-
প্রতিশোধের ছায়া
প্রীতম বিশ্বাসপ্রথম অধ্যায়: আগুনের রাত
প্রীতম পাহাড়ের পাদদেশে তার ছোট্ট কুঁড়েঘরে একা বাস করে। স্ত্রী ও সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যু তাকে জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। সে এখন তার বোন সেঁজুতিকেই নিজের পৃথিবী বানিয়ে ফেলেছে। সেঁজুতি শহরে পড়াশোনা করে, মাঝে মাঝে ফোন করে। প্রীতম নিজের মতো করেই বেঁচে আছে, পুরনো স্মৃতির ভার বইতে বইতে।
সেই রাতেও সব স্বাভাবিক ছিল। ঘুমন্ত পাহাড়ের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ।
“সেঁজুতি? তুই এসেছিস?” দরজা খুলতেই দেখল অন্ধকার। কিন্তু পায়ের শব্দ পেছন থেকে তার অভিজ্ঞতাকে সতর্ক করে দিল। এক সেকেন্ডের ভেতরেই সে লাইট বন্ধ করে খাটের নিচ থেকে তার পুরনো পিস্তল তুলে নেয়।চারজন লোক দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ে।
“তোর খেলা শেষ, প্রীতম,” এক জন বলে।
প্রীতম কোনো উত্তর দেয় না। অন্ধকারে দ্রুত গুলি ছোড়ে। দুইজন পড়ে যায় সঙ্গে সঙ্গে। বাকি দুজনের একজন ছুরি নিয়ে তার দিকে ঝাঁপায়। ছুরির আঘাত এড়িয়ে প্রীতম লোকটির হাত মুচড়ে মাটিতে ফেলে দেয়। চতুর্থ লোক পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু প্রীতম তাকে ধরে ফেলে।
“বল, তোরা কারা? কে পাঠিয়েছে তোদের?”
লোকটা কাঁপতে কাঁপতে বলে, “বস রাহুল। সে বলেছে, এবার তোর সব শেষ করে দেবে।”প্রীতম লোকটাকে মাটিতে ফেলে দিল। চোখে ঘৃণার ছায়া। ঠিক তখনই খেয়াল করল, ঘরের এক কোণে সেঁজুতির ফোন পড়ে আছে। স্ক্রিনে একটি ভিডিও।
ভিডিওতে রাহুল।
“প্রীতম, আমাকে চিনেছিস? এবার তোর পালানোর পথ নেই। তোর বোন এখন আমার কাছে। সাহস থাকলে বাঁচাতে আয়।”প্রীতম ফোনটি হাতে চেপে ধরে। চোখে এক অদ্ভুত শীতলতা।
“রাহুল, তুই আমাকে ভুল চিনেছিস।”দ্বিতীয় অধ্যায়: শহরের ছায়া
পরের দিন। প্রীতম তার পুরনো অস্ত্রশস্ত্র বের করে। দীর্ঘদিন পর সে নিজের প্রশিক্ষণের সেই রূপে ফিরে যাচ্ছে। তার রাইফেল, ছুরি, এবং একটা বিশেষ কালো কোট—যা একসময় তাকে অদৃশ্য শিকারি বানিয়ে তুলত।
সন্ধ্যায় সে শহরে পৌঁছায়। তার প্রথম লক্ষ্য রাহুলের দল। শপিং মলের এক গোপন আড্ডায় রাহুলের শিষ্যরা জড়ো হয়।
প্রীতম সেখানে ঢুকে এক জনকে চেপে ধরে,
“বস কোথায়?”
