমণ্ডলে রয়েছে), Bootes Supercluster (এটি এ নামের নক্ষত্রমণ্ডলে রয়েছে), Sculptor Supercluster এবং Corona Borealis Supercluster (এটি এ নামের নক্ষত্রমণ্ডলে রয়েছে) । আমরা জানি, প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর পূর্বে একটি বৃহৎ পরমাণুর মহাশক্তিশালী মহাবিস্ফোরণের (Big Bang) মাধ্যমে মহাবিশ্বের জন্ম হয় । পদার্থ, প্রতিপদার্থ, বিকিরণ, শক্তি ইত্যাদিতে এটি পরিপূর্ণ ছিল; সমস্ত কণা ও ক্ষেত্র যা আমরা আজ জানি এবং সম্ভবত আরো বেশি । মহাবিস্ফোরণের পর থেকে মহাবিশ্বের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে সময়ের পরিমাপে লক্ষ লক্ষ বছর থেকে বিলিয়ন বছর অতিবাহিত হয়েছে । কিন্তু মহাবিশ্ব নিয়ে মানবজাতির কৌতূহলের অন্ত নেই । তাই মানুষকে কাছে টানে । যাই হোক, ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি দল ছায়াপথের আপেক্ষিক বেগ অনুযায়ী Laniakea ছায়াপথ মহাস্তবকটিকে সংজ্ঞায়িত করার সময় প্রতিবেশী মহাস্তবকগুলো এবং Laniakea ছায়াপথ মহাস্তবকের প্রান্ত সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানতে পারেনি । তারপর থেকে মহাস্তবকের প্রান্ত এবং তাদের বাইরের কাঠামোর অধ্যয়ন উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে । এতে করে মহাবিশ্ব জুড়ে আমাদের পর্যবেক্ষণযোগ্য ছায়াপথ মহাস্তবকগুলো খুঁজে পাওয়া গেছে এবং নকশা বা তালিকা করা হয়েছে যেখানে তারা ছায়াপথের বৃহত্তম পরিচিত স্তবকের চেয়ে দশগুণ বেশি সমৃদ্ধ । দুর্ভাগ্যবশত, মহাবিশ্বে অন্ধকার শক্তির উপস্থিতির কারণে এ মহাস্তবকগুলো— আমাদের নিজস্বটিসহ শুধুমাত্র দৃশ্যমান কাঠামো । বাস্তবে, তারা আমাদের চোখের সামনে দ্রবীভূত হওয়ার প্রক্রিয়াতে নিছক কল্পনা ।

    উৎস: উইকিপিডিয়া, সায়েন্টিফিকআমেরিকা.কম

Skip to toolbar