Profile Photo

নোমান খালভীOffline

  • nomankhalovi
  • Profile picture of নোমান খালভী

    নোমান খালভী

    • 1 year, 7 months ago

    সুখের সন্ধানে….

    রোদ ঝলমলে দুপুরের আলোতে গ্রামটার মাটির রাস্তাগুলো সোনালি রঙে ঝলমল করছিল। ঝাউবনের হালকা বাতাসে মিশে ছিল কাঁচা মাটির ঘ্রাণ। ছোট্ট গ্রামটার নাম ছিল কৃষ্ণপুর।

    কৃষ্ণপুরের বেশিরভাগ মানুষই দরিদ্র। কিন্তু তাদের চোখে-মুখে এক ধরনের অদ্ভুত প্রশান্তি ছিল, যেন দারিদ্র্যের কষ্ট কখনো তাদের মনের দরজা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। এই গ্রামেরই একজন ছিল শামীম, সাধারণ এক কৃষকের ছেলে।

    শামীমের বাবা ছিল পরিশ্রমী এবং সৎ মানুষ। ছোট্ট জমিতে ফসল ফলিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। কিন্তু তার চাওয়া ছিল শামীম যেন পড়াশোনা করে ভালো মানুষ হয়। কিন্তু শামীমের মন ছিল অস্থির। সে শুধু দারিদ্র্য থেকে মুক্তি চায়, অনেক টাকা চাই তার।

    একদিন সে শহরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। শহরে গিয়ে কাজ নিলো এক কারখানায়। শুরুতে বেশ ভালো লাগছিল। টাকা আসছিল, নতুন জায়গা, নতুন মানুষ। কিন্তু দিনে দিনে তার মনে একটা শূন্যতা ভর করতে লাগল। কারখানার কাজ ছিল কষ্টসাধ্য আর ক্লান্তিকর। কেউ কারো দিকে তাকায় না, সবাই যেন ছুটে চলছে এক অদৃশ্য সুখের পেছনে।

    একদিন কাজ শেষে ক্লান্ত শামীম বসেছিল পার্কের বেঞ্চে। সেখানে এক বৃদ্ধ লোক এসে বসে। বৃদ্ধের মুখে ছিল এক অদ্ভুত প্রশান্তির হাসি। শামীম অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল,
    — “চাচা, আপনি এত হাসছেন কেন? আপনাকে তো দেখছি বেশ গরিব।”
    বৃদ্ধ বলল,
    — “সুখ কি কখনো টাকার ওপর নির্ভর করে? সুখ হলো যখন তুমি যা করছো তাতে সন্তুষ্ট থাকতে পারো। আমি কাঠের কাজ করি, ছোট ছোট জিনিস বানাই। মানুষকে উপহার দেই, তারা খুশি হয়, আমিও খুশি হই।”

    সেদিনের পর থেকে শামীমের মনে প্রশ্ন জাগল। টাকা কি সত্যিই সুখের উৎস? নাকি অন্য কিছু?

    বছর দুয়েক পর, শামীম গ্রামে ফিরে এল। এবার তার চোখে ছিল নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। সে বাবার সাথে মাঠে কাজ করতে লাগল। গ্রামবাসীদের সাহায্য করত। একসময় সে নিজেই বুঝে গেল, সুখ মানে অন্যের মুখে হাসি ফোটানো।
    ১৭/০৩/২০২৫ ইং
    নোমান খালভী
    রাত ১২ টা ২৮ মিনিট

    3
    1 Comment
Skip to toolbar