“তুই কে রে?” লোকটি বলার সঙ্গে সঙ্গে প্রীতম তার কাঁধে ছুরি গেঁথে দেয়।
“এবার বল, নইলে তোর সময় শেষ।”
“ক্লাবে… বসের লোকেরা ক্লাবে আছে,” লোকটি কাঁপতে কাঁপতে বলে।তৃতীয় অধ্যায়: ক্লাবের রক্তাক্ত রাত
রাতের আকাশে বজ্রপাত। শহরের সবচেয়ে জনপ্রিয় আন্ডারগ্রাউন্ড ক্লাব, যেখানে উচ্চশ্রেণির মানুষ থেকে শুরু করে মাফিয়ার দল গা ঢাকা দেয়। প্রীতম সোজা ঢুকে পড়ে। তার চোখে শুধু একটাই লক্ষ্য।
ক্লাবের ভেতরে রাহুলের লোকেরা তাকে চিনে ফেলে।
“এই লোকটাকে মারো!” একজন চিৎকার করে।পরের কয়েক মিনিট যেন মৃত্যু নাচ। প্রীতমের পিস্তল থেকে গুলি বেরিয়ে ঝরনার মতো ঝরে পড়ে। মিউজিক থেমে যায়, আতঙ্ক ভর করে। ১০-১২ জনকে একাই শেষ করার পর, সে ক্লাবের বারটেন্ডারের দিকে বন্দুক তাক করে বলে,
“কথা বল, নইলে তুইও বাঁচবি না।”
বারটেন্ডার কাঁপতে কাঁপতে বলে, “স্টেশনে… রাহুল স্টেশনে যাচ্ছে।”চতুর্থ অধ্যায়: স্টেশনের যুদ্ধ
ভোর চারটা। প্ল্যাটফর্ম ফাঁকা। কুয়াশায় ঢাকা স্টেশন যেন ভূতুড়ে। কিন্তু প্রীতম জানে, এখানেই রাহুল অপেক্ষা করছে।
রাহুলের লোকেরা আগে থেকেই সতর্ক। প্ল্যাটফর্মে অস্ত্রধারী পাহারা। প্রীতম তাদের দেখতে পেয়েই আঘাত হানে।
একটি ট্রেন ছাড়ার মুহূর্তে প্রীতমের রাইফেল থেকে বুলেট ছুটতে থাকে। প্ল্যাটফর্ম ভরে যায় রক্ত আর চিৎকারে।শেষমেশ রাহুলকে ধরে ফেলে প্রীতম।
“তোর পালানোর রাস্তা বন্ধ। এবার তুই বল, সেঁজুতি কোথায়?”
রাহুল মুচকি হেসে বলে, “তুই আমাকে মারলে তোর বোনকে আর পাবি না। বাঁচাতে হলে আমাকে ছেড়ে দে।”প্রীতম তার কথা শোনে। এক সেকেন্ড চুপ থাকে, তারপর বলে,
“তুই যে ভুল খেলাটা খেলেছিস, তার দাম দিতে হবে।”শেষ অধ্যায়: মুক্তি ও প্রতিশোধ
প্রীতম রাহুলের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে সেঁজুতিকে খুঁজে পায়। সে একটি বদ্ধ কক্ষে বন্দি। চারদিকে রাহুলের লোকেদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মরদেহ।
শেষে রাহুলকে বন্দি করে রেখে প্রীতম বলে,
“তুই যা কেড়েছিলি, তা তোর কাছ থেকে ফিরিয়ে নিয়েছি। এবার তোর পালা শেষ।”গল্পের শেষ:
প্রীতম পাহাড়ের দিকে চলে যায়। তার চোখে শান্তি, কিন্তু ভেতরে একটা শূন্যতা। সে জানে, রাহুলের লোকেরা তাকে খুঁজে আসবে।অস্ত্র পরিষ্কার করে নিজেকে বলে,
“যুদ্ধ শেষ হয়নি, এটা কেবল শুরু।”1 Comment
Friends
সুশোভন ইফতেখার শাওন
@shosovon
Prithula Zaman
@prithula
এস এম সজিবুল ইসলাম
@shojib-rumman
Md-Shajib-Sikder
@md-shajib-sikder
Queen Ritu
@smilee88
ইয়াসিন আরাফাত
@easir-arafat
মো: কামরুল হাসান (অপু)
@kamrul-hasan
চিন্তাতরঙ্গিনী
@thoughtwaves
Ikram Akbar
@ikram-akbar

গদ্য হলো বাক্যের খেলা। লিখে যাও। পড়ছি।