Profile Photo

Motiur Rahman MizanOffline

  • Dressed.Human
  • Profile picture of Motiur Rahman Mizan

    Motiur Rahman Mizan

    • 1 year, 8 months ago

    কল্পচিন্তা
    মতিউর রহমান মিজান (১৭:৪০ – ১৮:৩০; ২৩.০৬.২০২২ ইং)
    —————————————————————–

    কোনো এক বিকেলের ঝলমলে রোদে,
    জানালার পাশে বসে দূরের ঐ প্রাসাদের ছাদে;
    মিস্ত্রিরা যখন রড-সিমেন্ট দিয়ে আরেক প্রাসাদ গড়তে ব্যস্ত,
    আমিও ব্যস্ত হই কবিতার ছন্দমালা বুনতে।

    তুমি কি জানো, রডের মতো তাদের শরীরও কখনো বাঁকাতে হয়?
    কখনো বা সরলরেখার মতো সোজা?

    সিমেন্ট যেমন ইট, পাথর, খোয়া, বালু, রড সবকিছুকেই জোড়া দিয়ে দেয়,
    তারা তেমনি দেয়াল, মেঝে, ছাদ, জানালা, দরজা দিয়ে তাজমহল বানায় আমাদের জন্য।

    একটা চিল উড়ে যায় মাথার উপর দিয়ে; কখনো বা বিমান, হেলিকপ্টার;
    কিন্তু সেসব কিছু দেখার মতো সময় কোথায়?

    আকাশে সাদা তুলোর মতো মেঘগুলো কখনো ছবি আঁকে কিনা বা গোল্লাছুট খেলে কিনা, জানে না তারা।
    জানবেই বা কী করে?

    ওদের কষ্ট দেখে সুয্যি মামার বড্ড মায়া হয়।
    মেঘ বাচ্চাদের গোল্লাছুট খেলা ভেঙে তাড়িয়ে দিয়ে তিনি আসেন ভাগ্নেদের কষ্টগুলো ভাগাভাগি করে নিতে।

    ভাগ্নেদের তিনি কৌতুক শোনান। কিন্তু ভাগ্নেদের যে হাসবার মতো সময় নেই। তাই বাধ্য হয়ে তিনি নিজেই হাহা করে হাসতে থাকেন। মামার দাঁতগুলো খুব চকচকে, একদম ঝিকঝিক করে ওঠে।

    উষ্ণ স্নেহে ভাগ্নেদের শরীরটাও অশ্রু আর ধরে রাখতে পারে না।

    মামা সাথে থাকলে ভাগ্নেদের কাজটা জমে ভালো।
    তবে মাঝে মাঝেই ব্যাটা বৃষ্টি কোত্থেকে এসে হাজির হয়।
    কথায় আছে না, “যে খেলতে পারে না, সে ঘুটি উল্টিয়ে দেয়।”

    তেমনি মামা ভাগ্নের এত সুন্দর আড্ডা সহ্য করতে না পেরে শেষমেশ বৃষ্টি আসে আসর ভেঙে দিয়ে।

    কখনোবা সারাটা দিন আসর জমতেই দেয় না।
    পাজি মেঘগুলো আবার তাদের খেলা ভাঙার অপরাধে মামাকে কালো কাপড়ে ঢেকে রাখে।

    মাঝে মাঝে মামা কয়েকদিন পর্যন্ত বের হতে পারে না। ভাগ্নেদের জন্য চিন্তা করতে করতে হয়তো শরীর খারাপ করে।

    শরীর সুস্থ হতেই ফের মামা চলে আসেন দারুণ উত্তেজনা নিয়ে। কৌতুক বলতে শুরু করেন নতুন উদ্যমে আর হাসিটা যেন প্রাণখোলা হাসি।

    মামার খুব ইচ্ছে করে ভাগ্নেদের সবসময় নজরে নজরে রাখতে যাতে কোনো কালো ছায়া তাদের উপর না পড়ে।

    তবুও সন্ধ্যা এসে প্রতিদিন আড্ডা ভাঙিয়ে দেয় আর বলে, “মামা, ভাগ্নে সবাই ক্লান্ত হয়েছো। বাড়িতে গিয়ে রেস্ট নিয়ে কালকে আবার নতুন উদ্যমে শুরু করিও।”

    5
    10 Comments
Skip to toolbar